আর বাকি অল্প কিছু সময়। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ঢাকায় শুরু হচ্ছে দেশি-বিদেশি সাহিত্যিক, কবি, লেখক ও চিন্তাবিদদের মিলনমেলা ঢাকা লিট ফেস্ট। এর দশম আসর শুধু বড়দের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকছে না। শিশুদের বিজ্ঞান চর্চা, বিনোদন ও জ্ঞানচর্চার কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে কয়েকটি অনুষ্ঠান।
চার দিনের ঢাকা লিট ফেস্টে তিন দিনই শিশুদের জন্য রয়েছে নানান আয়োজন। আগামী ৬ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ৪-৮ বছরের শিশুদের জন্য ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে গল্প বলার আয়োজন থাকবে। একই সময়ে রয়েছে ৪-১২ বছরের শিশুদের জন্য ‘আই অ্যাম বকুল’ শীর্ষক গল্প বলার সেশন। এরপর সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে থাকবে ‘অন্যরকম পদার্থ ও রসায়ন কেমিস্ট্রি’ শিরোনামে ৮-১৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য কর্মশালা। দুপুর সাড়ে ১২টায় স্বনামধন্য শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার পরিচালিত পাপেট শো থাকছে, এর নাম ‘লিচু চোর’। এদিন বিকাল সোয়া ৪টায় থাকছে আরও গল্প বলার সেশন।
আগামী ৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় থাকছে ‘হোপ অন দ্য হরাইজন’ শীর্ষক সেশন। এটি শিশুরা পরিবারসহ উপভোগ করতে পারবে। একই সময়ে রয়েছে গল্প বলার আসর ‘আইরা এবং তার মায়ের অভিযান’। এতে অংশ নেবেন দুই বাংলার স্বনামধন্য শিল্পী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও তার কন্যা আইরা তাহরিম খান। তারা গল্প পড়ে শোনাবেন শিশু ও মা-বাবার। এছাড়া এদিন শিশুদের জন্য আরও থাকছে ‘লাল পরী, নীল পরী’ শিরোনামের পাপেট শো।
সমাপনী দিনে (৮ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১১টায় শিশুদের নিয়ে আছে ফারহানা মান্নানের একটি সেশন, এর শিরোনাম ‘শৈশব’। দুপুর সাড়ে ১২টায় থাকবে ‘দ্য লায়ন অ্যাবাভ দ্য ডোর’ শিরোনামে অঞ্জলি কিউ রউফের একটি সেশন।
ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায বলেন, ‘এবার আমরা শিশুদের জন্য বেশকিছু গল্প বলার সেশন রেখেছি। এছাড়া কিছু ইন্টাররঅ্যাক্টিভ সেশন আছে, যেগুলোতে চার দিনের যেকোনও সময় শিশুরা যুক্ত হতে পারবে। বিজ্ঞান বিষয়ে ছোট ছোট কর্মশালা আছে। সব মিলিয়ে শিশুদের জন্য এবার অনেক কিছু আছে।’
জানা গেছে, প্রথমবারের মতো ঢাকা লিট ফেস্ট উপভোগের জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাওয়া যাবে এগুলো।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার শুধু ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের প্রবেশে কোনও টিকিট লাগবে না। দর্শনার্থীর বয়স ১২ বছরের বেশি হলে টিকিট বাধ্যতামূলক থাকছে।
যেসব স্থানে টিকিট পাওয়া যাবে– ঢাকা লিট ফেস্ট অফিস (নিকেতন, ঢাকা), মীনা সুইটস (বনানী এক্সপেরিয়েন্স জোন এবং পান্থপথ শাখা), মীনা বাজার (ধানমন্ডি ২৭, উত্তরা আউটলেট, ইসিবি চত্বর আউটলেট, শান্তিনগর আউটলেট, বনশ্রী এবং মগবাজার আউটলেট), বাংলার মিষ্টি (বনানী ও গুলশান আউটলেট), আড়ং (মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা আউটলেট) এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।
www.dhakalitfest.com লিংকে ঢুকে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এজন্য উল্লেখ করতে হবে দর্শনার্থীর নাম, বয়স, লিঙ্গ, পেশা, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা। সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর টিকিট ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে।
ঢাকা লিট ফেস্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দৈনিক জনপ্রতি ৫০০ টাকা। তবে একসঙ্গে চার দিনের টিকিট নিতে চাইলে ছাড় মিলবে ৫০০ টাকা, সেক্ষেত্রে একেক জন দর্শনার্থী ১৫০০ টাকায় চারদিনের টিকিট পেয়ে যাবেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সুখবর। তারা প্রতিজন ২০০ টাকায় টিকিট কিনতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের বেলায় একসঙ্গে চার দিনের টিকিট কিনলে লাগবে ৫০০ টাকা, অর্থাৎ তাদের জন্য থাকছে ৩০০ টাকা ছাড়।
এছাড়া আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক (স্পন্সরশিপ) হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে। কেউ ৩ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট কিনলে ঢাকা লিট ফেস্টের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিবেচিত হবেন। এক্ষেত্রে একসঙ্গে চার দিনের টিকিট পাওয়া যাবে ১০ হাজার টাকায়। পৃষ্ঠপোষক ক্যাটাগরির আওতায় পাওয়া যাবে ফ্রি পার্কিং সুবিধা, আইডি কার্ডসহ ঢাকা লিট ফেস্টের বিশেষ লাউঞ্জে প্রবেশের সুযোগ, যেখানে থাকছে লাঞ্চের ব্যবস্থা। কিন্তু লিট ফেস্টের সেশনগুলোতে তারা বিশেষ কোনও সুবিধা পাবেন না। সেখানে সব দর্শনার্থীর সমান অধিকার থাকবে।
ঢাকা লিট ফেস্টের টাইটেল স্পন্সর বাংলা ট্রিবিউন এবং ঢাকা ট্রিবিউন। সেই সঙ্গে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে আছে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে থাকছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।









