যুদ্ধ ইউক্রেনে, খাদ্য সংকট বাড়ছে সুদূর আফ্রিকাতে

বিদেশ ডেস্ক
১০ মে ২০২২, ১৯:১৯আপডেট : ১০ মে ২০২২, ১৯:১৯

যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই ইউক্রেন থেকে ১১ হাজার কিলোমিটার দূরে ছয় জনের পরিবারের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন জিম্বাবুয়ের নিরাপত্তা প্রহরি এডউইন ডাপি। আর এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে খাদ্য শস্য, ভোজ্য তেল, জ্বালানি এবং সারের দাম।

এডউইন ডাপির মাসিক বেতন ১৮ হাজার জিম্বাবুয়ান ডলার। কালোবাজারের হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৫ ডলার। এই অর্থে পুরো মাস চালানো ডাপির কাছে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

রাজধানী হারারের অন্যতম দরিদ্র এলাকা মাভুকুর একটি সুপারমার্কেটে দাঁড়িয়ে ৪৬ বছরের ডাপি তার পরিবারের পরে বেলার খাবার নিয়ে হতাশ। তিনি দুই লিটারের এক বোতল ভোজ্য তেল কিনতে চান। কিন্তু এর দাম পৌঁছেছে ৯৯০ জিম্বাবুয়ান ডলারে। যা তার সাধ্যের অতীত। একইভাবে ২ কেজি ময়দার ব্যাগের দাম দাঁড়িয়েছে ৩৯০ জিম্বাবুয়ান ডলারে।

তেল আর ময়দা বাজারের তালিকা থেকে বাদ দিযে এডউইন ডাপি বলেন, ‘আমি শুনেছি এটা ইউক্রেনের কারণে, কিন্তু আমি জানি না আমাদের সঙ্গে এই যুদ্ধের সম্পর্ক কী।’

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে আফ্রিকার খাদ্য সংকট আরও ভয়াবহ হবে। করোনা মহামারি, সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইতোমধ্যে মহাদেশটির কোটি কোটি মানুষ চরম দারিদ্রের মধ্যে রয়েছে।

গত বছর জানায় গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনিস্ট ফুড ক্রাইসিস জানিয়েছিল, সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের ১৯৩ মিলিয়ন মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত এই নেটওয়ার্কটি এ মাসে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

এক সময়ের সমৃদ্ধ জিম্বাবুয়ে ২০০০ দশকের শুরুতে খাদ্য সংকটে পড়ে। সেই সময়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রয়াত রবার্ট মুগাবে শ্বেতাঙ্গ মালিকানাধীন খামার কালো পরিবারের মধ্যে পুনর্বন্টন করার পর থেকে সংকটের শুরু। বিগত কয়েক বছরে খরা এবং সাইক্লোনে বিপর্যস্ত হয়েছে দেশটির অর্থনীতি। লোডশেডিং, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট এবং মুদ্রাস্ফিতীতে নাকাল জিম্বাবুয়ে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) হিসাবে জিম্বাবুয়ের প্রায় ৫.৩ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। 

চলমান যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণ সাগরে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আফ্রিকায় খাদ্য শস্য ও অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই সাগর। ইউক্রেন জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে তাদের খাদ্য শস্য উৎপাদন এক-পঞ্চমাংশ কমে যেতে পারে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আফ্রিকা প্রধান আবেদ হাইলে-গ্যাব্রিয়েল জানান, মহাদেশের প্রায় অর্ধেক দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানি করা গমের ওপর নির্ভরশীল। অন্তত ১১টি দেশে বৃহত্তম সার রফতানিকারক হলো রাশিয়া। তিনি বলেন, আফ্রিকার কয়েকটি দেশে চলমান সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব। আমরা একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য শস্যের ঘাটতি উত্তর আফ্রিকায় প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে। মিসরের মতো এই অঞ্চলের দেশগুলোর গম আমদানির ৮০ শতাংশ আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। এমনকি যারা খুব খাদ্য শস্য আমদানি করে তারাও বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভুগবে।

সূত্র: রয়টার্স

/জেজে/
টাইমলাইন: ইউক্রেন সংকট
সম্পর্কিত
খাদ্য নিরাপত্তায় ১৩২টি উদ্ভাবন প্রকাশ করলো চীন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
হাজার বছরের ‘পবিত্র’ গাছ মৃত্যুযাত্রায়, মর্মাহত পুরো গ্রাম
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম