X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২৩ আষাঢ় ১৪২৯

বাংলাদেশের আছে একজন শেখ হাসিনা

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ১৬:৫৭

ফারাজী আজমল হোসেন বিশ্বের বুকে বিস্ময়কর উন্নতি করা বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন সময় ছিল ২০১২ থেকে ২০১৫ সময়টি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাপরাধ করা ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশের অভ্যন্তরে থাকা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির চক্রান্তের পাশাপাশি বিদেশি চাপের মুখে পড়তে হয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে খ্যাত শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কল্যাণে জঙ্গি সংগঠনগুলোর আক্রমণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব হয়।

জনগণের ম্যান্ডেট দিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সবার আগে ভেবেছে দেশের কথা। বাংলাদেশে ২০০১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সফরের কথা নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে। এ সময় এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে গ্যাস রফতানির জন্য। কিন্তু শেখ হাসিনা সুকৌশলে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের জন্য ৫০ বছরের গ্যাস মজুত শেষে আমরা রফতানির কথা চিন্তা করবো। এই গ্যাস রফতানিকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতে শুরু হয় ষড়যন্ত্র। দেশে-বিদেশে সেই ষড়যন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে সফরে আসা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সম্মানে তখনকার প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে গ্যাস বিক্রির বিষয়টি আলোচনায় এলে শেখ হাসিনা আবারও ‘না’ বলে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই অনুষ্ঠান থেকে চলে গেলেও বিএনপি নেতারা সেখানে ছিলেন। আর এখান থেকেই ২০০১ নির্বাচনে কারচুপির মূল নীলনকশা তৈরি হয়। বিএনপি গ্যাস রফতানিতে রাজি হয় এবং এ জন্য সংবিধানে সংশোধনী আনার প্রয়োজন হলে যেন তা করা যায় এমনভাবেই চারদলীয় জোট সংসদে আসন জয় করে। কিন্তু বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগের তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস বিদেশে রফতানি করতে ব্যর্থ হয় জামায়াত-বিএনপির এই সরকার।

২০০১ সালে যখন আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ এক নির্বাচনের জন্য সাবেক বিচারপতি লতিফুর রহমানের কাছে সংবিধান অনুসারে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, তখন এই ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এই সাবেক বিচারপতি। গণমাধ্যমে তার একটি বক্তব্য আজও বেশ জনপ্রিয়, আর তা হলো- ‘আমি হোম ওয়ার্ক করেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি’। তিনি প্রশাসনে স্বল্প কিছু দিনের মধ্যেই বড় পরিবর্তন আনেন। সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে তিনি বিটিভি’র মতো জাতীয় প্রচার মাধ্যমসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোতে অবস্থানের যাবতীয় সহায়তা প্রদান করেন। তার সব কারসাজির কারণেই ভোট কারচুপির সেই নির্বাচনে হেরে যায় আওয়ামী লীগ। সেই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার এই ফাঁকফোকর গলে আবারও ২০০৬ সালে নিজেদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার ব্যবস্থা করে বিএনপি-জামায়াত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের রাজনীতির জন্য কতটা ক্ষতিকর, বিষয়টি উপলব্ধি করে ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর এই বিষয়টি বাতিলের কার্যক্রম গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ। সব শেষে ভোট ও ভাতের জন্য আন্দোলন করা আওয়ামী লীগ জনগণের সুস্থ স্বাভাবিক রাজনীতির সুবিধা নিশ্চিতে বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

ব্যক্তিগত কোনও লাভ নয়, বরং দেশ ও জাতির স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুব সম্ভবত এ কারণেই তাকে পছন্দ করেন না অনেক প্রভাবশালী দেশের নেতারা। কেননা, তিনি সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখেন। দেশ ও জাতির স্বার্থের বিষয় এলে তিনি কোনও সমঝোতা করেন না। কারও হুশিয়ারির তোয়াক্কা করেন না তিনি। দেশে জঙ্গিবাদ নির্মূল নিয়ে যখন মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ হুমকি দিচ্ছিল বাংলাদেশকে, তখনও বিষয়টির তোয়াক্কা করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্টো কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে করেছিলেন আরও শক্তিশালী। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার এই উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতেও স্মরণ করবে এই অঞ্চলের মানুষ।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সবচেয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে পেরেছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে। যখন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে পদ্মা সেতু নির্মাণ কার্যক্রম থেকে মুখ সরিয়ে নেয় বিশ্বব্যাংক, তখন শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন দেশের অভ্যন্তরীণ উৎসের আর্থ থেকে পদ্মা সেতু নির্মাণের। এ সময় উল্টো বিশ্বব্যাংকের তোলা দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে বসে বাংলাদেশ সরকার, যা পূর্ববর্তী যেকোনও সরকারের ক্ষেত্রে ছিল অকল্পনীয়। আজ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। বাংলাদেশ এখন নিজস্ব অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পাদনের সাহস দেখাচ্ছে। আজ বাংলাদেশ স্বনির্ভর। পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির কথা বলে সরে আসার পর আজ কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এই দুর্নীতির করেনি বাংলাদেশ। অবশ্য এই রায়ের আগেই বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুসহ আরও বেশ কিছু প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে বলে জানায়, যা প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। মাথাপিছু আয়ে সম্প্রতি প্রতিবেশী সকল দেশকে ছাড়িয়ে গেছি আমরা। অচিরেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে নেবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আশির দশকের সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকেই। টানা এক দশক প্রায় ৭ শতাংশ জিডিপি ধরে রাখা বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে পৌঁছে যাবে বিশ্বে শক্তিশালী অর্থনীতির ২৫ দেশের তালিকায়।

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়তো এই উন্নয়ন আরও আগেই সম্ভব হতো। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নে ভীত হয়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও দেশের অভ্যন্তরে থাকা খন্দকার মোশতাক-জিয়াউর রহমানদের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার। এদের লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাই। কেননা, তারা জানতো এই পরিবারের যেকোনও একজন বেঁচে থাকলে বাংলাদেশকে ধ্বংসের পরিকল্পনা সফল হবে না। কোনোভাবেই বাংলাদেশকে মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। বর্তমানে বিষয়টি প্রতিদিন প্রমাণ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির দেশ।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে সবুজ বিপ্লব সফল করতে কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের আহ্বান করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, আপনারা যারা কৃষি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন। আপনাদের গ্রামে গিয়ে কৃষকের সঙ্গে মিশে যেতে হবে, মনোযোগ দিতে হবে তাদের চাহিদা আর কর্মের ওপর, তবেই তারা সাহসী হবে, আগ্রহী হবে, উন্নতি করবে। ফলাবে সোনার ফসল ক্ষেত ভরে। গ্রাম উন্নত হলে দেশ উন্নত হবে। কৃষককে বাঁচাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশেকে বাঁচাতে পারবো না।

১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমাদের গ্রামের দিকে নজর দিতে হবে। কেননা, গ্রামই কৃষি প্রধান বাংলাদেশের উৎপাদনের মূল কেন্দ্র। গ্রামের উন্নয়ন ও কৃষকের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারলেই সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হবে।’ বঙ্গবন্ধু চিন্তায় প্রথমেই ছিল খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি। খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে না পারলে সব উন্নয়ন কার্যক্রম ভেস্তে যাবে। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার স্বপ্নের সোনার বাংলায় তিনি দেখতে চেয়েছিলেন দেশের কৃষি ও কৃষকের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতা। ১৯৭২-৭৩ সালে ৫০০ কোটি টাকা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল, এর মধ্যে ১০১ কোটি টাকা শুধু কৃষি উন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছিল। এতে তখন থেকেই কৃষির প্রতি, কৃষি সম্প্রসারণের প্রতি, কৃষি উন্নয়নের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা প্রকাশ পায়।

বঙ্গবন্ধু ভাবতেন সবার আগে দরকার খাদ্যের। খাদ্যের নিশ্চয়তা না দিতে পারলে সব উন্নয়ন কার্যক্রম বিফলে যাবে। সুতরাং নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে হবে। সবুজ বিপ্লবের কথা বঙ্গবন্ধু বলতেন। কিন্তু তিনি এও বলতেন, সবুজ বিপ্লবের কথা শুধু মুখে বললেই চলবে না। এর সঙ্গে যেসব সমস্যা আছে সেগুলোকে যাচাই-বাছাই করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। তবেই সবুজ বিপ্লব সফল হবে। তিনি আরও বলতেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে।

বঙ্গবন্ধু যেই সবুজ বিপ্লবের কথা বলতেন তার বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে কৃষি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করায় ২০০০ সালেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণ করার পর ২০১২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে। আজ বাংলাদেশের জন্য সবুজ বিপ্লব স্বপ্ন নয় বরং বাস্তবতা। সেই সঙ্গে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন নতুন সংযোজন ঘটাচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে ১৯৭৫ থেকে পরবর্তী কয়েকটি দশককে অন্ধকার যুগই বলা যায়। কেননা, এ সময় সাতটির বেশি বড় সামরিক ক্যু হয়। আর হত্যার রাজনীতি ছিল নিয়মিত ঘটনা। দেশ স্বাধীনতা লাভের পর যেভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলো সেখান থেকে পশ্চাৎপদে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিবিদেরা। লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেন কেউ বলতে না পারে স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন শেখ হাসিনা না এলে হয়তো এটিই ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কোনও কোনও ক্ষেত্রে হয়তো পাকিস্তানের থেকেও খারাপ অবস্থায় চলে যেতো বাংলাদেশ। কিন্তু তা হয়নি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে।

১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামকে রাজনীতির সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটনার সুযোগ তৈরি করেন জিয়াউর রহমান। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ, বামদল-সহ অন্যান্য দল থেকে বিতাড়িত সদস্য ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে জিয়াউর রহমান গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। গণভোটের তামাশা করে রাষ্ট্রপতি হয়ে যান বাংলাদেশের। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে আরেকটি তামাশার নির্বাচন করেন তিনি, যেখানে আওয়ামী লীগকে ৩৯ আসন দেন তিনি! দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজনীতির যখন যাচ্ছে তাই অবস্থা, তখনও জাতির পিতার পরিবারের কারও দেশে প্রবেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা। এমনকি বিদেশেও একাধিকবার হত্যা চেষ্টা করা হয় বঙ্গবন্ধু পরিবারের বেঁচে থাকা দুই সদস্যকে। কিন্তু এই হত্যার হুমকি ও মৃত্যু ভয়কে ছাপিয়ে ৪০ বছর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি হয়তো বিদেশের মাটিতে বেশ ভালোভাবে তার সন্তানদের নিয়ে সময় কাটিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু সেই জীবন প্রত্যাখ্যান কারে দেশের টানে, দশের টানে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন। শুরু করেন রাজনীতি। ভোটের অধিকার ও ভাতের অধিকারের দাবিতে রাজপথে থেকে আন্দোলন করেন তিনি। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রধানরা এসি রুমে বসে কর্মীদের রাজপথে ঠেলে দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজে রাজপথে অবস্থান নেন। আর সে কারণেই স্বল্প সময়ে দেশের সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই তাকেও সাদরে গ্রহণ করে এই দেশের মানুষ। যা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেনি বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানপন্থীরা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিগত ৪০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বারের বেশি হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন হাজারের কাছাকাছি। এখনও শতাধিক মানুষ এই গ্রেনেডের ক্ষত নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। এই গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের দারুণ ক্ষতি হয় প্রধানমন্ত্রীর। তাকে লক্ষ্য করে সেদিন ছুড়ে মারা হয় অসংখ্য গ্রেনেড। তাতে কাজ না হলে গুলি ছোড়া হয় তাকে লক্ষ্য করে। এরপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছেন সৃষ্টিকর্তা। প্রতিবারই সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সময় থেকে শুরু করে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রতিটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে সৃষ্টিকর্তার মাধ্যমে। কেননা এছাড়াও আর কোনও ব্যাখ্যা যে এর নেই! শেখ হাসিনা এ দেশে ফিরে না এলে বা তাকে হত্যা করা হলে বাংলাদেশের ইতিহাস একেবারেই উল্টো পথে হাঁটতো সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। হয়তো সে কারণেই দেশের খেটে খাওয়া কোটি মানুষের দোয়ায় এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার রক্ষা করেছেন সৃষ্টিকর্তা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমার হারানোর কিছু নাই। এখন শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

এ দেশের সবার মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের একজন শেখ হাসিনা।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সীতাকুণ্ডে আগুন: ঈদের আগে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না অধিকাংশ হতাহত
সীতাকুণ্ডে আগুন: ঈদের আগে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না অধিকাংশ হতাহত
জোর করে গরু নামাতে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেফতার ৩
জোর করে গরু নামাতে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেফতার ৩
পর্দা নামলো উইমেন্স লেন্স আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের
পর্দা নামলো উইমেন্স লেন্স আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের
সীতাকুণ্ডে আগুন: তদন্তে একমাস লাগার কারণ
সীতাকুণ্ডে আগুন: তদন্তে একমাস লাগার কারণ
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ