রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে লড়াইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, পারমাণবিক কেন্দ্রটির যে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হবে আত্মহত্যার শামিল। বৃহস্পতিবার লভিভ শহরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে জেলেনস্কির এটিই প্রথম বৈঠক।
ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ‘আরেকটি চেরনোবিল’ বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা আরেকটি চেরনোবিল চাই না।’ এরদোয়ান ও গুতেরেস উভয়েই মূলত একই উদ্বেগের প্রতিধ্বনি করেন।
গত মার্চে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দখল নিতে সমর্থ হয় রাশিয়া। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কেন্দ্রটির আশেপাশের এলাকায় সংঘাত জোরালো হয়ে উঠেছে। ভারী কামানের গোলাগুলির শব্দও পাওয়া গেছে। হামলার জন্য মস্কো ও কিয়েভ উভয়েই পরস্পরকে দায়ী করে আসছে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকের আগে জেলেনস্কি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে রাশিয়ার ‘ইচ্ছাকৃত’ হামলার সমালোচনা করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মস্কোর বিরুদ্ধে কেন্দ্রটিকে একটি সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিন নেতাই মস্কোর প্রতি যত দ্রুত সম্ভব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকাটিকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জাপোরিজ্জিয়া পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুশ বাহিনীর তৎপরতার ফলে উদ্ভূত ঝুঁকির মধ্যেই ১৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার ইউক্রেন সফরে যান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। যুদ্ধ অবসানের একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে দেশটিতে এ সফরে গেছেন তারা।








