বাংলাদেশে আল কায়েদা নেটওয়ার্ক

Send
দীপু সারোয়ার
প্রকাশিত : ১১:৫৫, এপ্রিল ২৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২২, জুন ০১, ২০১৭

দীপু সারোয়ারসম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবর নজর কেড়েছে আমার। ‘বাংলা ট্রিবিউন’ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটির শিরোনাম হলো ‘আল কায়েদার বাংলাদেশ প্রধান আফগানিস্তানে নিহত’।
মঙ্গলবার ইন্টারনেট নির্ভর যোগাযোগ অ্যাপ ‘টেলিগ্রামে’ প্রচার হওয়া একটি অডিওবার্তার সূত্র ধরে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরই মূলত বাংলাদেশের গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। এর ইংরেজি লেখ্য ভাষ্যও প্রকাশ হয়েছে। এটি মূলত আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার প্রধান অসীম উমরের বিবৃতি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের কান্দাহারে আল কায়েদার হয়ে লড়াই করার সময় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জিহাদি তারিক ওরফে সোহেল নিহত হয়েছেন। তবে ঠিক কবে তারিক ওরফে সোহেল নিহত হয়েছে তার উল্লেখ নেই বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় ‘আমাদের প্রিয় যে ভাইটি ঢাকার চাকচিক্য ছেড়ে ওয়াজিরিস্তানে হিযরত করেছিলেন, সেই তারিক ভাই (আল কায়েদার বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান) কান্দাহারের মরুভূমিকে জিহাদের আলোয় পবিত্র করতে গিয়ে মারা গেছেন।’
প্রকাশিত সংবাদটি পাঠের পর জামা’ আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করা এক তারিকের কথাস্মরণে এসেছে আমার।  গ্রেফতার হওয়ার পর শায়খ রহমান যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলে আল কায়েদার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সমন্বয়কারী তারিক নামে একজনের সাথে তার সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে। জঙ্গি খালেদ সাইফুল্লাহ তারিকের সাথে শায়খ রহমানের সাক্ষাতের বিষয়টি সমন্বয় করে।

ওই তারিকই কান্দাহারে নিহত তারিক ওরফে সোহেল কিনা সে বিষয়ে অবশ্য নিশ্চিন্তই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ছাড়া আর কারও বক্তব্যও এখানে গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও মনে করি। তবে শায়েখ রহমানের উল্লেখ করা তারিকই যদি কান্দাহারে নিহত তারিক হয় এতে অবাক হবো না।

২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেটের পূর্ব শাপলাবাগের ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ থেকে গ্রেফতার হয় জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমান। আর ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর সংঘটিত ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ে হত্যা মামলায় শায়খ রহমানের ফাঁসি কার্যকর হয় ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ। গ্রেফতার হওয়ার পর শায়খ রহমানকে বিরামহীন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শায়খ রহমান জানায়, ‘১৯৯৮ সালে ঢাকার মাদারটেকে তারিক নামে একজনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তারিকের গ্রামের বাড়ি ফেনী। আল কায়েদার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সমন্বয়কারী সে।’

জিজ্ঞাসাবাদে শায়খ রহমান আরও জানায়, ‘ওই আলোচনায় আমি আমার সংগঠনের উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত অবগত করি। আমরা তার কাছে আল কায়েদার বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাই। সে জানায়, উসামা বিন লাদেন বর্তমানে সৌদি আরব ভিত্তিক জিহাদ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কথা শুনে তাঁর কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। তখন সে জানায়, সে সৌদি আরবে যাওয়ার পর আমাদের জানাবে। সে আরও জানায়, এখনও বাংলাদেশে জিহাদের পরিবেশ তৈরি হয়নি। এখানে জিহাদের ক্ষেত্র তৈরি হতে আরও সময় লাগবে। আপনারা কাজ করতে থাকেন।’

দীপু সারোয়ার, বিশেষ প্রতিনিধি, একুশে টেলিভিশন

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

 
 
 
 

লাইভ

টপ