X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

বিএনপি’র ক্ষমতায় যাওয়া না যাওয়া

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৬:০৭
আবদুল মান্নান বাংলাদেশের রাজনীতির কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে, যা অন্য কোনও দেশে তেমন একটা দেখা যায় না। দেশটি স্বাধীন হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। যে দেশটির জন্য বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের ২৩ বছরে ১৩ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন, সেই মানুষটিকে তাঁর সৃষ্ট বাংলাদেশে ঘাতকরা সপরিবারে হত্যা করেছিল স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায়। ঘটনাচক্রে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানা। তখন তাঁরা বিদেশে অবস্থান করছিলেন। সেই থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির ছন্দপতন আর দেশের রাজনীতির একদিকে হয়ে গেলো আওয়ামী লীগ আর অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যার বড় বেনিফিসিয়ারি ও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত জেনারেল জিয়াউর রহমান। যিনি সেনানিবাসে বসে প্রতিষ্ঠা করলেন বিএনপি নামক একটি রাজনৈতিক দল, যাতে স্থান পেলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা আর অরাজনৈতিক কিছু টেকনোক্র্যাট।

কালে কালে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত ছোট ছোট স্বাধীনতা বিরোধী দলগুলোও বিএনপি’র বন্দরে ভিড়ে গেলো। দেশ হয়ে গেলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর অন্যদিকে বাকিরা। পরবর্তীকালে এই বাকিদের প্রগতিশীল অংশের কিছু নেতানেত্রীকে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধার সুযোগ দিয়েছেন, সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, আর কেউ কেউ মন্ত্রীও হয়েছেন। নিজেরা নির্বাচন করলে এদের কেউ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যও হতে পারবেন না। বাংলাদেশের রাজনীতির আর একটা বৈশিষ্ট্য হলো, যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে ঠিক তখনই একদল সুশীল ব্যক্তির আবির্ভাব হয়, যারা নানা প্রসঙ্গ নিয়ে ‘বেহুদা’ আওয়ামী লীগের সমালোচনায় মুখর হয়। কখনও এরা শত নাগরিক কমিটি, কখনও তিপ্পান্নজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। শুরু হয় নানাভাবে আওয়ামী লীগকে হেদায়েত করার পালা। আর যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে তখন দেশটাকে অন্য কারও কাছে বিক্রি করে দিলেও তাদের কোনও আওয়াজ পাওয়া যায় না। ইদানীং বিএনপি’র এই আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদেশে অবস্থানরত কিছু পলাতক সাংবাদিক,সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা। তাদের নিয়মিত কাজ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য দিয়ে বিষোদগার আর দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা।

বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতকে নিয়ে প্রথমবার ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় গেলেন। মেয়াদ শেষে তাঁর ক্ষমতা প্রলম্বিত করার জন্য তিনি নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিলেন। অনুষ্ঠিত করলেন তিনি একদলীয় নির্বাচন। সঙ্গে অবশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের দল ফ্রিডম পার্টি। সেই ফ্রিডম পার্টির নেতা, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল (বরখাস্ত) আবদুর রশিদকে সেই সংসদে বেগম খালেদা জিয়া একটি আসন পাইয়ে দিয়েছিলেন। তখন কিন্তু কোনও সুশীল সমাজ বা কোনও মিডিয়ার তেমন একটা প্রতিবাদী কণ্ঠ শোনা যায়নি। তবে নির্বাচনের নামে এই তামাশার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সমমনা দলের আন্দোলনে ১২ দিনের মাথায় বিএনপি সংসদ হতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আসে। ২০০১ সালে মেয়াদ শেষ হলে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তা অসাংবিধানিক ঘোষিত) কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট পুনরায় ক্ষমতায় আসে। আবারও সেই পুরনো খেলা। কীভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত বা চিরস্থায়ী করা যায় সেই কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি। এক কোটি ভুয়া ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়।  এই মেয়াদে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার  এই দায়িত্বটা পালন করার ভার তুলে নেন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান, যিনি বর্তমানে লন্ডনে  পলাতক জীবনযাপন করছেন। বিএনপি বুঝতে পারলো তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে শেখ হাসিনাকে তাঁর পিতার মতো পৃথিবী হতে সরিয়ে দিতে হবে। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়ালে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপি’র একাধিক সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বললেন, শেখ মুজিবের লাশ তো ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর পাওয়া গিয়েছিল, শেখ হাসিনার লাশও  পাওয়া যাবে না। তখন কিন্তু কোনও সুশীল ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এর প্রতিবাদ করতে আসেনি। যেমন কথা তেমন কাজ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলো ১৪টি গ্রেনেড। মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। গ্রেনেডগুলো যদি তাঁকে সরাসরি আঘাত করতো তাহলে তাঁর লাশ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল ক্ষীণ।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন এখনও দুই বছর বাকি। তার আগেই বিএনপি ও তার সমমনা সুশীলরা সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এখন থেকে মাঠে নেমে পড়েছে বলে সার্বিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে। দুই একজন ওয়ানম্যান পার্টির নেতা ঘণ্টা নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে আর নিয়মিত বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে ঘণ্টা বাজিয়ে  ঘোষণা করছেন আওয়ামী লীগের পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে। বিএনপি আর সমমনারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলে বেড়াচ্ছেন আগামী নির্বাচন একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলে তারা সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু তারা ভুলে গেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ২০১২ সালে সেই তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান বিরোধী বলে তা বাতিল করে দিয়েছে।

বিএনপি আরও ভুলে গেছে এই মামলা যখন ২০০৫ সালে আপিল বিভাগে যায় তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। দীর্ঘ শুনানির পর আপিল বিভাগের সাত সদস্যবিশিষ্ট মহামান্য আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। সুতরাং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন নিশ্চিতভাবে দিবাস্বপ্ন। যেটি হতে পারে নির্বাচনকালে, প্রধানমন্ত্রী যদি চান ২০১৪ সালের  মতো সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে পারেন, যেখানে বিএনপিসহ সংসদে অন্যান্য যেসব দলের সদস্যরাও থাকতে পারে।  তখন সংসদে বিএনপি’র একটি শক্ত অবস্থান ছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া তাঁর পরামর্শদাতাদের পরামর্শে শেখ হাসিনার প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছিলেন। বর্জন করেছিলেন নির্বাচন। এটি ছিল বিএনপি’র মৃত্যু পরোয়ানায় সই করার শামিল।

গত ৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৫তম অধিবেশন শেষে দেশে ফিরে তাঁর দেওয়া সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘কী সুখে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবেন?’ অন্যদিকে বিএনপি নিয়মিত বিরতি দিয়ে দাবি করেন ‘আওয়ামী লীগ যদি নিজের ওপর এতই আস্থাশীল হয় তাহলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন দিক।’ এটি বিএনপি ও তার মিত্রদের স্বপ্নবিলাস ছাড়া আর কিছুই না। বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অর্থনীতির ছাত্র। তিনি নিশ্চয়ই বাংলাদেশের বর্তমান সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিক অর্থনীতির পরিস্থিতি বোঝেন। তিনি প্রায়শ দুর্নীতির কথা বলেন। বাংলাদেশে সব সময় দুর্নীতি ছিল ও থাকবে। পার্থক্য হচ্ছে আগে দুর্নীতির বিচার হতো না, এখন হয়। সংসদ সদস্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দু’দকে ডাক পড়ে, মামলা হয়। অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ডও হয়, যা বিএনপি’র আমলে চিন্তাও করা যেতো না। মির্জা ফখরুল নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সম্পর্কে বাংলাদেশের মূল্যায়ন পড়েন।

বিশ্বব্যাংক বলি আর আইএমএফ অথবা বাংলাদেশের সিপিডি, তাদের হিসাব মতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতি আর বর্তমানে এর বার্ষিক মোট জাতীয় উৎপাদন তিন শত বিলিয়ন ডলারের ওপর। স্ট্যান্ডার্ড চ্যার্টার্ড ব্যাংকের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ এর পরিমাণ দাঁড়াবে পাঁচশত বিলিয়ন ডলার (ডেইলি স্টার ১০ অক্টোবর)। বর্তমানে এডিবি বা ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের মতেও বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১তম বৃহত্তম অর্থনীতি, যা ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে (ব্রিটেনভিত্তিক সেন্টার ফর ইকোনোমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ) । বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বর্তমানে ২২২৭ মার্কিন ডলার, যা এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। অবশ্য কোভিড অতিমারির কারণে এসব হিসাব-নিকাশ সামান্য কিছু এদিক সেদিকও হতে পারে।

ক’দিন আগে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে এই অতিমারির মধ্যেও বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি এই বছর ৬.৪ শতাংশ হবে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ক্রমবর্ধমান হারে পড়তির দিকে এবং বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখে যে দক্ষতা দেখিয়েছে তা চমকপ্রদ। একই সঙ্গে দারিদ্র্যও কমছে  (ডেইলি স্টার, অক্টোবর ৮, ২০২১)। ওয়ান পার্টির একজন বড় নেতা যিনি সকাল হতেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঘণ্টা বাজান, তিনি নির্দ্বিধায় বলে বেড়ান দেশে যদি এত উন্নয়ন হয় তাহলে দারিদ্র্য বাড়ছে কেন। এই ব্যক্তি একসময় আওয়ামী লীগেরও একজন বড় নেতা ছিলেন। দলের টিকিট নিয়ে নির্বাচন করে হেরেছেন। এখন নিজে একটি দল করেছেন, যার একমাত্র সদস্য তিনি। এসব উন্নয়ন সূচক বিএনপি নেতাদের কি চোখে পড়ে না? তারা বলে দেশের মানুষ বিএনপিকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। কারণ, তারা আওয়ামী লীগ থেকে মুক্তি চায়। এসব কথা বলার ভিত্তি কী?

মির্জা ফখরুল বেমালুম ভুলে যান বাংলাদেশ নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো একটি সেতু বানিয়ে ফেললো। ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক দেশে হিসেবে পারমাণবিক ক্লাবে ঢুকলো। এদিন বাংলাদেশের রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করা হলো। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম এই ধরনের একটি টানেল বানিয়ে ফেললো। ঢাকায় বসছে মেট্রোরেল।  তিনি এসব মেগা প্রকল্পের প্রসঙ্গ উঠলেই বলেন এগুলো তো মেগা দুর্নীতি। তাদের আমলে মেগা দুর্নীতি হয়েছে ঠিক কিন্তু কোনও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়নি।

১৯৭৭ সালে বিদ্রোহের অজুহাতে জিয়া প্রায় দুই হাজার সেনা সদস্যকে অনেকটা বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিল। সম্প্রতি তাদের পরিবারের সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ডে জিয়ার মরণোত্তর বিচার করার জন্য একটি কমিশন গঠন করে সত্য উদঘাটনের দাবি তুলেছেন। এই প্রসঙ্গেও মির্জা ফখরুল বলেছেন, তাদের বিচার হয়েছে কোর্ট মার্শালে এবং এই কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে তাদের দণ্ড হয়েছে।  মির্জা ফখরুল ১৯৫২ সালের সেনা আইন না পড়েই এমন মন্তব্য করেছেন। জেনারেল কোর্ট মার্শাল সম্পর্কে এই আইনে বলা হয়েছে, এমন কোর্ট মার্শালে কমপক্ষে পাঁচ জন সদস্য থাকবেন।

এই ধারায় বলা হয়েছে ‘A general court martial shall consist of not less than five officers each of whom has held commission for not less than three whole years and of whom not less than four are of a rank  not below of a captain” ১৯৭৭ সালে অক্টোবর মাসে বিচারের নামে যে প্রহসন হয়েছিল তার সদস্য ছিল তিন জন। একজন অফিসার, একজন সারজেন্ট, আর একজন সিপাহী। আইনে আরও বলা আছে, প্রত্যেক অভিযুক্তকে সহায়তার জন্য একজন আইনজীবী থাকবেন। তিনি সাধারণত সেনাবাহিনী থেকে থাকবেন। জিয়ার এই হত্যাকাণ্ডের আয়োজনে সেনা আইনের কোনও কিছুই মানা হয়নি। কোনও অভিযুক্তকে ১৫ মিনিটের বেশি জিয়ার এই ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টে’র সামনে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সবার সাজা একটাই। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা। মির্জা ফখরুল কি এসব জানেন না?  

মির্জা ফখরুল ও তাঁর দলের নেতারা নিয়মিত বলে বেড়ান দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ‘দুঃশাসন’-এর অবসান চায়, তারা আবার বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। দুর্ভাগ্য, বিএনপি এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও দেশের মানুষকে বোকা ভাবেন। তারা নিজেরা অতীতে কী করেছেন আগামীতে কী করবেন তা বলেন না। বলেন দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আর চায় না। এটা তো কোনও সুষ্ঠু রাজনীতি হতে পারে না। তাদের ভাবতে হবে নেতৃত্বশূন্য একটি রাজনৈতিক দলকে কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়। নির্মোহভাবে চিন্তা করলে দলটি তো এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি (বর্তমানে নির্বাহী আদেশে মুক্ত হয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন)। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে লন্ডনে শরণার্থী স্ট্যাটাসে পলাতক। সেখান থেকে তিনি রিমোট কন্ট্রোলে এক অভিনব কায়দায় দল পরিচালনা করেন তার ব্যক্তিগত স্বার্থে। বিএনপি’র ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা থাকতেই পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে তা একেবারেই স্বপ্নবিলাস। দেশের মানুষ শান্তিতে যে একটু ডালভাত খাচ্ছে তা তারা কেন বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য পরিত্যাগ করবে? বিএনপিতে এখনও কিছু বিবেকবান মানুষ আছে বলে মনে করি।

বিএনপি যদিও বলছে তারা বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। বাস্তবে তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, নির্বাচন মানেই বিএনপি’র জন্য রমরমা বাণিজ্য। তবে আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপি দেশের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে। এ ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক
 
 
/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
পাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
আইপিএলপাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ