সুমাইয়া আক্তার (১৩)। রূপগঞ্জের হাসেম ফুডসের জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া ফিরোজা বেগমের মেয়ে। মামা লিটন ও মামির সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এসেছে মায়ের লাশ নিতে। মর্গের সামনে মা মা করে কিশোরী সুমাইয়ার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মামি তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও কান্না থামানো যায়নি। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের পর শনাক্ত হওয়া ফিরোজার লাশ বুধবার (৪ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে নিহতের স্বামী জায়েদের কাছে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।
ফিরোজার ভাই লিটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, "আমার বোন এক মাস আটদিন কাজ করেছিল এই কারখানায়। এরমধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বোনটি মারা যায়।"
ফিরোজার এক মেয়েই। তার গ্রামের বাড়ি ঘটনাস্থল রূপগঞ্জেই। স্বামী জায়েদ দর্জির কাজ করেন।
মাকে হারিয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া দিশেহারা। বর্তমানে মামা-মামির সঙ্গে রূপগঞ্জেই থাকে সুমাইয়া। মা ফিরোজা তাকে চিকিৎসক বানাতে চেয়েছিলেন। মায়ের লাশ নিতে বুধবার সকাল ৮টা থেকে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে অপেক্ষা করছিল সুমাইয়াসহ স্বজনরা।
বুধবার (৪ আগস্ট) ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া ২৪ জন শ্রমিকের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় গত ৮ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে তখন ৪০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সব ফ্লোরে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের ২০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এ ঘটনায় ৫২ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার হয়।









