X
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

রাজধানীতে প্রতি ৭৫ হাজার মানুষের জন্য একটি টয়লেট

মহিউদ্দিন খান রিফাত
২৫ মার্চ ২০২৩, ১৩:২৯আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩, ১৪:১৭

ঢাকা শহরে প্রতিদিন যাতায়াত করে প্রায় এক কোটি মানুষ। বাহিরে চলাচল করা এসব মানুষের জন্য রাজধানী জুড়ে পাবলিক টয়লেট আছে ১৩৩টি। প্রতি ৭৫ হাজার মানুষের জন্য মাত্র একটি। পাবলিক টয়লেট সংকটের কারণে প্রতিদিনই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন মানুষ। যার ফলে রাস্তার পাশে, গাছের আড়াল, এমনকি ফুটপাতেই প্রস্রাব করছেন অনেকে। ব্যবস্থাপনার অভাবে পুরো শহরটাই যেন এখন পাবলিক টয়লেট।

বেসরকারি সংস্থা ওয়াটার এইডের তথ্যমতে, রাজধানী ঢাকায় প্রায় আড়াই কোটি মানুষের বসবাস। এর মধ্যে বসবাসরত ও বহিরাগত মিলিয়ে প্রায় এক কোটি মানুষ প্রতিদিন বাইরে চলাচল করে। কিন্তু বাইরে চলাচল করা মানুষের প্রস্রাব-পায়খানার জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নেই। ঢাকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ ভাগ প্রতিদিন বাইরে যাতায়াত করে। এদের মধ্যে ৫০ ভাগ ভাসমান মানুষ। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করছে। শহরের মোট জনসংখ্যা বিবেচনায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের জন্য রয়েছে একটি পাবলিক টয়লেট। শহরের মোট ভাসমান মানুষ বিবেচনায় প্রায় ৭৫ হাজার জনের জন্য রয়েছে একটি টয়লেট। ঢাকায় মোট ১৩৩টি সচল পাবলিক টয়লেট রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬৩ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭০টি।

দুই সিটি করপোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ৫০টি সচল পাবলিক টয়লেট আছে। এর মধ্যে ২৩টি পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে। আরও নতুন ৫০টি স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। যা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। উত্তরের সবগুলোতে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও দক্ষিণের অধিকাংশগুলোতে নেই। 

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে সর্বমোট পাবলিক টয়লেট আছে ৯০টি। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। সচল ৫০টির মতো। এগুলো আবার সিটি করপোরেশন বেসরকারি পর্যায়ে ইজারা দিয়ে পরিচালনা করছে। সরকারি নজরদারি না থাকায় ইজারাদাররা বেশি টাকা আয়ের জন্য পাবলিক টয়লেটের পানি বিভিন্ন পানি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করছে। অনেকেই আবার টয়লেটগুলোকে মাদক ব্যবসায়ীদের লেনদেনের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে।

সরেজমিন রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, এয়ারপোর্ট, মিরপুর, ফার্মগেট, সদরঘাট, ভিক্টোরিয়া পার্ক, গুলিস্তানসহ উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি জনবহুল এলাকার অল্প কিছু পাবলিক টয়লেট আছে। তার মধ্যে অল্প কিছুর অবস্থা ভালো। ভেতরে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে। কয়েকটিতে রয়েছে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। কিন্তু অধিকাংশ টয়লেটের পরিবেশ নোংরা, দুর্গন্ধ, যত্রতত্র মেঝের ওপর পানি, দেয়াল জুড়ে লেখা অশ্লীল কথা, পানি ব্যবহারের পাত্র ভাঙা, দরজা ভাঙা। নারী-পুরুষের জন্য নেই আলাদা টয়লেট। বাধ্য হয়ে কমন টয়লেট ব্যবহার করছেন নারীরা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে টয়লেট নির্মাণ করছি। তবে কিছু স্থানে জমি সংকট থাকার কারণে প্রয়োজন থাকলেও নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে বর্তমানে ৫০টি সচল পাবলিক টয়লেট আছে। এর মধ্যে ২৩টি পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে। আরও নতুন ৫০টি স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে, যা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। এগুলো চালু হলে টয়লেটের সংখ্যা বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিননের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের সিটিতে নতুন করে যেখানেই সেকেন্ডারি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানেই চেষ্টা করা হচ্ছে একটি করে পাবলিক টয়লেট তৈরির। আর দক্ষিণের নতুন সবগুলো পাবলিক টয়লেটে পুরুষ, নারী, প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাসহ শিশুদের ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণারও থাকবে–এমন ১৫টি পাবলিক টয়লেট এ বছর নির্মাণ করা হবে।

প্রস্রাব করে ফুটপাত নষ্ট করার বিষয়ে তিনি বলেন, এই ব্যাপারগুলো নিয়ে সমাজ কল্যাণ দফতর কাউন্সিলরদের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করা হচ্ছে।

নারীদের ভোগান্তি চরম

ওয়াটার এইডের প্রকল্প কর্মকর্তা জাহিদ আলম বলেন, ব্যবহারযোগ্য টয়লেটের অপ্রতুলতার কারণে পাবলিক টয়লেট সমাজের নারীদের মধ্যে তেমন একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। এর ফলে আমাদের পরিবারের নারীরা কাজের প্রয়োজনে বাহিরে গেলেও টয়লেট ব্যবহার করেন না। তারা পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সারাদিন পানি পান না করা, রেস্টুরেন্টের টয়লেট ব্যবহার করা ইত্যাদি করে থাকে। এর ফলে কিডনির অসুখসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি, পাবলিক টয়লেটের অভাবে নারীরা সুষ্ঠুভাবে আয় বৃদ্ধিতে অংশ নিতে পারছে না। কারণ, যাদের কাজের পরিধি মার্কেট এলাকায় বা নারী পুলিশ, তারা অনেকেই টয়লেটের অভাবে কাজ ছাড়তে বাধ্য হন। আবার তারা যখন আশপাশের বাড়িতে টয়লেট ব্যবহার করতে চান, সেই সুবিধা পান না।

করতে চাইলেও নিরাপত্তা একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যার কারণে বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন বিভিন্ন কাজে বাইরে চলাফেরা করা নারীরা। টয়লেট সংখ্যা সীমিত হওয়ায় নারীদের ভোগান্তি চরম। পুরুষরা যেখানে সেখানে প্রস্রাব করতে পারলেও নারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা তা পারেন না। যার করণে মলমূত্র আটকে রাখতে হয় অনেক সময় ধরে। ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন, মূত্রনালির পাথর, কিডনির সমস্যাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় পড়ছেন তারা।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা সুমাইয়া সুমি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকায় বেশিরভাগ টয়লেটে নারীদের জন্য পৃথক কোনও ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাসা থেকে বের হলেই টয়লেট সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় সে কথা আগে চিন্তা করতে হয়।

তিনি বলেন, বাইরে পাবলিক টয়লেটের অভাবে প্রায় সময় প্রস্রাব চেপে রাখতে বাধ্য হই। এছাড়া কোনও উপায়ও নেই। যার কারণে বিভিন্ন সময় শারীরিক সমস্যায় ভুগি।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

প্রস্রাব চেপে রাখার ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান দুলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রস্রাব বেশিক্ষণ চেপে রাখার ফলে বিষাক্ত পদার্থ কিডনিতে পৌঁছে কিডনিতে স্টোন বা পাথর তৈরি করতে পারে। এছাড়া প্রস্রাব চেপে রাখলে ব্লাডার ফুলে যেতে পারে। সেই সঙ্গে কারো যদি আগে থেকে কিডনিতে কোনও সমস্যা থাকে এবং সে নিয়মিত প্রস্রাব চেপে রাখে তাহলে ক্রমে তার কিডনি কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করবে। 

তিনি বলেন, বর্তমানে এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি পড়েন নারীরা। অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় প্রসাব চেপে রাখার ফলে মূত্রনালির সংক্রমণসহ নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছেন অনেকেই।

ফুটপাতে প্রস্রাব করে পরিবেশ নষ্ট করছে পুরুষরা

ওয়াটার এইডের প্রকল্প কর্মকর্তা জাহিদ আলম বলেন, নারীদের চেয়ে পুরুষই রাস্তায় বেশি যার কারণে এমনটা হচ্ছে। আমাদের শহরাঞ্চলে যারা বাহিরে আয়ের উদ্দেশ্যে রাস্তায় থাকছে যেমন–রিকশাওয়ালা, ফুটপাতের দোকানদার, ফেরিওয়ালা ইত্যাদি নিম্ন আয়ের মানুষ, তাদের জন্য ৫ বা ১০ টাকাও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যে সকল টয়লেট ইজারা দেয় (ওয়াটারএইড এর ৩১টা বাদে) সেগুলোতে টয়লেটের জন্য ১০ টাকা নেওয়া হয়। কোথাও প্রস্রাবের জন্য ৫, আবার কোথাও ১০ টাকা নেওয়া হয়। হতদরিদ্রদের জন্য ফ্রি দেওয়ার কোনও সুযোগই থাকে না। এর ফলে এসব লোকজন টয়লেটে না গিয়ে প্রস্রাব বা পায়খানা ফুটপাতেই করে থাকে। এ তো হলো যেখানে টয়লেট আছে সেখানকার অবস্থা। কিন্তু অধিকাংশ জায়গাতেই টয়লেট সুবিধা নেই। সেখানে বাধ্য হয়েই ফুটপাতের কোনও এক কোনায় টয়লেট করতে বাধ্য হয়। এটি সমাজের সকল শ্রেণির জনগণের জন্যই প্রযোজ্য। মূল কারণ টয়লেটের অপ্রতুলতা। শহরে প্রতি ৫০০ মিটার থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে একটি টয়লেট থাকলে মানুষজন ব্যবহার করতে পারতো। যারা ফুটপাত ব্যবহার করছে, তারা বাধ্য হয়েই করছে।

গুলিস্তানে ফুটপাতে ব্যবসা করা জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আশেপাশে কোনও টয়লেট নাই। প্রস্রাবের খুব চাপ, তাই এখানে করেছি। আর টাকা দিয়ে প্রস্রাব করার মতো সামর্থ আমার নাই।

পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই এখানে আগে থেকে প্রস্রাব করে রেখেছে তাই আমিও করেছি। অন্যরা যদি পরিবেশের কথা চিন্ত না করে আমি একা করবো কেন।

নগর পরিকল্পনাবিদরা যা বলছেন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একটি আধুনিক শহর গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ পাবলিক টয়লেট। গত চার-পাচ বছরে দুই সিটি করপোরেশন প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছে। সেগুলোও জনসংখ্যার তুলনায় খুব কম। এর সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। শহরের বিভিন্ন মসজিদ, বিভিন্ন মার্কেট, তেল ও গ্যাসের পাম্পে টয়লেটগুলো ব্যবহার উপযোগী করে সর্বসাধারণ যেন ব্যবহার করতে পারে সেই প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে পারে। 

ফুটপাতে প্রস্রাব করে পরিবেশ নষ্ট করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমদের দেশে যেখানে সেখানে প্রস্রাব করা যাবে না, এই নিয়ম যে আছে মানুষ তা মানছে না। সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ নিয়ে কমিটি করে এগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রথম অবস্থায় শাস্তির ব্যবস্থা না করে কাউন্সিলিং এর মাধমে মানুষকে বোঝাতে হবে।

/আরআইজে/
টাইমলাইন: নাগরিক শৌচাগার চিত্র
২৫ মার্চ ২০২৩, ১৩:২৯
রাজধানীতে প্রতি ৭৫ হাজার মানুষের জন্য একটি টয়লেট
২০ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০১
সম্পর্কিত
রাজধানীতে রিকশাচালকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, স্বামীর লাশ উদ্ধার
শহীদ আনোয়ারা উদ্যান ৩০ দিনের মধ্যে ফেরতের দাবি
সর্বশেষ খবর
ভারতীয় পেঁয়াজে রফতানি মূল্য নির্ধারণ, বিপাকে আমদানিকারকরা
ভারতীয় পেঁয়াজে রফতানি মূল্য নির্ধারণ, বিপাকে আমদানিকারকরা
টিভিতে আজকের খেলা (১৯ মে, ২০২৪)
টিভিতে আজকের খেলা (১৯ মে, ২০২৪)
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রামে লরি চাপায় মৃত্যু বেড়ে তিন
চট্টগ্রামে লরি চাপায় মৃত্যু বেড়ে তিন
সর্বাধিক পঠিত
মামুনুল হক ডিবিতে
মামুনুল হক ডিবিতে
৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের
৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের
আমেরিকা যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি
আমেরিকা যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি
মোবাইল আনতে ডিবি কার্যালয়ে মামুনুল হক
মোবাইল আনতে ডিবি কার্যালয়ে মামুনুল হক
গরমে সুস্থ থাকতে কোন কোন পানীয় খাবেন? ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় কখন জরুরি?
গরমে সুস্থ থাকতে কোন কোন পানীয় খাবেন? ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় কখন জরুরি?