রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান আভরিল হাইনেস এই সতর্কতার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ ও ইউক্রেনীয় সেনাদের মধ্যে যখন তুমুল লড়াই চলছে তখন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এই সতর্কতার কথা তুলে ধরা হলো। আভরিল হাইনেস বলেছেন, এমনকি পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া জয় পেলেও সংঘাত হয়তো থামবে না।
২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর পর রাজধানী কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হয় রাশিয়া। এরপর পুতিন ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক মনোযোগ পূর্বাঞ্চলে সন্নিবেশিত করার নির্দেশ দেন। তিনি ঘোষণা করেন, রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্য হলো ডনবাস অঞ্চলকে ‘পূর্ণ মুক্ত করা’।
মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে আভরিল হাইনেস জানান, পুতিন এখনও ডনবাস ছাপিয়ে লক্ষ্য অর্জনের কথা ভাবছেন। কিন্তু তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও রাশিয়ার বর্তমান প্রচলিত ঘরানার সামরিক সামর্থ্যের ফারাকের বিষয়টিও পুতিন মোকাবিলা করছেন।
হাইনেস আরও জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্ভবত নির্ভর করছেন ইউক্রেনকে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুর্বল হয়ে পড়ার ওপর। মূল্যস্ফীতি, খাদ্য সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই দুর্বলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে রাশিয়া।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান সতর্ক করে জানান, তবে পুতিন হয়তো আরও কঠোর পদক্ষেপের দিকে ধাবিত হতে পারেন।
একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির পরিচালক স্কট বেরিয়ের। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সেনারা এক প্রকার অচলাবস্থায় রয়েছে।
রণক্ষেত্রে ইউক্রেন খারকিভ অঞ্চলের উত্তর-পূর্বের চারটি বসতি পুনর্দখল করার দাবি করেছে। রুশ সেনাদের কাছ থেকে এগুলো মুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনীয়রা সফলভাবে খারকিভ থেকে রুশ সেনাদের পিছু হটতে বাধ্য করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত হবে না, যাতে প্রতিদিন ও সপ্তাহে মানুষ জয়ের আশা করবে।








