X
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
৯ আশ্বিন ১৪২৯

অতঃপর রূপাকে আমরা ভুলে গেলাম!

রাশেদা রওনক খান
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:০৩আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৫

 

রাশেদা রওনক খান তনুর ঘটনা থেকে আমরা দেখলাম, একটা আশা জাগানিয়া আন্দোলনকে কিভাবে যেন স্তিমিত করে দেওয়া হলো, কিংবা আমরা নিজেরাই স্তিমিত হয়ে গেলাম, হয়ে পড়লাম হতোদ্যম! সেদিন যদি তনু হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে রাজপথে দমিত না হতাম, সেদিন যদি আমরা ধীরে ধীরে রাজপথ থেকে সরে না আসতাম, তাহলে আজ হয়তো এভাবে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার খবরটি পড়তে হতো না। তনু হত্যাকাণ্ডের বিচারটি জনসম্মুখে হওয়া খুব বেশি দরকার ছিল, হয়নি বলেই কি আজ চারদিকে এত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে? এর উত্তর আমার জানা নেই! কিন্তু এই ‘আমরাই' বা কী করছি তনু, রূপা, আফসানা, তানহাদের ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাযজ্ঞ নিয়ে?   
তনুর ঘটনার পর তরুণরা আন্দোলন করেছিল সারাদেশে, যার বীজ বপন করেছে তনুর কুমিল্লা, সোশ্যাল মিডিয়া তনুর বন্ধুদের আন্দোলনকে তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে দিয়েছে মুহূর্তে সারাদেশে।  কেননা, তারুণ্য জানে, আমরা 'ভীতু' জাতি নই, আমাদের যখন এত জনবল ছিল না, তখনি বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, "আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না"। সেই সাত কোটি মানুষের বদলে আজ আমরা ১৬ কোটি। তাই  সাত কোটির যে গর্জন-বর্ষণ ছিল, তা আজ ১৬ কোটিতে রূপান্তরিত হয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে, তাও আমাদের মনে রাখতে হবে। সাত কোটির গর্জন-বর্ষণে যদি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা  আনতে পারি, তবে কি ১৬ কোটির গর্জনে তারই কন্যার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন দেশে নারীর পথ চলা, নারীর জীবনকে স্বাধীন করতে পারব না? যে দেশের প্রধানমন্ত্রী আমেরিকায় বসে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ক অনাগ্রহের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে জানান দেবার মতো সাহস রাখেন, সেই দেশেই কেন চলন্ত বাসে একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হবে? সেই দেশে কেন জীবনযুদ্ধে লড়াকু একটি মেয়ে এভাবে নির্যাতিত-নিপীড়িত হবে? 

এ কোন দেশ, যে দেশে রূপা নামের একটি মেয়ে পাবলিক বাসে চলাচলের মধ্যদিয়ে তার কর্মময় জীবন-যাপন করতে পারবে না? কোন সমাজ ব্যবস্থায় আমার ছোট্ট মেয়েটি বড় হচ্ছে, যেখানে তার সমবয়সী তানহা মধ্য বয়স্ক পাষণ্ড প্রতিবেশী কোনও কাপুরুষের দ্বারা ধর্ষিত হয় এবং পরবর্তীতে মেরে ফেলা হয়? এই কোন সময়ে বসবাস করছি, যে সময়ে রিসার মতো একটি কিশোরী  স্কুল এলাকায়ও নিরাপদ নয়? এই কোন অধঃপতিত সংস্কৃতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছি, যেখানে ক্লাসরুমে শিক্ষকের হাতে ছাত্রী নিপীড়িত হয়? স্কুলঘরে যুবকেরা কোনও মেয়েকে গ্যাং রেপ করে? এই যুবকেরা কারা? কেন তাদের এত সাহস, কে তাদের এত শক্তি যোগায়? কোথায় পায় তারা এত আস্কারা? এ কোন দেশে বসে আমরা নতুন প্রত্যয় নিয়ে প্রতিদিন ভোরের সূর্য দেখি, যে দেশে তনুর মতো জীবনযুদ্ধে লড়াকু মেয়ের ছিন্ন-ভিন্ন দেহ পড়ে থাকে দেশের সর্বোচ্চ নিরাপদ সীমানায়? 

ধরেই নিচ্ছি, সমাজে যা কিছু ঘটছে, সবই স্বাভাবিক! আমি ভালো আছি, সুখে আছি, তাহলেই চলবে! পাবলিক বাসে একটি মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে, কিংবা মাইক্রোবাসে গারো মেয়েকে তুলে ধর্ষণ করা হয়েছে, কিংবা সাড়ে তিন বছরের তানহাকে ধর্ষণ করে মেরে টয়লেটে ফেলে রেখেছে- এসব খবরে অস্বাভাবিকতার মতো কী ঘটলো, তা-ই যেন আমাদের মাথায় আসছে না। তার চেয়ে বরং বেশি অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছে কোনও প্রাইভেট চ্যানেলের মালিকের গানের অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে, কিংবা সাকিবের বিয়ে বাড়িতে খাবার টেবিলের ছবি নিয়ে, যেখানে গৃহ পরিচারিকা দাঁড়িয়ে না বসে আছে ,সেই গবেষণা চলছে। এসব গানের অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে  আমাদের ভাবনার শেষ নেই, গভীর চিন্তার উদ্রেক ঘটে আমাদের মগজে। গায়ককে নিয়ে অনেক বুদ্ধি খরচ করে দেশবিদেশের বড় বড় গায়কীদের রূপও দেওয়া হয়েছে। কত নিমগ্ন আমরা জাতির এসব ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়ে! এসব দেখে মাথা ধরেছে, কারও কারও নাকি হার্ট অ্যাটাক হবার মতোও হয়েছে বলে জানান দিয়েছে ফেসবুকে। কেউ কেউ এককাঠি সরেস! মাথায় পানি দিচ্ছে বা বরফ দিচ্ছে-এমন ছবিও পোস্ট করেছেন। আমাদের সচেতন সমাজ যতটা অস্বাভাবিক ভেবে স্ট্যাটাস দিচ্ছি, চিৎকার করছি একটি গানের অনুষ্ঠান  নিয়ে, তার ১০০ ভাগের এক ভাগও যদি হৈ-চৈ করতাম আমরা রূপাকে ধর্ষণ এবং হত্যা নিয়ে, তাহলে একটু হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়তো। আমাদের কাছে একটি গানের অনুষ্ঠান যতটা না প্রভাব ফেলতে পারে, রূপা-রিসা-আফসানা-পূজা-তানহার নির্যাতনের খবর ততটা প্রভাব রাখতে পারেনি। নাগরিক দায়িত্ববোধের  জায়গা হতে আমরা কতটা দূরে দাঁড়িয়ে সমাজের অনাচার-অবিচার কেবল দেখে যাচ্ছি নীরব দর্শক হয়ে!  আমাদের মাথা ব্যথা-হার্ট অ্যাটাক হবার উপক্রম হয় গানের অনুষ্ঠান দেখে, কিন্তু রূপার ধর্ষণের ঘটনা আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক। একই ব্যাপার ক্রিকেট খেলা নিয়ে। খেলা নিয়ে আমাদের যে উত্তেজনা এই উত্তেজনা কেন নারীর প্রতি নিপীড়ন-নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রকাশ পায় না? কেন সাকিব, তামিম বা সৌম্য আউট হলে মাথা চাপড়িয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলি, তাদের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করি, কেন এখনও সৌম্য কিংবা সাব্বির দলে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলি, বিসিবিকে ইচ্ছামতো গালিগালাজ করি, কিন্তু ধর্ষক কেন আমার সমাজের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করলো, তা নিয়ে কিছু বলি না, প্রতিরোধের ভাষা নেই আমাদের, প্রতিবাদ জানাতে চাই না, করি না বিপ্লব-বিক্ষোভ! কেন সাকিবের একটি ছবিতে গৃহ পরিচারিকাকে সঙ্গে বসালো না দাঁড় করিয়ে রাখলো, তা নিয়ে ফটোশপের রাজনীতি করি, কিন্তু একটি মেয়ে ধর্ষিত হলে কিংবা হত্যা করা হলে কেউ ধর্ষকের বিরুদ্ধে কথা বলি না? সাকিব কেন তার স্ত্রী শিশিরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে, তা নিয়েও আমাদের হাসা-হাসি, মাতা-মাতি, আজে-বাজে মন্তব্যের অন্ত নেই। ধর্ষকের চেয়ে সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফি, কিংবা টিভি চ্যানেলের মালিক গায়ক বা কোনও মালিকের বোন রন্ধনশিল্পী হয়ে ওঠেন আপনার-আমার জিঘাংসার লক্ষ্যবস্তু?  কেন করি, সেই আলোচনায় আজ নাইবা গেলাম। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, এসব নিছক ফান, 'মজা নেওয়া' বলে শেষ করে দেবেন, তাই সেই বিতর্কে যাচ্ছি না। কিন্তু সব যে কেবল 'ফান ' থেকে হয়, তা কিন্তু নয়। খুব স্পষ্টতই এর পেছনে আমাদের কারও কারও মনোজগতে কী কাজ করে, তা বোঝা যায়। 

কেবল ভাবি, কী অস্বাভাবিক মূল্যবোধ আমাদের, কী সাংস্কৃতিক চেতনা আমাদের, এই বাঙালি জাতির কী মানবিকতাবোধ, কী সচেতনাবোধ নিয়ে আমরা আজ পথ চলছি!  বরং উল্টো কেউ কেউ এক ধাপ এগিয়ে বলছেন, "কী দরকার রূপার এত রাতে বাসে যাতায়াতের? কী দরকার ছিল তনুর রাতে টিউশনি করানোর?" কী অদ্ভুত আমরা? প্রশ্নগুলো কেবল পুরুষের মুখে শোনা যাচ্ছে তা নয়, নারীর চিন্তাভাবনাতেও তা স্পষ্টত প্রতীয়মান। সামাজিকভাবে পুরুষতান্ত্রিক মনোজগতের দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্যমান ইঙ্গিতে একটি মেয়ে এমনিতেই আমাদের সমাজে স্বনির্ভর হতে পারে না, অর্থাৎ স্বনির্ভর হতে দিতে চায় না! এখানে স্বনির্ভর অনেক অর্থে, কেবল অর্থনৈতিক প্রশ্নে নয়। পুরুষতান্ত্রিকতার এত প্রতিকূলতার মাঝেও যে মেয়েটি/মেয়েরা অনেক কষ্ট করে একটু স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যেতে চায় জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে, সেই লড়াকু নারীর পথ চলা কে কিভাবে থামিয়ে দিচ্ছে, সেটাই আমাকে ভাবাচ্ছে। আমরা কি ভাবছি এই নতুন কূটকৌশলকে আমরা কিভাবে ঠেকাবো? না রাষ্ট্র ভাবছে, না সরকার, না আপনি, না আমি, না পুরুষ, না নারী- কেউ ভাবছি না...আশ্চর্য! 

আমরা কেউ ভাবছি না, জীবনযুদ্ধে লড়াকু একজন নারীকে কেবল পারিবারিক বা সামাজিকভাবে নয়, শারীরিকভাবেও নির্যাতন করে পাষণ্ড সমাজ কিভাবে নারীর পথ চলাকে থমকে দিচ্ছে? নারীবান্ধব বলে দাবি করা এই সরকার কি একবারের জন্যও ভাবছে, এভাবে এতটা নিষ্ঠুরভাবে চলতি পথে গ্যাং রেপ করে হত্যা আসলে কেন হচ্ছে? এসবের সঙ্গে কি জঙ্গিবাদের কোনও যোগসূত্র আছে, নাকি যোগসূত্রটা আরও গভীরে? পথে-ঘাটে নারীকে এতটা পাশবিকভাবে আক্রমণের মধ্যদিয়ে তারা আসলে কী উদাহরণ তৈরি করতে চাইছে? যেসব নারীরা জীবনযুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের সামনে বিভীষিকাময় এসব উদাহরণ তৈরি করে বাকিদের পথ চলা থামিয়ে দেওয়াই কি এদের একমাত্র উদ্দেশ্য কিনা? ঈদের দিন রাস্তায় নিশ্চিন্তে বেড়াতে পারবে না একটি মেয়ে? ঈদ কি তাহলে কেবল পুরুষের হয়ে উঠছে? নারীর নয়? ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে হেরে যাচ্ছি ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনার কাছে? 

শেষ করবো একটি ভাবনার কথা বলে। ভারতের মেডিক্যাল স্টুডেন্ট নির্ভয়ার ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার খবর জানার পর একবার Leipzig University-র এক জার্মান প্রফেসর Beck-Sickinger তার বিভাগে কোনও ভারতীয় পুরুষ শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ দেবেন না,এই বলে ঘোষণা দেন- যা অ্যাকাডেমিক জগতে খুব আলোচনা হয়েছিল। স্কলারশিপ পেতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সেসময় খুব বেগ পেতে হয়েছিল বিশ্বের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই। ইমেজ বলে একটা কথা আছে। এই একটি ঘটনা বিশ্বের অন্যতম একটি দেশ ভারতের এতদিনের অর্জন করা অনেক সুনামকেই ম্রিয়মান করে তুলেছিল। আমরাও এর থেকে ভিন্ন পথের যাত্রী নই আর।

আমেরিকায় ভিজ্যুয়াল অ্যানথ্রোপোলজি ক্লাসে পড়াতেন এক স্প্যানিশ-আমেরিকান প্রফেসর, তিনি খবরটি পড়েই আমাকে ইমেইল করলেন, " তোমার কাছে আমি তো শুনেছি, বাংলাদেশ অনেক শান্তি প্রিয় একটি দেশ। এখানেও দেখছি ভারতের মতো একই ঘটনা ঘটলো? বাংলাদেশও কি 'রেপিস্ট'দের দেশ হয়ে যাচ্ছে?" রূপার পাবলিক বাসে ধর্ষণের ঘটনা ভারতের নির্ভয়ার মতো বিশ্বের অনেকেই জানে দেখছি! মনে পড়ছে প্রফেসর নিন্যার সঙ্গে আমার প্রথম দিনের ক্লাসের কথা।  প্রথম ক্লাসে পরিচয়ের দিনেই তিনি বলেছিলেন, "আমি খুব উৎসাহী তোমার দেশ সম্পর্কে জানতে, আমি কিছুই জানি না বাংলাদেশ নিয়ে।"  সবাই খুব উৎসাহের সঙ্গে আমার দিকে তাকায়, যেন আমার মুখ থেকে শুনতে চাইছে কিছু।" তখন দাঁড়িয়ে যা বলেছিলাম ক্লাসে, তার একটা বড় দিক ছিল, আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ ও শহরের নিম্নবিত্ত নারীর দৈনন্দিন জীবনের লড়াই, ইনফরমাল সেক্টরে নারীর ভূমিকা, গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা, রাজনৈতিক পরিসরসহ আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, পুলিশবাহিনীতে নারীর সাফল্যের কথাও বলেছিলাম। সেখানে রূপার ঘটনা ছিল না, ছিল না তনু কিংবা তানহার কথা। প্রফেসর নিন্যার মনে দাগ কেটেছিল আমাদের নারীদের সাফল্যের কথা শুনে, কেটেছিল অনেক সহপাঠীর। মনে মনে একবার হলেও ভেবেছিলেন,  আমরা আমেরিকানরা যা পারিনি, তারা বাংলাদেশের হয়ে তা পারে! তাই হয়তো তারা খুব বেশি আহত হয়েছে এই ধর্ষণের খবরটা শুনে। নিন্যার মতো করেই কয়েকজন ভিনদেশি সহপাঠীও আমাকে ফেসবুকে ইনবক্স করেছে বিষয়টি জানতে চেয়ে, কিভাবে আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছি, ইত্যাদি। আমি জানি না, এর উত্তরে আমি কী লিখবো! এর উত্তরই তো আমার জানা নেই। আমার যা জানা আছে, তাহলো- আমরা সাকিব-তামিম-মুশফিকদের একটা কাজের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারি, সমালোচনার ঝড় তুলে দিতে পারি নিমিষেই, যারা আমাদের দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছে প্রতিদিন-প্রতিক্ষণ, তাদের বিরুদ্ধে ফটোশপের রাজনীতি করতে পারি, তাদের স্ত্রী-বোন- সন্তানদের সঙ্গে ছবি নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করে হৈ-চৈ ফেলে দিতে পারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করে ফটোশপ করে মিথ্যা সমালোচনা করতে পারি, কটাক্ষ করতে পারি, বাজে মন্তব্য করতে পারি, কিন্তু ধর্ষকদের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারি না, লড়াই-প্রতিবাদ-প্রতিরোধ তো দূরের কথা! এসবের ভিড়ে হারিয়ে যায় তানহা-পূজা-রিসা-তনু-আফসানা কিংবা রূপাদের না বলা কথা! অতঃপর আমরা ভুলে যাই রূপাদের নির্মম ইতিহাস। 

লেখক: শিক্ষক, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

/এপিএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
পরীক্ষায় বসে ফেসবুকে লাইভ, দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
পরীক্ষায় বসে ফেসবুকে লাইভ, দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
দুই গ্রুপের কোন্দলে মধ্যরাতে উত্তপ্ত ইডেন কলেজ
দুই গ্রুপের কোন্দলে মধ্যরাতে উত্তপ্ত ইডেন কলেজ
রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ১০০ নাগরিকের বিবৃতি
রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ১০০ নাগরিকের বিবৃতি
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ