মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। সোমবারের এই বৈঠকে দুই দেশের সাধারণ মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এমন সময় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো যখন ভারতসহ বিভিন্ন দেশকে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিতে তাগিদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাইডেন আলোচনা শুরু করেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার এই যুদ্ধের প্রভাবে অস্থিতিশীলতা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় তা নিয়ে নিবিড় আলোচনা অব্যাহত রাখবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের অংশীদারিত্বের শেকড় হলো আমাদের জনগণ, পরিবার, বন্ধুত্ব ও সাধারণ মূল্যবোধের গভীর সংযোগ।
ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের প্রশংসা অর্জন করেছে। ল্যাভরভ এই মাসের শুরুতে পরিস্থিতিতে একপেশে না দেখে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করার জন্য ভারতের প্রশংসা করেন।
নরেন্দ্র মোদি ইউক্রেনের পরিস্থিতিকে ‘খুব উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বাইডেনকে জানান, যুদ্ধের সময় একজন ভারতীয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
বাইডেনকে মোদি জানান, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং শান্তির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মোদি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ভারত ইউক্রেনীয় শহর বুচাতে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তবে আক্রমণের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে নয়া দিল্লি। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত থাকে ভারত। ইউক্রেনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করার পক্ষে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবটি ৯৩-২৪ ভোটে পাস হয়। ভোটদানে বিরত ছিল ৫৮টি দেশ।
ভার্চুয়াল বৈঠকের আগে রবিবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব জেন সাকি বলেছিলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ যুদ্ধে পরিণতি নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে বাইডেনের। উভয় নেতা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের সমৃদ্ধির জন্য একটি মুক্ত, স্বাধীন ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার বিষয় আলোচনা হবে।
রাশিয়ার তেল ও গ্যাস এড়িয়ে চলতে পশ্চিমাদের চাপের পরও ভারত রুশ জ্বালানি ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।









