ভুল পথে ভারত, বিপদ বাংলাদেশেরও

Send
মো. জাকির হোসেন
প্রকাশিত : ১৪:০৯, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৯, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

মো. জাকির হোসেনজ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোগান ইত্যাদি মিলিয়ে অবিভক্ত ভারত একসময় বিশ্বের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবক হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোকে কৃতিত্ব দেওয়া হলেও এদের হাজারো বছর আগে ভারতবর্ষের মাটিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পৃথিবীর প্রাচীনতম ও বর্তমানকালের আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়। ভারতবর্ষেই গোড়াপত্তন হয়েছিল ভুবনখ্যাত তক্ষশীলা, বিক্রমশীলা, বিক্রমপুর, নালন্দা, রত্নগিরি, পুষ্পগিরি, জগদ্দল, অদন্তপুরি, সোমাপুরা, ভালাভি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বেদ, ভাষা, ব্যাকরণ, দর্শন, চিকিৎসাশাস্ত্র (আয়ুর্বেদ), ধনুর্বিদ্যা, রাজনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, হিসাববিজ্ঞান, গণিত, অর্থনীতি, আইন, সংগীত ও হস্তশিল্প ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তখন ভারতবর্ষে আসতো। একটি সূত্রমতে, কেবল নালন্দায় সংরক্ষিত পুস্তকের সংখ্যা ছিল কম করে হলেও নব্বই লক্ষাধিক। হরপ্পা ও মাহেঞ্জোদারো সভ্যতা তথা সিন্ধু সভ্যতার আবাস এ অবিভক্ত ভারতবর্ষ। ভারত একসময় সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল। দাদাভাই নওরোজীর হিসাব মতে, ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে কেবল ভারতীয় উপমহাদেশ থেকেই প্রতিবছর ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ সম্পদ পাচার হয়েছে। আরেক পরিসংখ্যান বলছে, ভারত থেকে ন্যূনতম ৪৫০ ট্রিলিয়ন পাউন্ড লুট করা হয়েছে। ক্লিংগস্মিথ ও উইলিয়ামসনের গবেষণা বলছে ১৭৫০ সালে বিশ্ববাজারের মোট শিল্পপণ্যের ২৫ শতাংশ সরবরাহ করতো শিল্পসমৃদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশ। আর ১৯০০ সালে তা নেমে দাঁড়ায় মাত্র ২ শতাংশে। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাংগাস ম্যাডিসন তার ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইকনোমি’ গ্রন্থে লিখেছেন, ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্ব  অর্থনীতিতে ২৭ শতাংশ অবদান ছিল ভারতের আর ২৩ শতাংশ ছিল সমগ্র ইউরোপের। কিন্তু ঔপনিবেশিক নির্মম শোষণের ফলে ১৯৫০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান ৩ শতাংশে নেমে যায়। ভারতবর্ষের সর্বনাশ কেবল নির্মম অর্থনৈতিক লুণ্ঠণেই সীমিত থাকেনি। ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে বেশি সর্বনাশ বোধ করি হয়েছে ধর্মের ভিত্তিতে এর ভৌগোলিক ও মানসিক বিভাজন। বিভাজনের জন্য প্রধানত ব্রিটিশ সরকারকে দায়ী করা হলেও আমার মতে ভারতের ভৌগোলিক বিভক্তির প্রধান দায় রাজনৈতিক দল আরএসএস, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের। ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান-ভারত দ্বন্দ্ব, উত্তেজনা আর অস্ত্র প্রতিযোগিতা এ অঞ্চলের উন্নয়নের পথে অন্যতম অন্তরায় হিসাবে আবির্ভূত হলো। ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ঢাকায় এক সুধী সমাবেশে বঙ্গবন্ধু এ বিষয়ে বলেন, ‘দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশের গত কয়েক যুগের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য ও দুর্ভোগের মূল কারণ সাম্প্রদায়িকতা। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার পর ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতায় রূপ দেওয়া হয়েছে।’ ধর্মের কথা হলো নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, শাসকের। ধর্মের বাণী হলো অহিংসা, রক্তপাত, জীবন ক্ষয় না করা। উপমহাদেশ বিভাজনের পর ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতায় রূপ নেয়। ফলে ধর্মের শাশ্বত বাণী অহিংসা, নাগরিকদের ন্যূনতম মৌলিক মানবাধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে সামরিক খাত। চির বৈরী পাকিস্তান ও ভারত যে সামরিক খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়েই চলেছে তার মূল চালিকাশক্তি ধর্মীয় বিভাজন। সামরিক খাতে ব্যয়ের দিক থেকে সারাবিশ্বে ভারতের অবস্থান পঞ্চম আর এশিয়ায় দ্বিতীয়। তাদের সামরিক ব্যয়ের অংক ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। স্টকহোম পিস রিসার্চ ইন্সস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করেছে ভারত। এর জেরে বিশ্বে এখন অস্ত্র আমদানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দেশটি। বিশ্বে মোট অস্ত্রের ৯.৫ শতাংশই এখন ভারতের হাতে। আর মোট আমদানিকৃত অস্ত্রের ১৩ শতাংশই ভারতের। সম্প্রতি ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় ৩০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদিত হলো। চুক্তির আওতায় ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক সামরিক সম্ভার কিনবে।

পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা খাতে পাকিস্তান ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ দিয়েছে ১১০০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (৯৬০ কোটি ডলার)। দেশটির সামরিক বাজেট ট্রিলিয়ন রুপির কোটা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সামরিক খাতে পাকিস্তানের বরাদ্দ ছিল ৬০০ বিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় গত বছর সামরিক ব্যয় শতকরা ৮৪ ভাগ বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাডিজের (আইআইএসএস )-এর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ১৪ লাখ সেনা সদস্যের জন্য ২০১৮ সালে ভারত সামরিক খাতে বরাদ্দ করেছিল চার ট্রিলিয়ন রুপি (৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এই পরিমাণ অর্থ দেশটির জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তান তার ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ সেনা সদস্যের জন্য ২০১৮ সালে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাজেট বরাদ্দ করেছিল, যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া ২০১৮ সালে ইসলামাবাদ ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি সামরিক সহায়তা পেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ভারত তার প্রতিরক্ষার জন্য বছরে খরচ করে মাথাপিছু ১০ ডলার আর পাকিস্তান করে ২৬ ডলার। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ভারত খরচ করে মাথাপিছু ১৪ ডলার আর পাকিস্তান খরচ করে ১০ ডলার। পাকিস্তান ও ভারত যে পরিমাণ অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় করে, তা দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, একটি ট্যাংকের যে দাম, তা দিয়ে ৪০ লাখ শিশুকে প্রাণঘাতী অসুখের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া সম্ভব। একটি ট্যাংকের দাম ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। আর একটি শিশুকে প্রাণঘাতী ছয় রোগের বিরুদ্ধে টিকা দিতে খরচ হয় মাত্র এক ডলার। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে সংযুক্ত একটি মিরেজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের দাম ৯ কোটি মার্কিন ডলার। আর একটি শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছর পড়ালেখার জন্য গড়পড়তা খরচ হয় ৩০ ডলার। মিরেজ ২০০০ যুদ্ধবিমান কেনা না হলে ওই অর্থে ৩০ লাখ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার খরচ মেটানো সম্ভব। উভয় দেশের রয়েছে কয়েক ডজন অত্যাধুনিক সাবমেরিন। আনুষঙ্গিক সাজসজ্জাসহ আধুনিক একটি সাবমেরিনের দাম ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে একজনকে এক বছরের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ করতে ব্যয় হয় পাঁচ ডলার। অর্থাৎ একটি সাবমেরিন কেনা মানে ছয় কোটি লোককে সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত করা। এসআইপিআরআইয়ের তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানের ১৪০ থেকে ১৫০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র আছে। অন্যদিকে ভারতের আছে ১৩০ থেকে ১৪০টি। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ যদি পারমাণবিক হয় তবে তার ক্ষতি হবে বহুমুখী। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ানস ফর দ্য প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়ার এবং ফিজিশিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি এই দুটি সংগঠনের গবেষণামূলক এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কোনও কারণে শেষ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হলে অন্তত ২০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এতে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা। মানুষকে হত্যাযজ্ঞের এই যে বিশাল সামরিক-রাজনৈতিক আয়োজন তার পেছনে রয়েছে ধর্মের দোহাই।

ভারত ও পাকিস্তানে সামরিক খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হলেও সামাজিক খাতে অগ্রগতি হয়েছে অতি সামান্যই। ভারত ও পাকিস্তানে ব্যাপক দারিদ্র্য রয়েছে। শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। মায়েরা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা যাচ্ছেন। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশ মিলিয়ে ৭০ কোটির বেশি মানুষ অনাহারে, চূড়ান্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিরাট সংখ্যক মানুষের কাজের সংস্থান নেই। কৃষক, শ্রমিক, কর্মহীন অসংখ্য মানুষ ঋণের ভারে বিপর্যস্ত। এই ভয়ংকর ব্যবস্থায় বেঁচে থাকতে না পেরে তাদের কেউ কেউ আত্মহত্যা করছেন। কেউ বা বাঁচার চেষ্টায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ বা নিজের অঙ্গ বিক্রি করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন। ২০১৯-এর বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স) পাকিস্তান ৯৪তম এবং ভারত ১০২তম স্থানে রয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার বিবাদের কারণে বছরে দু’দেশে বাণিজ্যিক ক্ষতি হচ্ছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে যদি দিল্লি ও ইসলামাবাদ সব ধরনের বিরোধ মিটিয়ে নেয়। দেশ থেকে দ্রারিদ্য দূর করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে বাণিজ্যের বিস্তার করতেই হবে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজনের সামরিক ও রাজনৈতিক যে শত্রুতা তা প্রধানত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমিত ছিল। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজনীতির নামে ধর্মীয় সে বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতাকে নিজ রাষ্ট্রের নাগরিকদের মাঝেই ভয়ঙ্করভাবে উসকে দিয়েছেন। ভারতের শাসক দলের হঠাৎ করে আমদানি করা বৈধ নাগরিকত্বের ধারণা (এনআরসি ও সিএএ) ভারতের বন্ধন ও সমাজের মধ্যে নজিরবিহীন ভাঙন সৃষ্টি করেছে। হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ঘৃণা, আর ঘৃণা থেকে দাঙ্গা-সহিংসতা। এর মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্র ও সভ্যতা লজ্জার মধ্যেই পড়ছে। দিল্লির ঘটনা তার একটি উদাহরণ মাত্র। ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক চলছেই। এই বিতর্কের মূলকেন্দ্রে রয়েছে, লাখো ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার জনতত্ত্ব আমূল পাল্টে দিচ্ছে। ভারতের শাসকদল দৃঢ়ভাবে এই কথাটি বিশ্বাস করে এবং দাবি করে, অবৈধ অভিবাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে ভোটব্যাংক রাজনীতির কারণে। অথচ শাসক দলের এ ধারণাটি কল্পিত ও কৃত্রিম। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর একটি আসাম। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান আসামের চেয়ে অনেক ভালো। জীবনমানের কোনও কোনও সূচকে বাংলাদেশ ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে যে এগিয়ে আছে সে প্রশংসা অমর্ত্য সেনসহ অনেক ভারতীয় অর্থনীতিবিদ-সমাজবিদরাই করছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ছিটমহলে বসবাসকারী ভারতীয়রাই তো ভারতে ফিরে যায়নি, বাংলাদেশিরা কেন ভারতে বসতি গড়তে যাবে? বিনিময়ের আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলে ৪৫ হাজার ৪৭১ জন ভারতীয়’র বসবাস ছিল। এদের ভারতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে মাত্র ৯৮০ জন ভারতে গেছেন। আর অবশিষ্টরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে এখানে থেকে গিয়েছেন। এদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকই রয়েছে। ‘কেমন আছে ভারতে চলে যাওয়া বাংলাদেশের হিন্দুরা?’ শিরোনামে রতন বালোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সাক্ষ্য দিচ্ছে অভিবাসী হিন্দুরা নানাভাবে বঞ্চিত, কারও কারও জুটছে না বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম রসদও। বিত্তশালী কোনও কোনও পরিবার ছিন্নমূল হয়ে বাস করছে। কেউ আবার সবকিছু বিক্রি করে বাংলাদেশে ফেরত এসেছে। দেশত্যাগী অনেক হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন প্রতিবেদককে। ভারতে আসা বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের অনেকেই আবার বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, ওই দেশেই আমরা ভালো ছিলাম। এখানে ভালো নেই। এখানে ভালো কিছু বন্দোবস্ত না হলে আবার বাংলাদেশের মাটিতে আগের ছিটমহলেই (বিলুপ্ত) ফিরে যেতে চাই। আসামে বাংলাদেশিদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ বিষয়ে গবেষক ভাস্কর নন্দী বলেন, ১৯৫০ সালে ভয়াবহ চরুয়া খেদা দাঙ্গায় একটি মুসলমান গ্রামেই আটশ’ মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনার পর দাঙ্গার আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ পূর্ব পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিল। নেহরু-লিয়াকত চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের ভারত ফেরত নেয় ঠিকই, কিন্তু সীমান্ত পেরুনোর সময়ে সঠিক নথিপত্র দেওয়া হয়নি। আর ওই শরণার্থীরা ফেরত আসার আগেই ১৯৫১ সালে আসামে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা National Register of Citizenship (NRC) তৈরি হয়ে যায়। তাই বহু বাংলাভাষী মুসলমানেরই আর সেই NRC-তে নাম ওঠেনি। আর এভাবেই বহু বাংলাভাষী মুসলমানকেই সন্দেহজনক ভোটার বা D Voter, অর্থাৎ সন্দেহজনক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করা হয়ে গেছে। ৩১ মার্চ ২০১৬ সালে বিবিসি-র সাংবাদিক অমিতাভ ভট্টশালীর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ধুবরীর প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব কুমার সেন বলেছেন, ‘লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশ থেকে চলে আসছে, এটা একেবারেই ভুল কথা। চোখের সামনেই তো দেখি যে সীমান্ত পেরিয়ে মানুষ আসে ঠিকই, আবার ফিরেও যায় কাজ করে। খুব কম সংখ্যক মানুষই ও দেশ থেকে এসে স্থায়ীভাবে থেকে যায়, তবে সেই সংখ্যাটা কখনোই লাখ বা হাজার নয়। এগুলো সব ভোটের সময় বলা হয়, কিন্তু সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান কেউ করতে চায় না’। এসব তথ্য কি ভারত সরকারের অজানা? গত কয়েক দশকে যদি পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী’ (মুসলিম/হিন্দু) বড় সংখ্যায় প্রবেশ করে এবং রেশন কার্ড ও ভোটার কার্ড পেয়ে থাকে, তাহলে রাজ্যের জনসংখ্যা আকাশচুম্বী হওয়ার কথা এবং দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় জনসংখ্যা প্রবণতা আলাদা হবে। National Family Health Survey (এনএফএইচএস) কর্তৃক সর্বশেষ আদমশুমারি ও জরিপ কী বলে? ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্যে দেখা গেছে, ১৯৯০ দশক থেকে পুরো দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে জন্মহার উল্লেখযোগ্য হারে কম। এটি শুধু যে পুরো জনসংখ্যার ক্ষেত্রে সত্য তা নয়, হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মালম্বী মানুষের মধ্যে জন্মহার কমছে গত ২-৩টি শুমারিতে। ১৯৮১-৯১ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে জন্মহার ছিল ২১ দশমিক ১ শতাংশ, ১৯৯১-২০০১ সালে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০০১-২০১১ সালে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্মহার ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ (১৯৮১-৯১), ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ (১৯৯১-২০০১) ও ২১ দশমিক ৮ শতাংশ (২০০১-২০১১)।

অন্যভাবে বললে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায় ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের চেয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে কম ভূমিকা রাখছে, অন্তত ১৯৯১ সাল থেকে হিন্দু এবং ২০০১ সাল থেকে মুসলিমরা। জাতীয় জন্মহারের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গে জন্মহার হার কম। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাদেশি অভিবাসীদের’ কারণে যে জনসংখ্যা বাড়ছে তা কল্পকথা ছাড়া কিছুই না। সীমান্তবর্তী জেলাগুলো দিয়েই তো অভিবাসীরা প্রবেশ করে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হিন্দু-মুসলমানের আদমশুমারির তথ্যে অভিবাসনের এমন কোনও প্রবণতা উঠে আসেনি। অধ্যাপক সুভনিল চৌধুরী ও শাশ্বত ঘোষ জনসংখ্যা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, গত দশকের তুলনায় ২০০১-২০১১ সময়কালে পশ্চিমবঙ্গের সব জেলাতেই জন্মহার কমেছে। হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে এটি সত্য। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কোনও ধারাবাহিক প্রবণতা পাওয়া যায়নি যাতে বিপুল সংখ্যায় অভিবাসীদের প্রবেশ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তার মানে কি বাংলাদেশ থেকে কোনও মানুষ অবৈধভাবে ভারতে যায়নি কিংবা কোনও ভারতীয় অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছে না? পাশাপাশি দেশ থাকলে প্রতিবেশী দেশের নাগরিকরা বৈধ-অবৈধ পথে যাতায়াত করে থাকে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর গবেষণা মতে, বাংলাদেশের শিল্প খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যেসব ভারতীয় নাগরিক কাজ করেন, তারা বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা বৈধপথে ভারতে নিয়ে যান। ডয়চে ভেলের সূত্রমতে, বাংলাদেশে সব মিলিয়ে কম করে হলেও পাঁচ লাখ ভারতীয় কাজ করেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই কোনও ওয়ার্ক পারমিট নেই। তারা ট্যুরিস্ট ভিসায় আসেন। আর তাদের বেতন অনেক বেশি। ট্যুরিস্ট ভিসায় যারা কাজ করেন তাদের আয় করা পুরো অর্থই অবৈধ পথে বাংলাদেশের বাইরে চলে যায়। বাংলাদেশে বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়রা সবচেয়ে বেশি চাকরি করছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মোট ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বিদেশি নাগরিক কাজ করেন। সবচেয়ে বেশি ভারতের ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন নাগরিক বাংলাদেশ কাজ করছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে বিদেশে যায়। এ কারণে বছরে ৪০০-৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার দেশের বাইরে চলে যায়, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। এই অঙ্কের সিংহভাগই যায় ভারতে।

সমসাময়িক ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ধর্মের কৃত্রিম ব্যবহার সুফল নয় বিপদ ডেকে এনেছে। ৪৭-এ ধর্মের ভিত্তিতে, অবিশ্বাস ও অনৈক্যের যুক্তি দিয়ে জোর করে ভাগ করা হয়েছিল ভারতবর্ষ। ধর্মের ভিত্তিতে ভারত-পকিস্তান বিভাজনের সময় সৃষ্ট ক্ষত ৭৩ বছরেও শুকায়নি। ধর্মের নামে ১০ লাখের মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছিল,আরও কয়েক লাখ মানুষ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল নিজের জন্মস্থান। ৭১-এ ধর্ম রক্ষার নামে পাকিস্তান ও তার দোসররা ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে। ৩-৪ লাখ কন্যা-জায়া-জননী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, সেটাও তো ধর্মেরই নামে। ধর্মের নামে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ও অর্থনীতির আজ  ভয়ঙ্কর ভগ্নদশা। রাষ্ট্রীয়ভাবে বৌদ্ধ ধর্মের অপব্যবহার করে রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমার রাষ্ট্র হিসাবে আন্তর্জাতিক আদালতে ও সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে বিচারের সম্মুখীন। চীন উইঘুরের ইসলাম ধর্মের মানুষের প্রতি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস পরিচালনার দায়ে অভিযুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যে ইসলাম ধর্মের নামে শাসকরা যে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র কায়েম করেছে তা ইসলামে সমর্থনযোগ্য নয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে খ্রিষ্ট ধর্ম ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের উগ্রবাদী বিভিন্ন সংস্থা। এদের বিরুদ্ধে মুসলিম, এশীয়, অভিবাসী ও ইহুদিদের হত্যা, আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, হয়রানিসহ নানা হেট ক্রাইমের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্র-রাজনীতি ও সমাজেধর্মের কৃত্রিম ব্যবহারের কুফল উপলব্ধি করে নেপাল তার শতাব্দী প্রাচীন হিন্দুত্ববাদকে সংবিধান থেকে বিসর্জন দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংবিধানে সংযোজন করেছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের হেডলাইন স্টোরিতে এসেছে, দিল্লি পুলিশের নাকের ডগায় মানুষ কীভাবে রড, লাঠি দিয়ে মারছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব চলছিল। তারা দেখে দেখে মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টার্গেট করছিল। তিন দিনের এসব ন্যক্কারজনক ঘটনা যখন পুলিশের নাকের ডগায় ঘটছিল, তখন তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ভারতের দিল্লিতে সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি যে ব্যর্থ সে কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দিল্লিতে এত মানুষের মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশের কাছ থেকে কোনও সাহায্য না-পেয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার সময় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি মুরলীধরের বাড়িতে যান চিকিৎসক, মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁদের আবেদন শুনতে রাজি হন বিচারপতি মুরলীধর। রাত পৌনে ২টার সময় দিল্লি পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা মানুষের কাছে পৌঁছে ভরসা তৈরির সময়।’ দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে মামলার শুনানির সময় সহিংসতায় ঘরছাড়া মানুষের জন্য উপযুক্ত আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করারও নির্দেশ দেন তিনি। দাঙ্গাবিধ্বস্ত দিল্লির ‘রক্ষাকর্তা’ সেই বিচারপতিকে ২৬ ফেব্রুয়ারি মাঝরাতে বদলি করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামানোর নির্দেশদানের কারণে মাঝরাতে বিচারপতি বদলি বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে। দিল্লির দাঙ্গা ভারতের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়বে না কিংবা বাংলাদেশেও তার ঢেউ আছড়ে পড়বে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? বাংলাদেশেও ধর্মীয় উগ্রবাদ নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে? আর এমনটি হলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। এনআরসি, সিএএ, এনপিআর-কে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতাদের বাংলাদেশবিরোধী বিস্ফোরক মন্তব্য, মুসলমান হত্যা-নির্যাতন, মসজিদসহ ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাংলাদেশে লাফিয়ে বাড়ছে ভারতবিরোধিতা।

কাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বা হবে না এটা একান্তই রাষ্ট্রের নিজস্ব ব্যাপার। মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না এ কথা আইনে উল্লেখ করে ধর্মীয় উগ্রবাদকে উসকে দেওয়া হয়েছে।  বর্তমান শাসক দলের অবিমৃশ্যকারিতার কারণে শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপের সঙ্গে ভারতের বন্ধন শিথিল হয়ে পড়েছে। চীনের সঙ্গে এসব রাষ্ট্রের সখ্য অপেক্ষাকৃত দৃঢ় হয়েছে। আরোপিত কৃত্রিম এনআরসি, এনপিআর ও সিএএ-কে কেন্দ্র ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েন সৃষ্টি হলে তা কেবল এ দুদেশের জন্যই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হবে বড় অশনি সংকেত। 

বঙ্গবন্ধু এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘এই দেশ হিন্দুর না, এই দেশ মুসলমানের না, এই দেশকে যে নিজের বলে ভাববে, এই দেশ তার। এই দেশের কল্যাণ দেখে যার মন আনন্দে ভরে উঠবে এই দেশ তার। এবং এই দেশের দুঃখে যে কাঁদবে এই দেশ তার। এবং এই দেশ তাদের, যারা এই দেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দিবে।’ ভারতের শাসকগণ যত দ্রুত এ সত্যি উপলব্ধি করবেন, তত দ্রুত ভারতের ঈশান কোণে জমা ধর্মীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতার মেঘ উবে গিয়ে ভালোবাসা-সম্প্রীতি-শান্তির উজ্জ্বল সূর্যের হাসির দেখা মিলবে। তা না হলে ভুল পথে চলা ভারত বাংলাদেশের জন্যও বিপদ ডেকে আনবে।

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: [email protected]

 

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ