একসময়ের ঢাকা!

Send
তৌহিদ ফিরোজ
প্রকাশিত : ১৯:৩০, আগস্ট ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৮, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

তৌহিদ ফিরোজবদনাম এখন সাধারণ জ্ঞান

ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) বলছে, বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা। ঢাকার পরেই অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের। ঢাকা যে কোনও আদর্শ শহর নয়, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আশঙ্কার কথা হলো, ঢাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি শহরের পরেই অবস্থান করছে, যা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে।
একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, এলিফ্যান্ট রোডে কারও হার্ট অ্যাটাক হলো এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, আর সময়টা যদি হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা, তাহলে ওই রোগীকে হাসপাতালে নিতে ঘণ্টারও বেশি লাগতে পারে; যদি না দিনটি মঙ্গলবার হয়। কারণ, মঙ্গলবার ওই এলাকা ও আশেপাশের মার্কেটগুলো বন্ধ থাকে। এর অর্থ হচ্ছে, যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের মনে মনে প্রার্থনা করতে হয়: আকস্মিক কিছু হলে তা যেন মঙ্গলবারে ঘটে! কিন্তু ঘটনা হলো আকস্মিক শারীরিক জরুরি অবস্থা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। নির্মম সত্য হলো আমাদের মেনে নিতে হবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে যে কারও মৃত্যু হতে পারে। ঢাকা যে বসবাসের অযোগ্য তা প্রমাণে এটাই যথেষ্ট।

কিন্তু আমরা সবাই জানি ঢাকার সমস্যার কথা। অন্তত পক্ষে সেই কারণের কথা জানি যা ঢাকাকে অসুন্দর করেছে। ’৭০, ’৮০ ও ’৯০ দশকের শেষ দিকে যারা বড় হয়েছি এবং প্রশান্ত, জনবিরল ও সুস্থির ঢাকাকে দেখেছি তাদের জন্য উদ্ভট এই রূপান্তর মেনে নেওয়া কঠিন। যারা এই স্বপ্নিল ঢাকা দেখেননি তাদের জন্য এক নস্টালজিক যাত্রা তুলে ধরা হলো, যেখানে ঢাকা ছিল মায়া ও বিমল রোমান্টিকতায় পূর্ণ একটি শহর।

গুলশান: চাকচিক্যময় অপ্রীতিকর স্থান ছিল না, ছিল শান্ত শহরতলী

প্রথমত, এটা মনের মধ্যে ভালো করে গেঁথে নিন, ’৮০ দশকের শুরুতে গুলশান এলাকাকে মূল ঢাকা শহর হিসেবেই বিবেচনা করা হতো না। এটা ছিল ঢাকার বাইরের একটি এলাকা যেখানে মানুষ সন্ধ্যাবেলা লং ড্রাইভে এবং ডিআইটি-১ সুপার মার্কেটে ঢুঁ মারতে যেতো। ওই সময়, এই মার্কেটে বিদেশি/কূটনীতিকদের ব্যবহৃত পুরনো ফার্নিচার, পুরনো বই ও শখের জিনিসপত্র বিক্রি হতো, যা এখন আমরা স্থানীয় দোকান থেকে কিনি।

বিশ্বাস করুন, তখন মেয়োনিজ শুধু পাওয়া যেতো গুলশান ১ ও ২-এর কিছু দোকানে। কারণ, শহরের অন্যান্য অংশের মানুষ জানতোই না এটা কী অথবা এটার ব্যবহারই করতো না। বার্গার দেখা যেতো শুধু আর্চির কমিক বইয়ে। ফাস্ট ফুড বলতে বোঝাতো সিঙ্গাড়া, সমুচা ও হট প্যাটিসকে। আমাদের বাড়িতে কোনও অতিথি এলে তাদের গলির দোকান থেকে কেনা হট পেটিস, কোক বা ক্রাশ (যা পরে অরেঞ্জ কোলা হয়ে যায়) দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। অনেক সময়, পছন্দের পানীয় ছিল অ্যাপল সিদরা!

গুলশান ১ থেকে ২ রাস্তার উভয় পাশে বড় বড় গাছে ঢাকা ছিল; অনিয়মিত গাড়ি ছুটে চলার সময় পাতা উড়তো। সন্ধ্যা ৭টার পর সড়কে নীরবতা ছিল গা ছমছম করা। আশির দশকের শুরুর দিকে গুলশান ১ থেকে ২ পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ছিল মাত্র ২ টাকা।

গুলশান তখন ছিল বিত্তবান ও বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের আবাসিক এলাকা। যদিও শহরের অন্যান্য অংশের মানুষজনও সেখানকার রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে যেতেন। গুলশান ১-এ একটি ঘূর্ণায়মান টেবিলওয়ালা ক্যাফে ছিল,  গুলশান ২-এ ছিল লিউয়েং হাং। সেখানে কিছু ফাস্ট ফুডের দোকান চালুর পর শহরের মানুষ সেখানে ভিড় করতে লাগলো। বার্গার পাওয়া যেতো ৭৫ টাকায়। ওই সময় একজনের সারা সপ্তাহের পকেট মানি ছিল ৫০ টাকার মতো।

গুলশান- ২ পেরিয়ে গেলে একেবারে গ্রামীণ এলাকা। এমনকি ’৯০ দশকের শুরুতেও কালাচাঁদপুর ছিল কয়েকটি কংক্রিটের বাড়ি নিয়ে গ্রামের মতোই। বারিধারার কাছে একটি জলার মতো এলাকা ছিল, সেখানে মানুষ পাখি ও মাছ ধরতে যেতো।

হেঁটে বেড়াতো মানুষ, জলাবদ্ধতা ছিল বিরল

সন্ধ্যায় অনেক মানুষই বন্ধু বা পরিচিতজনের বাসায় হেঁটে গিয়ে দিনের শারীরিক অনুশীলন করে ফেলতো। তাদের পরনে থাকতো খাদিমের হকি বুট বা বাটার ক্যানভাস জুতা। ’৮০-এর দশকের মাঝামাঝিতে জুতায় বৈচিত্র্য আসতে শুরু করে। ওই সময় এলিফ্যান্ট রোডের দোকানগুলো থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা নাইকি, প্যান, রোডস্টার জুতা বিক্রি শুরু করে।

ভালোমানের জুতোর দাম ছিল একহাজার টাকার মতো, যা ছিল অনেক বেশি। অভিভাবকরা সন্তানদের এমন জুতো কিনে দেওয়ার জন্য পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের শর্ত বেঁধে দিতেন। আরেকটি শর্ত ছিল এমন— এসএসসি পরীক্ষার আগে গ্লোব বা আইডিয়াল টেস্ট পেপারের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর শিখে নাও, তাহলে হয়তো একজোড়া জুতা পেতে পারো!

বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা ছিল বিরল। অন্তত পক্ষে এলিফ্যান্ট রোডে আমরা কখনও জমে থাকা পানি দেখিনি। কারণ, হাতিরপুল বাজারের কাছেই একটি খাল ছিল, যা এখনকার সোনারগাঁ হোটেলের কাছে গিয়ে থামতো। অনেক বাড়িতেই ছিল পুকুর। তাই কোনও বিঘ্ন ছাড়াই পানিপ্রবাহের সুযোগ ছিল।

অসংখ্য বাড়িতে ছিল বিভিন্ন জাতের ফুল ও ফলের গাছ নিয়ে গড়া ছোট ছোট বাগান। সন্ধ্যায় লোকজন ছাদে বসে চা পান করতো অথবা বাগানে বসতো। মনকে চাঙ্গা করার জন্য এটা ছিল নিত্যদিনের রুটিন। ঘরে তৈরি গরম খাবার দেওয়া হতো, আলোচনা চলতো রাজনীতি থেকে শুরু করে ওই সময়ের আলোচিত টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘হাওয়াই ফাইভ ও’, ‘দ্য সেইন্ট’, ‘দ্য ফিউজিটিভ’, ‘জেমিনি ম্যান’, ‘ম্যান ফ্রম আটলান্টিস দ্য পারসুয়েডার’ নিয়ে।

ছাদ সংস্কৃতি এখন আর নেই। এখনকার চল্লিশোর্ধ্ব দম্পতিদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, তাদের অনেকেই স্বীকার করবেন, তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে। উভয় ছাদ থেকে প্রেমপত্র ছুড়ে মারতেন দুজনেই।

বিমল চেতনা ও দারুণ রোমান্টিকতার সময়

স্বাধীনতার পরের দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে পাড়ি দেয়। তবু ওই সময় কৃচ্ছ্রতার সঙ্গে জীবনযাপনকারী সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় ছিল ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এই আয়েও মানুষের মনে ছিল অমলিন সন্তুষ্টি।

প্রায় সব পরিবারের ছিল একই ধরনের সংস্কৃতি বা সামাজিক অভ্যাস। দিনে কাজ, পড়ন্ত বিকেলে দীর্ঘ আড্ডা, সন্ধ্যায় বিটিভির সামনে বসে দারুণ সব অনুষ্ঠান দেখা এবং তিন বা ছয় মাসে একবার বাইরে খেতে যাওয়া।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন মানে ছিল— হলে গিয়ে সিনেমা দেখা বা থিয়েটারে যাওয়া। নতুন চলচ্চিত্র খুব কমই মুক্তি পেতো, তবে মানুষ তাতে কিছু মনে করতো না। অনেক সময় সাবটাইটেলযুক্ত হলিউডের বি মুভিজ, হংকংয়ের সিনেমা বা পুরনো ক্লাসিক সিনেমা দেখার সুযোগ হতো। এসব সিনেমার মধ্যে ছিল ‘কিল অ্যান্ড কিল অ্যাগেইন’, ‘আউয়ার ম্যান ফ্লিন্ট’, ‘লাভ অ্যান্ড বুলেটস’, ‘গানস অব নাভারোন’, ‘ডার্টি ডজন’, ‘ডেলিয়ান দ্যান দ্য মেল’, ‘ম্যান কলড টাইগার’, ‘ওয়ান আর্মড বক্সার’ এবং আরও অনেক চলচ্চিত্র।

১৯৭৩ সালে নির্মিত ব্রুস লি’র ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ চলচ্চিত্র ১৯৮৪ ঢাকায় আসার পর পুরো শহরের মনোযোগের কেন্দ্র ছিল মধুমিতা সিনেমা হল। ওই সময় ২৪ টাকার ড্রেস সার্কেল (ডিসি) টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হয় ৪০০ টাকায়। ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ চলচ্চিত্রটি দেশে মার্শাল আর্টের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। সব জায়গা দেখা যায় মার্শাল আর্ট শেখার ডোজোস বা স্কুল। সেন্ট জোসেফে আমরা ইউরি নামের এক মার্শাল আর্ট বিশেষজ্ঞের পোস্টার দেখতে পাই, যিনি তিব্বতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তরুণদের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত বস্তু ছিল একজোড়া নানচাক বা কারাতে স্কুলে ভর্তি হওয়া।

বাইরে খাওয়া বলতে বোঝাতো চাইনিজ রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়া। সেখানে মোঘলাইয়ের চাইনিজ সংস্করণ পরিবেশন করা হতো। এলিফ্যান্ট রোডে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল বেইজিং। আবাহনীর ফুটলবার ছোট কামাল ও তার বন্ধুরা মিলে রেস্তোরাঁটি চালাতেন। বলাকা সিনেমা হলের কাছে ছিল ‘ব্যাং চিন’ নামের আরেকটি বিখ্যাত রেস্তোরাঁ। রেস্তোরাঁটির মাস্কটে ছিল একজন টাক মাথাওয়ালা লোকের ছবি। মিং হাউস ও সাংহাইয়ের মতো কিছু রেস্তোরাঁ চীনা লোকেরা পরিচালনা করতো। আমার প্রিয় ছিল পরিবাগ রোডের হোয়াং হো, আর গুলিস্তানে ছিল স্বাধীনতার পর চালু হওয়া প্রথম পূর্বদেশীয় খাবারের দোকান চৌ চিং চাও। 

ওই সময়কার ঢাকায় মানুষ অবসর সময় কাটাতেন বই, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা পড়ে। আমরা মাসুদ রানা বই পড়তাম অন্য মলাট লাগিয়ে, যাতে করে বাবা-মায়েরা বুঝতে না পারেন। রানা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল যৌনতার প্রতি তার অবাধনীতির কারণে। কারণ, তা বেশিরভাগ অভিভাকদের কাছে ভয়ানক ও নৈতিকতাবিরোধী। যারা মাসুদ রানা পড়তেন তাদের বেশির ভাগ অভিভাবক সন্দেহ করতেন। তারা তাদের সন্তানদের মাসুদ রানা পড়ুয়াদের সঙ্গে মিশতে বারণ করতেন। প্রায় একই কথা বলতেন সবাই— ‘ওর সঙ্গে মিশো না, সে মাসুদ রানা পড়ে!’ মজার বিষয় হলো বেশির ভাগ অভিভাবকই কিন্তু মাসুদ রানা পড়তেন, যদিও সবার অলক্ষ্যে।

তখন বয়স হওয়ার আগে মাসুদ রানা পড়া আর যৌনতা সম্পর্কে উদার দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। কারণ, তখন অভিভাবকরা বিশ্বাস করতেন, একটা নির্দিষ্ট বয়সের আগ পর্যন্ত কিছু বিষয় থেকে শিশুদের দূরে থাকা উচিত। এখন সমাজবিজ্ঞানীরা ইন্টারনেটে বাচ্চাদের কর্মকাণ্ড নজরদারির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে আসলে আমরা অতীতের হারিয়ে যাওয়া সহজ-সরল চিন্তারই প্রচার চালাচ্ছি। ’৮০-এর দশকে শহরের সব মধ্যবিত্ত পরিবারেই আনন্দের জন্য বই পড়ার বিষয়টি ছিল। এতে করে শিশুরা সরল কিন্তু প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ অর্জন করতে পারতো।

তখনকার ঢাকার বেশির ভাগ মানুষ বস্তুবাদ সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। পরিবর্তে আদর্শসম্পন্ন সুখই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। ওটা এমন একসময় ছিল যখন হলুদ বা কালো কাগজের বাঘের মুখোশ, টিনের তৈরি কেরোসিনচালিত স্টিমার, বোনালিম টফি, মিমি চকলেট বার, কোজাক ললিপপ অথবা কাউকে যেকোনও সময় আক্রমণ করার জন্য পানিভরা প্লাস্টিকের সিরিঞ্জই শিশুদের জন্য পরম আনন্দ রূপে হাজির হতো। কিশোর-কিশোরীদের কাছে সবচেয়ে আরাধ্য উপহার ছিল সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান হিসেবে খ্যাত লি মেজরস বা ফারাহ ফাউসিটের সোনালি চুল ও প্রাণবন্ত হাসির একটি ছবিওয়ালা ছোট পোস্ট কার্ড।

রিকশায় করে ঢাকা শহরের যেকোনও স্থানে যেতে বড়জোর আধঘণ্টা সময় লাগতো। সাধারণত ঈদের সময় এলিফ্যান্ট রোডে যানজট দেখা যেতো। তবে মানুষ ঈদের নতুনত্বের অংশ হিসেবে তা উপভোগই করতো। বাসগুলোও চলাচল করতো মাঝারি গতিতে। অফিস, বাসা বা স্কুলে যাওয়ার জন্য কোনও তাড়াহুড়ো করতে হতো না। প্রতিদিন বিকালে শিশুরা মাঠে খেলতো আর বড়রা বাড়ির ছাদে আরাম চায়ে চুমুক দিয়ে আড্ডা জমাতো। 

সহজ কথা

আমরা সময়ের বিষয়ে উদাসীন একটি শহরের বাসিন্দা ছিলাম। সাদা-কালো টেলিভিশন সেটের মধ্যেই আমরা আমাদের স্বপ্ন ঠিক করতাম আর ১১টার মধ্যে প্রায় সব বাড়ির আলোই বন্ধ হয়ে যেতো। মধ্যরাতের সিনেমাগুলো শুধুমাত্র বড়রাই দেখবে— এমন সহজ নিয়মের ঢাকা ছিল একটি সুন্দর শহর। বেপরোয়া গতিবিহীন এই ঘুমন্ত শহরটি কিছু পুরোনো ধারার মূল্যবোধসম্পন্ন ছিল। এখন দিন দিন বেগবান হওয়ার অভিলাষের কারণে আমরা এসব হারিয়ে ফেলেছি। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব চিন্তা না করেই পরিবর্তনের পাগলা উন্মত্ততা শহরটিকে এখন একটি পাগলা গারদে রূপান্তরিত করে ফেলেছে।  

যাইহোক, যারা আমাদের মতো এই শহরের সবচেয়ে ভালো সময়টা উপভোগ করতে পেরেছেন, তাদের সবসময় আলোকিত করার সুযোগ রয়েছে। তাহলে আমরা আবার মনে মনে সেই বিখ্যাত গানটি গাইতে পারবো: ‘‘চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে উইড়া উইড়া... ঢাকা শহর দেখমু আজ দুইজনে ঘুইরা ঘুইরা...’’ 

লেখক: নিউজ এডিটর, বাংলা ট্রিবিউন

 

/এএ/আরএ/এসএএস/এইচআই/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ