X
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪
২১ ফাল্গুন ১৪৩০

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্য কি ছোট হয়ে আসছে?

আবদুল মান্নান
১৩ জুলাই ২০২৩, ১৫:০১আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৩, ১৫:০১

একসময় পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বাকি অংশকে শোষণ করতো। এই কাজটি একচেটিয়া করেছে ইউরোপের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ, যাদের মধ্যে বেলজিয়াম, হল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ড অন্যতম। এই কাজটি তারা সপ্তদশ শতক থেকে গত শতক পর্যন্ত– প্রায় তিনশ’ বছর করেছে।

এই শোষণ করার জন্য এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকায় তারা উপনিবেশ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও একসময় ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। তিনশ’ বছর সারা দুনিয়ার সম্পদ লুণ্ঠন করে এই ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো ইউরোপের শহর বন্দরসহ নানা অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়েছে, সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্রুত এসব সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করলে হিটলারের নাৎসিবাদ প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়তো। অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ইউরোপের উত্থান ও বিস্তার দেখে একসময় যুক্তরাষ্ট্রেরও প্রচণ্ড ইচ্ছা জাগে তাদেরও উপনিবেশ থাকা উচিত। তবে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যের মতো এই নতুন উপনিবেশ তো আর সম্ভব নয়। গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্নমুখী কার্যকলাপের ফলে মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে বর্তমানে ভিন্ন মডেলের উপনিবেশ ও সাম্রাজ্য গঠনের দিকে যুক্তরাষ্ট্র মনোনিবেশ করেছে।

পঞ্চাশের দশক থেকে দুনিয়ার মানুষ দেখলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর নানা দেশে বিভিন্নভাবে আধিপত্যবাদ বিস্তার করে অন্য আরেক মডেলের উপনিবেশ সৃষ্টি করা শুরু করে। সেই মডেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের বাছাই করা কোনও একটি দেশে তাদের বশংবদ ও কিছু তাঁবেদারকে ক্ষমতায় বসিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করা। আর সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের দেশের বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বা করপোরেট স্বার্থ রক্ষা করা আর বিভিন্ন দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করা।

এই সময় তাদের সামনে প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়ায় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। অথচ উভয় দেশই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ একসঙ্গে হিটলারের নাৎসিবাদের আগ্রাসন রুখে দিতে যুদ্ধ করেছে, নিজ দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। যুদ্ধ শেষে বিশ্ব হয়ে যায় দুটি মৌলিক অর্থনৈতিক মতবাদে বিভক্ত। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তির মন্ত্র নিয়ে আসে সমাজতন্ত্রের দর্শন আর যুক্তরাষ্ট্র লালন করতে থাকে তাদের পুরোনো ‘ধনতন্ত্র’ বা পুঁজির আধিপত্যের দর্শন। এই সময় আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক উপনিবেশ স্বাধীন হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, যা এতদিন ইউরোপীয় দেশগুলো লুণ্ঠন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলো বিধ্বস্ত। তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মত হচ্ছে সম্পদ যে দেশের, তার নিয়ন্ত্রণও সেই দেশের জনগণের হাতে থাকা উচিত। সমস্যা হচ্ছে সেসব দেশের কোনোটাতেই বাস্তবে তাদের সম্পদকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বা পুঁজি নেই, যা আছে যুক্তরাষ্ট্রের। সেই থেকে শুরু হলো প্রযুক্তি আর পুঁজিকে অস্ত্র বানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী নতুন উপনিবেশবাদের সূচনা, যা বাস্তবায়নে এগিয়ে এলো মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। তাদের সার্বিক সহায়তা করতে এগিয়ে এলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সূচনা করে নতুন এক বিদেশনীতি, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল কোনও রাষ্ট্র বা সরকার তাদের কথা মতো যদি না চলে বা তাদের তাঁবেদার হতে অস্বীকার করে তাহলে সেখানে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে একটি ক্ষমতাসীন বৈধ সরকারকে উৎখাত করা যায়। আর প্রয়োজন হলে সরকার প্রধানকে হত্যা করতেও তারা দ্বিধাবোধ করবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে এই কাজটি তারা প্রথম করে ইরানে।

১৯৫২ সালে ইরানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মধ্য বাম দল ইরান ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেতা ড. মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা করলেন, তার দল যদি নির্বাচিত হতে পারে তাহলে ইরানের সব তেল ক্ষেত্র জাতীয়করণ করা হবে, যা এতদিন ব্রিটিশ এঙ্গলো-ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি ইরানের শাহর সঙ্গে মিলে সে দেশের তেলসম্পদ লুটপাট করছিল। দেশের জনগণ ড. মোসাদ্দেগ ও তার দলের প্রতি আস্থা রেখে তাকে বিজয় করলো। নির্বাচনে বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করলেন ড. মোসাদ্দেগ। আগের ঘোষণা মতো ইরানের সব তেলক্ষেত্র জাতীয়করণ করা হলো। দেশ থেকে বের করে দেওয়া হলো ব্রিটিশ তেল কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারীদের। যুদ্ধবিধ্বস্ত ব্রিটেন পুনর্গঠনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্থ আসতো এসব লুটপাটের উৎস হতে। কিন্তু ব্রিটিশদের কিছু করার সামর্থ্যও ছিল না। তারা শরণাপন্ন হলো যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তখন আইজেনহাওয়ার। তিনি সানন্দে রাজি হলেন ড. মোসাদ্দেগকে উৎখাত করতে। সিআইএকে কাজে লাগিয়ে ১৯৫৩ সালে নির্বাচিত ড. মোসাদ্দেগ সরকারকে উৎখাত করা হলো। তারপর নবোদ্যমে শুরু হলো ইরানের তেলসম্পদ উজাড়ের উৎসব। এই উৎসবে ব্রিটিশদের সঙ্গে নতুন খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এই লুটপাট চলেছে। এরপর আয়াতুল্লাহ খোমেনির ইসলামি বিপ্লবের তোড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগী হলেন ইরানের শাহ। বন্ধ হলো ইরানের তেলসম্পদ লুণ্ঠন।

এই অঞ্চলে তেল সম্পদে ভরপুর ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট সুয়েকার্নো। তিনি একজন স্বাধীনচেতা কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা। নিজ দেশের সম্পদকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছেন সর্বদা। তিনি জানেন এই সম্পদের ওপর নজর পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। গোপনে অর্থ ও ক্ষমতার প্রলোভন দেখিয়ে সিআইএ হাত করলো সেই দেশের সেনাবাহিনীকে।

১৯৬৫ সালে এক ভয়াবহ রক্তপাতের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী উৎখাত করলো ইন্দোনেশিয়ার প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সুয়েকার্নোকে। ক্ষমতাসীন হলেন জেনারেল সোহার্তো। সেই অভ্যুত্থানের রেশ চললো এক বছরেরও বেশি সময়। চললো নির্বিচারে গণহত্যা। প্রাণ হারালো প্রায় এক কোটি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে ইন্দোনেশিয়ার সব তেল সম্পদ। ক্ষমতার জন্য এত মানুষের প্রাণহানি ইতিহাসে বিরল। একই কায়দায় ১৯৭৩ সালে সিআইএ ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করেছিল চিলির নির্বাচিত মার্কসবাদী প্রেসিডেন্ট সালভাদোর আলেন্দেকে। নিজের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের এমন আগ্রাসনের অসংখ্য উদাহরণ আছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য বেশ সক্রিয়। মাসে মাসে সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সফর করছেন। তারা নাকি বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র মেরামত করতে চান। এখন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সরাসরি অন্য দেশে কাজ করে না। তাদের পুরোনো দিনের অপকর্মগুলো করার দায়িত্ব তাদের সৃষ্ট কয়েকটা সংস্থার হাতে তারা তুলে দিয়েছে সেই নব্বইয়ের দশকে। এই সংস্থার অনেকগুলো বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ সক্রিয়। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কোন দল ক্ষমতায় আসবে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ চিন্তিত। এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এসব সংস্থা কাজ করছে বলে জানা গেছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও বাংলাদেশে দুটি সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। সেই সময় নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক বেশি খারাপ ছিল।

২০১৪ সালের নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য বিএনপি-জামায়াত মিলে দেশে এক ভয়াবহ সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। এই দুই নির্বাচন বা আগের অন্য সব নির্বাচনের সময় যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও দেশ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এত দৌড়ঝাঁপ করেনি, যেমনটি এখন দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের হস্তক্ষেপ শঙ্কার কারণ তখনই হয়, যখন এমন হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ থেকে আসে, যা এখন দেখা যাচ্ছে, যার পেছনে অনেক ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস আছে। একই সঙ্গে আছে নিজের স্বার্থে অন্য দেশ ধ্বংস করার অনেক করুণ ইতিহাস, যার কয়েকটা উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে সবসময় মানবাধিকার বিষয়টাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না। ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া বড় উদাহরণ।

বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, যার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছিল জিয়ার আমলে ১৯৭৭, ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে। জিয়ার পর ক্ষমতা দখল করেছিল তার উত্তরসূরি জেনারেল এরশাদ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কাছের মানুষ ছিলেন। ১৯৯১, ১৯৯৫, ২০০১, ২০০৪, ২০১৩, ২০১৪  সালে এই দেশে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতা সবাইকে বিস্মিত করেছে।

দশ বছর বা এমনকি পাঁচ বছরের আগের বাংলাদেশ ও আজকের বাংলাদেশ এক বাংলাদেশ নয়। এই সময়ের বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ এই মুহূর্তে বিশ্বে ৩৫তম অর্থনীতি। ২০২৭ সালে ২৭তম স্থানে উঠে আসার কথা আছে। ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিশ্বে নবম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার। এসব অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল যুক্তরাষ্ট্র ভোগ করতে চাইবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার পরিধি নির্ধারিত করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। বাংলাদেশের সীমার মধ্যে আছে ২৬টি তেল গ্যাস অনুসন্ধানের ব্লক, যেখানে এসব সম্পদের অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি, যা আছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর। এরমধ্যে একটি কোম্পানি কনোকা-ফিলিপস একটির ইজারা নিয়েছিল। এই কোম্পানি বর্তমানে তাদের কাজ বন্ধ রেখেছে। কারণ, তাদের কাছে মনে হয়েছে এই ব্লকটা অর্থনৈতিকভাবে তেমন ফল বয়ে আনবে না। শেখ হাসিনা গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন শেভরনের বড় বড় কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা এলাকায় তারা তাঁকে তাদের তেল গ্যাস অনুসন্ধানের ইচ্ছার কথা জানান। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশ কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানির নজর বাংলাদেশের ওপর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এদের পক্ষে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইবে তা স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের এত মাতামাতি বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক আধিপত্যের রাশ টেনে ধরা। গত দুই দশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মিয়ানমার ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রভাব যেমন কমেছে, ঠিক সমান পাল্লা দিয়ে চীনের প্রভাব বেড়েছে। ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিলেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহূর্তে তেলজাত পণ্য ছাড়া ভারতের আমদানির পঁচিশ শতাংশ আসে চীন থেকে। ভোগ্যপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে চীনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বস্তি আছে ঠিক তবে তাদের করার কিছু নেই।

তারপরও তারা এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার রোধে নানা ধরনের কর্মসূচি প্রণয়নের চেষ্টা করছে, যার একটি হচ্ছে চার দেশীয় (যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপান) নিরাপত্তা জোট ‘কোয়াড’ গঠন। যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা বাংলাদেশ এই জোটের অংশ হোক। এতে সায় না দিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় এই নীতিতে অটল থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তার নিজস্ব নীতি ঘোষণা করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অখুশি হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

সারা বিশ্বে যখন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষণীয়, ঠিক তখন বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ শঙ্কার কারণ হতে পারে। তারা বলছে এই দেশে তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন এই দেশের সব মানুষ দেখতে চায়, তবে যেটি চায় না কোনও দুরভিসন্ধি নিয়ে অন্য কোনও দেশের সুষ্ঠু নির্বাচন বা মানবাধিকারের নামে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ, যার সুদূর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। সময় থাকতে সবাইকে সাবধান হতে হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এটি মনে রাখা ভালো, বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে সবসময় ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। দুই দেশের অনেক অভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ রয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুর তালিকা থেকে ছিটকে পড়তে দেওয়া হবে বোকামি। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয় ছোট হয়ে এসেছে। নিজের স্বার্থেই তাকে আর ছোট হয়ে আসতে দেওয়া উচিত নয়।

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রোজার শুরুতে খোলা থাকবে মাদ্রাসা
রোজার শুরুতে খোলা থাকবে মাদ্রাসা
বিদেশি অনুদানে পরিচালিত এনজিও ২৬১২টি
বিদেশি অনুদানে পরিচালিত এনজিও ২৬১২টি
তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে গ্রাম আদালত বিল সংসদে
তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে গ্রাম আদালত বিল সংসদে
রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৩ সদস্য গ্রেফতার, কাউন্সিলররা জড়িত থাকলে ব্যবস্থা
রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৩ সদস্য গ্রেফতার, কাউন্সিলররা জড়িত থাকলে ব্যবস্থা
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ