রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেছেন, তার দেশে পশ্চিমাদের অস্ত্র অনেক দেরিতে এসেছে। সংঘাতের শুরুতেই তারা এগুলো পাঠালে হাজার হাজার জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
দিমিত্রো কুলেবা বলেন, আমরা যদি প্রথমেই নিজেদের দরকারি সব অস্ত্র পাওয়ার কথা শুনতাম! যদি ইউরোপীয় ও মার্কিন অংশীদারদের কাছে আমাদের জন্য এসব অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে সময় ব্যয় করতে না হতো! তাহলে ইউক্রেন আরও আগেই এগুলো পেয়ে যেতো।
তিনি বলেন, জার্মানির রামস্টেইন বিমান ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই বৈঠকেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ার জেনারেল মার্ক মিলি ইউক্রেনকে সোভিয়েত জামানার অস্ত্রের বদলে ন্যাটো অস্ত্রে সমৃদ্ধ করতে ইউরোপীয় মিত্রদেরকে রাজি করান।
এদিকে রুশ বাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন শহর পুনরুদ্ধারের দাবি করছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। সর্বশেষ খারকিভের আশেপাশের চারটি গ্রাম পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে তারা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে কথিত বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। তবে দৃশ্যত এতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা মেলেনি মস্কোর। এক পর্যায়ে গত মার্চের শেষ দিকে কিয়েভ ছাড়ে রুশ বাহিনী। রাজধানী শহরের বদলে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার দিকে অগ্রসর হয় রুশ সেনারা। পূর্ব ডনবাস অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে তারা। এক্ষেত্রে খারকিভের কাছে ইজিয়াম শহরটিকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় সেনাদের সেখানে তিন দিকে থাকা রুশ বাহিনীর মোকাবিলা করতে হয়।
দক্ষিণাঞ্চলে শত্রুপক্ষের ৯টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের দাবি করেছে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী। তাদের দাবি, এসব হামলায় ৭৯ রুশ সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া সাঁজোয়া যান এবং হাউইটজারের মতো ১২টি সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে রুশ বাহিনী।
পুতিন একটি দীর্ঘ সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এভ্রিল হেইনস বলেছেন, পূর্ব ডনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার জয় পেলেই যুদ্ধের অবসান ঘটবে, এমনটা তিনি করেন না। সূত্র: রয়টার্স।








