X
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

আমার টেলিফোন অডিও প্রকাশ করছেন কোন আইনে?

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৯

হারুন উর রশীদ কারও ব্যক্তিগত টেলিফোন অডিও প্রকাশ করা হয় কোন আইনে? সর্বশেষ ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের টেলিফোন কথোপকথনের অডিও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় আবারও এই প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে। কারণ, আমরা দেখছি এই ধরনের অডিও প্রকাশ হচ্ছে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তারা প্রকাশ করছে, কিন্তু এই রেকর্ড তারা কোথায় পায় তা বলছে না। কারণ, যারা রেকর্ড করছেন, তারা আইন জানেন। আর জানেন বলেই সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে সওয়ার হচ্ছেন। তাদের ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশে একটিই মাত্র আইন আছে, কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত ফোনকল রেকর্ড করার। আর তা করা যাবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্নে। রেকর্ড করবে সরকারের নির্দিষ্ট কয়েকটি সংস্থা। কিন্তু তা তাদের সাধারণের জন্য প্রকাশের অনুমতি নেই। তারা যদি কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পান টেলিফোন কথোপকথনে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। আদালতে যাবেন। কিন্তু সেটা আমরা দেখি না।
বাংলাদেশে এখন আমরা পর্যন্ত প্রমাণ পাইনি যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও গোয়েন্দা সংস্থা কারও টেলিফোন কল রেকর্ড করে সেখানে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে। অথবা তাদের করা সেই রেকর্ডের ভিত্তিতে মামলা করে প্রতিকার চেয়েছে। কয়েকটি মামলা হয়েছে (যেমন, মাহমুদুর রহমান মান্না), কিন্তু ওই অডিও রেকর্ড যে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা করেছে, তা কিন্তু কোনও মামলায় বলা হয়নি। তারা সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত অডিও’র ভিত্তিতেই মামলা করেছে। তাহলে প্রশ্ন, কারা রেকর্ড করে?
টেলিযোগাযোগ আইন:
বাংলাদেশের ২০০১ সালের টেলিযোগাযোগ আইন, যা ২০১০ সালে সংশোধন করা হয়, তাতে (৯৭-এর ক) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে বিশেষ বিধান সংযোজন করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, অন্য আইনে যাই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সময় সময়, নির্ধারিত সময়ের জন্য টেলিফোন কথোপকথন প্রতিহত ও রেকর্ড করা যাবে। আর এটা করতে পারবে গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা।
এই আইনের কোথাও তা সাধারণের জন্য প্রকাশের কথা বলা হয়নি।
সংবিধান ব্যক্তিগত যোগাযোগের গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দিয়েছে:
তবে এটা স্পষ্ট যে টেলিযোগাযোগ আইনের এই ধারাটি বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের ব্যক্তিগত সব ধরনের যোগাযোগ গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এটা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারের ৪৩ অনুচ্ছেদের শিরোনাম: গৃহ ও যোগাযোগের সংরক্ষণ। এর (খ) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,  ‘চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকিবে।’
তবে, এটা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে।
সংবিধান হলো মৌলিক আইন। তাই, এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক অন্য কোনও আইন কার্যকর থাকতে পারে না। এটি সংবিধানেই বলে দেওয়া আছে।
প্রচলিত আইন কী বলে?

আইনগত কর্তৃপক্ষ ছাড়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও কারও অনুমতি না নিয়ে ছবি তোলা বা কোনও ব্যক্তির ব্যাপারে পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ করা অপরাধ। ডিজিটাল আইন ২০১৮-এর ২৬ ধারায় এই অপরাধে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে।


আর ব্যক্তির পরিচিতি তথ্য বলতে বোঝানো হয়েছে, ‘শারীরিক তথ্য বা অন্য কোনও তথ্য, যা এককভাবে বা যৌথভাবে একজন ব্যক্তি বা সিস্টেমকে শনাক্ত করে।’
একইসঙ্গে ২০০৬ সালের আইসিটি আইনের ৬৩ ধারায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। তাতে যোগাযোগের তথ্য বা দলিল প্রকাশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সুতরাং ব্যক্তিগত টেলিফোন কথোপকথন রেকর্ড এবং তা প্রকাশ করা দেশের প্রচলিত আইনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রতিকার কোথায়?
তাই যারা টেলিফোন কল রেকর্ড এবং প্রকাশ করছেন তারা দুই ধরনের অপরাধ করছেন-
১. ব্যক্তিগত টেলিফোন কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অপরাধ এবং
২. পরবর্তী ধাপে সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অপরাধ।
দায়ী কারা?
এখন প্রশ্ন হলো, এই অপরাধের জন্য দায়ী কারা? বাংলাদেশের কোনও গোয়েন্দা সংস্থা এ পর্যন্ত কারও টেলিফোন কল রেকর্ড করেছে বলে তারা অফিসিয়ালি জানায়নি। এমনকি তাদের করা রেকর্ডের ভিত্তিতে কোনও মামলাও হয়নি।
তাহলে সংবাদমাধ্যম কোথায় পাচ্ছে? তারা কি রেকর্ড করছে? সেটা করছে না বলেই আমার ধারণা। তারা এটা করার জন্য আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্তও নয়। তাদের সে প্রযুক্তিও আছে বলে আমার মনে হয় না। কিন্তু প্রচার করে ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন করছে।
আমার ধারণা, যারা প্রচার করছেন তারা জানেন কারা রেকর্ড করেছে। কোনও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি আদালতে যান, তাহলে হয়তো ওই সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই জানা যাবে কারা এসব টেলিফোন কল রেকর্ড করে সংবাদমাধ্যমকে দিচ্ছে। আদালতে গিয়ে প্রতিকারও চাইতে পারেন।
যারাই রেকর্ড করুক, তারা জানেন ওইসব ব্যক্তিগত অডিও’র মধ্যে ফৌজদারি অপরাধের মতো কোনও উপাদান নেই। তাই তারা সেটিকে ছড়িয়ে দিয়ে ওই ব্যক্তিকে চাপে ফেলতে চান বা তার মানহানি করতে চান।
আর লক্ষণীয় যে, এ পর্যন্ত যাদের টেলিফোন অডিও রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে, তাদের বড় একটি অংশ সরকারবিরোধী। সরকার সমর্থকদের অডিও তেমন প্রকাশ হতে দেখিনি।
ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়:
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা অধিকার নিয়ে ভারতেও কম বিতর্ক হয়নি। কিন্তু ২০১৭ সালের আগস্ট ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে বলেছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভারতীয় নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আদালত রায়ে বলেন, ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জীবনের অধিকারের মতোই নিজের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখাও একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। সেখানে অনেক ধরনের সরকারি ও সেবা নিতে ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র (আধার কার্ড) দেওয়া বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধে ওই মামলা হয়েছিল। আর ওই কার্ডের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের অভিযোগ ওঠে।

লেখক: সাংবাদিক

ইমেইল: [email protected]

/এসএএস/এমএনএইচ/এমওএফ/

অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৩০

মো. আখতার হোসেন জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতি বছর বিশ্বের অগণিত মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অভিবাসন তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও অভিবাসনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আশির দশকের শুরু থেকেই দেশের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় ও দারিদ্র্য বিমোচনে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কোভিড-১৯ ও লকডাউনের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা ভর করেছে দেশের অভিবাসন খাতেও।  

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১,৭৫২.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্চ-মে মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও জুন থেকে এর ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা করোনাভাইরাসের অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ প্রায় মোট ১৬৮টি দেশে বসবাস করছেন। তারা মূলত বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসেন।

প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া নেই বলে প্রতি বছর কতজন দেশে ফিরছেন এর সঠিক সংখ্যা বের করা বেশ কঠিন।

তবে, করোনা বৈশ্বিক মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অন্য যেকোনও বছরের তুলনায় গত বছর দেশে ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আইওএম’র হিসাব অনুসারে, গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে প্রায় চার লাখ প্রবাসী শ্রমিক কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে ফেরত আসেন। কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশে লকডাউন ঘোষণা করায় এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অভিবাসী শ্রমিকদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঋণদায়গ্রস্ত এবং দেশে তারা বেকার অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাই, বিদেশে যেমন তারা কষ্টে দিনযাপন করছিলেন, দেশে এসেও তারা পড়েছেন এক দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। আইওএম’র গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ফেরত আসা ৭৫ শতাংশ প্রবাস শ্রমিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বিদেশে ফেরত যেতে আগ্রহী।

সেক্ষেত্রে আমাদের দরকার প্রবাস ফেরত এই শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি কাঠামোভিত্তিক রি-স্কিলিং ও আপস্কিলিং প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা, যেটি পরবর্তীতে দক্ষতার বিচারের মাপকাঠিতে প্রবাসে চাকরি নিশ্চিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

দক্ষতার বিচারে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তিন রকমের অভিবাসন হয়– দক্ষ, স্বল্প দক্ষ এবং অদক্ষ। সাধারণত আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাজ, স্বাস্থ্য সেবা, ঘরের কাজসহ স্বল্প দক্ষ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত থাকায় যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক অভিঘাতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। করোনায় বেশিরভাগ দেশে এসব কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী শ্রমিকই চাকরি হারিয়েছেন।

বিদেশ গমন করা অধিকাংশ শ্রমিকই কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যান। অথচ ছয় মাস কিংবা এক বছরের একটি প্রশিক্ষণ বিদেশে তাদের পারিশ্রমিক দুই থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই দেশে ফেরত আসা শ্রমিকরা যাতে ফের বিদেশ গমনের পর অধিক উপার্জন করতে পারেন, সেজন্য বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যেসব খাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন, সেসব খাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, করোনা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের রূপ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও উদ্ভাবন এবং নতুন দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কোভিড-১৯ যেমন কাজের ক্ষেত্রকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করেছে, একইসাথে অনেক নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই ভাষাগত দক্ষতা ও প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় তারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব ক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রম পরিস্থিতি আরও সুসংহত করা যেতে পারে। এছাড়া, অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, অটোমোবাইল ও ডিজিটাল খাতের কাজে বিদেশে অধিক চাহিদা থাকায়, তাদের এসব কাজ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যাপারে নজর দেওয়া যেতে পারে। আমাদের নারী প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই বিদেশে ঘরের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের যদি ভারতের কেরালা, ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মতো নার্সিং কোর্স করানো হয়, অথবা দক্ষভাবে গৃহপরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তা তাদের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে, তেমনি আমাদের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোও সুনিশ্চিত হবে।

অভিবাসীদের জন্য বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার কয়েক ধাপে নগদ সহায়তাসহ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রবাস ফেরত শ্রমিকরা কাজে লাগিয়েছেন। প্রবাসীদের সহায়তার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনায় সুফল পেতে তাই নীতিনির্ধারকদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করা জরুরি।  আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কাকে উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব দেশ, বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ তাদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এগিয়ে আসতে পারে।

করোনাকালীন ও পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। তাই, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও নতুন সম্ভাবনাময় বাজার অনুসন্ধান একসঙ্গে দুটোই চালিয়ে যেতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হবে বহুমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই।

লেখক: সিনিয়র সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ‎গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

চিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

২৩ নাগরিকের বিবৃতিচিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের কথা বলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune