রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের প্রথম দফার আলোচনায় কোনও ফলাফল না আসার পর কিয়েভকে ঘিরে হামলার জোরদার করেছে রুশ বাহিনী। বিভিন্ন দিক থেকে অভিযানের গতি বাড়িয়েছে বলে জানাচ্ছে দেশটির সরকার ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এরমধ্য কিয়েভের একটি টেলিভিশন টাওয়ার এবং খারকিভের সেন্ট্রাল স্কয়ারে রুশ হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বলেন কেউ ক্ষমা করবে না, কেউ ভুলবে না।
ইউক্রেন সরকার জানায়, জিতোমির শহরে আবাসিক স্থাপনায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়ান সেনারা। এতে শিশুসহ চার বেসামরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আন্তন গেলাশচেঙ্কো টেলিগ্রামে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। ঘাঁটির কাছাকাছি আবাসিক ভবনে আগুন লাগলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে এখনও দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে থেমে থেমে লড়াই চলছে। এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরটি নিয়ন্ত্রণে নিতে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ সেনারা। এমন খবর দিয়ে খারকিভের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ বলেন, আবাসিক এলাকাগুলোতে ভারী কামান ও গোলাবর্ষণ চালানো হচ্ছে। বেসামরিক ভবনগুলোর পাশাপাশি শহরের প্রধান চত্বরেও আঘাত হানছে। একটি সরকারি ভবনে হামলায় ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে ৬৪ কিলোমিটারজুড়ে রুশ ট্যাংক ও অন্যান্য সামরিক যানবাহনের দীর্ঘ বহর রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এতে সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছে পশ্চিমাদেশগুলো।
রুশ বাহিনী অন্যান্য শহগুলোতে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে। দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকা ওদেশা এবং মারিয়ুপুলে একই পরিস্থিতি। চলমান যুদ্ধে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাশিয়ার পাঁচ হাজারের বেশি সেনা নিহতের কথা জানিয়েছে একাধিক সূত্র। তাতেও থামছে না মস্কো। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, রাশিয়া গত দুই দিনে বিভিন্ন শহরে বিমান ও কামান হামলা বৃদ্ধি করেছে।
এর মধ্যে খারকিভ, খেরসন এবং মারিপুলের পরিস্থিতি খুবই নাজুক। ধারণা করা হচ্ছে, সংকট সমাধানে দুই দেশের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা থেকে মস্কোর দাবি অনুযায়ী ফলাফল না আসলে রুশ আগ্রাসন বেপরোয়া রূপ নেবে।
সূত্র: আল জাজিরা, দ্য উইক।









