X
মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

কন্যা সন্তানের জন্ম উদযাপিত হোক

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২৮

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা করোনা সংক্রমণে বদলেছে জীবন। ভয়ংকর ভাইরাস প্রভাব রেখে গেছে বা যাচ্ছে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে। এই আবহে দারিদ্র্য বেড়েছে, বেড়েছে বাল্যবিবাহও। দীর্ঘ ১৮ মাসের করোনা অতিমারিকালে স্কুল বন্ধ থাকায় সারাদেশে বাল্যবিয়ের মহামারি লেগেছে। বাংলাদেশে বরাবরই বাল্যবিয়ের হার বেশি, করোনাকালে সেটা যেন আরও গতি পেয়েছে। ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে শতকরা ২৯ ভাগ মেয়েরই বিয়ে হয় ১৫ বছরের কম বয়সে৷ এরমধ্যে শতকরা দুই ভাগ মেয়ের বিয়ে হয় ১১ বছরের কম বয়সে।  

অবস্থাটা কেমন তার কিছু চিত্র উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। করোনার বন্ধে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। এরকম আরও অসংখ্য স্কুলের একই চিত্র। কোনও কোনও উপজেলায় শতাধিক মেয়ের এই পরিণতি হয়েছে। নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলোয় এখন অর্থাভাব। ফলে, কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেওয়াকেই নিরাপদ ভাবছে এসব পরিবার। স্কুল বন্ধ থাকা, পরিবারের আয় কমে যাওয়া ও নিরাপত্তাহীনতায় মেয়ে শিশুদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। করোনার আগে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে যে রকম প্রশাসনিক এবং সামাজিক উদ্যোগ ছিল, সেই উদ্যোগে ভাটা পড়েছে, এমনটা অনেক জনপ্রতিনিধিই বলছেন। এর বাইরে আছে অর্থনৈতিক কারণ। বেশিরভাগ পরিবার তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছে, তারা অসম্ভব দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। ২০১৪ সালে সরকার ঘোষণা করেছিল, ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। তবে এর পর পর সরকার নিজেই মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ থেকে ১৬-তে নামিয়ে আনে।

স্থানীয় স্তরে সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা, জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার ফলে অনিয়ন্ত্রিত বাল্যবিয়ে। কোনও কোনও জেলা-উপজেলায় প্রশাসনের লোকজন জানতে পারলে কিছু বিয়ে ঠেকাতে উদ্যোগী হন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা এগুলো করেন সমাজপতিদের ম্যানেজ করে। করোনাকালে এই প্রবণতা বাড়লেও, কিছু অঞ্চলে বরাবরই বাল্যবিয়ের হার বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যাপক প্রবণতা যেসব উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি, সেখানকার মেয়েরা এই ঝুঁকির মধ্যে বেশি নিপতিত।  এসব দুর্যোগ তাদের পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়, যা পরিবারগুলোকে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

অর্থনৈতিক কারণ অবশ্যই আছে। করোনাকালে সেটা আরও বড় হয়েছে। কিন্তু বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে নানা কুযুক্তিও চালু আছে সমাজে। ছোটবেলা থেকে শেখানো হয় বিয়ে আসলে ভাগ্য-নির্ধারিত। সেখানে কারও হাত নেই। বেশিরভাগ পরিবার এবং তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলে, ভালো ছেলে পাওয়া গেছে, দাবিদাওয়া নেই, তাই  এমন পাত্র হাতছাড়া করা যায় না। আরেকটা বড় কারণ গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের নিরাপত্তা।  তারা একটু বড় হলেই বখাটে ও মাস্তানদের নজরে পড়ে, এ নিয়ে একেকটা পরিবার অনিরাপদ হয়ে পড়ে।  নিরাপত্তা তো পায়ই না, উল্টো এলাকা ছাড়ার অবস্থা হয় অনেক সময়।

বাল্যবিয়ে রোখার পথটা সুগম নয়। আইন প্রণীত হয়। কিন্তু অনেক ধীরগতিতে মানুষের মনে পরিবর্তন আসে।  পুরুষতান্ত্রিকতা ও বয়ঃপ্রাপ্ত মেয়েদের নিয়ে এক গভীর সামাজিক অনিশ্চয়তাই বাল্যবিয়ের মতো রোগকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয় মেয়েদের উপার্জনক্ষম মানবসম্পদ হিসেবে ভাবতে না পারার সামাজিক ব্যর্থতা।

বাল্যবিয়ে নামের যে সামাজিক ব্যাধি বাংলাদেশকে গ্রাস করছে, তা থেকে রেহাই পেতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক জাগরণ প্রয়োজন।  প্রশাসনিক পদক্ষেপ অবশ্যই দরকার, কিন্তু তার সঙ্গে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। সামাজিক মাধ্যমে মৌলবাদী গোষ্ঠী নিরন্তর বাল্যবিয়ের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচার প্রয়োজন সরকার ও সমাজের সচেতন মহল থেকে।  প্রশাসনের সক্রিয় অবস্থান এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় এতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।  স্কুলে-স্কুলে, পাড়ায়-পাড়ায় বাল্যবিয়েবিরোধী ক্লাব করা প্রয়োজন।  উদ্যোগটা আগে শুরু হতে পারে সরকারি স্কুলগুলোতে। ধর্মীয় নেতা, ইমামসহ সমাজপতিদের এ বিষয়ে দায়বদ্ধ করে তুলতে হবে।

একসময়ের নিয়মিত প্রচারে বাল্যবিয়ের কুফল যেভাবে মানুষ জানতে পেরেছিল সেগুলো যেন এখন ভুলতে বসেছে। অনেক শিক্ষিত পরিবারও মেয়েদের দ্রুত পাত্রস্থ করার পক্ষে। বাল্যবিয়ে নারী শরীরের পরিপূর্ণ বৃদ্ধি ও পুষ্টিতে অন্তরায়। বাল্যবিয়ে সুস্থ সন্তান জন্মের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। বাল্যবিয়ে শ্বশুরবাড়িতে নারীর সম্ভ্রম-সম্মান-গুরুত্ব কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনেরও অন্তরায়- এ কথাগুলো নতুন করে জোরেশোরে বলার সময় এসেছে আবার।  
তাই বলছি, বাল্যবিয়েবিরোধী প্রচারে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল সেটা আবার বদলে যাচ্ছে। পথ এখনও দুর্গম এবং গন্তব্য দূরবর্তী। নতুন নতুন প্রবণতা তৈরি হচ্ছে প্রশাসনকে ফাঁকি দেওয়ার। যেখানে বাল্যবিয়ে ঠেকানো হচ্ছে সেখানে কোনও স্থানীয় প্রভাবশালীর নেতৃত্বে পাত্রপাত্রীকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই বিষয়ে সংবেদনশীল করে তুলতে না পারলে প্রবণতা ঠেকানো কঠিন।

বাংলাদেশে তো নানা প্রকল্প হয়। এবার নতুন একটি প্রকল্প হোক। প্রতিটি ঘরে প্রতিটি কন্যার জন্মকে উদযাপন করে তাকে আদরের সঙ্গে বরণ করে নেওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়িত হোক।

লেখক: সাংবাদিক

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

রোগের নাম গণপরিবহন

রোগের নাম গণপরিবহন

রাজনীতির নতুন সংস্কৃতি

রাজনীতির নতুন সংস্কৃতি

রাজনৈতিক চর্চা বাদ দিয়ে ক্ষমতার চর্চা সংঘাত বাড়ায়

রাজনৈতিক চর্চা বাদ দিয়ে ক্ষমতার চর্চা সংঘাত বাড়ায়

জ্বালানির জ্বালা, দ্রব্যমূল্য ও পকেটে টান

জ্বালানির জ্বালা, দ্রব্যমূল্য ও পকেটে টান

তাঁর অবসরের পরে...

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:১২
ওমর শেহাব বাংলাদেশে যারা এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে (এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চারটি স্তম্ভের একটি) তাদের মধ্যে তিনটি দল আছে। প্রথম দলটি হলো যারা খুবই হতাশ এবং ধরে নিয়েছে এই দেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির কোনও ভবিষ্যৎ নেই। দ্বিতীয় দলটি হলো যারা মনে করে এই দেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা উচিত এবং সম্ভব (জেনারেল জিয়ার আগে কিন্তু বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিই ছিল এবং তাতে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কিন্তু কম ধার্মিক ছিল না!) কিন্তু আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই এই আন্দোলনের বাহন হওয়ার উপযুক্ত নয়। শেষ দলটি হলো তারা যারা মনে করে এই মুহূর্তে ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনের সবচেয়ে উপযুক্ত বাহন হলো আওয়ামী লীগ। আমার এই লেখাটি শেষ দলটির জন্য।

কারও যাতে কোনও অস্পষ্টতা না থাকে তাই আমি একটু ব্যাখ্যা করি ধর্মনিরপেক্ষতা কী। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে হলো রাষ্ট্র তার আইনে একটি ধর্মের নাগরিককে অন্য ধর্মের নাগরিকের চেয়ে বেশি সুবিধা দেবে না, সবাই সমান মর্যাদা পাবে। প্রত্যেকে যার যার ধর্ম নিজের মতো পালন করবো। যে কোনও ধর্ম বিশ্বাস করে না, সে তার মতো জীবনযাপন করবে।  কেবল সংখ্যায় বেশি হওয়ার কারণে এক ধর্মের অনুসারী যদি অন্য ধর্মের অনুসারীকে বিরক্ত করে তাহলে রাষ্ট্র তাকে ‘টাইট’ দেবে। এটি এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে দুইভাবে পৃথক।

প্রথমত, আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র তার সংবিধানে বা আইনে কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রাধান্য দেবে না। আর অনানুষ্ঠানিকভাবে আকারে ইঙ্গিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এরকম বলবে না যে তোমরা থাকো, কিন্তু সীমিত পরিসরে। ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে সবার একটাই পাওয়া– সমমর্যাদা ও ন্যায়বিচার। এর মানে কিন্তু এই নয় যে নিজের গঠনতন্ত্রে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ লেখা কোনও দল ক্ষমতায় এলেই এসব অর্জন হয়ে যাবে।

‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ প্রথমত বিশ্বাসের ও দ্বিতীয়ত চর্চার বিষয়। অনেকে বলতে পারেন যে গঠনতন্ত্রে লেখালেখির আনুষ্ঠানিকতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, একটি দল সেটি চর্চা করছে কিনা সেটিই মুখ্য।
 
তাদের প্রতি আমার একটিই প্রশ্ন - আপনি নিজের ভবিষ্যতের আর্থিক নিশ্চয়তার জন্য যখন জমি বা ফ্ল্যাট কিনেন তখন কি মুখে মুখে কিনেন, নাকি দলিলে লিখিয়ে নেন?

আমি জানি শুরুতে বলা এই শেষ দলটির আবার দুটি উপদল আছে- একটি হলো মরে গেলেও আওয়ামী লীগের বাইরে ভোট দেবে না আর অন্যটি হলো আওয়ামী লীগের চেয়ে আরও নিখুঁত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল পেলে আমার মতো ‘পল্টি’ মারবে। আমি সেই সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে যাবো না।
 
তো, এই শেষ দলের সদস‌্যদের প্রতি আমার প্রশ্ন হলো– আপনাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?

আপনাদের নেত্রীর বয়স এখন চুয়াত্তর বছর। গত নির্বাচনের পর পর, ২০১৯ সালের চৌদ্দই ফেব্রুয়ারি ডয়েচে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন তিনি এবার অবসর নিতে চান। এরমধ্যে অতিমারি পৃথিবীর অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবই পাল্টে দিয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নেই। কাজেই আমি জানি না বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পরিকল্পনায় কোনও পরিবর্তন এসেছে কিনা। আসাটাই স্বাভাবিক।

এই মুহূর্তে যদি শেখ হাসিনা অবসর আরও কিছু দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তারও একটি প্রাকৃতিক ঊর্ধ্বসীমা আছে। আমরা সবাই-ই একদিন না একদিন অবসর নেবো  স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। কাজেই গত তিন বছরে পৃথিবী অনেকটা পাল্টালেও আমার প্রশ্ন পাল্টাচ্ছে না– আপনাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?

আপনি যদি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে দশ বছরের ছোট হন এবং বাংলাদেশের গড় আয়ু মাথায় রাখেন তাহলে আপনি আর কেবল দুটি নতুন সরকার দেখে যাবেন। সেই নতুন সরকার কী ধরনের সরকার হলে আপনি খুশি হবেন? কী ধরনের আইন পাস করলে আপনি শান্তি পাবেন? কোন খাতে বড় বাজেট রাখলে আপনি স্বস্তিতে অবসরে যেতে পারবেন বা এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারবেন? আর আপনি যদি কেবল ভোটার হয়ে থাকেন তাহলে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১১টি নতুন সরকার। ধরলাম এরমধ্যে অর্ধেক সংখ্যক সরকার হবে আপনার পছন্দের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শে বিশ্বাসী। তাহলে সেই পাঁচটি সরকারের চিন্তাভাবনা আর কাজকর্ম প্রভাবিত করার জন্য আপনি কতটুকু প্রস্তুত?

এতক্ষণ আমরা ভাসা ভাসা কথা বলেছি। এবার বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় যাই।

ইতিহাস একটি সরকারকে মনে রাখে দুটি কারণে - রাজনৈতিক আদর্শের কারণে আর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর কারণে। দুটি কারণেই শেখ হাসিনা চিরস্থায়ীভাবে শুধুই বাংলাদেশের না, পৃথিবীর ইতিহাসেই জায়গা করে নিয়েছেন। যখন পরাশক্তিগুলো তাঁকে থামাতে চাচ্ছিল, তখন তিনি কারও কথায় পাত্তা না দিয়ে যুদ্ধাপরাধের জন্য দেওয়া বিচার বিভাগের রায় কার্যকর করেছেন। আর অর্থনীতির কথা যদি বলি- আমি ১২ বছর আগে যখন আমেরিকায় আসি, একটা কফি খাওয়ার সময়ও ডলারকে বাংলাদেশি টাকায় পরিবর্তন করার সময় মনে মনে হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেত। আর এখন আত্মীয়-স্বজনকে যখন ঢাকা আর চট্টগ্রামের আলিশান দোকানে বসে কফি খেতে দেখি তখন সেই দামকে ডলারে পরিবর্তন করলে তখনও প্রায় হার্ট অ্যাটাকই হয়ে যায়। কিন্তু ইতিহাসের দুটি সমস্যা আছে– প্রথমটি হলো এটি মাঝে মধ্যে মোড় নেয় এবং প্রায়ই সেই বাঁকটি হয় অপছন্দের বাঁক।

দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো এটিকে সাময়িকভাবে হলেও ধুয়ে-মুছে ফেলা যায়।

শুধু আমাদের নয়, যেকোনও দেশের ইতিহাসেই আমরা এটি দেখেছি। স্বাধীনতার পর পর বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল সবার জানা। কিন্তু আমি যখন আশির দশকের শেষে ও নব্বই দশকের পুরোটা স্কুলে গেলাম, ততদিনে এই তথ্যটি ধুয়ে মুছে ফেলা হয়েছিল।  শুধু তাই-ই নয়, যুদ্ধাপরাধীদের পরিচালিত দৈনিকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতকে দোষারোপ করাও আমরা দেখেছি। আমি এখন যেই দেশে থাকি সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ঘৃণ্য দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ করা জেনারেলদের স্মৃতি টিকিয়ে রাখার যুদ্ধের কয়েকটি তরঙ্গ এসে আবার চলে গেছে। আর নতুন মোড় নেওয়ার ব্যাপারটি তো আমার প্রজন্ম নিজের চোখের সামনেই দেখলাম। যখন স্কুলে যেতাম কেউ যদি আমাকে বলতো একদিন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, আমি কোনও দিনও বিশ্বাস করতাম না। আমাদের আগের প্রজন্মের মানুষদের ইতিহাসের বাঁক ঘোরার সাক্ষী হওয়ার অভিজ্ঞতাটি অবশ্য অত সুখকর ছিল না। তারা নিজের চোখে দেখেছে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ওপর তৈরি হওয়া একটি জাতি আস্তে আস্তে ভুল পথে চলে যেতে থাকে।

শিবের গীতের জন্য দুঃখিত। এখন আমি কিছু সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা বলবো।

প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী: ধরা যাক শেখ হাসিনার অবসরের পরও আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে টিকে আছে।

রাজনীতি মূলত আদর্শনির্ভর। আর শীর্ষনেতার জীবনাচরণ হলো সেই আদর্শের আয়না। কাজেই নেতৃত্বে যখন পরিবর্তন আসবে, তার প্রভাব সেই রাজনৈতিক দলে পড়তে বাধ্য। কল্পনা করুন অন্য একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে, যিনি যুদ্ধাপরাধের রায় বাস্তবায়নের সময় দলের শীর্ষে ছিলেন শেখ হাসিনার পরিবর্তে। কল্পনা করুন গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ফোন দিচ্ছে গোলাম আযমের ফাঁসি স্থগিত করার জন্য। কল্পনা করুন সত্তরের নির্বাচন কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু নন, আছেন মওলানা ভাসানী আর তার অতি বিখ্যাত বহুরূপী চরিত্র। কল্পনা করুন ১৯৭১ সালের নয় মাস আর প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে আছেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ! এসব কিন্তু হতেই পারতো। এই বিকল্প নেতৃত্বগুলোর প্রত্যেকেই কিন্তু সেই অবস্থানের খুব কাছেই ছিলেন। তাহলে ইতিহাসটি কেমন হতো? এই বাংলাদেশ কেমন হতো? এই বাংলাদেশ কি আদৌ হতো? আপনি আজকে তাহলে কী হতেন? কোথায় থাকতেন? কাজেই আমি লিখে দিতে পারি, শেখ হাসিনার অবসরের পরে আওয়ামী লীগ আর আগের মতো থাকবে না। থাকাটা ভালোও না। কিন্তু নতুন আওয়ামী লীগ ভালো হবে না খারাপ হবে সেটিই হলো প্রশ্ন। শুরুতে বলা শেষ দলটির সদস্য হিসেবে নতুন আওয়ামী লীগের জন্য কি আপনি প্রস্তুত?

দ্বিতীয় ভবিষ্যদ্বাণী: ধরা যাক আওয়ামী লীগ আর একটি দল থাকবে না, একাধিক ছোট ছোট দলে পরিণত হবে।

এটি ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে খুব একটা খারাপ লাগে না। বাজারে যদি একাধিক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল থাকে তাহলে তাদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা হবে এবং কাস্টমার হিসেবে আমি কম দামে ভালো জিনিস পাবো। তবে সমস্যা হচ্ছে সেই ছোট দল থেকে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার পর্যায়ে যেতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু গড় আয়ু মাথায় রাখলে আমি পাবো আর কেবল সাতটি নতুন সরকার। এরমধ্যে অর্ধেক যদি আমার আদর্শের হয় তাহলে মাত্র তিনটি আমার পছন্দের সরকার। মাত্র তিনটি নির্বাচন, তিনটি বাজেট আমার জীবদ্দশায় যেখানে আমি ভোটার হিসেবে এই দেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ উদার গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য মত প্রকাশ করতে পারবো। জীবন এত ছোট ‘কেন’!

তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী: দীর্ঘ সময়ের জন্য এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকা।

সত্যি কথা বলতে কী, এটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি মাথায় রাখা উচিত। কথায় বলে, শুধু স্বপ্ন দেখো না, স্বপ্নভঙ্গের প্রস্তুতিটিও রেখো।  আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায় যেকোনও ক্ষমতাশীল দলের মূল চর্চা হলো নাগরিকদের হতাশা ব্যবস্থাপনা। এর অর্থ হলো নাগরিকদের হতাশা কখনও এমন পর্যায়ে যেতে না দেওয়া যে রাস্তায় নামলে আমার নেতাকর্মীরা (মতান্তরে দলীয় সন্ত্রাসীরা) ‘সামলাতে’ পারবে না।

আজকে আমি যদি এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতা হই আমার কৌশল কী হওয়া উচিত? একজন আরাম-কেদারাভিত্তিক রাজনীতি-বিশ্লেষক হিসেবে আমার অনুমান হলো, আমার প্রথম কাজ নাগরিকদের হতাশার আগুনে ঘি ঢালা। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে হতে পারে, নির্বাচনে জোচ্চুরি নিয়ে হতে পারে। অথবা হঠাৎ যদি বাংলাদেশ যদি আবারও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে সেটিরও সুযোগ নেওয়া যেতে পারে!

আরেকটি বুদ্ধি হতে পারে এর সঙ্গে নতুন রক্ত আর নতুন মুখ নিয়ে আসা। আমরা যারা এরকম কিছু সাম্প্রতিক ব্যর্থ চেষ্টা নিয়ে হাসাহাসি করি, তাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, এগুলো হলো রাফ খাতা তাই এগুলো সামনে আসছে। নোট খাতায় দুই রঙের কলমে গোটা গোটা অক্ষরে সুলিখিত পরিকল্পনা হচ্ছে না এরকম কেউ যদি ভাবে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো তখনই ক্ষমতায় আসতে পেরেছে যখন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো আকণ্ঠ দুর্নীতি আর অদক্ষতায় নিমজ্জিত হয়েছে।

আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি হবে সম্পূর্ণ নতুন চকচকে একটি রাজনৈতিক দল- ঠিক জেনারেল জিয়ার মতো চকচকে। তাদের কাজ কিন্তু খুব বেশি কঠিন না। তাদের মূল কাজ দেশের শতভাগ মানুষকে আস্থায় আনা নয়। তাদের মূল কাজ হলো দশ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটারকে একটু এই ভাবনার অবকাশ দেওয়া যে আচ্ছা এদের একটু সুযোগ দিয়ে দেখিই না! আর একবার ক্ষমতায় আসতে পারলে তাদের প্রধান কাজ হবে একটি আদর্শিক ভিত্তি তৈরি করার কাজ শুরু করা। মুশতাকের নৈতিকতা সপ্তাহ আর জেনারেল জিয়ার উনিশ দফার কথা মনে আছে? পাশাপাশি কী হবে? আগেরবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পুনর্লিখন হয়েছিল। এবার হবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইতিহাসের পুনর্লিখন। আর আমাদের পরের প্রজন্ম পাঠ‌্যবইয়ে পড়বে ‘মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আযমে’র কথা যে ন্যায়বিচার পায়নি!  এই ব্যাপারে আপনার প্রস্তুতি কী?

এবার কিছু সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের কথা বলি।

প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী: দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির গতি এখনকার মতোই থাকবে।

এটি আসলে প্রায় অসম্ভব এবং খুব সম্ভবত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় প্রায় অবধারিত। সরকার যখন পাল্টায় তাদের প্রাধিকার পাল্টায়। তা না হলে আর রাজনৈতিক আদর্শের পার্থক্য কোথায় থাকলো? যদি শেখ হাসিনার অবসরের পরে এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনৈতিক দল আসে অথবা একাধিকভাগে ভাগ হওয়া আওয়ামী লীগের একটি অংশ যদি ক্ষমতায় থাকে ও সামাজিক ডানপন্থার দিকে সরে যায় তাহলে সেটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিশাল পরিবর্তন আনতেই পারে। আমাদের মূল সমস্যা কিন্তু জিডিপির সূচক বাড়ানো নয়। এটি বাড়ানো ভালো তবে এটি আসলে কাজের শুরু নয়, শেষ। সরকারের মূল কাজ হলো সম্পদের বৈষম্য কমানো।

একটি জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হয়, সুযোগ সম্পদের সমানুপাতিক নয়, সূচক হিসেবে কাজ করে। কাজেই যারা টাকা বেশি তার সন্তান সেই হারে বেশি সুযোগ পায় না, বরং তার টাকার সূচক পরিমাণ বেশি সুযোগ পায়। এই ঘাটতি মেটানোই সরকারের কাজ। সরকার যদি না মেটাতে পারে কী হবে? আপনার জীবদ্দশাতেই তরুণরা বিদ্রোহ করবে! তাদের কথা শুনতে আপনি বাধ্য হবেন। নিজে অনেক টাকা বানালেও অবসর আর পাবেন না। জানালা বন্ধ রাখলেও রাস্তা থেকে স্লোগানের আওয়াজ ঠিকই ভেসে আসবে। কাজেই আমরা যদি বেশি সুযোগপ্রাপ্ত হই এবং পরিণত বয়সে শান্তিতে থাকতে চাই, তাহলে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো নিজের চেয়ে কম সুযোগপ্রাপ্ত তরুণ বা তরুণীটিকে তার সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া। আপনার প্রিয় দল যদি বিগড়ে যায় আর সেটি না করে, তার জন্য আপনার প্রস্তুতি কি?

দ্বিতীয় ভবিষ্যদ্বাণী : অন্ধকারের দশক।

ধরা যাক শেখ হাসিনার অবসরের পর সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ ব্যাপারটিই ঘটলো। অর্থাৎ নতুন আওয়ামী লীগ তার সঠিক রাস্তাটি খুঁজে পাচ্ছে না আর প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সেই সুযোগে ক্ষমতার দখল নেওয়ার প্রস্তুতিটি নেই। তখন কী হবে? যেটি হবে সেটি হলো অস্থিতিশীল অর্থনীতি। এটি কিন্তু আপনার অপছন্দের দলের ক্ষমতায় থাকার মতো না! ব্যবসায়ী, চাকরিদাতা, ও চাকরিজীবী- সবাই পছন্দ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। এর মানে হলো আপনি আপনার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারছেন। হয়তো সরকার আপনার পছন্দের না কিন্তু অন্তত আপনি আপনার অবসর কীভাবে নিশ্চিন্তে কাটাবেন তার বুদ্ধিটি জানেন। আপনি যদি তরুণ হন ও সরকার যদি আপনার অপছন্দের হয়, অন্তত কীভাবে সেটি পাল্টাবেন তার একটি পরিকল্পনা করতে পারছেন। কিন্তু যদি দেশ কে চালাচ্ছে, কীভাবে চলছে, সামনে কী হবে এরকম ব্যাপারটিই যদি বুঝতে পারা না যায় তাহলে কী হবে? একটু আশপাশে দেখুন। এরকম দেশ এখনই আপনি অন্তত হাফডজন পাবেন। শুধু তাই-ই নয়, আমাদের নিজেদের দেশেই এরকম অনেক আর্থসামাজিক বৃত্ত আছে, যেখানে তরুণ-তরুণীদের ধারণা এই দেশে তাদের কোনও ভবিষ্যৎ নেই।

প্রতি বছর হাজার হাজার ছেলেমেয়ে শখ করে চিরস্থায়ীভাবে দেশত্যাগ করে না! এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় তাহলে বিনিয়োগ ও বেসরকারি চাকরির বাজারে নামবে ধস! তখন কী হবে? আপনি কি তার জন্য প্রস্তুত?

আমি ‘দশক’ শব্দটি ব্যবহার করেছি এই অনুমানে যে যেভাবেই হোক পরবর্তী দশ বছরে যেকোনও একটি আদর্শের দল ‘অনেক হয়েছে, আর না’ এই মানসিকতার সদ্ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসবে এবং সেটি সুসংহত করবে।

আমি অনেক সম্ভাব্যতার কথা বললাম। আমাকে অনেকে ভুল বুঝতে পারেন যে কেন আমি ভীষণ হতাশার কিছু সম্ভাবনার কথা বলছি? আসলে আমি হতাশার কথা বলছি না, এগুলো আসলে ভীষণ আশাবাদ, সম্ভাবনা আর কাজ করার জায়গা। এই চ্যালেঞ্জগুলোই কিন্তু আমাদের যার যার পছন্দের আদর্শের রাজনৈতিক দলগুলোতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করবে। শেরেবাংলা আর সোহরাওয়ার্দী যদি সব কাজ শেষ করে ফেলতেন, তাহলে কি আমরা বঙ্গবন্ধুকে পেতাম? কিন্তু যেকোনও নেতৃত্বের জন্য লাগে সুযোগ্য সমর্থক আর কর্মী বাহিনী। তাঁর অবসরের পরে আপনি কি প্রস্তুত?

লেখক: তত্ত্বীয় কোয়ান্টাম বিজ্ঞানী, আইবিএম থমাস জে. ওয়াটসন রিসার্চ সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্র।  সদস্য, বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কমিটি
/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

চিত্রনায়ক ইমনকে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদ

চিত্রনায়ক ইমনকে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদ

ডা. মুরাদ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন, জানালেন সভাপতি-সম্পাদক

ডা. মুরাদ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন, জানালেন সভাপতি-সম্পাদক

‘ছাত্রনেত্রীদের নিয়ে করা মন্তব্যগুলো বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক’

‘ছাত্রনেত্রীদের নিয়ে করা মন্তব্যগুলো বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক’

মুরাদ হাসানকে গ্রেফতারের দাবি এলডিপির

মুরাদ হাসানকে গ্রেফতারের দাবি এলডিপির

তিন বছরেও শেষ হয়নি মুজিব কিল্লার কাজ, বাড়ছে মেয়াদ

তিন বছরেও শেষ হয়নি মুজিব কিল্লার কাজ, বাড়ছে মেয়াদ

মোনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টারের অনুমোদন দেয়নি ইউজিসি

মোনাশ কলেজের স্টাডি সেন্টারের অনুমোদন দেয়নি ইউজিসি

ভারত সফরে পুতিন

ভারত সফরে পুতিন

ডা. মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ, ‘খুশি’ জামালপুরের আ.লীগ নেতারা 

ডা. মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ, ‘খুশি’ জামালপুরের আ.লীগ নেতারা 

পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে সোমবার

পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে সোমবার

চোখ ধাঁধানো গোল, অথচ জানতেনই না খেলতে পারবেন

চোখ ধাঁধানো গোল, অথচ জানতেনই না খেলতে পারবেন

সু চি-র কারাদণ্ডের মেয়াদ কমালো মিয়ানমারের জান্তা সরকার

সু চি-র কারাদণ্ডের মেয়াদ কমালো মিয়ানমারের জান্তা সরকার

চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে, পদ থেকে অব্যাহতি

চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে, পদ থেকে অব্যাহতি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune