শীতের সকালে বাংলা একাডেমির লনে লেখিকা ক্রিস্টাল পটেবামের বই ‘পাস ইট টু রিজওয়ানা’ নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালক সালজার রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠানে ক্রিস্টাল পটেবাম ছাড়া আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জয়া চাকমা, মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাঙালি নারী নিশাত মজুমদার ও দেশি বলার্সের সহ-প্রতিষ্ঠিতা আশ্রিন মৃধা।
আলোচনায় ক্রিস্টাল পটেবাম তার বই থেকে কিছু অংশ পড়ে শোনান। ঘটনাচক্রে রিজওয়ানা ও তার বন্ধু আশরিন এবং কোহিনুর একদিন পার্কে একটি অদ্ভুত জিনিস খুঁজে পায়। কিছুক্ষণ দেখে ওরা বুঝতে পারে ওটা আসলে একটি হাওয়া বেরিয়ে যাওয়া বাস্কেটবল। সেদিন থেকেই তাদের বাস্কেটবল খেলার স্বপ্ন দেখার শুরু। সেই যাত্রায় মুখোমুখি হওয়া নানান রকম চ্যালেঞ্জের কথা উঠে এসেছে বইটিতে। রয়েছে সব বাধা পেরিয়ে ওদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প।
এ বিজয় সেসব মেয়েরও, যারা অদম্য মানসিকতা নিয়ে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। দর্শকদের মধ্য থেকে প্রশ্ন করা হয়, যেসব বাঙালি মেয়ে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে চায় তারা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যায়? প্রায় সব বক্তাই বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবার ও সমাজ যদি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যেখানে প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই মেয়েরা খেলাধুলায় উৎসাহী হয়ে উঠবে তবে অসংখ্য বাঙালি মেয়ে বিশ্বদরবারে আমাদের পতাকা তুলে ধরতে পারবে। পাশাপাশি মেয়েদের সম-অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। আর এসব উদ্যোগে বড় অবদান রাখতে হবে নীতিনির্ধারকদের। ক্রিস্টাল পটেবাম মনে করেন, ভূমিকা রাখতে হবে স্কুল ও পরিবারকেও।
নিজের এভারেস্ট বিজয় ও তার পেছনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা বলেন আরেক আলোচক নিশাত মজুমদার। পুরুষ খেলোয়াড়রা বিয়ের পরও যেমন স্বাভাবিকভাবে তার পেশা চালিয়ে যেতে পারেন, তা নারী খেলোয়াড়দের জন্য বেশ কঠিন বলে মন্তব্য করেন আশ্রিন মৃধা। এ জায়গাতে ফেডারেশনগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সব আলোচকই নারী হিসেবে নিজেদের পেশায় সাফল্যের শিখরে উঠে আসতে কী পরিমাণ ত্যাগ ও চ্যালেঞ্জর মুখোমুখি হয়েছেন, সে গল্প শোনান দর্শকদের।
ফেস্ট চলার সময়ে বইটি হার স্টোরির স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। বইটির প্রকাশক হার স্টোরি ফাউন্ডেশন ও ইলাস্ট্রেশন করেছেন ইশরাত জাহান সায়রা।









