ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ কয়েকটি শহরে সোমবার সকালে যেসব বিস্ফোরণ হয়েছে সেগুলো ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর অংশ বলে উল্লেখ করেছে রাশিয়া। বিস্ফোরণের বিষয়ে জানতে চাইলে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ একথা বলেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।
ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মস্কোর তরফে কিয়েভকে দায়ী করার একদিনের মাথায় এই সিরিজ হামলার খবর এলো। অনেকে এই হামলাকে সেতুতে বিস্ফোরণের প্রতিশোধ হিসেবে মনে করছেন।
সোমবারের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক ইউক্রেনীয় শহরে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, কিয়েভে অন্তত পাঁচজন নিহত ও অপর ১২ জন আহত হয়েছে।
কিয়েভ ও ইউক্রেনজুড়ে হামলার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সবকিছু ঘটছে বিশেষ সামরিক অভিযানের ফ্রেমওয়ার্কের আওতায়।
তবে সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে কিনা তা সম্পর্কে মন্তব্য করেননি ক্রেমলিন মুখপাত্র।
রবিবার রাতে টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়ার সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনাকে একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
পেসকভ বলেছেন, সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে এই আক্রমণকে বিশেষ সামরিক অভিযান হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। তারা বলছে, ইউক্রেনে বসবাসরত রুশ ভাষাভাষীদের সুরক্ষা, ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসীমুক্তকরণ করতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমারা রাশিয়ার এই দাবিকে অবৈধ ভূমি দখলের আগ্রাসী আক্রমণকে ন্যায্যতা দিতে মিথ্যা অজুহাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। চলমান অভিযানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ করেছে পশ্চিমারা। রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।









