ঘূর্ণিঝড় রিমালে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পাহাড় ও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের এলাকা ছাড়তে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন মানুষের সহায়তার জন্য নগরীর দামপাড়ার চসিকের বিদ্যুৎ বিভাগে চালু করা হয়েছে জরুরি কন্ট্রোল রুম।
শনিবার (২৫ মে) দুপুরে চালু হওয়া এই কন্ট্রোল রুম থেকে দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হবে। এই কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৮১৮৯০৬০৩৮।
বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম থেকে নাগরিকদের তথ্যসেবা দেওয়া হবে। এছাড়া আমরা রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং শুরু করেছি; যাতে ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বিতরণের জন্য শুকনো খাবারের ত্রাণও প্রস্তুত করা হয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চসিক কার্যালয়ে মেয়র রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সভা হবে।’
ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সর্বশেষ ৬ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় থাকা গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে একই এলাকায় আছে। এটি আজ সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করেছিল। আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হলো।









