ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে যোগ দিতে প্রস্তুত কয়েক হাজার সিরীয় যোদ্ধা। যাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। এই সিরীয় যোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুহেইল আল-হাসানের ইউনিটের সদস্য। এই বাহিনীতে রয়েছে সিরীয় সেনা, সাবেক বিদ্রোহী ও অভিজ্ঞা যোদ্ধা, যারা সিরীয় মরুভূমিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। সোমবার মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত রণক্ষেত্রে মোতায়েনের আগে অল্প সংখ্যক যোদ্ধা রাশিয়ায় হাজির হয়েছে। যদিও এর আগে ক্রেমলিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, যুদ্ধে যোগ দিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ১৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তা ও সিরিয়া পর্যবেক্ষণকারী অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, অঞ্চলটি থেকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যোদ্ধা ইউক্রেনে যুদ্ধে যোগ দেয়নি।
অবশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের পরের ধাপে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ অভিযানের সময় এই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিরীয় যোদ্ধাদের মোতায়েন শুরু হবে। বিশেষ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধে নতুন কমান্ডার নিয়োগ দেওয়ার কারণে। জেনারেল আলেক্সান্ডার ডিভোরনিকভ এর আগে সিরিয়ায় রুশ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ইউক্রেনে সিরীয় যোদ্ধারা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অবরোধ করা শহরগুলোতে সেনার প্রয়োজন হলে তাদের পাঠানো হতে পারে কিংবা হতাহতের সংখ্যা বাড়লে। জেনারেল ডিভোরনিকভ রাশিয়ার প্রশিক্ষিত আধাসামরিক বাহিনী সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন।
সিরিয়া পর্যবেক্ষণকারী ও অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সিরিয়ায় যোদ্ধা সংগ্রহ করছে রাশিয়া। বিশেষ করে রুশ প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের।
ব্রিটেনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস-এর রামি আব্দুররহমান জানান, এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার যোদ্ধার নিবন্ধন হয়েছে। এরমধ্যে ২২ হাজার রুশ সেনাবাহিনী এবং ১৮ হাজার বেসরকারি সংস্থা ওয়াগনার গ্রুপে।
আব্দুররহমান জানান, সিরিয়ায় ‘টাইগার ফোর্স’ নামে পরিচিত ২৫তম স্পেশাল মিশনস ফোর্সেস ডিভিশনের প্রায় ৭০০ সদস্য রুশ বাহিনীর হয়ে লড়াই করতে দেশ ত্যাগ করেছে।
এপি’র পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে এই সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আব্দুররহমান আরও বলেন, রাশিয়া অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের খুঁজছে। যাদের রাশিয়া প্রশিক্ষণ দেয়নি তাদের চাইছে না তারা।
লেবাননের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল নাজি মালেব জানান, এখন পর্যন্ত সিরীয় যোদ্ধাদের রাশিয়া যাওয়ার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে তা বদলে যেতে পারে। ভবিষ্যতে রাশিয়ার পরিকল্পনা কী তার ওপর নির্ভর করছে।
সিরীয় ও সিরিয়ায় দায়িত্বরত ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা যোদ্ধাদের ইউক্রেনে যাওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন।
সাবেক আইনপ্রণেতা ও সিরিয়ার ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির সশস্ত্র শাখার কমান্ডার মুহান্নাদ হাজ আলি জানান, ইউক্রেনে লড়াই করতে কোনও সিরীয় যায়নি। কেউ যাবে বলে প্রত্যাশাও তিনি করছেন না। তিনি নিশ্চিত সিরিয়ার সহযোগিতা ছাড়াই রাশিয়া ইউক্রেনে জয়ী হবে।
তার কথায়, যেভাবে অভিযান চলছে তাতে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে ইউক্রেন আরেকটি আফগানিস্তান হবে না।









