করোনা দৈত্য ছেড়ে রেখে দেশ স্বাভাবিক হবে না

Send
স্বদেশ রায়
প্রকাশিত : ১৪:১৩, জুন ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৪, জুন ২৫, ২০২০

স্বদেশ রায়কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমানোর জন্য কেন যে লকডাউনটা শুরু থেকে সঠিকভাবে করা হলো না এর উত্তর কারও কাছে আছে বলে আমার মনে হয় না। সরকারের প্রভাবশালী একজন উপদেষ্টার একটি সাক্ষাৎকার শুনেছি ডয়েচ ভেলেতে, তিনি বলেছেন, আমাদের কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আমরা শুধু অন্য দেশগুলো যা করেছে তারই কপি পেস্ট করেছি। ওই উপদেষ্টার কথা সঠিক। এখানে আমাদের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। আমরা কপি পেস্ট করেছি। কিন্তু ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে এই তিনটি দেশ চীন, জার্মানি, ভিয়েতনাম, হংকং বা থাইল্যান্ডের মতো যে দেশগুলো কোভিড-১৯  এর সংক্রমণ বিস্তার রোধে সফল হয়েছে, তাদের কপি পেস্ট করেনি। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান যেন সর্বান্তকরণে কপি পেস্ট করেছে আমেরিকা ও ব্রাজিলকে।
ভারতের লকডাউন নিয়ে সেখানকার বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট ড. দীলিপ চক্রবর্তী বলেছেন, লকডাউনের নামে ভারতে যেটা হয়েছে তা হলো ছেলেখেলা। লকডাউন নিয়ে জনগণকে মোটেই সতর্ক করা হয়নি। সরকারও কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর করেনি। তার বক্তব্যের সারাংশ হলো, সরকার বা জনগণ কেউই বোঝেনি লকডাউনটা কেন?  ড. দীলিপ চক্রবর্তী বলেন, ‘লকডাউন করতে হয় মূলত ভাইরাসের শেকলটা ভেঙে ফেলার জন্য। ভাইরাসটি এক মানুষের শরীর থেকে আরেক মানুষের শরীরে যায়। তাই লকডাউন করে মানুষকে ঘরের ভেতর আটকে রাখতে হয় যাতে ওই ভাইরাসটি নতুন কোনও মানুষ না পায় সংক্রমিত করার জন্য। নতুন করে আরেকজনের শরীরে না যেতে পারলে ভাইরাসটি ওখানেই শেষ হয়ে যায়। এ কারণে শুরুতে ১৫ দিন কঠোরভাবে বা কখনও প্রয়োজনে এক মাস লকডাউন করলে ভাইরাসটির শেকল বা চেইন ভেঙে যায়। নতুন করে সেটা আর জম্ম নেওয়ার কোনও মাধ্যম পায় না। দেশ ভাইরাসমুক্ত হয়।’ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলো এভাবেই করেছে। এবং এভাবেই তারা শতভাগ সফল হয়েছে। ভারতের না পারার কারণ হিসেবে বা ভারতের যে প্রদেশগুলো ব্যর্থ হয়েছে সে সম্পর্কে ড. চক্রবর্তীর বক্তব্য হলো, ‘আমরা লকডাউনের নামে ছুটি পালন করেছি। কাঁচাবাজারে গিয়ে ভিড় করেছি। যেন প্রচুর বাজার করা ও খাওয়ার জন্য আমাদের লকডাউন। জনগণ যেমন অসচেতন ছিলেন তেমনি সরকারও সঠিকভাবে সেটা কার্যকর করার ব্যবস্থা করেনি।’ ড. দীলিপ চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গ বা সামগ্রিকভাবে তার দেশ ভারতকে লকডাউনের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে যে ত্রুটির কথা বলেছেন, আমাদের বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। বরং একই চিত্র। যে কথাগুলো তার দেশ সম্পর্কে ড. দীলিপ চক্রবর্তী বলেছেন, এই কথাগুলোই আমাদের অনেক ভাইরোলজিস্ট ব্যক্তিগতভাবে বলছেন আমাদের দেশ সম্পর্কে। কিন্তু প্রেসে বলছেন না। আর ভারতে লকডাউন নিয়ে জনগণ ও সরকার যা করেছে আমরা ও পাকিস্তান তার বাইরে নই।

বাংলাদেশ বা ভারতের মতো দেশগুলোর শহরের ক্ষেত্রে যেটা বলা হচ্ছে, সেটা জনঘনত্ব। যেমন, থাইল্যান্ড তাদের দেশ শুধু নয়, তাদের সব থেকে জনঘনত্বপূর্ণ শহর ব্যাংককেও কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সমর্থ হয়েছে। ব্যাংকক শহরে প্রতি কিলোমিটারে ৬ হাজার ৭১৮ জন মানুষ বাস করে। তারা সেখানে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ১ হাজার ৫৯৬ এবং মৃত্যু ২৪-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সমর্থ হয়েছে। এবং ভেঙে দিতে পেরেছে ভাইরাসের শিকলটি। এখন সে শহরে সংক্রমণ শূন্যে নেমে গেছে। ব্যাংককের থেকে আমাদের ঢাকায় জনঘনত্ব প্রায় চারগুণ। আমরা প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করি ২৩ হাজার ২৩৪ জন। তাই আমাদের জন্য বিষয়টি তাদের থেকে কঠিন। তবে তারা যে পথে শুরু থেকে গিয়েছিল আমরা যদি তাদের কপি পেস্ট করতাম তাহলে হয়তো ঢাকায় মোট সংক্রমণ পাঁচ ছয় হাজারের মধ্যে আটকে দেওয়া যেতো। ব্যাংককে সংক্রমণ হয় তিনটি কারণে—এক, রেসলিং দেখতে গিয়ে ভিড় করা; দুই, মালয়েশিয়া তাবলিগ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তি; তিন বিদেশ থেকে আসা  শ্রমিক। ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত এই তিন শ্রেণিকে আইসোলেশনে নিয়ে গিয়ে সারা শহরে কঠোর লকডাউন দিয়ে আর্মি নামিয়ে  কোভিড সংক্রমণের চেইন বা শিকল ভেঙে ফেলে।

আমরা শুরুতে আমাদের ইতালি থেকে ফেরা শ্রমিকদেরকে নিয়ে কেন এমন কঠোর আইসোলেশনে যাইনি সে প্রশ্ন এখন আর করে লাভ নেই। কারণ, বোতলের মুখ খুলে গেছে দৈত্য এখন বের হয়ে গেছে। তারপরেও আমাদের সার্বিক আচরণ দেখে মনে হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা যথা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিশেষ করে কেন লকডাউন, কীভাবে এই ভাইরাসের শেকল ভাঙতে হবে, কেন ভাঙতে হবে এটা বুঝতে পারেননি। আর যদিও বুঝতে পারে, তাদের কাজকি সেটাও তারা বোঝেনি। শুধু তাই নয়, এই লেখা যখন লিখছি তখন আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজি’র একটি বক্তব্য পড়ে মনে হলো তিনি খুব সূক্ষ্মভাবে তাদের ব্যর্থতাকে প্রধামন্ত্রীর কাঁধে চাপাতে চাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার পরে তদারকি করছে ঠিকই, তবে প্রতিটি কাজ তো বাস্তবায়িত করতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। তারা কেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সময়মতো বোঝালো না বা জানালো না লকডাউন করতে হবে?  এবং কেন এই লকডাউন? তারা যদি বিষয়টি বুঝে আমাদের দেশের নামকরা ভাইরোলজিস্টসহ অন্যান্য চিকিৎসককে নিয়ে পদক্ষেপ নিতো তাহলে নিশ্চয়ই আজ প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার বলার প্রয়োজন পড়তো না, আমরা নিজেরা কিছু না জেনে কেবলই কপি পেস্ট করেছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি সঠিকভাবে বোঝাতো কেন লকডাউন তাহলে তো কপি পেস্ট করার কোনও দরকার পড়ে না।

আমরা আমাদের দেশের জনঘনত্ব, আমাদের বাস্তবতা অনুযায়ী সেভাবে লকডাউন করতাম। যেমন ভারতের দিকে তাকান, সেখানে যারা নিজেরা বুঝে কাজ করেছে তারা ব্যর্থ হয়নি—যেমন, কেরালা ব্যর্থ হয়নি। কিন্তু মোদি ব্যর্থ হয়েছেন, মহারাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ব্যর্থ হয়েছে।
মোদির ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দিল্লির কিছু বিজনেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তব্য হলো, মোদি অতিমাত্রায় ব্যবসায়ীদের কথা শুনতে গিয়ে  আজ দিল্লি শহরসহ ভারতের এই অবস্থা। তিনি শুরুতে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানা চালু রাখেন ব্যবসায়ীদের কথামতো। তারা তাকে বুঝিয়েছিলেন এতে অর্থনৈতিকভাবে এই কোভিডের সময় তারা লাভবান হবে। কিন্তু বাস্তবে যা দাঁড়ালো তা হলো ওই সময়ে যা রফতানি হয়েছে বা উৎপাদন হয়েছে তার তুলনায় ক্ষতি হয়ে গেলো অনেক বেশি। কারণ শুরুতে কঠোর লকডাউন না দেওয়ার ফলে এখন কোভিডের কমিউনিটি বিস্তার বা ক্লাস্টার বিস্তার যেভাবে ঘটেছে তাতে এর সমাপ্তি রেখা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। কবে যে দেশ স্বাভাবিক হবে তা কেউ বুঝতে পারছে না। আর কোভিড-১৯ এর সেকেন্ড ওয়েভ যদি এই ফার্স্ট ওয়েভ শেষ না হওয়ার আগে আসে তাহলে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভারতের মতো বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছে। এর কোন প্রান্তে গিয়ে আলোর রেখা তা কেউ বুঝতে পারছে না।

ভারত সম্পর্কে সে দেশের ব্যবসা রিসার্চের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন এটা ঘটেছে সরকারকে দেওয়া ব্যবসায়ীদের ভুল পরামর্শের কারণে বা সরকার সেটা মেনে নেওয়ার ফলে। আমাদের দেশে কেন এমনটি ঘটলো তার অবশ্য কোনও সদুত্তর দেশবাসী পায়নি। কোন রিসার্চ প্রতিষ্ঠান বা সরকার এমনকি কোনও জাঁদরেল রিপোর্টার সেটা তুলে ধরেনি। তবে আমাদের কোনও কোনও শিল্পপতি তাদের প্রতিষ্ঠান একদিনের জন্য বন্ধ করেননি। আর কিছু শিল্পপতি শিল্প প্রতিষ্ঠানে লকডাউন না করার সপক্ষে জোরালো যুক্তি দেন। যেহেতু দেশে এটা নিয়ে কোনও গবেষণা হচ্ছে না, তাই কে যে সঠিক তা বলার উপায় নেই।

তবে এতক্ষণ যে কথাগুলো লিখলাম এটা মূলত আমাদের হাত দিয়ে কীভাবে বোতলের মুখ খুলে দৈত্য বের হয়ে গেলো, তারই একটি ধারণা মাত্র। এখন বড় প্রশ্ন কেন দৈত্য বের হয়ে গেলো, সেটা নয়। এখন কীভাবে দৈত্যকে আবার বোতলে ঢোকানো যায় সেটাই মূল কাজ। আমরা সাংবাদিক, কোনোমতেই কোনও কিছুর বিশেষজ্ঞ নই। তবে গত প্রায় সাত মাস ধরে গোটা পৃথিবী কোভিড-১৯ এ ভুগছে। প্রতিদিন সারা পৃথিবীর নিউজগুলো এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ’র মতামত পড়ে যে ধারণা হয়েছে তাতে মনে হয় এখনও দেশকে বাঁচানোর বা দৈত্যকে বোতলে ঢোকানোর উপায় আছে। এবং সরকারও সে পথে হাঁটার চিন্তা করছেন। অর্থাৎ এলাকাভিত্তিক লকডাউন এবং দেশকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তবে এই এলাকাভিত্তিক লকডাউনই শুধু একমাত্র কাজ নয়। এর সঙ্গে আরও অনেক কাজ আছে। প্রথমত সরকারের শুরু থেকে যেটা ঘটছে এবং এখনও একই রকম মনে হচ্ছে, তাহলো কোভিড-১৯ এর নিয়ন্ত্রণ এর বিষয়ে সরকারের সার্বিক যুদ্ধ পরিকল্পনার অভাব। কোভিড-১৯ বাস্তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যদিও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে এখনও মৃত্যুর সংখ্যার থেকে অনেক কম আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে তো আরও কম। তবে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, কোভিড-১৯ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে তা অনেক সুদূরপ্রসারী। শুধু একটা চিন্তা করলেই বোঝা যাবে, কত সুদূরপ্রসারী এর প্রভাব। কারণ, সফল টিকা প্রয়োগ সারা পৃথিবীতে শেষ না হওয়া অবধি মানুষের স্বাভাবিক চলাচল আর সম্ভব নয়। টিকা এখনও আবিষ্কার হয়নি। এটা আবিষ্কার হবে, উৎপাদনে যাবে তারপরে সাড়ে সাতশ’ কোটি মানুষের জন্য উৎপাদিত হবে। এর পরে সাড়ে সাতশ’ কোটি মানুষকে এই টিকা দিতে হবে। এই অনিশ্চিত সময়টা পৃথিবী যেভাবে পার করবে, সেখানে অর্থনীতি ও অন্যান্য সামাজিক সূচক উন্নয়নের কাজ কীভাবে চলবে তা কিন্তু এ মূহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া অর্থনীতির গতি কোথায় নেমে যাচ্ছে তার শুধু একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, বাজেট এয়ারের মাধ্যমে গোটা পৃথিবী একটা গ্লোবাল ভিলেজ হয়েছিল। কোভিডের কারণে বাজেট এয়ার চলাচল আর সম্ভব নয়। যার ফলে এখন পৃথিবী অনেকখানি বিচ্ছিন্ন থাকবে অনেকদিন। কবে আগের মতো সচল হবে, এক হবে তা কেউ জানে না। এর থেকেই নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি এই বিশ্বযুদ্ধটা কত বড় বিশ্বযুদ্ধ এবং এর ভবিষ্যৎ কতখানি অনিশ্চিত।

এমন একটা সময়ে পরিকল্পনাহীনভাবে কোনও কাজ করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের সামনে এ মুহূর্তে কাজ হলো এমন একটি যুদ্ধের পরিকল্পনা করা, যার মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর শিকল বা চেইন ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। শূন্যে বা খুব কম সংখ্যায় বা সীমিত পরিসরে আটকে নিয়ে আসতে হবে কোভিডের বিস্তারকে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মানুষ যেন মূল খাবার চাল ও গমের সঙ্গে আলু, সবজি, মাছ খেয়ে প্রয়োজনে কিছু মাংস খেয়ে চলতে পারে সেটার নিশ্চয়তা। কোনোক্রমে যেন খাদ্যাভাব না আসে। এই দুটোকে প্রথম গুরুত্ব দিয়ে তারপরে অন্যকাজ করতে হবে। আর এজন্য এ মুহূর্তে দরকার প্রকৃত যুদ্ধ পরিকল্পনার মতো একটি যুদ্ধের রোডম্যাপ তৈরি করা। যেমন এ মুহূর্তে ডাক্তার থেকে শুরু করে পরিসংখ্যানবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং সমরবিদদের সমন্বয়ে একটি রোডম্যাপ পরিকল্পনা কমিটি অনতিবিলম্বে করতে হবে। এখানে সমরবিদদের প্রয়োজন এজন্য যে তাদের যুদ্ধকালীন রোডম্যাপ তৈরি করার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আছে। এটা এক্ষেত্রে খুবই বড়। কারণ, এই কোভিড কালটিকে মোটেই সাধারণ কোনও কাল হিসেবে ধরা উচিত নয়। এটাকে একটি যুদ্ধাকালীন বাস্তবতা হিসেবে নিতে হবে। এ ধরনের একটি পরিকল্পনা কমিটি হলে তারা যে সকল দেশ আক্রান্ত হয়েছে তাদের যাবতীয় ডেটা এবং যারা উত্তরণ ঘটাতে সমর্থ হয়েছে তাদের যাবতীয় ডেটা ও আমাদের সার্বিক ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ রোড ম্যাপ করতে পারবেন। ওই রোড  ম্যাপ অনুযায়ী কখন কোথায় কতটুকু লকডাউন, কীভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেস্ট ও পুল সিরাম টেস্ট, কতটুকু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করা সেটা করতে হবে। আমি আগেও আমার একটি লেখায় লিখেছি এখনও মনে করি, এ কাজে সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক সংগঠনের সমন্বয় করা দরকার। কারণ, সেনাবাহিনীর রোডম্যাপ অনুযায়ী চলার ট্রেনিং ও শিক্ষা আছে। পাশাপাশি তাদের সুংগঠিত জনবল আছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিরা যেমন তার এলাকার আনাচ কানাচ সব চেনেন তেমনি তাদের ভেতর নিঃস্বার্থে কাজ করার একটি মানসিকতা আছে। কারণ, যারা বিলাস ব্যসনের মাধ্যমে কাজ করেন তাদের দ্বারা এ মুহূর্তে কোনও কাজ করানো সম্ভব নয়। এই সার্বিক রোডম্যাপ হলে এলাকাভিত্তিক লকডাউনসহ আর যে যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া দরকার—যেমন র‌্যাপিড টেস্ট কিটের মাধ্যমে পুল সিরাম পদ্ধতিতে পরীক্ষা।  অর্থাৎ একশ’ লোককে দশটি গ্রুপে ভাগ করে তাদের দশটি সিরাম পরীক্ষা করা। সেখানে যে একটি বা দুটি সিরামে কোভিড পাওয়া যাবে ওইগুলো পুনরায় পরীক্ষা করে মূল রোগীকে শনাক্ত করে তাকে আইসোলেশানে নিয়ে যাওয়া। প্রতিটি সিটি করপোরেশনকে এই পদ্ধতিতে যেতে হবে। তাতে দ্রুত বেশি টেস্ট হবে। আর কীভাবে সিটি করপোরেশনগুলো কাজ করবে তার ম্যাপটিও ওই মূল রোডম্যাপে থাকবে। ঠিক তেমনি প্রতিটি গার্মেন্টস সহ প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি অফিসকে এভাবে টেস্ট করতে হবে। রোডম্যাপের পরিকল্পনাবিদরা আরও ভালো পথ বলবেন। বাস্তবে এই সামগ্রিক রোডম্যাপ ছাড়া এই কোভিড দৈত্যকে পুনরায় বোতলে ঢোকানো ও কোভিডের ধাক্কা সামলানো কোনোক্রমেই অ্যাডহকভিত্তিতে কাজ করে সম্ভব নয়। আর সত্যি অর্থে কোভিড বা করোনা দৈত্যকে এভাবে ছেড়ে রেখে দেশকে কোনোক্রমেই স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যাবে না। 

লেখক: রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক

 

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ