ফুটবলে মেয়েরা পেয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। গত বছর সেপ্টেম্বরে নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জিতেছে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। শিরোপা জিতে সাবিনা-শামসুন্নাহাররা এখন সবার চোখের মধ্যমণি। তবে এই পর্যন্ত আসতে যে সবারই নানান ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তা এখন অনেকেরই জানা। ঢাকা লিট ফেস্টে এসে সাফজয়ী তারকা শামসুন্নাহার জুনিয়র নিজের জীবনের কষ্টার্জিত খণ্ড খণ্ড চিত্র তুলে ধরেন।
বাংলা একাডেমির লনে মঞ্চে বসে শুরুতে জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। সাফ জিতে আসার পর দেশে ফিরে বুঝতে পেরেছি এই দেশের মানুষ ফুটবল কতটুকু ভালোবাসেন। ভালোবাসেন আমাদেরও। যখন এসেছি তখন পুরো ঢাকা শহর ঘুরেছি। সবাই আমাদের বরণ করেছেন। জীবনে অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন সেটা।’ দর্শকরা এই কথাতে হাততালি দিয়ে যেন আবারও তাদের অভিনন্দিত করলেন।
ময়মনসিংহের কলসিন্দুর থেকে আসা শামসুন্নাহার নিজের উঠে আসার কাহিনি শোনাতে গিয়ে পেছনে ফিরে গেলেন, ‘বঙ্গমাতা ফুটবল দিয়ে শুরু করেছিলাম। স্যাররা খেলোয়াড় বাছাই করতেন। মজায় মজায় খেলে শুরু করেছি। ভাবতাম খেলবো আবার বাসায় চলে যাবো। ফুটবলটা বোঝার চেষ্টা করেছি তখন। যখন একটু একটু বড় হচ্ছি, তখন বাসা থেকে বলতো আর যেও না। এটা মেয়েদের খেলা নয়। বাড়ি থেকে বকা দিতো। তখন লুকিয়ে লুকিয়ে ব্যাগে বল নিয়ে যেতাম। বাসায় দেরিতে যাওয়ার কারণে মারও খেয়েছি।’
বাসা ও অন্যদের কাছ থেকে আরও কটু কথা শুনতে হয়েছে তাকে, ‘বলতো এটা খেললে পাপ হবে। ২০১৭ সালে জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাই। বাসা থেকে ক্যাম্পে চলে এসেছিলাম। বাসা থেকে দুয়েকদিন পরপরই বলতো চলে আসো। বলতো ফুটবল খেললে বিয়ে হবে না। আমি বলেছি বিয়ে না হলে না হবে। তারপরেও আমি খেলবো। আসলে গ্রামের মানুষ অনেক কিছু বুঝতো না। তাদের অনেকেই বাসায় বাবা-মাকে বোঝাতে আমাকে খেলতে না দিতে। আর হাফপ্যান্ট পরেই বা কেন খেলবো। তাও বলতো।’ সাফ জেতার পর পরিস্থিতি একদম পাল্টে গেছে। যে শামসুন্নাহাররা বকা শুনতো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেলতো, তারাই সাফল্যের পর উল্টো চিত্র দেখেছে।
শামসুন্নাহার বলেন, ‘এবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাসায় গেছি। তখন আমাকে দেখতে এসেছেন সবাই। বাসায় ভিড় জমে গিয়েছিল, সবাই আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছেন। পেছনের গল্পটা শুনতে চেয়েছেন। আসলে সবকিছুই এসেছে সাফল্য প্রাপ্তির পরই।’








