X
বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
৪ বৈশাখ ১৪৩১

কোল্ড ওয়ারে পরিণত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:০৩আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:০৩

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ তিন বছরে গড়িয়েছে। রণক্ষেত্রের অচলাবস্থায় ফল নির্ধারণকারী কোনও পরিবর্তন শিগগিরই হবে বলে মনে করছেন না পশ্চিমা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, মূল যুদ্ধ এখন রাজনৈতিক। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাজি ধরছেন পশ্চিমাদের বিভক্তি ও দ্বিধার ওপর। তিনি আশা করছেন, রণক্ষেত্রে তিনি যা অর্জন করতে পারেননি, সেই জয় তার হাতে তুলে দেবে পশ্চিমারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া ও ইউক্রেনের পতনের পরিণতির আশঙ্কায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সহযোগিতার পরিমাণ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় সরকারগুলো। সমন্বিতভাবে তাদের সরবরাহ বা প্রতিশ্রুত অস্ত্রের পরিমাণ ওয়াশিংটনের চেয়ে বেশি। আর্থিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত করলে তা দ্বিগুণ হতে পারে। যুদ্ধের প্রথম দিকের তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন। কিন্তু এই পরিবর্তনও যুদ্ধের গতির ইউক্রেনের পক্ষে আনতে পারেনি।

এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন ও কীভাবে ঘটবে? ক্রেমলিন একরোখাভাবে স্পষ্ট করেছে, ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করলেই কেবল তারা আলোচনায় বসবে। অপর দিকে ইউক্রেন একইভাবে বলেছে, তারা মস্কোর আক্রমণ মোকাবিলা করে যাবে। দুই বছর পরও ইউরোপে শান্তির কোনও ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে না।

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে আগামীতে কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে আটজন বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফরেন পলিসি। তাদের মধ্যে চারজনের বক্তব্য তুলে ধরা হলো-


 

দীর্ঘ যুদ্ধের শঙ্কা

অ্যাঞ্জেলা স্টেন্ট

লেখক: পুতিন’স ওয়ার্ল্ড: রাশিয়া অ্যাগেইনস্ট দ্য ওয়েস্ট অ্যান্ড উইথ দ্য রেস্ট

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ যখন তিন বছরে গড়িয়েছে, চলমান অচলাবস্থা বজায় থাকবে বলে মনে হচ্ছে। কোনও পক্ষ জিতছে না বা হারছে না। রুশরা ব্যাপক হতাহত ও সরঞ্জাম হারিয়ে ইঞ্চি ইঞ্চি করে ভূখণ্ড দখল করছে। ২০২৩ সালের পাল্টা আক্রমণে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ইউক্রেন। তারাও ব্যাপক হতাহতের শিকার হচ্ছে। এই অচলাবস্থায় ক্ষতি হচ্ছে ইউক্রেনের। সম্প্রতি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেনাপ্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনিকে বরখাস্ত করেছেন। সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে নতুন করে সেনা সমাবেশের পথে হাঁটবেন না পুতিন। রাশিয়ার থেকে আয়তনে অনেক ছোট দেশ ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় সেনা সংগ্রহ করা হবে কঠিন কাজ।

যুদ্ধ শুধু সেনা সংখ্যার নয়, বরং অস্ত্রের সরবরাহ অব্যাহত রাখাও। ইরানের কাছ থেকে ড্রোন কিনছে রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কামানের গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আনছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ ও আর্থিক সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ইউক্রেন। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫৪ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা অনুমোদন দিয়েছে। ন্যাটোর ইউরোপীয় দেশগুলো আরও কিছু অস্ত্র পাঠাবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র। কংগ্রেস যদি ৬০ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতায় অনুমোদন না দেয় তাহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ইউক্রেনীয় সামর্থ্য জটিলতায় পড়বে। এমনটি ঘটলে ২০২৪ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে।

পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহ কমে আসছে। ছবি: রয়টার্স

২০২৪ সালে যুদ্ধ অবসানে আলোচনার সম্ভাবনাও খুব বেশি নেই। কোনও পক্ষই নির্ধারক কোনও জয় পায়নি। ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ ছাড়া আলোচনায় বসবে না রাশিয়া। আবার এমন শর্ত কোনও ইউক্রেনীয় নেতা মানতে রাজি হবেন না। চলতি বছরের মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন পুতিন।

এই যুদ্ধের সমাপ্তির ক্ষেত্রে কোরীয় মডেলের কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে যুদ্ধের সাময়িক অবসান থাকতে পারে, কিন্তু কোনও শান্তিচুক্তি হবে না এবং পশ্চিমারা ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে। এর অর্থ হবে স্বাধীন ইউক্রেনকে রাশিয়ার স্বীকৃতি। তবে ক্ষমতায় যত দিন পুতিন আছেন তত দিন এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।


 

দ্বিতীয় শীতল যুদ্ধ

জো ইঙ্গে বেক্কেভল্ড

সিনিয়র চায়না ফেলো, নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন রুশ সেনারা ইউক্রেনে প্রবেশ করে তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্রদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সিনো-রুশ অক্ষের ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়বে। ২০২৪ সালে আমরা শীতল যুদ্ধের অবশেষ বিভক্ত বিশ্বের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।

এই যুদ্ধ চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ককে জোরদার করেছে। এতে মস্কোর ওপর চীনের প্রভাব বাড়িয়েছে। যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা বিশ্বে মূলত বিচ্ছিন্ন মস্কো ক্রমশ চীনের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস রফতানিতে। মস্কোর প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন চীন ও ইউরোপের বিভাজনও বাড়িয়েছে। ইউক্রেন নিয়ে চীনের তথাকথিত শান্তি পরিকল্পনা ইউরোপের প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়েছে। 

রাশিয়ার ওপর ইউরোপের তেল নির্ভরশীলতা একটি দুর্বলতা হিসেবে হাজির হয়েছে। ফলে পশ্চিমারা এখনও চীন নির্ভরতা এড়াতে চাইছে। ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ঝুঁকিমুক্ত করতে চাইছে। বেইজিংও নিজের আত্মনির্ভরতা বাড়াতে চাইছে। শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার আগ্রাসন ইউরোপের ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে বাধ্য করেছে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে আশ্রয় নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করেছে ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আবারও বাড়াতে।

রণক্ষেত্রে ট্যাংকে ইউক্রেনীয় সেনা। ছবি: রয়টার্স

মূল শীতল যুদ্ধের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই ভিন্ন। আজকের সিনো-রুশ অংশীদারিত্ব একটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক পাটাতনে দাঁড়িয়ে আছে, যা সিনো-সোভিয়েত সম্পর্কে ছিল না। একই সঙ্গে ন্যাটো জোটের ঐক্য ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণকে দুর্বল করেছে। কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ওপর দাঁড়াতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে যেতে চাইছে। এসব ঘটনা আলাদা আলাদা বিবেচনা করলে পশ্চিমা ঐক্যের জন্য হুমকি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। 

রাশিয়ার যুদ্ধ পশ্চিমা ব্লকের ক্রমবর্ধমান ফাটলকে তুলে ধরেছে। ইউরোপ এখনও শীতল যুদ্ধ পরবর্তী স্বপ্ন ও ভ্রম কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তিন দশকের শান্তি ও বিশ্বায়নের পর অনেক ইউরোপীয় রাজনীতিক যুদ্ধের বাস্তবতায় জড়াতে চান না। হোক তা রাশিয়ার চলমান আগ্রাসন কিংবা নতুন শীতল যুদ্ধ হিসেবে। 

মস্কোর যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে জাতীয়তাবাদ, জনতোষণবাদ ও বিভাজনে ঊর্ধ্বমুখিতার বিষয়টিও আলোকপাত করছে। যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত শীতল যুদ্ধের সময় মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে পার্থক্যের সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু এখন পশ্চিমা ব্লকে বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে পারার মতো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মস্কো ও বেইজিং।


 

ইউরোপ কী একা পারবে?

ক্রিস্টি রাইক

ডেপুটি ডিরেক্টর, এস্তোনিয়াভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি

রাশিয়ার ২০০৮ সালে জর্জিয়া ও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল মস্কোর আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষার স্মারক হলে ২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ ছিল ইউরোপের ক্রমবর্ধমান ক্ষয়িষ্ণু প্রতিরক্ষার জন্য বৈদ্যুতিক শকের মতো। এরপর এখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  =প্রকাশ্যে ন্যাটোর ইউরোপীয় দেশকে আক্রমণে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

বড় ধরনের স্থল, সাগর, আকাশ ও তথ্য যুদ্ধে ইউক্রেন তৃতীয় বছরে প্রবেশ করছে। রণক্ষেত্রে রাশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারে বলে বাস্তব হুমকি রয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় টান পড়েছে, নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনার অর্থ হলো ইউরোপীয় নেতারা বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। এই পরীক্ষায় ইউরোপ ব্যর্থ হলে রাশিয়া নিজের প্রভাব আরও বাড়াতে উদ্যোগী হবে এবং প্রধান শত্রুকে ন্যাটোকে অবদমনের চেষ্টা করবে। 

মারিউপোলে রুশ সামরিক যান। ছবি: রয়টার্স

ইউরোপীয় নেতারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিত্যাগের কারণে নিজেদের প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো, অস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধি ও ইউক্রেনকে সহযোগিতার মতো প্রকৃত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার পরাজয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। অনেকে চান, রাশিয়ার জয়ী হওয়া উচিত না। আবার ইউক্রেনের হারও তারা চান না। আর পুতিন মনে করেন, সময় তার পক্ষে আছে।

ইউক্রেনের যুদ্ধ জয়ের জন্য ২০২৪ সাল গুরুত্বপূর্ণ। এই বছরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে পুতিনের ইউক্রেন জয়ের আশা বাস্তব রূপ নেবে কিনা। চলতি বছর শেষ হওয়ার পরও ইউক্রেন জিততে পারবে যদি পশ্চিমারা সহযোগিতা বাড়ায় এবং রাশিয়াকে চাপে ফেলতে পারে। মস্কো জিততে পারবে যদি পশ্চিমারা ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ না করে। 


 

পুতিনের ধাপ্পাবাজি উন্মোচনের সময় হয়েছে

অ্যান্ডারস ফগ রাসমুসেন

প্রতিষ্ঠাতা, অ্যালায়েন্স অব ডেমোক্র্যাসিস ও ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব

দুই বছরের যুদ্ধের পর, পশ্চিমা বিতর্কে একটি বিপজ্জনক আখ্যান আবির্ভূত হয়েছে– সংঘাত একটি অচলাবস্থায় রয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে পারে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই মূল্যায়ন ভুল—ইউক্রেনীয় বিজয়ের সুযোগ দৃঢ়ভাবে পশ্চিমাদের কাছে রয়েছে। তবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের ইউক্রেনীয় জয়ের জন্য রাজনৈতিক সাহস দেখাতে হবে।

ইউক্রেনীয় জয় দুটি নীতির ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াকে পরাজিত করার জন্য ইউক্রেনের যা যা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করা; এবং দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের পর একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইউক্রেনের জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা।

পশ্চিমা নেতারা ইউক্রেনের জয়ের জন্য যা যা প্রয়োজন তা সরবরাহ করতে অনেক বেশি দ্বিধায় রয়েছেন। ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব রাশিয়াকে পরিখা খনন এবং প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার সুযোগ দিয়েছে। এতে রাশিয়ার দখল থেকে ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার ইউক্রেনের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।  একইভাবে, একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রস্তুত করতে ব্যর্থতার অর্থ হলো দরিদ্র উত্তর কোরিয়া এবং ব্যাপক নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরানের সহায়তায় গণতান্ত্রিক বিশ্বের সম্মিলিত শক্তিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এটি বাঞ্ছনীয় নয়। নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করে পুতিনকে স্পষ্ট করে জানান দিতে হবে যে, পশ্চিমাদের নিয়ে তার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ব্যর্থ হবে।

২০২৪ সালকে অবশ্যই সেই বছর হতে হবে যে বছর ইউক্রেনের মিত্ররা দেশটির ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এমন পরিকল্পনা তিনটি স্তম্ভের ওপর নির্মিত হওয়া উচিত: দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান এবং ন্যাটো সদস্যপদ। এই বিষয়ে, গত মাসে জেলেনস্কি আমাকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং ইউরো-আটলান্টিক একীকরণের প্রস্তাবগুলো তৈরি করার জন্য একটি নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপের সহ-সভাপতি হতে প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

রুশ হামলার ভয়াবহতার সাক্ষী মারিউপোল। ছবি: রয়টার্স

নিরাপত্তার নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত গ্রীষ্মে লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে জি-সেভেন একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে ধারাবাহিক কাজ করতে সম্মত হয়েছিল। বর্তমানে ৩০টির বেশি দেশ ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করছে। ব্রিটেন জানুয়ারিতে প্রথম নিরাপত্তা চুক্তি চূড়ান্ত করে। এরপর গত সপ্তাহে একই ধরনের চুক্তি করেছে জার্মানি ও ফ্রান্স।

ইইউ’র সদস্যপদ যুদ্ধের পরে ইউক্রেনের পুনর্নির্মাণের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করবে এবং ব্লকের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র নিশ্চিত উপায় হলো ন্যাটোর সদস্যপদ। এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে এখনও অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে।

ন্যাটো নেতাদের বুঝতে হবে যে, যদি ইউক্রেনকে আবারও অপেক্ষমাণ রেখে দেওয়া হয়, তবে এটি কেবল সংঘাত ও অস্থিতিশীলতাকে উৎসাহিত করবে। যেমন সুইডেন ও ফিনল্যান্ড স্বীকার করেছে, যেমনটি ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ দেখিয়ে দিচ্ছে, রাশিয়াকে নিয়ে অস্পষ্টতা বিপজ্জনক।  ওয়াশিংটনে চলতি বছরের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে নেতাদের উচিত পুতিনের ধাপ্পাবাজিকে পাত্তা না দিয়ে ইউক্রেনকে জোটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো। ন্যাটোর সদস্যপদ ইউক্রেন রাতারাতি পেয়ে যাবে না, তবে এটি পুতিনের কাছে একটি দ্ব্যর্থহীন বার্তা পাঠাবে যে, তিনি ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদান ঠেকাতে পারবেন না এবং তার এই যুদ্ধ নিরর্থক। এভাবে, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের আমন্ত্রণ শান্তির পথ প্রশস্ত করতে সহযোগিতা করতে পারে।

/এএ/
টাইমলাইন: ইউক্রেন সংকট
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:০৩
কোল্ড ওয়ারে পরিণত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:৩০
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:০২
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৪
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:০১
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০৪
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২৩:০১
সম্পর্কিত
ইউক্রেনীয় পাইলটদের প্রশিক্ষণরোমানিয়াকে তিনটি এফ-১৬ দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস
ইউক্রেনের চেরনিহিভে রুশ হামলায় নিহত ১৩
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো রাশিয়া
সর্বশেষ খবর
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন: কোন পদে লড়ছেন কে
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন: কোন পদে লড়ছেন কে
মেট্রোরেল চলাচলে আসতে পারে নতুন সূচি
মেট্রোরেল চলাচলে আসতে পারে নতুন সূচি
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী মামা-ভাগনে নিহত
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী মামা-ভাগনে নিহত
বৈশাখী মেলা বসানো নিয়ে দুই ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সংঘর্ষে যুবক নিহত
বৈশাখী মেলা বসানো নিয়ে দুই ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সংঘর্ষে যুবক নিহত
সর্বাধিক পঠিত
‘ভুয়া ৮ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’
‘ভুয়া ৮ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’
হজ নিয়ে শঙ্কা, ধর্ম মন্ত্রণালয়কে ‍দুষছে হাব
হজ নিয়ে শঙ্কা, ধর্ম মন্ত্রণালয়কে ‍দুষছে হাব
এএসপি বললেন ‌‘মদ নয়, রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম’
রেস্তোরাঁয় ‘মদ না পেয়ে’ হামলার অভিযোগএএসপি বললেন ‌‘মদ নয়, রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম’
এবার নায়িকার দেশে ‘রাজকুমার’ 
এবার নায়িকার দেশে ‘রাজকুমার’ 
‘আমি এএসপির বউ, মদ না দিলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেবো’ বলে হামলা, আহত ৫
‘আমি এএসপির বউ, মদ না দিলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেবো’ বলে হামলা, আহত ৫