তুরস্কে থাকা ইউক্রেনের আজভ রেজিমেন্টের পাঁচ সামরিক কমান্ডারকে মুক্তি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিন বলছে, এর ফলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মধ্যস্থতায় যে সমঝোতা হয়েছিল তা লঙ্ঘিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।
গত বছর বন্দি বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে মুক্ত হওয়া এই কমান্ডাররা তুরস্কে ছিলেন। শনিবার তাদের মুক্তি দিয়েছে তুরস্ক। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্ক সফর শেষে কমান্ডারদের নিয়ে ইউক্রেন ফিরেছেন।
গত বছর ইউক্রেনের বন্দর নগরী মারিউপোলে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করেন এই পাঁচ কমান্ডারসহ সহস্রাধিক ইউক্রেনীয় সেনা। এদের বেশিরভাগ ইউক্রেনের বিতর্কিত আজভ রেজিমেন্টের সদস্য। রাশিয়া এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
রাশিয়া ঘোষণা করেছিল এই কমান্ডারদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কিন্তু গত বছর সেপ্টেম্বরে তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির আওতায় আত্মসমর্পণ করাদের মধ্যে ২১৫ জনকে মুক্তি দেয়। চুক্তি অনুসারে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আজভ রেজিমেন্টের কমান্ডার লে. কর্নেল ডেনিস প্রকোপেঙ্কো, তার সহকারী সিয়াতোস্লাভ পালামার, ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের কমান্ডার সেরহি ভলিনস্কির তুরস্কে অবস্থান করার কথা।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এই হস্তান্তরের বিষয়ে রাশিয়াকে অবহিত করা হয়নি। তুরস্ক থেকে আজভ নেতাদের ইউক্রেনে ফিরিয়ে দেওয়া বিদ্যমান চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
পেসকভ বলেছেন, এর ফলে ইউক্রেন ও তুরস্ক উভয় দেশ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি বলেছেন, আজভ নেতাদের ফিরিয়ে দেওয়াতে প্রমাণিত হচ্ছে ন্যাটোর প্রতি সংহতি প্রদর্শনে তুরস্ক চাপে রয়েছে।
শুক্রবার ন্যাটো দেশগুলো সফরের অংশ হিসেবে তুরস্ক পৌঁছান জেলেনস্কি। ফেরার পথে তিনি আজভ কমান্ডারদের সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেন ফিরেছেন। শনিবার তিনি লভিভে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাদের নিয়ে। সেখানে আজভ কমান্ডাররা রণক্ষেত্রে ফেরার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন।









