আয়কর আইন ও করদাতার দায়

Send
মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন
প্রকাশিত : ১৮:০৭, অক্টোবর ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৯, অক্টোবর ২৬, ২০২০

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনঅর্থ আইন ২০২০-এ আলোচিত একটি বিষয় ছিল অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা করলে কর রেয়াতের খবর। কিন্তু অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে নানাবিধ জটিলতার কারণে কর্তৃপক্ষ অনলাইনের এ সেবাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।  
ফলে এ বছর আর অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে না। সুতরাং আমাদের নজর দিতে হচ্ছে ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর। এ বছর আরেকটি খারাপ সংবাদ হলো করোনাভাইরাসের কারণে কর মেলা বন্ধ থাকছে। সুতরাং আয়কর দেওয়ার জন্য করদাতাদের স্ব-স্ব সার্কেলে যাওয়া ছাড়া আর উপায় নেই। এই সকল বাস্তবতার আলোকে আইনগতভাবে করদাতাদের দায় অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি। আমার আজকের লেখাটিও করদাতাদের দায় নিয়ে। 
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাদের জন্য বাধ্যতামূলক:   

প্রথমে জানা দরকার কারা বা কোন স্তরের নাগরিকগণ আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন। সাধারণভাবে কোনও ব্যক্তি-করদাতার আয় যদি বছরে ৩,০০,০০০ টাকার বেশি হয় তবে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তবে নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সের করদাতার আয় যদি বছরের ৩,৫০,০০০ টাকার বেশি হয়, প্রতিবন্ধী  করদাতার আয় যদি ৪,৫০,০০০ টাকা হয়, গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার বার্ষিক আয় যদি ৪,৭৫,০০০ টাকা হয়, তাহলে এই সকল করদাতাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

তবে ওপরে বর্ণিত করদাতা ছাড়াও যে সকল ব্যক্তি করদাতাকে সংশ্লিষ্ট আয় বছরের রিটার্ন দাখিল করতে হবে: 

১. তিনি যদি কোনও ফার্মের অংশীদারি হন; 
২. আয় বছরের পূর্ববর্তী তিন বছরের মধ্যে যেকোনও বছর করদাতার কর নির্ধারণ হয়ে থাকে বা তার আয় করযোগ্য হয়ে থাকে; 

৩. কোনও কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হন; 

৪. কোনও ফার্মের অংশীদারি হন; 

৫. সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা কোনও বিধিবদ্ধ আইন বলে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারী হয়ে বছরে যেকোনও সময়ে ১৬,০০০ টাকা বা ঊর্ধ্বে মূল বেতন আহরণ করে থাকেন;

৬. কোনও ব্যবসায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) বেতনভোগী কর্মকর্তা বা কর্মচারী হন;

৭. আয় বছরে করদাতার আয়কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য হয়ে থাকে; 

৮. মোটরগাড়ির মালিক থাকা (মোটরগাড়ি বলতে জিপ বা মাইক্রোবাসকেও বুঝাবে); 

৯. মূল্য সংযোজন কর আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনও ক্লাবের সদস্য পদ থাকা; 

১০. কোনও সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোনও ব্যবসা বা পেশা পরিচালনাকারী; 

১১. চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ‌্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ‌্যাকাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসেবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোনও স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার নিবন্ধন থাকা; 

১২. আয়কর পেশজীবী হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে নিবন্ধন থাকা;

১৩. কোনও বণিক বা শিল্প বিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্য পদ থাকা;

১৪. কোনও পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কোনও পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া; 

১৫. কোনও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা সরকারের কোনও টেন্ডারে অংশগ্রহণ করা; 

১৪. কোনও কোম্পানি বা কোনও গ্রুপ অব কোম্পানির পরিচালনা পরিষদে থাকা; 

১৫. মোটরযান, স্থান বা অন্য কোনও সম্পদের মাধ্যমে কোনও অংশীদারি কারবারে অংশগ্রহণ করা; 

১৬. লাইসেন্সধারী অস্ত্রের মালিক; 

১৭. সকল টিআইএনধারী ব্যক্তি। 

যেসকল ব্যক্তির আয়কর বিবরণী বা আয়কর রিটার্ন দিতে হবে না: 

১. করযোগ্য আয় নাই; কিন্তু জমি বিক্রির জন্য ইটিআইএন গ্রহণ করেছে;

২. করযোগ্য আয় নাই, কিন্তু ক্রেডিট কার্ড গ্রহণের জন্য ১২ ডিজিট ইটিআইএন নিয়েছেন; 

৩. এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; 

৪. সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়;

৫. কোনও তহবিল বা অনাবাসী ব্যক্তি বিশেষ নন এরূপ অনিবাসীর বাংলাদেশে কোনও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান নাই;

৬. অনিবাসী ব্যক্তি যার দেশে কোনও স্থায়ী ঠিকানা বা ভিত্তি নাই; 

৭. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক সরকারি গেজেট আদেশভুক্ত কোনও শ্রেণির ব্যক্তি। 

পূর্বে উপস্থাপন হয়নি এরূপ সম্পত্তি (জমি, নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা ও ফ্ল্যাট ইত্যাদি) আয়কর রিটার্নে দেখাবেন যেভাবে: 

আমাদের কাছে অনেকে প্রশ্ন করেন ক্রয়কৃত জমি, গাড়ি বা ফ্ল্যাট আয়কর বিবরণীতে আগে দেখাননি, এখন করণীয় কী? অর্থ আইন ২০২০-এ জাতীয় সম্পত্তি প্রদর্শন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনও করদাতা যদি পূর্বের কোনও বছরে ক্রয়কৃত জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন, কিন্তু ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলে তা আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শন করেননি। তিনি উক্ত ক্রয়কৃত সম্পত্তি কতিপয় শর্তে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আয়কর বিবরণীতে দেখানোর সুযোগ পাবেন। একইভাবে নগদ অর্থ বা ক্রয়কৃত স্বর্ণ বা অলঙ্কার ইত্যাদি ১০% হারে ট্যাক্স পরিশোধ করে এ বছর আয়কর বিবরণীতে দেখাতে পারবেন। এজন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে। যেমন—১. রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ওপর নির্ধারিত আয়কর জমা দিতে হবে; ২. পহেলা জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২১ সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন বা সংশোধনী রিটার্ন জমা দিতে হবে; ৩. রিটার্ন বা সংশোধনী রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখে বা তার পূর্বে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর অধীন কর ফাঁকির অভিযোগে কোনও কার্যধারা বা অন্য কোনও আইনে আর্থিক বিষয়ে কোনও কার্যধারা চালু হলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।      

সম্পত্তি বা নগদ অর্থ আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হলে যে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে: 

১. যেক্ষেত্রে নগদ প্রদর্শন করা হবে সেক্ষেত্রে তা ৩০ জুন ২০২০-এ আইটি ১০বিএ নগদ, ব্যাংক বা ব্যবসায়ের পুঁজি হিসেবে প্রদর্শন করতে হবে। 

২. অপ্রদর্শিত জমি, ফ্ল্যাট বা বিল্ডিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দলিল মূল্যের ওপর স্কয়ার ফিট হিসেবে নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হবে। কোনও অবস্থায় এই সকল সম্পত্তিকে নগদ মূল্য হিসেবে দেখিয়ে ১০% হারে কর বা শতাংশ হারে কর পরিশোধ করা যাবে না; নির্ধারিত বর্গমিটার অনুসারে কর পরিশোধ করতে হবে। 

৩. এই পদ্ধতিতে সম্পদ আয় বিবরণীতে প্রদর্শন করলে কোনও প্রকার ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন হবে না। দাখিলকৃত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন সম্পদ বিবরণীর অংশে যথাস্থানে প্রদর্শন করে ‘অন্যান্য প্রাপ্তির ঘরে’– এতদসংক্রান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। 

৪. দাখিলকৃত আয়কর বিবরণীতে বা সংশোধিত আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পত্তি আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর অন্য কোনও ধারায় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

কোনও করদাতার বিগত কর বছরের আয় রিটার্নে দেখানো বাদ পড়লে কী করবেন:

আয়কর অধ্যাদেশের ১৯ ধারার বিধান মতে অন্য যেকোনও বিধানই থাকুক না কেন, যদি কোনও ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর অবতারণা হয়, তাহলে তার আয় প্রকাশ করবেন যে উপায়ে:

আইনে বর্ণিত বিষয়টির সংক্ষিপ্ত কথা হলো—কর নির্ধারণী বর্ষ বা বর্ষসমূহের মধ্যে আয়কর বিবরণী ঘোষণা যা ইতোপূর্বে সম্পাদন করা হয়নি; বা তিনি রিটার্ন দাখিল করেননি; তিনি বর্তমান বছরের রিটার্নে বাদ পড়েছেন এমন আয় নির্ধারিত কলামে দেখাতে পারবেন; 

এছাড়া আলাদা ঘোষণার মাধ্যমেও বাদ পড়া আয় নির্ধারিত কর ও জরিমানা জমা দিয়ে আয়কৃত অর্থের বৈধতা আনতে পারেন। এরূপ বাদপড়া আয় বা বিগত রিটার্ন জমা দেননি এমন ব্যক্তির আয়কর রিটার্নের সঙ্গে নিম্নেবর্ণিত বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র সংযোজন করতে হবে: ১. ঘোষণা প্রদানকারীর নাম; ২. ঘোষণাকৃত আয়ের খাত এবং তদুক্ত টাকার পরিমাণ এবং ৩. ঘোষণাধীন কর ও জরিমানার পরিমাণ। 

যে সকল আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত এবং মোট করযোগ্য আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে না:

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১৪৪(১)-এর ৬ষ্ঠ তফসিলের “ক” অংশ অনুযায়ী) 

আয়করদাতাগণকে মনে রাখতে হবে এমন কতগুলো আয় আছে যার ওপর আয়কর ধার্য হয় না। এরূপ আয় সম্পর্কে তফসিল ও বিধিবিধানে যা উল্লেখ আছে তা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো—

ট্রাস্ট বা আইনগত বিধি ও বাধ্যবাধকতার অধীনে সম্পূর্ণভাবে দাতব্য বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ধারণকৃত গৃহ-সম্পত্তি হতে অর্জিত আয় এবং অনুরূপ ধারণকৃত গৃহ-সম্পত্তির অংশবিশেষের জন্য কেবলমাত্র অনুরূপ উদ্দেশ্যে ব্যয়কৃত আয় বা অনুরূপ উদ্দেশ্যে চূড়ান্তভাবে ব্যয় করার উদ্দেশ্যে পৃথক করে রাখার আয়। 

উল্লেখ্য যে, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

যেক্ষেত্রে কোনও আয়বর্ষের কোনও আয় দাতব্য বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয় না বা ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে বিবেচিত হয় না, কিন্তু ওই আয় বাংলাদেশে একইরূপ উদ্দেশ্য সাধনকল্পের পুঞ্জীভূত করা হয় বা চূড়ান্তভাবে পৃথক করে রাখা হয়; সেক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তে আয় গ্রহণকারী ব্যক্তির আয় আয়করের জন্য বিবেচিত হবে না বা করমুক্ত আয় হিসেবে গণ্য হবে: 

ক) ওই ব্যক্তি কী কারণে উক্ত আয়কৃত অর্থ পুঞ্জীভূত করে রাখবেন (যা ১০ বছরের বেশি হতে পারবে না) তার একটি লিখিত ব্যাখ্যাসহ নোটিশ আকারে উপ-কর কমিশনারকে অবহিত করে রাখবেন এবং উক্ত নোটিশের প্রাপ্তি স্বীকার কপি নিজের কাজে সংরক্ষিত রাখবেন; খ) অনুরূপ পুঞ্জীভূত অর্থ পৃথক করে রাখার মানে হলো—সরকারি সিকিউরিটিতে অথবা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অন্য যেকোনও সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করা; বা পোস্ট অফিস সঞ্চয় ব্যাংকের যেকোনও অ‌্যাকাউন্টে জমা রাখা; বা তফসিলভুক্ত যেকোনও ব্যাংকে রাখা, যে ব্যাংকের ৫১% শেয়ার সরকারের মালিকানা রয়েছে। 

যেক্ষেত্রে কোনও আয় যা-দাতব্য বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ভিন্ন উদ্দেশ্যে পৃথক করা রাখা হয়েছে বা বিনিয়োগ করা হয়েছে; 

যা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর একই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় নাই; এরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আয় ব্যক্তির করযোগ্য   আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে; অর্থাৎ উক্ত আয় করমুক্ত আয় হিসেবে গণ্য হবে না। 

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কোনও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার ক্ষুদ্র ঋণ কর্মকাণ্ডের হতে উদ্ভূত যেকোনও সার্ভিস চার্জ। এনজিওগুলোর মাইক্রোক্রেডিট অপারেশনের আয়ের ওপর কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ৬ষ্ঠ তফসিলের পার্ট-এ এর প্যারায় ১-এ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে নিবন্ধিত এনজিওগুলোর মাইক্রোক্রেডিট অপারেশন থেকে উদ্ভূত সার্ভিস চার্জকে সম্পূর্ণ করমুক্ত আয় হিসেবে গণ‌্য করার বিষয়টি সুস্পষ্ট করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত সার্ভিস চার্জ ব্যতীত অন্য সকল প্রকার আয়করযুক্ত আয় হিসেবে গণ্য হবে এবং পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে। এই বিধান ২০১৪-২০১৫ কর বছর থেকে কার্যকর রয়েছে। স্থানীয় সরকারের আয়। ভবিষ্যৎ তহবিল আইন, ১৯২৫ এর অনুবলে যেকোনও ভবিষ্যৎ তহবিলের আয়করমুক্ত আয় হিসেবে গণ্য হবে, বিশেষ ভাতা বা সুবিধাদি; স্বীকৃত প্রভিডেন্ড ফান্ড বা সুপার অ‌্যানুয়েশন ফান্ড বা অনুমোদিত গ্র্যাচুয়িটি ফান্ডের পক্ষে ট্রাস্টি কর্তৃক প্রাপ্ত হয়েছে এরূপ আয়; কোনও রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মন্ত্রী, কমিশনার তাদের অনুরূপ যোগ্যতার চাকরির সূত্রে সংশ্লিষ্ট সরকার হতে প্রাপ্ত বেতনাদি: একজন করদাতা কর্তৃক প্রাপ্ত অবসর ভাতা ইত্যাদি। 

একজন করদাতাকে আবশ্যিকভাবে লক্ষ রাখতে হবে যে—এমন কতগুলো কারণ রয়েছে যেসব কারণে আয় না হওয়া সত্ত্বেও প্রাপ্ত অর্থ আয় হিসেবে গণ্য হবে: 

সেলামি বা প্রিমিয়াম (ধারা-১৯ (৯): কোন করদাতা কর্তৃক লিজের মাধ্যমে কোনও সেলামি বা প্রিমিয়াম হিসেবে কোনও আয় বছরে এককালীন কোনও অর্থ আয় করে থাকেন বা অর্জনের সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে যে বছর ওই অর্থ পাওয়া যাবে সে আয় বছরে করদাতার আয় হিসেবে গণ্য করতে হবে। এই জাতীয় আয় করদাতার ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে গণ্য হবে। এরূপ আয় করদাতার ইচ্ছানুযায়ী পরপর কয়েক বছর দেখানো যেতে পারে; তা অবশ্যই যেন পাঁচ বছরের বেশি না হয়। 

ঋণ ফেরত না দেওয়ার ফলে আয় (ধারা-১৯(২১):কোন ব্যক্তি করাদাতা যদি কোন ব্যক্তির মাধ্যেমে নগদে কোন কোন ঋণ গ্রহণ করে থাকেন এবং তিন বছরের মধ্যে উক্ত ঋণ পরিশোধ না করে থাকেন; তাহলে তৃতীয় বছরের পরবর্তী বছর অর্থাৎ চতুর্থ বছর থেকে উক্ত ঋণ করাদাতার অন্যান্য খাতের আয় হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমান উপধারায় বর্ণিত নির্দেশনা মোতাবেক কোনও ঋণের আংশিক যদি পরিশোধ করা হয়ে থাকে; তাহলে ওই অংশ আয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাদ দিতে হবে। 

ঋণ বা দান গ্রহণ করিলে (ধারা ১৯ (২১ক):

কোনও করদাতার যেকোনও আয় বছরের মধ্যে ঋণ বা দান হিসেবে কোনও অর্থ গ্রহণ করে থাকেন এবং তা ব্যবসায়ের প্রারম্ভিক পুঁজি হিসেবে দেখানো হয়ে থাকে তাহলে ওই আয় বছরে সংশ্লিষ্ট করদাতার অন্যান্য ক্ষেত্রের আয় হিসেবে গণ্য হবে। 

ঋণ বা দান প্রদান করিলে (ধারা-১৯৯(২১খ): কোনও অর্থবছরে যদি কোনও করদাতা তার থেকে কোনও ব্যক্তিকে ঋণ বা দান করে থাকেন এবং এই দানের বা ঋণের টাকা যে বছরের প্রদান করা হয়েছে তা ঐ বছরের তার আয় হিসাবে গণ্য হবে এবং করদাতার অন্যান্য খাতের আয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করতে হবে। 

যারা প্রথম আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন তাদের প্রতি পরামর্শ:

আপনি বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। এদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় সরকার কর্তৃক গৃহীত সকল ধরনের উন্নয়নের একজন উপকারভোগী আপনি। আপনার সামর্থ্য আছে; তাই আপনি সরকারকে আয়কর দিচ্ছেন, এটা আপনাকে সম্মানিত করছে এই জন্য যে, আপনি দেশের উন্নয়নের একদিকে উপকারভোগী অন্যদিকে একজন অংশীদার। অঙ্কের দিক দিয়ে যাই হোক না কেন, আপনি অবশ্যই সরকারের রাজস্ব বা সংগৃহীত তহবিলের একজন দাতা। সুতরাং আপনাকে অবশ্যই স্বাগতম এই মহতী কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য। আপনি প্রথম যে রিটার্নটি দাখিল করবেন; তার জন্য একজন অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। কারণ আপনার অজান্তে কোনও তথ্য যেন বাদ পড়ে না যায়; তাই আপনি কিছুটা সময় নিয়ে সকল তথ্য যাচাই-বাচাই করে আয়কর বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করে রিটার্ন জমা দেবেন। অনেকে নিজে নিজে জমা দিয়ে থাকেন। এটা ভালো। কিন্তু সাবধানতার কোনও মার নাই—কথাটা স্মরণ রাখা এক্ষেত্রে অতীব জরুরি। কারণ প্রথম রিটার্নে কোনও তথ্য বাদ পড়ে গেলে আপনাকে অবশ্যই বাড়তি কিছু জটিলতায় পড়তে হবে। যেমন, এমন কিছু সম্পদ আছে যা আপনার আয় বছরে কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত। কিন্তু আপনি প্রথম রিটার্নে না দেখানোর কারণে নির্ধারিত হারে আয়কর দিয়ে তবে সম্পত্তি আয়কর বিবরণী বা রিটার্নে দেখানোর সুযোগ পেতে পারেন। 

লেখক:  আয়কর আইনজীবী-ঢাকা

[email protected]

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ