ঢাকা লিট ফেস্টে সাহিত্য এবং বিজ্ঞানের সম্মিলন ঘটেছে উল্লেখ করে তরুণ বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা বলেছেন, ‘এবার সত্যি মনে হচ্ছে সাহিত্য এবং বিজ্ঞানকে একসঙ্গে করা হচ্ছে বিভিন্ন সেশনে। বিজ্ঞান সাহিত্য ছাড়া চলে না, সাহিত্য বিজ্ঞান ছাড়া চলে না।’
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে নানা উদ্ভাবনী আলাপ নিয়ে মেতে ওঠেন তরুণ এই বিজ্ঞানী।
তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘আমি কানাডায় লেখাপড়া করা অবস্থায় যখন উদ্ভাবনির কথা ভাবতাম, তখন আমার প্রজেক্ট তখন ছিল অ্যাক্ট নোবেল এন্টিমাইক্রোবিয়াল ডেভেলপ করা। আমরা সবাই জানি যে ব্যাকটেরিয়া দিন দিন প্রতিরোধক হয়ে উঠছে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে। আমরা এই কাজ ভাইরাসকে ব্যবহার করছিলাম ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য। আমার এই কাজে চার জন কমিটি সদস্য ছিল, যারা আমাকে গাইড করছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘তারা প্রতিনিয়ত আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন এই প্রকল্পের উদ্ভাবনীটা কি? আমি নিজেকে তখন জিজ্ঞেস করতাম, যে কেন মানুষ আমাকে উদ্ভাবনীর বিষয়ে জিজ্ঞাস করছে। উদ্ভাবনী অর্থ হচ্ছে নতুন কিছু! আমি তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করতে থাকলাম আমার এখানে নতুন কি আছে? আমি অনেক উল্লেখযোগ্য থেরাপিউটিক্স তৈরি করেছি। তবে কীভাবে এই উদ্ভাবনী মানুষের উপকারে আসবে? সুতরাং আমার জন্য ইনোভেশনের অর্থ হচ্ছে – নতুন জিনিস যার দ্বারা মানুষ লাভবান হয়। আমি যখন কানাডাতে বসবাস করতাম তখন আমি ভাবতাম, আমি যা যা শিখেছি সেগুলো কিভাবে দেশের মানুষের কাছে নিয়ে যাবো? আমি কিভাবে নিশ্চিত হবো যে আমার কাজ দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ লাভবান হচ্ছে ,যাদের কাছে আমি বড় হয়েছি। আমি যেটা নিয়ে কাজ করছিলেন কানাডায় সেসময় হয়তো সেটি বাংলাদেশের তেমন কোনও কাজে আসতো না। তার পেছনে কারণ হচ্ছে- সব জায়গায় বসে উদ্ভাবন করা যায় না। তাই আমি যখন বাংলাদেশে ফিরে আসলাম তখন নতুন কিছু উদ্ভাবনের কাজ করার চিন্তা করলাম। সেটি ছিল ১০/৯০ গ্যাপ কমিয়ে নিয়ে আসা।’
প্রসঙ্গত, ১০/৯০-এর ব্যবধানটি হচ্ছে গ্লোবাল ফোরাম ফর হেলথ রিসার্চ দ্বারা গৃহীত শব্দ যা ১৯৯০ সালে স্বাস্থ্য গবেষণা কমিশন কর্তৃক উন্নয়নের জন্য কমিশন দ্বারা এই আবিষ্কারকে তুলে ধরার জন্য গৃহীত হয়েছিল,যেটি স্বাস্থ্য গবেষণার জন্য নিবেদিত বিশ্বব্যাপী সম্পদের ১০ শতাংশের এরও কম উন্নয়নশীল দেশগুলিতে স্বাস্থ্যের দিকে রাখা হয়েছিল, যেখানে বিশ্বব্যাপী সমস্ত প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর ৯০ শতাংশ এরও বেশি হচ্ছে।
সেঁজুতি সাহা বলেন, ‘এমন হয়েছে যে ৯০ শতাংশ সম্পদ যেখানে ব্যবহার হয়েছে, সেখানে মাত্র ১০ শতাংশ শিশু মারা গেছে। আমি এই ব্যবধান পছন্দ করি না। আমি দেশে এসেছিলাম একটি লক্ষ্য নিয়ে। কিভাবে আমরা এই ব্যবধান কমাতে পারি। ’
আলোচনায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো এই আয়োজনে এসেছি। এটি একটি চমৎকার আয়োজন। ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি গল্প আমি শোনাতে চাই এই উদ্ভাবনী আলাপে। যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিলেন যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছিলাম। এরপর ওনার লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান তরুণদের জন্য তৈরি করা, লক্ষ্য ছিল দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা সব নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করা, সরকারি সব সেবা যাতে অনলাইনের পাওয়া যায় এবং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় যেন পৌঁছে যায়।’









