জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরান যদি দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসলামিক রিপাবলিককে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার মাঝেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তার প্রধান দুই দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তবে আলোচনাটি কীভাবে হয়েছে বা এর মূল বিষয়বস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত ভালো বৈঠক ছিল’। পরবর্তীতে তিনি আরও জানান যে, ইরানি কর্মকর্তারা ‘সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের ছিলেন না, তবে এটিও কিছু একটা’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ জানান, ‘মধ্যস্থতাকারীদের’ মাধ্যমে মার্কিন ও ইরানি দলের মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রচেষ্টা ‘গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক প্রমাণিত হবে’।
গত জুনে মধ্যস্থতায় হওয়া স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ ছিল। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে দোহায় কাতার ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা পরোক্ষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করতে ট্রাম্প আগ্রহী।
এনবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, ‘সমস্যার সমাধান করতে হলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন’ ট্রাম্প। তবে কারও সঙ্গে বৈঠক করলেই যে শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, এমন নয় বলেও জানান তিনি।
যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য দেশ বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি জর্ডানের নেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি, নাকি দ্রুত ধ্বংস?, জাতিসংঘে ট্রাম্পের প্রশ্ন
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র







