X
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

স্মার্ট ডিভাইস গড়ে তুলছে আনস্মার্ট প্রজন্ম 

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ১৪:০৪

প্রভাষ আমিন ‘যুগের হাওয়া’ বলে একটা কথা আছে। যুগের হাওয়ার সঙ্গে নাকি তাল মেলাতে হয়। কিন্তু বুঝতে হবে, যুগের হাওয়া সবসময় ভালো নয়। যুগের হাওয়ার সাথে মিশে থাকে ‘বদ হাওয়া’ও। এখন যুগটা ডিজিটাল। সবার হাতে হাতে স্মার্ট ডিভাইস। আমরা হলাম ‘স্যান্ডউইচ প্রজন্ম’। আমরা ইন্টারনেটবিহীন জীবনও দেখেছি, যেটা এখনকার প্রজন্ম কল্পনাও করতে পারবে না। কোনও কারণে ইন্টারনেট ডাউন থাকলে অচল হয়ে যায় গোটা দেশ। ইন্টারনেট যেমন বিশাল সম্ভাবনা, তেমনই ভয়ঙ্কর সমস্যাও। ইন্টারনেট মানে আপনার হাতে বিশ্বের অগাধ জ্ঞানভাণ্ডারের চাবি, আবার ইন্টারনেট মানেই ভয়াল এক অন্ধকার জগত।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে নানা দ্বিধা-সংশয় আছে। কোন বয়সে শিশুর হাতে আপনি স্মার্ট ডিভাইস তুলে দেবেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরা অভিভাবকরা নিজেদের ব্যস্ততার অজুহাতে শিশুদের হাতে স্মার্ট ডিভাইস তুলে দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব সারি। তারপর যখন সেই শিশু স্মার্ট ডিভাইসে আসক্ত হয়ে যায়; মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না, পড়তে চায় না; তখন গেলো গেলো রব তুলি।

আপনারা সন্তান মোবাইল ছাড়া খেতে পারে না, এই অভিযোগটা করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, সেই শিশুটিকে মোবাইল ফোন চেনালো কে? ঘরে ঘরে এখন অভিভাবকদের সঙ্গে সন্তানের সমস্যার মূলে এই স্মার্ট ডিভাইস। আমার ছেলে প্রসূন এখন কলেজে পড়ে। তার মোবাইল এবং কম্পিউটার ব্যবহার নিয়ে টানাপড়েন নিত্যদিনের।

করোনা এসে এই টানাপড়েন বাড়িয়ে দিয়েছে আরো। প্রায় ১৫ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। পড়াশোনা যা হয় তা অনলাইনে, এই স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে। তাই যেসব অভিভাবক অনেক কষ্টে তার সন্তানকে স্মার্ট ডিভাইস থেকে দূরে রাখতে পেরেছিলেন, তারাও এখন বাধ্য হয়ে সন্তানের হাতে মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব বা ডেস্কটপ তুলে দিয়েছেন। এসব যন্ত্রেই তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়। কিন্তু সমস্যা হলো বাধটা একবার ভেঙে গেলে প্রবল স্রোতে পানি যেমন আসে, আসে বালি, আসে কচুরিপানাও। বাধভাঙা স্রোতে ফিল্টার বসানো কঠিন, আসলে অসম্ভবও। আপনার সন্তান কতক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করছে, তার কতটা পড়াশোনার জন্য, কতটা পড়াশোনার বাইরে? আগে যেমন আমরা পাঠ্যবইয়ের নিচে লুকিয়ে আউটবই পড়তাম, এখনও স্মার্ট প্রজন্ম পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টারনেটে ঘোরাঘুরি করে। আর ইন্টারনেট মানেই পদে পদে প্রলোভন, পদে পদে ফাঁদ। শিশুমন তার কতটা উপেক্ষা করতে পারে।  

আগেই বলেছি, ইন্টারনেট মানেই আপনার সামনে জ্ঞানের অগাধ সাগর। আপনার মনের সব প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন মুহূর্তেই। আবার এই ইন্টারনেটেই রয়েছে নানান অশ্লীল সাইট, বিপদজনক সব গেম, টিকটক, লাইকি, মাদক বেচাকেনা, কিশোর গ্যাং- সবকিছু। ডার্কওয়েব নামে এক ভয়ংকর জগতের কথা শুনি, ভালো বুঝি না, তবে যেটুকু বুঝি তাতে ভয়ের শীতল স্রোত বয়ে যায় মেরুদণ্ডে। কার সন্তান কখন, কোন ফাঁদে পড়ে যায়, সেই শংকায় থাকি। কম্পিউটারের শুরুর দিকে গাড়ি চালানো, দাবা, লুডু খেলা বা ইটের দেয়াল ভাঙার মতো নিরীহ গেম ছিল। এখন পাবজি, ফ্রি ফায়ার ইত্যাদি নানান নামের ভয়ংকর সব খেলার নাম শুনি; যার পুরোটাই যুদ্ধ, হত্যা আর ধ্বংসের। কয়েকদিন আগে একটা গেম তো মানুষকে আত্মহত্যা পর্যন্ত টেনে নিয়েছে। প্রসূন দেখি বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মিলে অনলাইনে কী একটা গেম খেলে, যাতে সারাক্ষণই গোলাগুলি। 

আমরাও ছেলেবেলায় পড়াশোনায় ফাঁকি দিতে নানান কৌশল বের করতাম। একটু জ্বর বাধাতে পারলেই মোটামুটি ৩/৪ দিনের জন্য নিশ্চিন্ত। বইয়ের নিচে লুকিয়ে মাসুদ রানা বা ফাল্গুনী-নীহাররঞ্জন পড়তাম। আর বিকেল হলেই মাঠে ভো দৌড়। ফুটবল, সাত চারা, দাড়িয়াবান্ধা, কানামাছি, গোল্লাছুট, কুতকুত- কত রকমের মজাদার খেলা। দৌড়াদৌড়িম হৈচৈ, মারামারি- আহা আনন্দের শৈশব। তবে শর্ত ছিল, যাই করি মাগরিবের আজান শেষ হওয়ার আগে বাসায় ফিরতে হবে। এমনও হয়েছে আজান শুরু হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে খেলা বন্ধ করে এক দৌড়ে আজান শেষ হওয়ার আগেই বাসায় পৌঁছে গেছি। মাগরিবের আজান শুরু থেকে শেষে সে দৌড়ে উসাইন বোল্টও পারবেন না। এখন আমাদের সন্তানদের শৈশব নেই, মাঠ নেই, খেলা নেই, বন্ধু-বান্ধবও নেই। যা আছে সব ভার্চুয়াল। এখন আর কোনও সময়ের কোনও বাধাধরা নিয়ম নেই। গভীর রাত পর্যন্ত দেখি বন্ধু-বান্ধবরা অনলাইনে আড্ডা দিচ্ছে, অনলাইন একসঙ্গে খেলা দেখছে বা সিনেমা দেখছে। 

আমরা ছেলেবেলায় সমবয়সী বন্ধু বা কাজিনরা একত্রিত হলে হুল্লোড় করতাম, পাড়া মাতাতাম। আর এখন সব চুপচাপ। বন্ধু-বান্ধবরা একত্রিত হচ্ছে ঠিকই, তারপর সবাই ঘাড় গুজে স্মার্ট ডিভাইসে ব্যস্ত। পাশের অ্যাকচুয়াল বন্ধুকে ফেলে আমরা ব্যস্ত হয়ে যাই দূরের না দেখা ভার্চুয়াল বন্ধুর সাথে চ্যাটিংয়ে। আগে প্রেম হতো, একটু দেখা, একটু ছোঁয়া, প্রেমপত্র, তাতে আবার গোলাপের পাপড়ি লুকানো। এখন এসব কিছুই লাগে না। ফেসবুকেই প্রেম-বিয়ে সব হয়ে যায়, প্রতারণা হয়, ছাড়াছাড়ি হয়; সবই দ্রুতগতিতে। এই যে এখন নানান রকমের মাদকের নাম শুনি। নানান কিশোর গ্যাংয়ের গল্প শুনি, শিশু-কিশোরদের নানান অপরাধের কথা শুনি। শেষ পর্যন্ত সবকিছুর উৎস এই ইন্টারনেট।

দেশ ডিজিটাল হচ্ছে, সবার হাতে হাতে স্মার্ট ডিভাইস, কথায় কথায় ইংরেজি বলছে। বাহ, দেশ বুঝি  এড়িয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্ম বুঝি দারুণ স্মার্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার কেন যেন ভয় হয়, শঙ্কা হয়। এই ঘাড় গোজা প্রজন্ম সত্যি স্মার্ট হচ্ছে তো। ভার্চুয়াল জগতে হাতিঘোড়া মেরে ফেলা আর বাস্তবে ছোট একটা সমস্যার সমাধান করার মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক।

এই যে ১৫ মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, তাতে কিন্তু একটা প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে যতই পড়াশোনা হোক, তা কখনও স্কুলের বিকল্প নয়। অনলাইনে আপনি পন্ডিত বানাতে পারবেন, স্মার্ট বানাতে পারবেন না। একটি শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ বানানোর জন্য পরিবারের পরই সবচেয়ে বড় অবদান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানে শুধু ক্লাসরুমে শিক্ষা নয়। স্কুল-কলেজে আসলে জীবন শেখানো হয়। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মেশা, নেতৃত্বের বিকাশ, সামাজিক কাজে এগিয়ে যাওয়া সব হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বন্ধুর বিপদে এগিয়ে যাওয়াটা স্মার্টনেস, ঘাড় গুজে স্মার্ট ডিভাইসে চ্যাট করাটা স্মার্টনেস নয়। নতুন প্রজন্ম স্মার্ট ডিভাইসে বিভোর হয়ে দুনিয়া ঘুরে বেড়ায়, ঘাড় তুলে সামনের জগতটা তার কাছে অচেনা মনে হয়। বই পড়ে নিজের মতো একটা কল্পনার জগৎ বানানোর যে আনন্দ, স্মার্ট ডিভাইসে তা নেই। 

এখন আর নতুন প্রজন্মকে স্মার্ট ডিভাইস থেকে দূরে রাখার সুযোগ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনার জন্য হলেও তার হাতে স্মার্ট ডিভাইস দিতেই হবে। আর স্কুল-কলেজ কবে খুলবে, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই সন্তান স্মার্ট ডিভাইসে কী করছে, কোন সাইটে যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে তার ওপর নজরদারি জারি রাখতে হবে। অন্তত প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত সন্তানকে নিরাপদ রাখা আপনার দায়িত্ব। আর চেষ্টা করুন আপনার সন্তান যেন সারাদিন কম্পিউটার গেমস না খেলে একটা সময় মাঠে গিয়ে খেলার সুযোগ পায়, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সরাসরি মেশার সুযোগ পায়। শুধু ডিভাইসে নয়, আমাদের প্রজন্ম যেন সত্যি সত্যি স্মার্ট হয়ে বেড়ে উঠতে পারে। 

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

 

/এসএএস/

সম্পর্কিত

আহা জীবন, আহা কলেজ জীবন!

আহা জীবন, আহা কলেজ জীবন!

লকডাউন থামলেও মৃত্যু থামেনি

লকডাউন থামলেও মৃত্যু থামেনি

তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্ক !

তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্ক !

হলি আর্টিজান: জঙ্গিবাদের উত্থান-পতন

হলি আর্টিজান: জঙ্গিবাদের উত্থান-পতন

নিউক্লিয়ার বর্জ্যে তো কেউ মরছে না

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ২১:০৮

কাজী জাহিন হাসান আমাকে মাঝেমধ্যেই যে কথাটা শুনতে হয়- ‘কী করে আপনি নিউক্লিয়ার জ্বালানিকে সমর্থন করছেন? ধরা যাক, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট নিরাপদে পরিচালনা করা যাচ্ছে, তবু এর তেজস্ক্রিয় বর্জ্যগুলোকে একনাগাড়ে সংরক্ষণ করে যাওয়াটা নিতান্তই অসম্ভব।’

সত্যিটা হলো, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের কারণে কেউ মারা যাচ্ছে না। এরচেয়ে ঢের দুশ্চিন্তার কারণ হওয়া উচিত ফসিল ফুয়েল তথা জীবাশ্ম জ্বালানির বর্জ্য (দূষণ)। যেটার কারণে বছরে বিস্ময়কর হারে মারা যাচ্ছে মানুষ।

একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছরে ৩৩ লাখ টন কয়লা পোড়াতে হয়। এতে বছরে চার লাখ ৯০ হাজার টন বিষাক্ত ছাই ও ৬৯ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরি হচ্ছে। এই পাহাড়সম কয়লার ছাই ফেলে রাখা হয় খোলা জায়গায় এবং যা অবধারিতভাবেই মিশে যাচ্ছে আশপাশের নদীনালায়। পরিমাণ দেখেই বোঝা যায়, এ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কোথাও সংরক্ষণ করা আদৌ সম্ভব নয়।

নিউক্লিয়ার জ্বালানির নিরাপত্তা

অপরদিকে, একটি এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট (প্রথাগত লাইট-ওয়াটার রিয়েকটর ব্যবহার করে) থেকে বছরে ৩০ টন নিউক্লিয়ার বর্জ্য (ব্যবহার করা জ্বালানি) তৈরি হয়। তুলনামূলক বিচারে যার পরিমাণ অনেক কম এবং এটি যেন না ছড়ায় সেই জন্য এটাকে বেশ সাবধানে সংরক্ষণও করা হয়।

এই ব্যবহৃত জ্বালানি তথা ‘স্পেন্ট ফুয়েল’টাকে পানির নিচে একটি ‘স্পেন্ট ফুয়েল পুল’-এ অন্তত এক বছর রাখা হয় (শীতল করতে)। এরপর এটাকে ‘ড্রাই কাস্ক’ তথা ইস্পাতের তৈরি সিলিন্ডারে রাখা হয়। ওই সিলিন্ডারের চারপাশে আবার কনক্রিটের দেয়াল ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস থাকে। ওই গ্যাস কোনোভাবেই ওই বর্জ্যের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। অন্য কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য এতটা সাবধানতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয় না।

রাশিয়া ও ফ্রান্সে নিউক্লিয়ার জ্বালানি রিসাইকেল করা হয়। এতে বর্জ্যের আয়তন কমে আসে। সেটাকেও অবশ্য ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। বছরে পৃথিবীতে কয়লা পোড়ানো হয় ৮০০ কোটি টন। যাতে বছরে তৈরি হয় ১২০ কোটি টন কয়লার ছাই।

সময়ের পরিক্রমায় নিউক্লিয়ার বর্জ্য কম বিপজ্জনক হয়ে আসে। কিন্তু কয়লা পোড়ানো ছাইয়ের বিষাক্ত ধাতুগুলো (সিসা, পারদ, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম) আজীবনই বিষাক্ত থেকে যায়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, কয়লার মধ্যেও প্রাকৃতিকভাবে যৎসামান্য তেজস্ক্রিয় উপাদান থাকে। এতে কয়লার ছাইয়ের যে পাহাড় তৈরি হয়, ওটাও কিন্তু তেজস্ক্রিয়!

কয়লার ছাই উন্মুক্ত জায়গায় রাখা হয়। আর তা নদীনালার মাধ্যমে বড় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে যেতে থাকে। সেই হিসাবে একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র কিন্তু নিউক্লিয়ার প্লান্টের চেয়েও বেশি তেজস্ক্রিয় দূষণ তৈরি করে।

বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ এফেক্ট

এটা ঠিক যে, ছাইয়ের চেয়েও আমাদের কয়লাসৃষ্ট বায়ুদূষণ নিয়েই বেশি ভাবতে হবে। কেননা, বায়ুদূষণের কারণে বছরে মারা যাচ্ছে ৪০ লাখ মানুষ। বেশিরভাগ দূষণই হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে। কয়লাই এর জন্য বেশি দায়ী।

সুতরাং, নিউক্লিয়ার জ্বালানির বর্জ্য যে কয়লার বর্জ্যের চেয়ে বেশি নিরাপদ, এটাই শেষ কথা নয়।

প্রাকৃতিক গ্যাসকেও অনেক সময় ‘ক্লিন’ জীবাশ্ম জ্বালানি গণ্য করা হয়। তথাপি, জলবায়ুতে যদি আপনি এর প্রভাব বিবেচনা করেন, তবে বুঝতে পারবেন এই গ্যাস কিন্তু কয়লার চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। দুটোই কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে। তবে গ্যাসের সুবিধা হলো এটি কয়লার মতো বিষাক্ত ছাই তৈরি করে না।

আবার গ্যাসের একটি অসুবিধা হলো এর পাইপলাইন লিক করলে মিথেন বের হতে থাকে। গ্রিনহাউজ এফেক্টে যার প্রভাব কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়েও মারাত্মক।

খাদ্য সংকট ও সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধি

গ্রিনহাউজ গ্যাস বিবেচনায় নিউক্লিয়ার জ্বালানির চেয়ে ফসিল ফুয়েল তথা জীবাশ্ম জ্বালানি বেশি বিপজ্জনক। আর এটাও পরিষ্কার যে গ্রিনহাউজ গ্যাস দূষণের কারণে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলসহ নিচুভূমির অনেক দেশ স্থায়ীভাবে তলিয়ে যাবে।  

জলবায়ু ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকলে বাংলাদেশের মতো অনেক মৌসুমি জলবায়ুর দেশ তখন পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারবে না। মানুষও জলসীমার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শহরমুখী হতে থাকবে।

ভূমি হারানো বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো হবে নিঃস্ব। তাদের খাদ্যের জোগান দিতে আমাদের খাদ্য আমদানি ও রেশনের দিকে যেতে হবে। বিশ্ব যদি এভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে থাকে, তবে খাদ্য সংকট ও রেশনিং হয়ে যাবে নৈমিত্তিক ঘটনা।

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বাঁচার উপায় কী?

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে দরিদ্র দেশগুলোর জ্বালানির জন্য বাস্তবিক অর্থে দুটি পথ খোলা- নিউক্লিয়ার জ্বালানি বা জীবাশ্ম জ্বালানি। সৌর বা বায়ুকল এখানে কদাচিৎ দেখা যায়। ওই দুটো ব্যবস্থা এসব দেশের শহরাঞ্চল বা শিল্পকারখানার চাহিদানুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জোগান দিতে পারবে না।

এ ছাড়া সোলার ও বায়ুকলগুলো দিনের মাত্র ৩০ ভাগ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। বাতাসের গতি সব সময় থাকে না, আবার রাতে থাকে না সূর্যের আলো। যেসব পরিষেবায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, দেখা যায় সেগুলোতেও ৭০ শতাংশ সময় ব্যাকআপ পাওয়ার প্লান্ট ব্যবহার করা হয় (যেগুলো সচরাচর তেল বা গ্যাসে চলে)।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কখনোই জীবাশ্ম জ্বালানির জায়গা নিতে পারবে না

আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা চাইলে এখনও জীবাশ্মকে বাদ দিয়ে নিউক্লিয়ার জ্বালানির মাধ্যমে বিপর্যয় এড়াতে পারি। পরবর্তী প্রজন্মের নিউক্লিয়ার প্লান্টগুলো (মলটেন সল্ট রিয়েকটর ও সোডিয়াম কুলড ফাস্ট রিয়েকটর) যে ব্যবহৃত নিউক্লিয়ার বর্জ্য তৈরি করবে, সেগুলো বড়জোর পরবর্তী কয়েক শতাব্দী বিপজ্জনক অবস্থায় থাকবে, সহস্র বছর নয়।

এরমধ্যে নতুন কিছু রিয়েকটরের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যেগুলোতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এই রিয়েকটরগুলো যত দ্রুত সম্ভব তৈরি করা দরকার। ব্যবহৃত জ্বালানিকে বর্জ্য হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ফেলে না রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।   

ভবিষ্যৎটা নিউক্লিয়ার

নিউক্লিয়ার শক্তিসমৃদ্ধ দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অন্যরা) এখন অন্য দেশগুলোতে পরবর্তী প্রজন্মের নিউক্লিয়ার রিয়েকটর তৈরি করতে পারে। তারা চাইলে নিউক্লিয়ার জ্বালানি নবায়নের একচেটিয়া ব্যবসাও করতে পারে।

ব্যবহৃত নিউক্লিয়ার জ্বালানিতে থাকে প্লুটোনিয়াম, যা আলাদা করে নিউক্লিয়ার অস্ত্রে ব্যবহার করা যায়। নিউক্লিয়ার জ্বালানি রিসাইকেল করার কাজটা তাই সেসব দেশেরই করা উচিত যাদের হাতে ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং যারা কিনা স্বভাবতই চাইবে এক্ষেত্রে নিজের সুবিধাজনক অবস্থানটা ধরে রাখতে (পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার কমানোর মাধ্যমে)। নিউক্লিয়ার জ্বালানি নবায়নের এই একচেটিয়া বাণিজ্যের মাধ্যমেই পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো বিশ্বের জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছে।

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ১০০০ মেগাওয়াটের যে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো তৈরি হচ্ছে, এগুলোর প্রতিটি আগামী অন্তত ৪০ বছর চালু থাকবে এবং এই সময় একেকটি কেন্দ্র ১৩ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছাড়বে। আর তাই, প্রতিটি দেশেরই উচিত জীবাশ্ম জ্বালানি বাদ দিয়ে নতুন নকশার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া।

পরিশেষে, এখন আমরা যেটাকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলছি, সেটাই কিন্তু ভবিষ্যতের জ্বালানি।

 

লেখক: চেয়ারম্যান, টু-এ মিডিয়া লিমিটেড

 

/এফএ/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

পারমাণবিক বিদ্যুতেই ভবিষ্যৎ

পারমাণবিক বিদ্যুতেই ভবিষ্যৎ

গলিত-লবণের চুল্লি: বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ?

গলিত-লবণের চুল্লি: বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ?

মহামারিকালে হাসপাতাল বন্ধ!

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ২০:৪৬

আমীন আল রশীদ জনবল সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল; যেখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। গত ১৫ জুলাই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদটি দেখার পরে প্রথমে যে প্রশ্নটি মাথায় আসে তা হলো—করোনার মতো একটি অতিমারিকালে, যখন প্রতিদিনই মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ছে, সেরকম একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির ভেতরে খোদ রাজধানীতে করোনার জন্য নির্ধারিত একটি সরকারি হাসপাতাল কী করে বন্ধ হয়ে যায়!

ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাভুক্ত পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের পাশে এই হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জনবল সংকটের কারণে। প্রশ্ন হলো, ১৭ কোটি লোকের দেশে জনবল সংকটের কারণে একটি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়া কি খুব স্বাভাবিক ঘটনা? অথচ এই হাসপাতালে লজিস্টিক সবকিছুই আছে। নেই শুধু চিকিৎসক, নার্স ও দক্ষ জনবল।

গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর এটিকে কোভিড ডেডিকেটেড একশ’ শয্যার হাসপাতাল বানানো হয়। বসানো হয় ৫ বেডের আইসিইউ ও ১৫ বেডের এইচডিইউ। স্থাপন করা হয় সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। অথচ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সারা দেশেই যখন বেড ও আইসিইউ নিয়ে হাহাকার, তখন শুধু জনবল না থাকায় এরকম একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হলো। একইভাবে লোকবল না থাকায় চিকিৎসা দিতে পারছে না রাজধানীর লালকুঠি হাসপাতালও।

তবে শুধু রাজধানীর এই দুটি হাসপাতালই নয়, সারা দেশের প্রায় সব সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য জনবল সংকট চরমে—যা এই অতিমারিকালেও খুব একটা কাটানো সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ হাসপাতালে আধুনিক মানের যন্ত্রপাতি নেই। কোথাও যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই চিকিৎসক বা টেকনিশিয়ান। সংশ্লিষ্ট জনবলের অভাবে বিকল হয়ে আছে অনেক যন্ত্রপাতি। এ ছাড়া ছুটির দিনে বন্ধ থাকে বহির্বিভাগ ও প্যাথলজি। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় রোগীদের পড়তে হয় সমস্যায়।

জেলা শহরের হাসপাতালগুলোয় সেবা না পাওয়ায় মানুষের চাপ বাড়ে রাজধানীর হাসপাতালে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের অন্তত অর্ধেক হয় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রেফার্ড হয়ে আসা, না হয় সেখানে সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে আসা। কয়েক বছর ধরেই অসংক্রামক রোগের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। কিন্তু জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে ক্যানসার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।

যখন জনবল সংকটে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালও বন্ধ ঘোষণা করা হয় কিংবা জনবল না থাকায় আধুনিক অবকাঠামো আর যন্ত্রপাতিতে সুসজ্জিত কোনও হাসপাতাল খালি পড়ে থাকে, তখন এটি বুঝতে বাকি থাকে না যে দেশের স্বাস্থ্য খাতে কী পরিমাণ লোকবলের অভাব রয়েছে।

অস্বীকার করার উপায় নেই, করোনার কারণে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিপর্যয়কর সময় পার করছে স্বাস্থ্য খাত। অথচ এই সময়ে এ খাতে ৫৪ হাজারের বেশি পদ শূন্য পড়ে আছে। এরমধ্যে চিকিৎসক পদই ফাঁকা ১১ হাজার ৩৬৩টি।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্বয়ং রাষ্ট্রপতির এলাকায় কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথম শ্রেণির ক্যাডার চিকিৎসকের ৬৮ পদই শূন্য। নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির দুটি পদের সবই শূন্য। সিনিয়র স্টাফ নার্সের ৩৪২ পদের মধ্যে ১৩২, দ্বিতীয় শ্রেণির পাঁচ পদের দুটি, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৩৯ পদের ১২৯টি শূন্য। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে টেকনিশিয়ান সংকটে। ৫৬ পদে কর্মরত মাত্র তিন জন। ফলে রোগীদের উচ্চমূল্য দিয়ে বাইরের ল্যাব থেকে বেশিরভাগ পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটের কারণেও চিকিৎসা কার্যক্রম অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। এখানে এমআরআই মেশিন নেই।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) বরাত দিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়, দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৭৫ হাজার চিকিৎসক ও ৩২ হাজারের মতো নার্স রয়েছেন। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে ২ হাজার ২৬৭ জনের জন্য রয়েছেন একজন চিকিৎসক। এ ছাড়া ৫ হাজার ৩১৩ জনের স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে রয়েছেন একজন নার্স।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একজন চিকিৎসকের সঙ্গে তিন জন নার্স ও পাঁচ জন টেকনিশিয়ান থাকা উচিত। প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ২৩ জন চিকিৎসক থাকা দরকার। গত বছরের শেষে জাতীয় সংসদে জেলাওয়ারি একটি পরিসংখ্যান দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার সবকটিতেই চিকিৎসকের পদ ফাঁকা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি শূন্যতা ঢাকায় ৩ হাজার ১৮৫টি। মন্ত্রীর নিজ জেলা মানিকগঞ্জে ২১৪টি, প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা গোপালগঞ্জে ২৮৩টি পদ ফাঁকা। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ হাজার।

প্রশ্ন হলো, করোনার মতো মহামারিকালেও কেন স্বাস্থ্য বিভাগের শূন্য পদে লোক নিয়োগ করা যাচ্ছে না? সরকারের কি টাকার অভাব? করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার চেয়ে মানুষ বাঁচানোর জন্য চিকিৎসক নার্স ও মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান নিয়োগের পেছনে অর্থ খরচ করাই যুক্তিযুক্ত নয়?

সরকারের বিভিন্ন দফতরে জনবল সংকটের কারণে সেবা ব্যাহত হওয়ার খবর এলে তার কারণ খুঁজতে গিয়ে  জানা যায় বাজেট সংকটের কথা। অর্থাৎ লোকবল নিয়োগের মতো পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে কিনা বা করোনার মতো অতিমারিকালে যে পরিমাণ বরাদ্দ থাকার কথা তা আছে কিনা—তা নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হলেও কিংবা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রতি বছর বাজেটের আগে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও বাস্তবতা হলো, কম বরাদ্দও ব্যয় করতে পারে না স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২৮ মে একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়, গত কয়েক বছর ধরে যে পরিমাণ বরাদ্দ স্বাস্থ্য খাতে দেওয়া হয় তাও ব্যয় করতে পারছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এমনকি করোনা মহামারির এই সময়েও এখন পর্যন্ত সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার মতো অব্যয়িত রয়েছে।

বলাই বাহুল্য যে বরাদ্দ এই খরচ করতে না পারার পেছনে সরকারের পরিকল্পনার অভাব যেমন দায়ী, তেমনি আছে বাস্তবায়নকারী বিভিন্ন পক্ষের অদক্ষতা বা অগ্রাধিকার ঠিক করতে না পারা। অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু মৌলিক পার্থক্যও রয়েছে। যেমন আগে থেকে জনবল প্রস্তুতসহ চাহিদাপত্র তৈরি করতে হয়। এজন্য পরিকল্পনা নিতে হয়। অথচ তা না করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে সেই অর্থ যে অব্যয়িত থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক।

স্বাস্থ্য খাতে সরকার যে বরাদ্দ দেয়, তার বড় অংশই অনুন্নয়ন ব্যয়, অর্থাৎ চিকিৎসক নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের বেতন বোনাস। আর উন্নয়ন ব্যয়ের মোটা অংশের বরাদ্দ থাকে নতুন হাসপাতাল নির্মাণ এবংং ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটার জন্য। একটি অংশ খরচ হয় প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী,  গজ, ব্যান্ডেজ, তুলাসহ হালকা যন্ত্রপাতি ও পথ্য ক্রয়ের পেছনে। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটা বন্ধ। এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর প্রকাশ। অর্থাৎ  স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এবং যন্ত্রপাতি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা; করোনাকালে কেনাকাটা নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদাররা নিজেদের গুটিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হওয়া সব ঠিকাদারের সক্ষমতার অভাবেও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অর্থ খরচ হচ্ছে না। আবার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বেশ কিছু হাসপাতালের পরিচালক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলেও পুরো খাতে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যে কারণে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তারাও কেনাকাটার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না—এমনটিও শোনা যাচ্ছে।

আবার এই বাস্তবতাও অস্বীকার করা যাবে না যে, সরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার আধুনিক ভারী যন্ত্রপাতি কেনা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নেই, রক্তের এই পরীক্ষাটি হবে না—এরকম নানা অজুহাতে রোগীদের বাইরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। কারণ, সরকারি হাসপাতালের এক্সরে এবং প্যাথলজি বিভাগের টেকনিশিয়ান ও বহির্বিভাগের ডাক্তাররাই এসব বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে তারাও চান না সরকারি হাসপাতালে সব পরীক্ষা নিরীক্ষা হোক। অর্থাৎ একটি বড় চক্রের বক্তিগত লোভের বলি হচ্ছে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো। সুতরাং এই যখন অবস্থা, তখন সরকারি হাসপাতালের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটার অর্থ দিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে চিকিৎসক নার্স ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে করোনার চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো সচল রাখা যায় কিনা—সেটিও নীতিনির্ধারকরা ভেবে দেখতে পারেন।

লেখক: সাংবাদিক।

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বুদ্ধিজীবী তর্কের লাভ-ক্ষতি

বুদ্ধিজীবী তর্কের লাভ-ক্ষতি

আমলাতন্ত্র নিয়ে সমালোচনার তির কার দিকে যাচ্ছে?

আমলাতন্ত্র নিয়ে সমালোচনার তির কার দিকে যাচ্ছে?

সমাজে ইসলামিক বক্তাদের প্রভাব ও জনসংস্কৃতির তর্ক

সমাজে ইসলামিক বক্তাদের প্রভাব ও জনসংস্কৃতির তর্ক

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতদিন বন্ধ থাকবে?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতদিন বন্ধ থাকবে?

প্রিয় আওয়ামী লীগ, হাইব্রিড দোকানদারদের সামলান

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৮:২৮
ফারাবী বিন জহির বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক অনন্য উজ্জ্বল রাজনৈতিক দলের নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের ইতিহাসে এমন কোনও অধ্যায় পাওয়া যাবে না, যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবদান নেই। এমনকি বাংলাদেশ নামক  দেশটির অভ্যুদয়ের পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের বিরাট অবদান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটির নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়েও যেকোনও রাজনৈতিক সংগ্রামে আওয়ামী লীগ উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। যখনই  দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে তখন গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই লড়াই করতে গিয়ে তাদের অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে, পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক বন্ধুর পথ।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টাঙ্গাইলের শামসুল হক। সেই দলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে যিনি হয়ে ওঠেন জনগণের প্রাণের নেতা ‘বঙ্গবন্ধু’। বিভিন্ন ত্যাগ, সংগ্রাম আর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির প্রাণের স্পন্দন। বাঙালি জাতির ওপর তর্জনী তুলে কথা বলার ক্ষমতা যার ছিল, যিনি পুরো জাতিকে নিজের আত্মার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিয়েছিলেন। যার কথা শুরু হতো ‘আমার ভাই ও বোনেরা’ অথবা ‘আমার দেশ’ দিয়ে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় একজন বঙ্গবন্ধু উঠে এসেছিলেন একজন সাধারণ কর্মী থেকে প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি বা পরিবারতন্ত্র থেকে নয়।

আমরা যদি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের দিকে লক্ষ করি তাও আমরা দেখবো তিনি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করা অসম্ভব কর্মীবান্ধব এক নেত্রী। তিনি ১৯৬৬-৬৭ সালে ছাত্রলীগ থেকে ইডেন কলেজের ছাত্রী সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাকালে ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা তথা তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতির কন্যা হিসেবে চাইলেই এমপি, মন্ত্রী বা আওয়ামী লীগের বড় কোনও পদে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজনীতি শুরু করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।

তিনি তার পিতার রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করেছেন বলেই রাজনীতি শুরু করেছেন তৃণমূল পর্যায় থেকে। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন একজন কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন তখন তিনি দেশে উপস্থিত ছিলেন না। সুতরাং তার বিন্দুমাত্র প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল না। আওয়ামী লীগের কর্মী এবং সমর্থকরাই তাকে দলীয় প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। এটি সম্ভব হয়েছে শুধু  তৃণমূলে তার অভাবনীয় জনপ্রিয়তার কারণে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ভীষণ কর্মীবান্ধব নেতা হওয়ার কারণে, আওয়ামী লীগের কর্মীরা জানতেন তিনি পারবেন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরতে, দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে। এমনকি টানা এত বছর ধরে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সফলভাবে দলের হাল ধরে থাকার পরও তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি, বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ যখন তিনি নিজেই আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবতে বলেন, তার কর্মীরা সমস্বরে ‘না না’ বলে ওঠেন।

আওয়ামী লীগের সব স্তরের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন তাদের শেষ ভরসাস্থল জননেত্রী শেখ হাসিনা। আর এসব সম্ভব হয়েছে তার কর্মীবান্ধব গুণটির কারণেই।

মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ কোনও স্বৈরাচারের ঔরস থেকে ক্ষমতার হালুয়া রুটি খেতে খেতে জন্ম নেওয়া কোনও দল নয়। বরং এটি গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে জন্ম নেওয়া একটি দল। এই দলের পরতে পরতে আছে সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের ইতিহাস। আওয়ামী লীগের মূল শক্তির উৎস হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অভাবনীয় গ্রহণযোগ্যতা। এই তৃণমূলের শক্তির বলে বলিয়ান হওয়ার ফলেই শত প্রতিকূলতাও আওয়ামী লীগকে বাংলার ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। বরং যতই ধ্বংসের চেষ্টা করা হোক না কেন, আওয়ামী লীগ  ফিনিক্স পাখির মতই জেগে উঠেছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে। যে নেতৃত্বের ছিল জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। যে নেতৃত্ব জনগণের হৃদস্পন্দন বুঝতেন এবং সেই মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।

সেই নেতৃত্বের হাত ধরেই আওয়ামী লীগ প্রায় ১০ বছরের অধিক সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় আওয়ামী লীগ দল হিসেবে একটি স্বর্ণালি সময় পার করছে। তবে এটিও সত্য যে অধিক  সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে স্বভাবতই এক ধরনের হাইব্রিড চাটুকার শ্রেণি আওয়ামী লীগের পতাকা তলে আশ্রয় লাভের বাসনায়  বিভিন্নভাবে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। এ কথা অস্বীকারের জো নেই যে কিছু  কিছু ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়ে যাচ্ছে। এই নব্য হাইব্রিডদের কারণে ত্যাগীদের কোণঠাসা হওয়ার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে হরহামেশাই। এই  চাটুকার হাইব্রিড শ্রেণির  ‘ধান্দার’ অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে রাজনৈতিক দোকান। যা তা বিষয়কে কেন্দ্র করে ‘লীগ’ শব্দটি জুড়ে তারা খুলে বসছে তাদের এই রাজনৈতিক দোকান। এমন সব শব্দের পাশে ‘লীগ’ শব্দটি তারা জুড়ে দিচ্ছে, যা শুধু কৌতুকপূর্ণ নয়, অপমানজনকও বটে। তাদের এই অদ্ভুত অদ্ভুত সব ‘লীগ’ গড়ে তোলার কারণ শুধুই নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার সাজিয়ে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি হাসিল। এদের দলের প্রতি বিন্দুমাত্র ত্যাগ বা আনুগত্য কোনোটি’ই নেই। বরং এই চাটুকার হাইব্রিড শ্রেণির অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, এদের অনেকেরই আওয়ামী লীগের নামেই ছিল ব্যাপক গাত্রদাহ। এখন এরাই রাজনৈতিক দোকান খুলে দলের নাম ভাঙিয়ে অথবা দলকে বিতর্কিত করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায়, আওয়ামী বিরোধী শক্তি আওয়ামী লীগের এত ক্ষতি করতে পারেনি যতটা ক্ষতি করেছে দলের অভ্যন্তরে থাকা এই বেইমান চাটুকার হাইব্রিড শ্রেণির লোকেরা।

বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আর নেই। কারণ, দিন দিন এসব রাজনৈতিক দোকানের সংখ্যা  এবং এসব দোকানদারের কুকর্মের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এদের এসব কুকর্ম দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে পদে পদে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

তাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উচিত এদের বিষয়ে কঠোরতর সিদ্ধান্ত নেওয়া। শুধু এই হাইব্রিড দোকানদারদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে হবে না। এই হাইব্রিড দোকানদাররা কার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে লালিত পালিত হচ্ছে, কার ইশারায় এরা এসব অদ্ভুত  অদ্ভুত রাজনৈতিক দোকান পরিচালনার সাহস পাচ্ছে, এই বিষয়গুলোও চিহ্নিত করে তাদের সেই গডফাদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। ফসলি জমিতে  বিষাক্ত আগাছা যদি ঠিকমতো পরিষ্কার না করা হয় তাহলে এই আগাছা যেমন জমির সব ফসল নষ্ট করে দেয়,  ঠিক তেমনি হাইব্রিড দোকানদার নামক রাজনৈতিক আগাছা যদি ঠিকমতো পরিষ্কার না করা হয় তাহলে তা একদিন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সব অর্জন ম্লান করে দেবে এরা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মরহুম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যথার্থই বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধু কোনও একটি দল নয়, আওয়ামী লীগ একটি ত্যাগের নাম, আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম, যে অনুভূতি ত্যাগের এবং আত্মত্যাগের।’ কিন্তু এই হাইব্রিড দোকানদারদের কারণে সেই ত্যাগ এবং আত্মত্যাগের অনুভূতি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই হাইব্রিড দোকানদারদের আস্ফালন আওয়ামী লীগের মূল চালিকাশক্তি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে ফেলে, যা দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে তোলে। তাই নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের এখনই উচিত চাটুকার হাইব্রিড শ্রেণির দোকানদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।      

লেখক: গবেষক
/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

করোনায় জীবন বনাম জীবিকা সংকট

করোনায় জীবন বনাম জীবিকা সংকট

পারিবারিক সহিংসতা: ‘সিগন্যাল ফর হেল্প’ নিয়ে কি ভাবা যায়?

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৬:১৩

ফাহিমা আক্তার ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল ‘কানাডিয়ান উইমেন্স ফাউন্ডেশন’ কোভিড-১৯-এ বেড়ে যাওয়া পারিবারিক সহিংসতা হ্রাসকল্পে ‘সিগন্যাল ফর হেল্প’– নামে একটি উদ্যোগ নেয়। এর পরপরই একই সালের ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘উইমেন্স ফান্ডিং নেটওয়ার্ক’ ও এই উদ্যোগটি গ্রহণ করে। ‘সিগন্যাল ফর হেল্প’- হলো একটি সংকেত, যা কিনা সহিংসতার শিকার ব্যক্তি অন্য কোনও ব্যক্তিকে সরাসরি বা ভিডিও কল দেবেন, যাতে তিনি অর্থাৎ সহিংসতার শিকার ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বুঝাবেন যে তার সাহায্য প্রয়োজন। এজন্য তাকে প্রথমে তার একটি হাত দেখাতে হবে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মুষ্টির ভেতরে নিয়ে বাকি চারটি আঙুল দিয়ে তা চেপে ধরতে হবে। এখানে প্রতীকীভাবে বুঝানো হয়েছে যে ভিকটিম হলো বৃদ্ধাঙ্গুলের মতো এবং বাকি চারটি আঙ্গুলের দ্বারা সে ট্র্যাপে আটকে গেছে। যেহেতু কোভিড-১৯-এর কারণে সর্বত্র লকডাউন বিরাজ করছে এবং সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে সাহায্য পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে, তাই নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি যাতে সহজেই সাহায্যের কথা জানাতে পারে, সেজন্য এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।

যখন কোনও ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার কারও কাছ থেকে এই নির্দিষ্ট সংকেতটি পাবেন, তখন তার কি করণীয় সে সম্পর্কেও বিস্তারিত বলে দেওয়া আছে ‘কানাডিয়ান উইমেন্স ফাউন্ডেশন’ এর ওয়েবসাইটে। যেমন, যদি কোনও ভুক্তভোগী তাকে এই সংকেত দেখান, তখন তিনি ৯১১- এ কল করবেন এবং ভুক্তভোগীর সাহায্যের জন্য পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জানাবেন। তবে, প্রথমেই পুলিশকে জানাতে হবে তেমন নয়, যেহেতু এমনও হতে পারে যে ভুক্তভোগী কেবল কিছু তথ্য জানতে চাইছেন বা জানাতে চাইছেন। এতে আরও বলা আছে কোন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে সাহায্যকারী ব্যক্তি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তথ্য নেবেন। যেমন, তিনি কল করে এমন প্রশ্ন করবেন যেগুলোর উত্তর কেবল হ্যাঁ বা না-তে দেওয়া সম্ভব। অথবা কলে কেউ শুনে ফেলার সম্ভাবনা থাকলে খুদেবার্তা পাঠাবেন, যেখানে একদম স্বাভাবিক কথা লেখা থাকবে এবং কৌশলে সাহায্য প্রয়োজন কিনা তা জানতে চাওয়া হবে।

কিন্তু যেহেতু এই সংকেতটি জনসাধারণের কাছে পরিচিত হয়ে যাবে, তাই নির্যাতনকারীর এই সম্পর্কে জেনে যাওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। আর অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনকারীর ভুক্তভোগীকে নিয়ন্ত্রণ করার একটা প্রবণতা দেখা যায়, যার কারণে ভুক্তভোগী কোনও সংকেত ব্যবহারের সুযোগ নাও পেতে পারে। এক্ষেত্রে ‘কানাডিয়ান উইমেন্স ফাউন্ডেশন’- এর ভাষ্য হলো– একটি নির্দিষ্ট উদ্যোগের আওতায় সব ভুক্তভোগীকে আনা সম্ভব নয়। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো যত বেশি সংখ্যক ভুক্তভোগীকে সাহায্য প্রদান করা যায়।

‘কানাডিয়ান উইমেন্স ফাউন্ডেশন’ যেসময়ে ‘সিগন্যাল ফর হেল্প’ উদ্যোগটি গ্রহণ করেন, একই সময়ে বাংলাদেশে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ পারিবারিক সহিংসতার ওপর একটি জরিপের রিপোর্ট প্রকাশ করে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ২৭টি জেলায় এই জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়, যেখানে দেখানো হয় ৪২৪৯ জন নারী এবং ৪৫৬ জন শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার। এদের মধ্যে আবার ১৬৭২ জন নারী ও ৪২৪ জন শিশু জীবনে প্রথমবারের মতো সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় এ দেশে যেসব হেলপলাইন আছে, তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত হেলপলাইন ১০৯, জাতীয় জরুরি অবস্থার হেলপলাইন ৯৯৯, যেখানে পুলিশ ও হাসপাতালের জন্য জরুরি সেবা পাওয়া যাবে, কোভিড-১৯-কে কেন্দ্র করে বিশেষ হেলপলাইন ৩৩৩ এবং ন্যাশনাল হেলপলাইন সেন্টার ফর ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইম্যান-এর হেলপলাইন ১০৯২১।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সহিংসতার শিকার নারী বা শিশুদের কাছে এই হেলপলাইনগুলোর পরিচিতি বা সহজলভ্যতা ঠিক কতটুকু আছে? যদি বলা হয় খুবই যৎসামান্য মানুষের কাছেই এর পরিচিতি আছে, তাহলে মনে হয় অত্যুক্তি হবে না। গবেষণাগুলোয় যে উপাত্ত উঠে আসে তার বেশিরভাগই হলো রিপোর্টকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা। কিন্তু যারা তাদের নির্যাতনের বা সহিংসতার কথা রিপোর্ট করেন না, তাদের সংখ্যা কি নেহায়েতই কম হবে? এছাড়াও রিপোর্টকৃত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা কি আদৌ কোনও সহায়তা গ্রহণ করতে পারছেন? অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যাদের নির্যাতন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়, কেবল তারাই কোনও সহায়তার শরণাপন্ন হন। বাকিদের সহায়তা না নেওয়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে থাকে সহায়তা কোথায় পাওয়া যায় তা সম্পর্কে না জানা, সহায়তার আবেদন করেও আদৌ কোনও সহায়তা পাবেন কিনা সে ব্যাপারে সংশয়, আর পারিবারিক চাপ ও ভীতি তো আছেই। যেসব সংস্থা এই নিয়ে গবেষণা করেন, তারা কোনও না কোনও একটি পন্থা ঠিক-ই বাতলে দেন, কিন্তু সেই পন্থাগুলো কার্যকরভাবে কতটা ভুক্তভোগী গ্রহণ করতে পারছেন, সে ব্যাপারে অনেকটা ঘাটতি থেকেই যায়।

ধরি, কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্র ভুক্তভোগীর সহায়তার জন্য যে পন্থাটি অবলম্বন করলো, বাংলাদেশেও এমন একটি পন্থা চালু করা গেলো। কিন্তু কতজনকে আসলে এই সম্পর্কে অবগত করা যাবে? অথবা অবগত করার পন্থাটাই বা কেমন হবে? যারা ভুক্তভোগী, তাদের কাছে কোন মাধ্যমে এই কৌশলের কথা জানানো যাবে? আবার যাদের কাছে ভুক্তভোগীরা সহায়তা চাইবেন, তাদেরও কীভাবে কৌশলের শিক্ষা দেওয়া যাবে যাতে তারা কার্যকরভাবে সহায়তা প্রদান করতে পারেন?

এত প্রশ্ন ও সংশয় থাকা সত্ত্বেও এমন কোনও উদ্যোগ একেবারেই যে বিফলে যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সুবিধাটুকু যদি এক্ষেত্রে খাটানো যায়, তাহলে মন্দ কী! বরং দেখা যাবে অনেকাংশেই ইতিবাচক কিছু এ দেশের পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা পাবেন। ধরে নেওয়া যাক এমন কোনও ‘সাহায্যের সংকেত’ এ দেশের মানুষকেও জানানো গেলো। এখন যেহেতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইউটিউব ব্যবহারকারী শহর-গ্রাম সর্বত্রই উপস্থিত, এই মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে যদি এমন কোনও উদ্যোগের প্রচার করা হয়, তাহলে অনেক মানুষই এই সম্পর্কে জানতে পারবে বলে আশা করা যায়। কানাডার উদ্যোগটিও এখন ফেসবুক ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমে ভিডিও আকারে পাওয়া যাচ্ছে। এখন যদি ওই আশঙ্কা করা হয় যে নির্যাতনকারীরাও এই সম্পর্কে অবগত হয়ে যেতে পারেন, সে ক্ষেত্রে বলা যায় যতজন এই উদ্যোগের কারণে সহায়তা পাবেন, এই উদ্যোগ না থাকলে এই কমসংখ্যক ব্যক্তিও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই ‘নাই মামা’ কে নিয়ে আফসোস না করে ‘কানা মামা’কে দিয়ে যদি কিছু সহায়তা হয়, খুব ক্ষতি হবে কি?

লেখক: কনসালটেন্ট, আইপাস বাংলাদেশ।

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

নিউক্লিয়ার বর্জ্যে তো কেউ মরছে না

নিউক্লিয়ার বর্জ্যে তো কেউ মরছে না

মহামারিকালে হাসপাতাল বন্ধ!

মহামারিকালে হাসপাতাল বন্ধ!

প্রিয় আওয়ামী লীগ, হাইব্রিড দোকানদারদের সামলান

প্রিয় আওয়ামী লীগ, হাইব্রিড দোকানদারদের সামলান

‘ফকির’ করে চলে গেলেন…

‘ফকির’ করে চলে গেলেন…

‘ফকির’ করে চলে গেলেন…

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ১৪:২৫

তুষার আবদুল্লাহ ভোরেই চলে গিয়েছিলাম শাহবাগ মোড়ে। তখনও ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছিল। সুতোর মতো এসে আমাকে জড়িয়ে ফেলছিল স্মৃতিতে। আমি কানপেতে আছি পূবে। কোন এক কণ্ঠের তৃষ্ণা কণ্ঠের, মনের। চোখ ভিজে যাচ্ছে মেঘের জলে। কিন্তু সেই কণ্ঠ কেন এসে পৌঁছাচ্ছে। ইথার নাকি আমাদের সব উচ্চারণ জমা রাখে ডাকটিকিটের মতো। কই পাতা উল্টে কেন শুনতে পাই না– ‘মোর সখিনার কপালের টিপ মুইছা গেছে ঘামে। তাঁর কণ্ঠস্বর ঠিক এই চৌরাস্তায় আমার কানে এসে উছলে পড়েছিল। তিনি বছরের পয়লা দিন গাইতেন শিশু পার্কের সামনে। তাঁর সংগঠনের জন্য সংরক্ষিত ছিল ওই জায়গাটি। প্রতি বৈশাখে চারুকলায় যাওয়ার পথে, কিংবা মঙ্গলশোভা যাত্রায় থেকেও, কান উঁকি দিতো– নাম তার জন হেনরী, শোনার ব্যাকুলতায়।

শুধু কি বৈশাখ? যখনই রাজনীতি হেরে যাচ্ছিল। সমাজের বৈষম্য তীব্র হওয়াকে মেনে নিতে পারছিলাম না। শোষণে পীড়িত হতে হতে বিপর্যস্ত। রাষ্ট্র ও সমাজ চলে যাচ্ছিল লুটেরাদের হাতে, তখন বুক স্পন্দিত হতো বিপ্লবের প্রতিধ্বনিতে, সেই সময়েই তাঁর কাছে ফিরে যেতাম- কালো কালো মানুষের দেশে ওই কালো মাটিতে, রক্তের স্রোতের শামিল, নেলসন মেন্ডেলা তুমি অমর কবিতার অন্তমিল। তোমার চোখেতে দেখি স্বপ্ন মিছিল।

তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা ১৯৯৮ সালে। তিনি একুশের পদক পেলেন। ছুটে আসলেন মুক্তকণ্ঠ অফিসে। সবাইকে জড়িয়ে ধরছিলেন। আমি দূরে দাঁড়িয়েছিলাম। তাঁর কাছে, সামনে যাওয়ার মতো সাহস ছিল না। নিজে এগিয়ে এসে প্রশস্ত বুকে চেপে ধরলেন– দূরে দাঁড়ায় আছো কেন? আমার কানে তখন বেজে চলছে- মায়ের একধার দুধের দাম। আমি সদ্য মা হারা। সেই যে তিনি বুকে চেপে ধরলেন আর ছাড়েননি।

কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যের মুখে। কত মুখ আসে, হৃদয়ে ভাসে। কচুরিপানার মতো দূরে চলে যায়। তাদের কাউকে হয়তো মন দেব বলে ভাবছি, কিন্তু সেই মনও যে পদ্মপাতার মতো টলমল। পাওয়া না পাওয়ার বিষন্নতায় নিমজ্জিত হতে হতে আবার তাঁর কাছে গিয়ে প্রণীত আমি-সন্দীপে তার ছিল বাড়ি, স্বপ্নমাখা ঘর, তাকে আমি দিয়েছিলাম আমার এই অন্তর, সেই সখিনা হয়ে গেছে আজকে আমার পর।

তাঁর সঙ্গে সময়তে কাজ হয়েছে। তিন দফা আড্ডা হয়েছে আমার অনুষ্ঠানে। স্টুডিওতে, ধানমন্ডি লেকের পাড়ে, যতবার দেখা হয়েছে, ততবারই মনে হয়েছে, তাঁর কণ্ঠ মিথ্যে নয় মোটেও- জন্মদিনের মতো আজও শিশু থেকে গেলাম! তিনি ব্যবহারে যাপনে শিশুই ছিলেন।

আমরা সদ্য হারিয়েছি তাঁকে। আমাদের তারুণ্যকে জাগরিত রাখা, প্রেম আর দ্রোহে আমাদের আলোড়িত করা মানুষেরা এক এক করে সত্যিই আসমানের নক্ষত্র হয়ে যাচ্ছেন। ফিরোজ সাঁই, আজম খানকে বিদায়ের পর বিদায় জানাতে হলো পপ গানের আরেক সারথী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দীপ্ত কণ্ঠ ফকির আলমগীর। তিনি চলে গেলেন ভালোবাসায় সমৃদ্ধ হয়ে, শূন্যতায় ফকির হয়ে রইলাম আমরাই।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

/এসএএস/

সম্পর্কিত

ঘুষি লাগলো কি গণতন্ত্রের বুকে?

ঘুষি লাগলো কি গণতন্ত্রের বুকে?

মৃত্যু কিনি ঘামের দামে

মৃত্যু কিনি ঘামের দামে

রাজনীতির স্বাদ- বিস্বাদ!

রাজনীতির স্বাদ- বিস্বাদ!

কঠোরতায় কেন কোমল ছাড়?

কঠোরতায় কেন কোমল ছাড়?

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

লিবীয় উপকূলে নৌকাডুবিতে ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

লিবীয় উপকূলে নৌকাডুবিতে ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

বগুড়ায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

বগুড়ায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

মধ্যনগরকে উপজেলা ঘোষণা করায় মিষ্টি বিতরণ

মধ্যনগরকে উপজেলা ঘোষণা করায় মিষ্টি বিতরণ

এই বছরই ইরাক ছাড়বে মার্কিন বাহিনী

এই বছরই ইরাক ছাড়বে মার্কিন বাহিনী

সিলিন্ডারের দাম নিয়ে বাগবিতণ্ডায় দোকানে আগুন, যুবকের মৃত্যু

সিলিন্ডারের দাম নিয়ে বাগবিতণ্ডায় দোকানে আগুন, যুবকের মৃত্যু

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ

নাভালনি ও তার ঘনিষ্ঠদের ওয়েবসাইট ব্লক করলো রাশিয়া

নাভালনি ও তার ঘনিষ্ঠদের ওয়েবসাইট ব্লক করলো রাশিয়া

লকডাউনে কাদের মির্জার চা-চক্রের আয়োজন

লকডাউনে কাদের মির্জার চা-চক্রের আয়োজন

ভারত থেকে তিন মাসে ফিরলেন সাড়ে ৬ হাজার বাংলাদেশি

ভারত থেকে তিন মাসে ফিরলেন সাড়ে ৬ হাজার বাংলাদেশি

ময়মনসিংহে ৩৪০ মামলায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা আদায়

ময়মনসিংহে ৩৪০ মামলায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা আদায়

আনজাম মাসুদের সঙ্গে এবার ১৪ জন কণ্ঠশিল্পী!

আনজাম মাসুদের সঙ্গে এবার ১৪ জন কণ্ঠশিল্পী!

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune