ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসরে থাকছেন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ দলের ছয় ফুটবলার। তারা হলেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, মিডফিল্ডার মারিয়া মান্ডা, ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা, গোলরক্ষক রুপনা চাকমা, ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন ও ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রাণী সরকার। তাদের পাশাপাশি থাকবেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার এবং বাফুফে নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ফিফা কাউন্সিল সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ।
আগামী ৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ‘উই আর দ্য চ্যাম্পিয়নস’ শীর্ষক আয়োজনে অংশ নেবেন সাফ জয়ীরা। বাংলা একাডেমির একটি চত্বরে হাজির হবেন তারা।
গত বছর কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে বাংলাদেশের মেয়েরা। সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে তারা। এরপর ছাদখোলা বাসে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসব স্মরণীয় ঘটনা এবং ফুটবলে মেয়েদের জয়যাত্রা নিয়ে উৎসবে কথা বলবেন সাফ জয়ীরা।
৬ জানুয়ারি ‘পাস ইট টু রিজওয়ানা’ শীর্ষক আরেকটি সেশনে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রথম নারী ফিফা রেফারি জয়া চাকমা। বাংলা একাডেমির একটি চত্বরে সকাল ১০টায় শুরু হবে এই আয়োজন। এতে আরও থাকছেন লেখক ক্রিস্টাল পটেবাউম, এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার, জাতীয় নারী বাস্কেটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আশরীন মৃধা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন স্থপতি, শিল্পী ও অ্যানিমেটর সালজার রহমান। ‘পাস ইট টু রিজওয়ানা’ হলো বাংলাদেশের মেয়ে বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের নিয়ে শিশুতোষ গ্রন্থ।
আয়োজকরা জানান, ঢাকা লিট ফেস্টে এবারের আলোচনায় থাকছে বৈচিত্র্য। এর অংশ হিসেবে বিজ্ঞান, মহামারি, উদ্ভাবন, প্রাণ ও প্রকৃতি, মুক্তিযুদ্ধ এবং চলচ্চিত্র নিয়ে সেশন রয়েছে।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আগামী ৫ জানুয়ারি শুরু হবে ঢাকা লিট ফেস্ট। সাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজন চলবে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
জানা গেছে, প্রথমবারের মতো ঢাকা লিট ফেস্ট উপভোগের জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাওয়া যাবে এগুলো।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার শুধু ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের প্রবেশে কোনও টিকিট লাগবে না। দর্শনার্থীর বয়স ১২ বছরের বেশি হলে টিকিট বাধ্যতামূলক থাকছে।
যেসব স্থানে টিকিট পাওয়া যাবে– ঢাকা লিট ফেস্ট অফিস (নিকেতন, ঢাকা), মীনা সুইটস (বনানী এক্সপেরিয়েন্স জোন এবং পান্থপথ শাখা), মীনা বাজার (ধানমন্ডি ২৭, উত্তরা আউটলেট, ইসিবি চত্বর আউটলেট, শান্তিনগর আউটলেট, বনশ্রী এবং মগবাজার আউটলেট), বাংলার মিষ্টি (বনানী ও গুলশান আউটলেট), আড়ং (মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা আউটলেট) এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।
www.dhakalitfest.com লিংকে ঢুকে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এজন্য উল্লেখ করতে হবে দর্শনার্থীর নাম, বয়স, লিঙ্গ, পেশা, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা। সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর টিকিট ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে।
ঢাকা লিট ফেস্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দৈনিক জনপ্রতি ৫০০ টাকা। তবে একসঙ্গে চার দিনের টিকিট নিতে চাইলে ছাড় মিলবে ৫০০ টাকা, সেক্ষেত্রে একেক জন দর্শনার্থী ১৫০০ টাকায় চারদিনের টিকিট পেয়ে যাবেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সুখবর। তারা প্রতিজন ২০০ টাকায় টিকিট কিনতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের বেলায় একসঙ্গে চার দিনের টিকিট কিনলে লাগবে ৫০০ টাকা, অর্থাৎ তাদের জন্য থাকছে ৩০০ টাকা ছাড়।
এছাড়া আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক (স্পন্সরশিপ) হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে। কেউ ৩ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট কিনলে ঢাকা লিট ফেস্টের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিবেচিত হবেন। এক্ষেত্রে একসঙ্গে চার দিনের টিকিট পাওয়া যাবে ১০ হাজার টাকায়। পৃষ্ঠপোষক ক্যাটাগরির আওতায় পাওয়া যাবে ফ্রি পার্কিং সুবিধা, আইডি কার্ডসহ ঢাকা লিট ফেস্টের বিশেষ লাউঞ্জে প্রবেশের সুযোগ, যেখানে থাকছে লাঞ্চের ব্যবস্থা। কিন্তু লিট ফেস্টের সেশনগুলোতে তারা বিশেষ কোনও সুবিধা পাবেন না। সেখানে সব দর্শনার্থীর সমান অধিকার থাকবে।
গত ২৯ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রেশন ও টিকিট প্রাপ্তি নিয়ে ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করপোরেট বা সরকারি স্পন্সরশিপের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঢাকা লিট ফেস্টকে আরও টেকসই করতে আমরা দর্শক-শ্রোতা ও পাঠকদের সহায়তা চাই। আমাদের আশা, সাহিত্যপ্রেমীরা এই সহনীয় মূল্যের টিকিট দিয়ে শরিক হিসেবে লিট ফেস্টে শামিল হবেন। বিদেশে অনেক ফেস্টিভ্যালে রেজিস্ট্রেশনের পরও প্রতিটি সেশনের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। সেখানে আমরা এক টিকিটেই সকল সেশন উপভোগের সুযোগ রাখছি। আমরা মনে করি, সাধারণ ও শিক্ষার্থীদের টিকিটের মূল্য অনেক সহনীয় রাখা হয়েছে। আর বিশেষ টিকিটের মাধ্যমে সাহিত্যপ্রেমীদের একধরনের স্পন্সরশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’
ঢাকা লিট ফেস্টের টাইটেল স্পন্সর বাংলা ট্রিবিউন এবং ঢাকা ট্রিবিউন। সেই সঙ্গে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে আছে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে থাকছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।









