বিশ্বের সাতটি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের জোট জি-৭ ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করবে। এই প্রতিশ্রুতিতে ভবিষ্যতে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা এবং ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং পশ্চিমাদের অন্যান্য যোগদানের আকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নেওয়া হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।
জি-৭ দেশগুলোর এই ঘোষণা মূলত প্রতীকী। ন্যাটোর দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার দিন এই ঘোষণা দেওয়া হবে। সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে। তবে ন্যাটোতে যোগদানের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করায় হতাশ ইউক্রেন ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে হাজির হন জেলেনস্কি। ইউক্রেনে ন্যাটোর যোগদানের সময়সীমা ঘোষণা না করে হবে অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা পরিষদের ইউরোপ প্রধান আমান্দা স্লোয়াট বলেছেন, বুধবার যে নিরাপত্তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে তার লক্ষ্য থাকবে ইউক্রেনকে একটি সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। যে সেনবাহিনী নিজের দেশকে রক্ষা ও ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে পারবে। প্রতিটি দেশ আলাদাভাবে ইউক্রেনকে এই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি দেবে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রায় ৫০০ দিন পর ন্যাটো মিত্র, জি-৭ জেলেনস্কিকে আশ্বস্ত করতে চাইছে যে তারা যত দিন প্রয়োজন নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতা দিয়ে যাবে। জেলেনস্কি দাবি করে আসছেন, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদান। ন্যাটোর চার্টার অনুসারে, জোটের যেকোনও একটি দেশ আক্রমণের শিকার হলে তা পুরো জোটের বিরুদ্ধে হামলা বলে মনে করা হয়।
বুধবার ন্যাটো সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেছেন, তার তিনটি অগ্রাধিকার রয়েছে: নতুন অস্ত্র প্যাকেজ, ন্যাটোতে যোগদানের আহ্বান এবং ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা তাদের পরিকল্পিত প্রতিশ্রুতিকে নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবে উল্লেখ করছেন। যা জেলেনস্কির চাওয়া থেকে অনেক বেশি অস্পষ্ট এবং কম বাধ্যবাধকতা।
যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ কয়েকটি ন্যাটো দেশ জোটে ইউক্রেনের যোগদানের সময়সীমা ঘোষণা উপেক্ষা করছে। যদিও ২০০৮ সালে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন সদস্যপদের জন্য প্রস্তুত নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে, সম্ভাব্য নতুন বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
মঙ্গলবার ন্যাটোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় শর্ত পূরণ হলে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগদানের আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শর্তের মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা খাতে সংস্কার।
ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পোল্যান্ড চায় দেশটি ন্যাটোতে যোগদান করুক। বুধবার পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুডা সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউক্রেনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন করেনি জোট। তিনি জোটে ইউক্রেনের সদস্যপদের জন্য মিত্রদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মতে, এটি একেবারে পর্যাপ্ত নয়। আমি আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে ইউক্রেন ন্যাটো জোটের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হবে।







