X
সকল বিভাগ
সকল বিভাগ

বেশি বয়স, বেশি অভিজ্ঞতা, বেশি দায়িত্ব, বেশি চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১৩ মে ২০২২, ১৬:০৯

প্রিয়জন জুলফিকার রাসেল একদিন ফোন করে বললেন, একটা নতুন অনলাইন পোর্টাল আসছে। তিনি সেটার দায়িত্বে। একটা লেখা যেন দেই। সত্যি কথা বলছি, একটি নতুন অনলাইন আসছে; এটাকে আমি খুব একটা সিরিয়াসলি নেইনি। বাংলাদেশে যেভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো অনলাইন পোর্টাল জন্মায়, তাতে এটি সিরিয়াস হওয়ার মতো বিষয়ও নয়।

যখন লিখেছি, তখনও আমি পোর্টালটির নামও জানতাম না। আমি শুধু জুলফিকার রাসেলকে পছন্দ করি বলেই লিখেছিলাম। ভেবেছিলাম, নতুন নিউজ পোর্টাল টিকবে কী টিকবে না তাতে তো আমার কিছু যায় আসে না। সেই নাম না জানা নিউজ পোর্টালের বয়স আজ ৮ বছর। অনলাইন নিউজ পোর্টাল জগতে পাঠকের আস্থার নাম বাংলা ট্রিবিউন।

রাসেল লেখা নেওয়ার ক’দিন পর যখন লিংক পেলাম তখন আসলে সিরিয়াস হতেই হলো। একটু চমকেও গেলাম। এতটা আমি আশা করিনি। জুলফিকার রাসেলের গীতিকবিতার মতোই স্নিগ্ধ, রুচিশীল, অভিজাত, ঝকঝকে, পরিচ্ছন্ন একটি পোর্টাল। প্রথমে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারী। আমি প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে গেলাম বাংলা ট্রিবিউনের।

তবে গত ৮ বছরে বাংলা ট্রিবিউন বারবার প্রমাণ করেছে, শুধু রূপের ঝলকে নয়, গুণ দিয়েই তারা পাঠকের হৃদয় হরণ করেছে। আরেকটা ছোট্ট ভালো লাগার কথা বলি, ২০১৪ সালের ১৩ মে বাংলা ট্রিবিউনের প্রথম দিনের কলাম বিভাগে দুটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল, একটি মাসুদা ভাট্টির, আরেকটি আমার। বাংলা ট্রিবিউন ৮ বছরে নিজেদের এমন জায়গায় তুলে নিয়েছে, ‘বাংলা ট্রিবিউনের প্রথম কলামিস্ট’ পরিচয়টি তাই গর্বিত করে।

বাংলা ট্রিবিউনকে ভালো লাগার অনেক কারণ আছে। কিছু ব্যাখ্যা করা যায়, কিছু যায় না। ব্যাখ্যা করা যায় না, এমন এক ভালো লাগার কারণ খুঁজে পেলাম আজ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ লিখেছেন, ‘আমাদের শক্তি— বাংলা ট্রিবিউন কোনও কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না। ১৩ সংখ্যাটিকে দুর্ভাগ্যের দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা সেই ভীতি, সেই সংশয়, সেই কুসংস্কার ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে চলেছি।’ কুসংস্কারে বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, কোনও প্রকাশকই তার পোর্টাল ১৩ তারিখ প্রকাশ করতে চাইবেন না। এখানেই অন্য সবার চেয়ে আলাদা বাংলা ট্রিবিউন। প্রকাশকের অন্তর্নিহিত দৃঢ়তা ধারণ করে তারাও। কোনও ধরনের কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, কূপমণ্ডূকতার ঠাঁই কখনও হয়নি বাংলা ট্রিবিউনে। নিরপেক্ষতার ভানও কখনও ধরে না। সত্য, ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানই বাংলা ট্রিবিউনের অবস্থানকেও শক্তিশালী করেছে।

শক্তিশালী হলেও বাংলা ট্রিবিউন এক নম্বর নয়। বাংলা ট্রিবিউন যে এক নম্বর নয়, সেটা আমার ভালো লাগার আরেকটি কারণ। ক্লিক বাড়িয়ে হিট বা ভাইরাল হওয়ার যে চেষ্টা সেটা বাংলা ট্রিবিউনে কখনোই ছিল না। চটক নেই, কিন্তু নিশ্চিন্তে বিশ্বাস করা যায়, আস্থা রাখা যায়। সবার আগে সব খবর, এমনটি সবসময় না হলেও, বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশিত সংবাদ অন্য কোথাও ফ্যাক্ট চেক করতে হয় না।

গত ৮ বছরে নানা চড়াই-উতরাই, মান-অভিমানে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আমার ভালোলাগার সম্পর্কটা ভালোবাসায় বদলে গেছে অনেক আগেই। গত ৮ বছরে প্রিয় গীতিকার, প্রিয় বন্ধু জুলফিকার রাসেলের প্রতি আমার ভালোবাসার সঙ্গে মিশেছে শ্রদ্ধা। ৮ বছর ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে একটি নিউজ পোর্টাল চালিয়ে যাওয়া, সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানটিকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা কম দুরূহ নয়। জুলফিকার যে শুধু পাঠকদের জন্য আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন, তা-ই নয়; বাংলা ট্রিবিউন পরিবার সুখী পরিবার। যারা সেখানে কাজ করেন, তাদের মধ্যে যে স্বস্তি আর নিশ্চিন্তভাব দেখেছি; সেই অর্জনটাও কম নয়।

কীভাবে বাংলা ট্রিবিউন এই আস্থার জায়গাটা তৈরি করেছে, একটা ছোট্ট ঘটনা বলে লেখাটি শেষ করছি। কয়েক বছর আগে অন্য এক নিউজ পোর্টালের একজন কর্মী অভিযোগ করলেন, বাংলা ট্রিবিউন তাদের একটি লেখার কিছু অংশ কপি করেছে। প্রমাণও দিলেন। বললেন, আমি যেন অভিযোগটা পৌঁছে দেই। বাংলাদেশে এখন যেমন ‘কাট-পেস্ট সাংবাদিকতা’ চলছে, তাতে এটি তেমন গুরুতর মনে হয়নি। রাসেলকে জানালে সে বিব্রত হয় কিনা, এটা ভেবে তাকে জানাইনি। অভিযোগকারী তাগাদা দিলে বাধ্য হয়ে রাসেলকে জানালাম। কিন্তু এরপর যা হলো, তাতে আমি উল্টো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। কোনও অভিযোগ শুনলেই আমাদের প্রথম কাজ হলো অস্বীকার করা। সেখানে রাসেল ৩০ মিনিটের মধ্যে তদন্ত শেষ করে জানালেন, অভিযোগ সত্য এবং দায়ী কর্মীর যথাযথ শাস্তি পেতে হবে। এবার উল্টো আমার বিব্রত হওয়ার দশা। আমার অভিযোগের কারণে একজন সংবাদকর্মীর কঠিন শাস্তি হবে, এই ভাবনাটাই আমাকে অপরাধী করে তুললো। সেবার অনেক বলে কয়ে অচেনা সেই সংবাদকর্মীকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলাম। তবে বাংলা ট্রিবিউনের কর্মীরা বলেন, রাসেল যেমন তাদের আগলে রাখেন, আবার বিচ্যুতির প্রশ্নে জিরো টলারেন্স। এ কারণেই বাংলা ট্রিবিউন আজ অনেক মানুষের আস্থা, বিশ্বাসের জায়গাটি দখল করতে পেরেছে। তবে সাংবাদিকতা একটি ২৪ ঘণ্টার কাজ, একটুও ঢিল দেওয়ার সুযোগ নেই। বয়স বেশি মানে অভিজ্ঞতা বেশি, দায়িত্ব বেশি, চ্যালেঞ্জ বেশি।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

আগে দুই দিন লাগতো, এখন দিনে গিয়ে দিনেই ফিরবো
আগে দুই দিন লাগতো, এখন দিনে গিয়ে দিনেই ফিরবো
সরকারের উন্নয়ন দেখে বিরোধী দলের মাথা নষ্ট: তাজুল ইসলাম
সরকারের উন্নয়ন দেখে বিরোধী দলের মাথা নষ্ট: তাজুল ইসলাম
ভিনিসিয়ুসের গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের
ভিনিসিয়ুসের গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের
‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুদায়িত্ব পালন করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী’
‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুদায়িত্ব পালন করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী’
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ