X
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২
১৩ আষাঢ় ১৪২৯

প্রতিশ্রুতি পালন

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৭, ১৩:৪৯

নাদীম কাদির শৈশবে আমাদেরকে যেসব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয় তার একটি হলো প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করা। ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি যেকোনও ক্ষেত্রেই এ বিষয়টি জরুরি। অঙ্গীকার ছাড়া বিবাহিত জীবনও সুখের হতে পারে না।
আর প্রতিশ্রুতি কিভাবে রক্ষা করতে হয় সে দৃষ্টান্তটি বাংলাদেশ আবারও স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সুবিধায় তাদের জন্য দুয়ার খুলে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং গত কয়েক বছরে সড়ক, রেল ও পানি পথে বৃহত্তর এশিয়ায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। শিগগিরই, আমরা সড়কপথে ঢাকা থেকে চীন যেতে পারবো।
আমরা বলেছিলাম, যে বিনিয়োগ পারস্পরিকভাবে লাভজনক তার জন্য আমাদের দরজা উন্মুক্ত। আর এখন বিশ্বের শক্তিধর দেশ থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিধর দেশও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে।
রাশিয়া থেকে চীন কিংবা ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত আমাদের বন্ধুত্ব বিস্তৃত হয়েছে। এর আগে আমি একে শেখ হাসিনার কূটনৈতিক জাদু বলে উল্লেখ করেছিলাম।
বিএনপির একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির পর ২০০২ সালে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান টাটা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইলেও সে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। সেসময় ঢাকায় নিয়োজিত থাকা এক ভারতীয় কূটনীতিক বলেছিলেন, ‘কেক কেটে তা জনগণের সামনে ঘোষণা’ দেওয়ার মতো প্রস্তুতি বিএনপি’র ছিল না। ওই কূটনীতিক আমাকে বলেছিলেন, বিএনপি’র দ্বৈতনীতির কারণে দিল্লি কর্তৃপক্ষ হতবাক হয়ে পড়েছিল, ভাবছিল বিএনপি-জামায়াত সরকারের সঙ্গে কী করে ‘আস্থার সম্পর্ক’ বজায় থাকবে। দিল্লি কর্তৃপক্ষ রাজি হওয়ার পর বিএনপি ভারতবিরোধী চাল দিয়েছিল।
ওই কূটনীতিক আমাকে বলেছিলেন, ‘একটি স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে মতের অমিল থাকায়’ প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়েছিল।
একজন সাংবাদিক হিসেবে সে সময় আমি জানতে পেরেছিলাম নিজেদের ব্যবসায়িক নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে টাটা সরাসরি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বাংলাদেশ মিশনে আসা ওই টাটা দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মানজের হুসেইন।
আঞ্চলিকভাবে বহুল সমাদৃত এ প্রতিষ্ঠানটির কাছে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি এবং তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল।

২০০৯ সালে দূরদর্শী নীতি নিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

অনেক ধরনের যৌথ উদ্যোগ, জাতীয় উন্নয়নের বড় বড় প্রকল্প নিয়ে ভারত আবারও ফিরেছে। এমনকি জনগণের জীবন-যাপনকে সহজ করতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশটির কাছ থেকে আমরা বিদ্যুৎও কিনছি। লোডশেডিং কিংবা ব্ল্যাকআউট কী তা আমরা ভুলে গেছি।

সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি তার প্রতিশ্রুতি রেখেছেন এবং বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জেনেছি, যুক্তরাষ্ট্রও মনে করে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের হুমকি কমেছে।

প্রকৃত অর্থে, শীর্ষ জঙ্গি নেতাদেরকে আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিলীন করে দিতে পেরেছে। তারা এর জন্য প্রশংসার দাবিদার। জনগণের সহায়তা নিয়েই এ জঙ্গিবিরোধী লড়াই চলছে। তারা তথ্য দিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাকে সহায়তা করেছে। ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গঠনে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

প্রতিশ্রুতি রক্ষার সর্বশেষ একটি দৃষ্টান্ত হলো নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। তিনি শতভাগ অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তা রেখেছেন। আর এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও বেড়েছে।

চলুন, বাংলাদেশের ভালোর জন্য আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি এবং আরও অনেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করি।

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
স্কুলে শিক্ষার্থীকে হত্যা, জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ
স্কুলে শিক্ষার্থীকে হত্যা, জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ
চতুর্থ ঢেউ ঠেকাতে মাস্ক পরার বিকল্প নেই: ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
চতুর্থ ঢেউ ঠেকাতে মাস্ক পরার বিকল্প নেই: ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
‘জনশুমারিতে হিজড়াদের সঠিক তথ্য উঠে আসবে কি?‘
‘জনশুমারিতে হিজড়াদের সঠিক তথ্য উঠে আসবে কি?‘
ক্যাডেটদের উচিত সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা: সেনাপ্রধান
ক্যাডেটদের উচিত সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা: সেনাপ্রধান
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ