X
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

যে সুভাষ বাঙালির, সেই সুভাষের মরণ নাই

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৭, ১৮:২৭

গর্গ চট্টোপাধ্যায় আগস্ট বাঙালির শোকের মাস। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী শক্তির দ্বারা নিহত হয়েছিলেন এই মাসেরই ১৫ আগস্ট। ১৯৪৭-এর এই ১৫ আগস্টেই বাঙালি জাতি দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গ অংশে। এই আগস্টেই ১৯৪৫ সালে শেষ বারের মতো দেখা যায় বাংলার সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান সুভাষ চন্দ্র বসুকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী এবং তাদের পদলেহী দেশীয় ভাড়াটিয়া বাহিনী (যার উত্তরসূরি ১৯৪৭ পরবর্তী ইন্ডিয়ান আর্মি ও পাকিস্তান আর্মি) দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পুনঃদখলের উদ্দেশ্যে তখন আগুয়ান। সুভাষের বাহিনী পিছু হটছে— রোগে, রসদের অভাবে, জাপানের পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সাহায্যের অভাবে। 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসানকে পাখির চোখ করে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি- কলকাতায় গোয়েন্দা পরিবেষ্টিত তার এলগিন রোড বাসভবন থেকে। সেখান থেকে তার ফরওয়ার্ড ব্লক দলের অনুগামী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সুদূর পেশওয়ারে। আজ ভাবতে অবাক লাগলেও তখন পাঠানদের দেশেও সুভাষের স্বার্থে ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত পাঠান সহযোগীর অভাব ছিল না- জনপ্রিয়তার এই ব্যপ্তি প্রায় অভাবনীয়, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই হয়ে উঠছিল রাজনীতির মূল অক্ষ। সেখান থেকে কাবুল, সেখান থেকে সোভিয়েত রাশিয়াতে ঢোকার চেষ্টা। তাদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে জার্মানির রাজধানী বার্লিন। তারপর শত্রু পক্ষের হানা ও বিপদসংকুল একাধিক মহাসাগর পেরিয়ে জাপানে। সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে গিয়ে যুদ্ধবন্দি উপমহাদেশীয় সেনাদের উদ্বুদ্ধ করে বাহিনী গঠন - ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে দীক্ষিত। তারপর নানা জয়, এবং তারপরে পিছু হটা। শেষে কৌশলগত ভাবে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা। তারই মাঝে খবর আসে, তাইপেইর তাইহোকু বিমানবন্দরের কাছে বিমান দুর্ঘটনায় তার ‘মৃত্যু’ সংবাদ। এই দিনটাই ১৮ আগস্ট। এই দিনের পরে সুভাষকে আর দেখা যায়নি।

রহস্যাবৃত এই দিন। রহস্যাবৃত এই বিমান দুর্ঘটনা। ওনার ‘মৃত্যু’ বা অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচনের জন্য ভারতীয় সংঘরাষ্ট্রের সরকারের তৈরি জাস্টিস মুখোপাধ্যায় কমিশন তাইওয়ান কর্তৃপক্ষর থেকে জানতে পারে যে ওই ১৮ আগস্টে তাইহোকু বিমাবন্দরের আশেপাশে কোনও বিমান দুর্ঘটনার কোনও হদিস বা রেকর্ড নেই। এই কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট নতুন দিল্লি মানতে অস্বীকার করে। কারণ এর দ্যোতনা সাংঘাতিক। এর পরে তাকে নানা জায়গায় দেখতে পাওয়ার খবর পাওয়া যায়, নানা ব্যক্তিকে সুভাষ বলে প্রচারিত হন। কিন্তু কোনও কিছুই সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। বাংলার কিংবদন্তী নায়ক রয়ে গেছেন মৃত্যুহীন।

নতুন দিল্লির ভারত সরকার বারংবার তার ‘মৃত্যু’র ব্যাপারটা অফিসিয়াল করে নিতে চেয়েছে। তা কখনও তাকে ‘মরণোত্তর সম্মান’ প্রদানের পাঁয়তারা করে। এবছরও বিজেপির নেতা ভারত সরকারের অর্থমন্ত্রী এই ধরনের সুভাষের মৃত্যু মার্কা মন্তব্য করেছে। সুভাষ চন্দ্র বোসের ‘মৃত্যুবার্ষিকী’ স্মরণ করে টুইট করেছেন অরুণ জেটলি। পাল্টা টুইটে প্রতিবাদ করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। অথচ ভারত সরকার তাকে নিয়ে গুপ্ত ফাইল প্রকাশ করেনি আজও, অথচ সে ফাইল যে আছে, তার প্রমাণ আছে। এমনই ছিলেন সুভাষ যে নতুন দিল্লি জানিয়েছে যে ১৯৪৫-এর ৭০ বছর পরেও তাকে নিয়ে গোপন ফাইল প্রকাশ করলে অন্য রাষ্ট্রসমূহের (বুঝতে অসুবিধে হয় না যে তার মধ্যে ব্রিটেন অগ্রগণ্য) সাথে সম্পর্কহানি ঘটবে অথচ খোদ এই সকল বিদেশি রাষ্ট্রে কিন্তু ৭০ বছরের অনেক আগেই এরকম সকল গুপ্ত ফাইল জনসমক্ষে খুলে দেওয়ার নিয়ম আছে, কিন্তু ভারত সরকার সে ফাইল খুলতে চায় না। ধ্বংসও হয়েছে ফাইল। অন্তর্ধানের পরেও এমন তেজস্বী এই মহানায়ক যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৪৫-এর পর দশকের পর দশক সুভাষকে নিয়ে গোয়েন্দা ফাইল রেখেছে, নজরদারি চালিয়েছে সুভাষ পরিবারের ওপর, তাদের বিদেশ যাত্রার ওপর। গত বছর সুভাষ সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সকল ফাইল জনসমক্ষে প্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং সেটা করি তিনি নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ করেন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে থাকা সুভাষ সংক্রান্ত সকল ফাইল প্রকাশ করার জন্য। বলাই বাহুল্য, নতুন দিল্লি তা করতে সাহস পায়নি, যদিও আজকাল বিজেপিও তাদের দলীয় ব্যানারে মাঝে মাঝে সুভাষকে ব্যবহার করার সাহস দেখায়। যে কোনও সাম্প্রদায়িক দলের জন্য ইতিহাস বিকৃত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

যে বিজেপি আজ সুভাষকেও ‘নিজেদের’ বলে দাবি করতে চায়, তাদের অন্যতম আদর্শ পুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তার হিন্দু মহাসভা নিয়ে সুভাষের মনোভাব ও কার্যকলাপ তাই মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি। এশিয়ার মুক্তিসূর্য সুভাষ চন্দ্র বসু হিন্দু মহাসভার রাজনীতিতে বেশি সচল হবার প্রাক্বালে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছিলেন – ‘হিন্দু মহাসভা জন্মের আগেই যেন তাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়, দরকার পড়লে বলপ্রয়োগ করেও, তার ব্যবস্থা আমি করবো’। ( সূত্র - শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ডায়রি। বহুল প্রকাশিত)। তখনও বাংলায় হিন্দু ও মুসলমান সাম্প্রদায়িকদের লম্ফঝম্প ছিল, সুভাষও ছিল। সুভাষ শ্যামাপ্রসাদের হিন্দু মহাসভা তৈরির আগেই সেটিকে বলপ্রয়োগ করে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আজ যখন হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানের দালালরা মিথ্যাচারের একটা চরম জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে সবকিছু, তৈরি করছে শ্যামাপ্রসাদের নামে নানা মিথ্যা কীর্তি, তখন বাংলা ও বাঙালির মন দিয়ে শোনা ও বোঝা দরকারকে সুভাষকে এবং সুভাষের চোখ দিয়ে শ্যামাপ্রসাদকে। বিজেপির প্রাক্তন অবতার জনসঙ্ঘের সভাপতি বলরাজ মাধক লিখছেন – ‘সুভাষ চন্দ্র বসু তার সমর্থকদের সাহায্যে শ্যামাপ্রসাদের নেতৃত্বাধীন হিন্দু মহাসভাকে বলপূর্বক সন্ত্রস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। সুভাষের লোকেরা মহাসভার সকল মিটিং বানচাল করার এবং হিন্দু মহাসভার প্রার্থীদের পেটানোর কর্মসূচি নেয়’। সুভাষ ছিলেন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, মানুষের পক্ষে, বাংলার পক্ষে এবং সেই আদর্শের জন্য তিনি যত দূর অবধি যাওয়া যায়, ততদূর অবধি যেতে রাজি ছিলেন।

অনেকেই মনে করেন এই অসাম্প্রদায়িক এই মহীরুহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে উপমহাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে রাজনৈতিক ঘটনাবলির খাত অন্যদিকে বইত। এগুলো রয়ে যাবে চিরকাল ‘যদি এমন হত’ পর্যায়ের আলাপ। কিন্তু দুই বাংলাতে হিন্দু-মুসলমান, দুইয়ের কাছ থেকেই এই বক্তব্য এতবার শুনেছি, যে মনে হয়েছে ছাপ একটা পড়তো, এবং পড়তো বাংলার রাজনীতিতে বিশেষ ভাবে। কারণ ১৯৩৯-এর পর কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তার গোষ্ঠী ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলার প্রগতিশীল ধর্মনিরপক্ষে শক্তিগুলোর এক প্রধান পক্ষ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। বাঙালি জাতির অভিভাবক চিত্তরঞ্জনের মানসপুত্র সুভাষের বড়দা শরৎ চন্দ্র বসুই শেষ অবধি স্বাধীন যুক্ত বাংলার অসফল উদ্যোগে ব্রতী হন। বাংলার রাজনৈতিক আদর্শের এই ধারাটি সুভাষের উপস্থিতিতে কী চেহারা নিত, তা চিরকালই এরকম নানা সম্ভাবনার আলোআঁধারির মধ্যেই থেকে যাবে। কারণ সুভাষ ফেরেনি।                     

সুভাষ ফেরেনি। ব্রিটিশরা তাকে মারতে চেয়েছে। পারেনি। নেহেরু তার জীবিত থাকার ভয়ে শঙ্কিত হয়েছে। টিকটিকি লাগিয়েছে, গোপন ফাইল বানিয়েছে, প্রকাশ করেনি। সেই পরস্পরা আজকের মোদি অবধি অব্যাহত। সুভাষ তবু ফিরে ফিরে আসে, রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে। সে বাঙালির বড় আপন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হেফাজতে থাকা সকল সুভাষ সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ করে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি আসনে বেশ কিছু মানুষের সাধুবাদ কুড়িয়েছেন। আমার নিজের পাড়া চেতলাতে এক অটো চালক (যাকে ঢাকায় বলে সিএনজি) নিজ খরচায় চেতলা ব্রিজের কাছে টাঙ্গিয়েছে সুভাষ সংক্রান্ত ফাইল পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রকাশ করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন সূচক বাণী। এর মধ্যে যত না রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সাধুবাদ, তার চেয়ে ঢের বেশি রয়েছে সুভাষের প্রতি নিখাদ শ্রদ্ধা। নেতা সুভষের সঙ্গে অনুগামীর বন্ধন, যদিও এই অনুগামী জন্মেছেন সুভাষের অন্তর্ধানের পরে।

যার অন্তর্ধান এই ১৮ জানুয়ারি, তার জন্মদিন নিয়ে বিবাদ নেই। ২৩ জানুয়ারি। একবার ২৩ জানুয়ারি সুভাষের জন্মদিনের কাছাকাছি আমি ট্রেন যোগে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলাম। সেটা খুব খারাপ সময়ে – ২০১৫’র জানুয়ারি। কুমিল্লা থেকে বাস বন্ধ। একাধিক মানুষ ককটেলের আঘাতে মৃত বা আহত। চারদিকে আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ। এদিকে ট্রেনও বিপদমুক্ত না। যাচ্ছে আস্তে আস্তে, থেমে থেমে, কারণ সামনে আরেকটি ছোট পরিদর্শক ইঞ্জিন যাচ্ছে, সামনের লাইন ঠিক আছে কিনা, অন্তর্ঘাতে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কিনা, বা নিরাপদ আছে কিনা, তাই দেখতে। ফলে গাড়ি চলছে মেলা দেরিতে। যখন ট্রেন চট্টগ্রামে ঢুকছে অনেক রাতে, তখন একটু বয়স্ক এক সহযাত্রী বলে উঠলেন ২৩ জানুয়ারি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিন। কেউ কেউ তাকালেন, অনেকেই তাকালেন না, সকলেই শ্রান্ত। সে ছিল এক ২৩ জানুয়ারি।

সুভাষের স্থান বোঝা যায় বাংলার নানা দলীয় অফিসে যেখানে গান্ধী সহ নানা রাজনৈতিক তারকার ছবি থাকলেও মধ্যমণি থাকেন সুভাষ। সুভাষ থাকেন আওয়ামী লীগের ১৯৫৭’র কাগমারি সম্মেলনে তার নামাঙ্কিত তোরণে। যে চেতনায় কাগমারির তোরণ, তাই এক যুগ পর উজ্জীবিত করে বাঙালি নায়ক খুঁজতে থাকা পূর্ব বাংলার স্বাধীনতাকামী বাঙালি ছাত্র-যুবার একাংশকে। অনেক ঝুঁকি নিয়ে তখন তারা বার করে যে রাজনৈতিক বুলেটিন, তাতে ২৩ জানুয়ারি সংখ্যায় মূল শীর্ষক থাকে – ‘আজ সুভাষ দিবস’। সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে তা দেখা যেত। এখন নতুন স্থানে আছে কিনা, জানি না।           

আমার কুলের যৌথ পরিবার, অর্থাৎ আমার ঠাকুরদা আর তার ভাইয়ের পরিবারবর্গ, যখন আলিপুরের ১০ আলিপুর পার্ক রোডের বাড়িতে থাকতাম, তখন ২৩ জানুয়ারি একটি ঘটনা ঘটতো, যেটা আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। আমার দুই পিসি, বন্দনা চট্টোপাধ্যায় (বিয়ের পরে মুখোপাধ্যায়) যাকে আমি সাদা পিসি বলতাম, আর শ্যামলী চট্টোপাধ্যায় (বিয়ের পরে দেববর্মা), যাকে আমি সেজ পুতুল বলতাম, এরা ২৩ জানুয়ারি পালন করতেন। আমি বলছি ৮০’র দশকের কথা। আজ দুইজনেই গৃহবধূ - প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মা। আপাত দৃষ্টিতে অরাজনৈতিক ব্যক্তি। কিন্তু এই দুজনেই প্রতি ২৩ জানুয়ারি আমাদের বাড়ির সিঁড়ির ঘরে সুভাষ চন্দ্র বসুর দেওয়ালে টাঙ্গানো বিশাল ছবিতে চন্দনের ফোঁটা দিতেন। তারপর শাঁখ বাজাতেন। কতবার? সেই বছর সুভাষের যত বয়স হতো, ততোবার। এ আমি নিজের চোখে দেখেছি। চোখে দেখে বড় হয়েছি। বড় হয়ে দেখেছি ভারতের কল্পনায় যে ‘জাতীয় চেতনা’ আছে, সেখানে সুভাষের স্থান নেই। আলগোছে আছে। ফলে এই নায়কের স্মৃতি ফিকে হয়েছে। হয়েছে বলেই চরম অসাম্প্রদায়িক ও হিন্দু তথা মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সুভাষকে বিজেপি তাদের দলীয় ব্যানারে আঁকার সাহস পায় বিনা প্রতিবাদে। সময় পালটেছে, স্মৃতি ফিকে হয়েছে, হচ্ছে। তাই আমাদের এই বাংলার, বাঙালির নায়ক সুভাষকে আমাদের আজ-কাল-পরশুর রাজনীতি ও কল্যাণের দায়ে রক্ষা করা জরুরি। দিল্লি তাকে প্যাকেজ করতে চায় তার রাজনৈতিক সার্কাসে এক সং হিসেবে, যাকে তারা ব্যবহার করবে নিজ স্বার্থে। সেই চরিত্র আমাদের সুভাষ না, বাংলার সুভাষ নয়, বাঙালির সুভাষ নয়। কেউ কেউ সুভাষ এখন বেঁচে থাকলে কত বুড়ো হত, তা নিয়ে হাসিঠাট্টা করে সস্তা তালি কুড়িয়েছে। আমাদের সুভাষ বাঁচে অটোচালকের পকেটের সামান্য পয়সা থেকে বানানো ব্যানারে, আমার পিসিদের শাঁখের ডাকে। দিল্লি চেয়েছে সুভাষের মৃত্যু, কারণ তারা চেয়েছে সুভাষের স্মৃতির মৃত্যু, সুভাষের আদর্শের মৃত্যু, সেই আদর্শে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনার মৃত্যু, সেটা আঁকড়ে পশ্চিম বাংলার মানুষের এক সত্তা গঠন প্রক্রিয়ার মৃত্যু। কিন্তু কেন্দ্র ক্ষমতা আসলে মূর্খ। এটাই ক্ষমতার চরিত্র। তার দম্ভের চরিত্র। তাই দিল্লি জানে না, সুভাষ বেঁচে আছে - ঠিক যে ভাবে তার বেঁচে থাকাকে দিল্লি ভয় পায়, ঠিক সেই ভয়কে সত্যে পরিণত করার সম্ভাবনা নিয়ে বেঁচে আছে। যে সুভাষ বাংলার, যে সুভাষ বাঙালির, সেই সুভাষের মরণ নাই।  

 লেখক: কলকাতা স্থিত মস্তিষ্ক-বিজ্ঞানী

 

এসএএস

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সম্পর্কিত

সৌমিত্রের মৃত্যুতে যুগাবসান: ঠিক কোন যুগের অবসান?

সৌমিত্রের মৃত্যুতে যুগাবসান: ঠিক কোন যুগের অবসান?

সর্বশেষ

মেসির জোড়া গোলে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন

মেসির জোড়া গোলে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন

কান ধরে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই, বললেন অ্যাপেক্স এমডি

কান ধরে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই, বললেন অ্যাপেক্স এমডি

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিভে গেল চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিভে গেল চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র

ম্যান সিটিকে হারিয়ে চেলসি ফাইনালে

ম্যান সিটিকে হারিয়ে চেলসি ফাইনালে

দেড় শতাধিক ছবির নায়ক ওয়াসিম আর নেই

দেড় শতাধিক ছবির নায়ক ওয়াসিম আর নেই

আলহামদুলিল্লাহ সব ঠিকঠাক আছে: খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী

আলহামদুলিল্লাহ সব ঠিকঠাক আছে: খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী

‘খালেদা জিয়া বলেছেন সবার প্রপারলি মাস্ক পরা উচিত’

‘খালেদা জিয়া বলেছেন সবার প্রপারলি মাস্ক পরা উচিত’

অন্যমনস্কতার ভেতর বয়ে যাওয়া নিঃশব্দ মর্মর

অন্যমনস্কতার ভেতর বয়ে যাওয়া নিঃশব্দ মর্মর

পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেফতার

পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেফতার

মেনে নেওয়া হবে শ্রমিকদের দাবি

বাঁশখালী হত্যাকাণ্ডমেনে নেওয়া হবে শ্রমিকদের দাবি

মেক্সিকো থেকে কাদের মির্জার ছেলেকে হত্যার হুমকি!

মেক্সিকো থেকে কাদের মির্জার ছেলেকে হত্যার হুমকি!

রোহিতের ৪ হাজার, মুম্বাইয়ের সঙ্গেও পারলো না হায়দরাবাদ

রোহিতের ৪ হাজার, মুম্বাইয়ের সঙ্গেও পারলো না হায়দরাবাদ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.
© 2021 Bangla Tribune