ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসরে আসছেন বিশ্বের অন্যতম ভ্যাকসিন গবেষক অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট। আগামী ৫ থেকে ৮ জানুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বসবে সাহিত্যের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন।
করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণের পর বিশ্বের বিজ্ঞানীরা টিকা উদ্ভাবনে গবেষণা শুরু করেন। করোনাভাইরাসে টিকা উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা অতীতের তুলনায় স্বল্প সময়ে টিকা উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন। টিকা উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতায় ছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও আগে অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে মডার্না ও ফাইজার-বায়োএনটেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু সহজ রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বল্পমূল্যের টিকার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল অক্সফোর্ডের টিকাটি। আর এই টিকা উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভ্যাকসিনোলজির অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট।
১৯৬২ সালের এপ্রিলে জন্মগ্রহণ করা এই অধ্যাপকের পুরো সারাহ ক্যাথেরিন গিলবার্ট। গবেষণার পাশাপাশি তিনি ভ্যাকসিটেক নামের একটি কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একটি বইয়ের সহ-লেখকও। করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের বিভিন্ন বিষয় এতে তুলে ধরেছেন তিনি ও তার সহকর্মী ক্যাথেরিন গ্রিন।
১৯৯৪ সালে তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনে যোগ দেন এবং পরে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জেনার ইন্সটিটিউটের অংশ হয়ে ওঠেন।
তার গবেষণার প্রধান আগ্রহের ক্ষেত্র হলো ভাইরাল ভেক্টোরেড ভ্যাকসিন উদ্ভাবন। যা কাজ করে শক্তিশালী ও সুরক্ষামূলক টি ও বি কোষ প্রতিক্রিয়া শরীরে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে। তিনি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিপাহ ভাইরাস, মার্স, ও লাসা ভাইরাসের মতো উদ্ভূত বিভিন্ন প্যাথোজেনের টিকা উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
অধ্যাপক গিলবার্টের কাজের বড় মনোযোগে রয়েছে টিকার দ্রুত পণ্য উৎপাদন চর্চায় (জিএমপি) রূপান্তর এবং প্রথম মানবশরীরে ট্রায়াল। ক্লিনিক্যাল বায়োম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি এবং সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল ভ্যাকসিনোলজি অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনে সহকর্মীদের সহযোগিতায় এগুলো তিনি অর্জন করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওল্ড রোড ক্যাম্পাসে অবস্থিত।
২০২০ সালে গিলবার্ট অক্সফোর্ডের নভেল করোনাভাইরাস সার্স-কভ-২ (কোভিড-১৯)-এর টিকা প্রকল্পের প্রধান হয়ে ওঠেন। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে টিকাটি যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৩ হাজারে বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই টিকা প্রয়োগ হচ্ছে। এটি বাজারজাত করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ভারতে কোভিশিল্ড নামে টিকাটি উৎপাদন ও বাজারজাত করেছে সেরাম ইন্সটিটিউট।
২০২০ সালে নভেম্বরে বিবিসির প্রকাশিত ১০০ নারীর তালিকাতেও ছিলেন তিনি। হিউম্যানিস্ট ইউকে তাকে রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন পদক প্রদান করেছে। ২০২১ সালে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই বছর তিনি ব্রিটিশ সরকারের ড্যাম কমান্ডার অব দ্য মোস্ট এক্সিলেন্স অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ডিবিই) খেতাব পান।








