প্রতিবাদটা হোক অনাসৃষ্টির সঙ্গে

Send
জুবায়ের বাবু
প্রকাশিত : ১১:৩৯, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৮, মার্চ ২৮, ২০১৭

জুবায়ের বাবুঅনুষ্ঠান নির্মাণে নতুন নতুন ধারণা আসতে থাকে একুশের পর্দায়। ২০০১ সালের ঈদ অনুষ্ঠানমালায় প্রথম আসে ‘লাইভ ফোন ইন’ এর ধারণা। যদিও এখন বিষয়টি অনেক সহজ এবং জনপ্রিয়। কিন্তু তখন তা ছিল না। ‘ক্রিং ক্রিং’ অনুষ্ঠানটি করতে গিয়ে আমার রীতিমত হিমশিম খাওয়ার অবস্থা। টেকনিক্যালি অনুষ্ঠানটি খুব যে সহজ ছিল তা নয়, পাশাপাশি দর্শক এই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি কী না, তাও ভাবনার বিষয় ছিল।
লাইভ অ্যান্ড ইন্টারেক্টিভ ধারণাটি তখন আমাদের কাছেই নতুন। ক্রিং ক্রিং দিয়েই শুরু হয় বাংলাদেশে এই ধরনের অনুষ্ঠান। শুধু তাই নয়, প্রখ্যাত শিল্পী মমতাজের বাড়ির সামনে থেকে প্রচার করা হয় ইদের বিশেষ লাইভ মিউজিক্যাল প্রোগ্রাম। ‘ইদের ঢোল’ ছিল একুশের প্রথম ম্যাগাজিন এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান। আনিসুল হক যিনি বর্তমানে ঢাকা উত্তরের মেয়র, তিনি ছিলেন এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। তাছাড়া প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ, অধ্যাপক আবদুল্লাহ  আবু সায়ীদ, মামুনুর রশিদ, ড. রুমেন রায়হান সহ বাংলাদেশের অনেক গুণী জনের সহায়তা ছাড়া এমন একটি অনুষ্ঠান নির্মাণ আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রতিটি অনুষ্ঠানের পেছনেই রয়েছে অনেক ইতিহাস। টেলিভিশনের অনুষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে অন্য এক ধারা শুরু হয়েছিল মাত্র।
বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের কি ধারা ধরে রাখতে পারছে? যদি তা না পারে তবে দর্শকরা কেন ঠকবে? তারা কি বাধ্য আমরা নির্মাতারা যা বানাবো তা দেখতে? পৃথিবীর সব দেশেই আকাশ উন্মুক্ত, সেখানেতো নির্মাতাদের বা শিল্পীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হয় না। নিম্নমানের অনুষ্ঠান বা নাটকের জন্য কে দায়ী? প্রতিবাদটা হোক নিজের সঙ্গে, প্রতিবাদটা হোক অনাসৃষ্টির সাথে।

লেখক: নির্মাতা

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ