বাংলাদেশের ঢোল এখন অন্যরা পেটাচ্ছে

Send
আবদুল মান্নান
প্রকাশিত : ১৪:০৩, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১১, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

আবদুল মান্নান‘নিজের ঢোল নিজে পিটাইবেন অন্যকে পিটাইতে দিলে ফাটাইয়া ফেলিবে।’ এটি বাংলা ভাষায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ। অনেক বিদগ্ধজন আবার এটি পছন্দ করেন না। বলেন—‘নিজের ঢোল নিজে পিটানোর মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে।’ পুরোপুরি না হলেও কথাটা বিশ্বাস করি। তবে মাঝেমধ্যে অন্যরা পিটাইলে ভালো লাগে। আর তা যদি বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে হয়, তাহলে তো কথাই নেই। আর সেই ঢোল যদি পাকিস্তানের কেউ পিটায় আনন্দের মাত্রাটা আরও বেশি হওয়ারই কথা, কারণ একাত্তর সাল পর্যন্ত পাকিস্তানিরা বাঙালিদের মাছখেকো নিম্নবর্গের মানুষ মনে করতো। বাঙালিরা যখনই কোনও আন্দোলনের সূত্রপাত করেছে সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী চিৎকার করেছে, এসব আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টি করছে ভারত থেকে আসা হিন্দুরা। তারা ইসলামকে বিপন্ন করছে।  তাদের সেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালে, যখন মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা  করার দাবিতে আন্দোলনের শুরু থেকে। ১৯৭১ সালে আমরা দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে গেলাম। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ঘোষণা করলো এটি পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন করতে হিন্দুস্তানের ষড়যন্ত্র। তারপর ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাঙলা নামের দেশটা স্বাধীন হলো। এর পরপরই সারা বিশ্বের বেশিরভাগ পণ্ডিতজন একমত হলেন এই দেশের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। অনেকের মন খারাপ। সেই সময় একমাত্র একজন শেখ মুজিব যিনি বাংলার বন্ধু, আমাদের জাতির জনক তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দেখেছিলেন। বিদেশি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমার মানুষ আছে আমার সোনা ফলানো জমি আছে, আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ তাদের নিয়েই গড়ে তুলবো।’ সেটি এক কঠিন সময়। বাঙালি হার না মানা জাতি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও দমেনি। উঠে দাঁড়িয়েছিল। 

কয়েক বছর আগে পাকিস্তানের বন্দর কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ দুটো সমুদ্রজান বিক্রি করেছিল। খবরে তা দেখতে পেয়ে কার না আনন্দ হবে? পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র যার সম্পর্কে আগাম কোনও কিছু বলা কঠিন। তবে এটা বলা যেতে পারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী হচ্ছে দেশটির একমাত্র সংগঠিত রাজনৈতিক দল, আর তাদের হরিহর আত্মা হচ্ছে পাকিস্তানের আমলাতন্ত্র। জন্মের পর থেকেই এটি একমাত্র সত্য এবং তার ধারাবাহিকতা আছে। পাকিস্তানের অনেক শিক্ষিতজনের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, একাত্তরের প্রসঙ্গ উঠলেই বলেন, সেই সময় বাংলাদেশে কী হচ্ছিল, তা তারা জানতেন না। এটি একটি অসত্য কথা। তখন হয়তো মিডিয়ার এমন রমরমা অবস্থা ছিল না, কিন্তু বিদেশি সংবাদমাধ্যম তো ছিল। আসলে তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী যা বলেছে, তা তারা বেদবাক্যের মতো বিশ্বাস করেছে। অবশ্য কিছু ব্যতিক্রম ছিল এবং ব্যতিক্রমীরা যখনই কথা বলার চেষ্টা করেছেন, তাদের জেলে যেতে হয়েছে। এখন অবশ্য দিন পাল্টে গেছে। কোনও কিছুই আর লুকানো সম্ভব নয়।

পাকিস্তানের জননন্দিত ক্রিকেট ক্যাপ্টেন ইমরান খান রাজনীতিতে এসে রাজনৈতিক দল করে এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। জনশ্রুতি আছে তিনি সেনাবাহিনীর ইশারা ছাড়া এক চুলও নড়তে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই প্রথম মন্ত্রিসভায় জানালেন তিনি পাকিস্তানকে সুইডেনের মডেলে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। সেই দেশের রাতের টিভির টকশোতে ডাকা হলো বেশ ক’জন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদকে, যাদের কয়েকজন বিশ্বব্যাংকেও কাজ করেছেন। তারা একযোগে জানালেন পাকিস্তানের সুইডেন হওয়ার প্রয়োজন নেই। পাকিস্তান আগে বাংলাদেশ হোক। সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তারা সবাই বলেন, এক সময় যে বাংলাদেশকে আমরা আমাদের উন্নয়নের জন্য একটি বড় বাধা মনে করছিলাম, তারা যখন ১৯৭১ সালে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মাধ্যমে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ গঠন করলো, আমাদের অনেক রাজনৈতিক নেতা আর সামরিক-বেসামরিক আমলারা অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বলার মতো করে বললো, ‘যাক বাবা বাঁচা গেলো, আপদটা গিয়ে ভালোই হয়েছে।’ আজ দেখুন কোথায় বাংলাদেশ আর কোথায় পাকিস্তান। সবদিক থেকে তারা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। তাদের রফতানি আয় বেশি, মাথাপিছু আয়ে আমরা তাদের ধারেকাছেও নেই, তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আমাদের প্রায় দ্বিগুণ, আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে হচ্ছে তাদের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি। ওদের ওই জায়গায় (তখন বাংলাদেশর গড় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছিল) পৌঁছাতে হলে পাকিস্তানকে আগামী দশ বছরে গড়ে ১০ শতাংশ হিসেবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, আর এই সময় বাংলাদেশ বসে থাকবে না। এই আলোচনা অনুষ্ঠান নিয়ে তখন বেশ হৈচৈ পড়ে যায়। কারণ জানা মতে এই প্রথমবার পাকিস্তানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি পাকিস্তানের সঙ্গে নির্মোহভাবে তুলনা করে প্রকাশ্যে জানালেন যেই বাঙালি আর বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সামরিক বেসামরিক আমলা ও রাজনৈতিক নেতারা হেয় করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই বাংলাদেশ সার্বিক অগ্রগতিতে পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে অনেক আগে। তারা আবার এখন বাংলাদেশ হতে চায়। নিয়তি আর কাকে বলে।   

এর কিছুদিন পর কানাডাপ্রবাসী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাংবাদিক তারেক ফাতাহ এই বিষয়ে কানাডার এক টিভি অনুষ্ঠানে বলতে গিয়ে বলেন, পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের এই চোখ ধাঁধানো উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (তিনি বলেন হাসিনা শেখ) নেতৃত্বের গুণে এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তার আমলে রাজনীতি হতে দূরে থেকেছে। তারেক ফাতাহকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে কলম ধরার জন্য জেলে যেতে হয়েছিল। ড. পারভেজ হুদবয় পাকিস্তানের একজন প্রতিথযশা পরমাণুবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী। গত ৩০ জানুয়ারি হতে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিল করাচিতে ‘এডাব’ উৎসব নামে লেখক শিল্পীদের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। পাকিস্তানের ও পাকিস্তানের বাইরের অনেক লেখক, অর্থনীতিবিদ ও  বুদ্ধিজীবী সেই সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যাদের একজন ড. হুদবয় । তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা আমাদের কাছে সৎ থাকতে পারিনি, এখনও না। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি সব সময় বিভ্রান্তির মধ্যে থাকে কারণ এর জন্মটাই বিভ্রান্তির মধ্যে হয়েছিল। জিন্নাহ্ নিজেই একজন বিভ্রান্ত মানুষ ছিলেন এবং তার কোনও দূরদৃষ্টি ছিল না।’ পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন কথা বলতে হলে সাহস লাগে, যা ড. হুদবয়ের আছে। তিনি আরও বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশের কথা ওঠে তখনই আমাদের দেশের মানুষ একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সামনে নিয়ে আসে।’ ড. হুদবয় গত চার দশকের বদলে যাওয়া বাংলাদেশের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, ‘এক সময় যারা আমাদের ভাই ছিল সেই বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন। তারা সর্বক্ষেত্রে আমাদের চেয়ে অনেক ভালো করছে। তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আমাদের চারগুণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের উচিত বাংলাদেশের কাছে ১৯৭১ সালের অপকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া। পাকিস্তান তার পূর্বের অবস্থানে গোঁ ধরে বসে থাকার কারণে পাকিস্তানই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’  বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন কথা শুধু পাকিস্তান নয় বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতিবিদরাই বলছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ২০১৮ সালে বাংলাদেশে এসে বলে গিয়েছেন একটি অনুন্নত দেশকে কীভাবে উন্নয়নের সড়কে উঠতে হয়, তার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ রেখেছে।

ভারতে সম্প্রতি প্রণীত তাদের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি  ও  সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বেশ তুলকালাম হচ্ছে। একটি দেশ কাকে নাগরিকত্ব দেবে বা দেবে না, এটি সেই দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু ওই দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যখন বলেন আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দুরা যদি ভারতে এসে নাগরিকত্ব দাবি করেন, তাহলে তা তারা বিবেচনা করবেন। আপত্তি এখানেই। আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের ব্যাপারে যা কিছু বলার, তা তারা বলবেন কিন্তু বাংলাদেশের প্রসঙ্গ যখন উঠবে, তখন তো আমাদের বলতেই হবে। আর যখন মন্তব্যটা ভারতের মতো একটি বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে আসে, তা এদেশের মানুষকে অনেক বেশি আঘাত করে। ভারতের নীতিনির্ধারকরা ঠিকই জানেন এই মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই হচ্ছে তাদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয়, বিশ্বস্ত ও কৌশলগত বন্ধু। ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা অনেকটা বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সব সময় এই অঞ্চলের অন্য অনেক দেশের তুলনায় অনেক ভালো। মাঝে মধ্যে সমস্যা অবশ্যই হয়, তবে তা যত না জাতপাত বা ধর্মের কারণে, তার চেয়ে অনেক বেশি জায়গা জমিন ও সম্পত্তি বিষয়ক বিবাদের কারণে। এটি মুসলমানদের মধ্যে বরং একটু বেশি হয়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও হয়। সম্পত্তি থাকলে অশান্তি থাকাটা বিচিত্র কিছু নয়। ভারতের এক শ্রেণির রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে বাংলাদেশ মানে পঞ্চাশ-ষাটের দশকের একটি দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশ। তাদের কাছে বাংলাদেশ মানে একাত্তরে কলকাতার সল্টলেকের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে থাকা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত এক কোটি গৃহহীন, ছিন্নমূল, খাদ্যাভাবে মৃত্যুপথযাত্রী বাংলাদেশি, তাদের কাছে বাংলাদেশ মানে একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। আসলে তারা যখন এইসব চিন্তায় মগ্ন, তখন বাংলাদেশ যে তাদের অজান্তে বদলে গেছে, তা তারা বুঝতে পারেননি। এটি তাদের অক্ষমতা বলতে হবে। এই বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশে প্রায় তিন কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পয়লা ফাল্গুন আর বাংলা নববর্ষে প্রতিটিতে তের হতে চৌদ্দ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয় শুধু ঢাকাসহ কয়েকটি বড় বড় শহরে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বর্তমানে ভারতের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। খাদ্য নিরাপত্তায় দেশটি অনেক এগিয়েছে। মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় ক্রয়ক্ষমতার নিরিখে ভারতের চেয়ে সামান্য এগিয়ে। তারপরও ভারতের কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতার ধারণা সুযোগ পেলে বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ ভারতে চলে যাবে। এমনটাই সেদিন বললেন ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিসান রেড্ডি।  কোন দুঃখে অর্ধেক বাংলাদেশি ভারত যাবেন? ব্যাংক ডাকাত, ঋণখেলাপি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দাগি আসামির মতো মানুষের যাওয়ার একটি সম্ভাবনা ছিল, তারাও এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডাকে বেছে নিয়েছে। আবার ভারতের এক শ্রেণির রাজনীতিবিদদের ধারণা ভারতে ‘বেআইনি’ভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশের মুসলমানরা ভারতকে নাকি উইপোকার মতো খেয়ে ফেলছে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সদ্য প্রয়াত হাইকমিশনার তার দায়িত্ব শেষে দেশে ফেরার পর সেই দেশের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সমুদ্র সাঁতরে ইউরোপ পাড়ি দেওয়াকে অনেক আকর্ষণীয় মনে করবেন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার চেয়ে।’ ভারতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ভালো নয়। ভারতের খ্যাতিমান ভাষ্যকার কারান থাপার সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসে লিখেছেন বাংলাদেশ সবদিক দিয়ে ভারতকে পেছনে ফেলে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশিদের ভারতীয় নাগরিক হওয়ার চেয়ে বাংলাদেশের উইপোকা হয়ে বেঁচে থাকা অনেক ভালো। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্লেষক সত্যনারায়ণ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে যে উন্নয়নের সূচক দেখা যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ হতে দলে দলে বাংলাদেশির ভারতে চলে যাওয়া একেবারেই একটি কল্পনাপ্রসূত মন্তব্য।’ ১৮ ফেব্রুয়ারি আর এক বিশ্লেষক সাঞ্জিবা শংকারণ ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’য় লিখেছেন ‘বাংলাদেশ এখন কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। বাংলাদেশের কাছে  ভারতের শেখার আছে অনেক কিছু। বর্তমান বাংলাদেশ আমাদের কাছে অপরিচিত।’ বাংলাদেশে বৈধভাবে প্রায় পাঁচ লাখ ভারতীয় কাজ করেন। অবৈধভাবে কত করে তার কোনও হিসাব নেই। কত টাকা তাদের মাধ্যমে ভারতে চলে যায়, তারও সঠিক হিসাব নেই, তবে তা পাঁচ বিলয়ন ডলারের কম নয় বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে। এইসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারা কখনও কোনও অনভিপ্রেত মন্তব্য করে না। কারণ, এই দেশের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে উদার।  বাংলাদেশ-ভারতের সমস্যা ধর্ম বা জাতপাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এক কথায় বলতে হলে এই অঞ্চলের মানুষের সমস্যা দারিদ্র্য, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, ধনী-দরিদ্রের মাঝে বিরাজমান আয় বৈষম্য। জাতপাত আর ধর্মের নামে সমাজকে বা মানুষকে বিভাজন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এই ধরনের কথাবার্তা শুধু রাজনৈতিক ফায়দা এনে দিতে পারে।  দুই দেশের রাজনীতিবিদদের বাস্তবমুখী চিন্তা ও পদক্ষেপই দুই দেশের মানুষকে উন্নয়নের আরও অনেক ধাপ উপরে নিয়ে যেতে পারে।  

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক।

 

/এসএএস/এমএনএইচ/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ