X
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
২০ মাঘ ১৪২৯

মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম

আতিক হাসান শুভ
২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০০আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০০

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ-মিটফোর্ড হাসপাতালের শৌচাগারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির কোনও বালাই নেই। শৌচাগারের সর্বত্র বিরাজ করছে নোংরা আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েক হাজার রোগী ও তাদের স্বজনরা। তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধির ছিটেফোঁটাও মানা হয় না এই হাসপাতালের শৌচাগারগুলোতে। তারা আরও জানান, হাত-মুখ ধোয়ার বেসিন নোংরা, পানির কল নষ্ট, পরিত্যক্ত হয়ে আছে ইউরিনাল, প্রত্যেকটা টয়লেটের ভেতরের পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ময়লা-আবর্জনা ফেলার পাত্রের অবস্থা আরও শোচনীয়। মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম

জানা গেছে, হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৮ সালের পহেলা মে। বর্তমানে ৯০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার পাঁচশ'র ওপরে রোগী আসে। একজন রোগীর সঙ্গে আরও অন্তত ৩-৪ আত্মীয়স্বজন আসে। পাশাপাশি, বহির্বিভাগেও অনেক রোগী সেবা নেয়। কিন্তু এত বেশি সংখ্যক মানুষের তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা একেবারেই কম।

সরেজমিন হাসপাতালের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, বেশি মানুষের চাপ থাকায় শৌচাগার তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যায়। কে কখন টয়লেট পরিষ্কার করবে, এমন একটি বিলবোর্ড টানানো থাকলেও সেখানে কারও নাম লেখা নেই। হাসপাতালের শৌচাগারগুলো দিনে অন্তত একবার পরিষ্কার করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দুয়েক দিন পর পর পরিষ্কার করা হয়। মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম

সরেজমিন দেখা যায়, জরুরি বিভাগের দ্বিতীয় তলার ইউরোনাল দুটি পরিত্যক্ত। বাকি সব কয়টি শৌচাগার নোংরা ও অপরিষ্কার। তৃতীয় তলার শৌচাগার কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও দুটো গোসলখানার একটিতে ওষুধের কার্টনসহ পরিত্যক্ত জিনিসপত্রের স্তূপ দেখা যায়। জরুরি বিভাগের কোনও শৌচাগারেই সাবান, টিস্যু বা স্যানিটাইজেশনের কোনও ব্যবস্থা নেই। বহির্বিভাগের শৌচাগারের অবস্থা আরও শোচনীয়। টয়লেটের উপরিভাগে মলমূত্র জমে নোংরা আবর্জনার স্তূপ হয়ে আছে। বেসিনগুলোতে নেই সাবান বা টিস্যু। এই হাসপাতালের শৌচাগারগুলোতে স্যানিটাইজেশনের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।

জরুরি বিভাগের নিচ তলার টিকিট কক্ষের সামনের শৌচাগারটি পুরুষ-মহিলা সবার জন্য উন্মুক্ত। এ নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয় হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনকে। অনিমা আক্তার নামে একজন রোগীর স্বজন বলেন, ‘টয়লেটের দরজায় ওপরে ‘পুরুষ’ বা ‘মহিলা’ লেখা না থাকায় ভেতরে গিয়ে দেখি একজন পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে। ফলে বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়ে গেছি। তাছাড়া টয়লেটের অবস্থাও খুবই নোংরা।’ মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম

হাসপাতালের স্টাফ শামসুন্নাহার বলেন, ‘এটা স্টাফদের টয়লেট, কিন্তু সবাই ব্যবহার করে। সবাই তো দরকারে আসে, তাই নারী-পুরুষ যেই হোক, আমরা বাধা দেই না।’

কেরানীগঞ্জ থেকে এসে তিনদিন আগে মিটফোর্ড হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, ‘টয়লেটগুলোর অবস্থা এতটাই নোংরা যে সুস্থ কেউ গেলে সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়বে। সবাই নাক চেপে ধরে টয়লেট ব্যবহার করছে।'

মোহন তালুকদার নামে এক রোগীর আত্মীয় বলেন, ‘এটা ঠিক যে গণহারে টয়লেটগুলো ব্যবহার করার কারণে নোংরা হয়ে যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি নিয়মিত পরিষ্কার করাতো, তাহলে তো আর নোংরা থাকার কথা নয়। আমি আজ দুদিন এই হাসপাতালে আছি। অথচ একবারের জন্যও কাউকে টয়লেট পরিষ্কার করতে দেখিনি।’ মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম

তবে হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তারদের ব্যবহৃত শৌচাগারগুলো যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ডা. মাফিয়া আফসিন লাজ বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত টয়লেটগুলো তো আমরা ব্যবহারের পর সবসময় নিজেরাই ক্লিন করে রাখি। তবে রোগীদের শৌচাগারের অবস্থা খারাপ। হাসপাতালে শৌচাগারের সংখ্যার তুলনায় চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন অনেক বেশি। এ কারণেই টয়লেটগুলো ঘন ঘন নোংরা ও অপরিষ্কার হয়। তাছাড়া এখানে পর্যাপ্ত ক্লিনার নেই। আগে আমাদেরও নিজস্ব কোনও শৌচাগার ছিল না। এক বছর আগেও আমরা রোগীদের বা স্টাফদের শৌচাগার ব্যবহার করতাম।’ মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম

পুরো হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়—পেয়িং ওয়ার্ডগুলোর শৌচাগার বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। পেয়িং ওয়ার্ডে কর্মরত একজন  স্টাফ নাম প্রকাশ না করে বলেন, এখানে রোগীর সংখ্যা কম, তাছাড়া এখানে টাকা দিয়ে থাকতে হয়। এজন্য রোগী কম, রোগীর আত্মীয়-স্বজনও কম। ফলে এখানকার টয়লেট কম নোংরা হয়। এছাড়া ক্লিনাররা পেয়িং ওয়ার্ডের টয়লেটগুলো প্রতিদিনই পরিষ্কার করে। সাধারণ ওয়ার্ডের কথা বলে লাভ নাই। সেখানে সিটের বিপরীতে  রোগীর সংখ্যা অনেক  বেশি। আবার অনেকে ফ্লোরেও থাকেন। এ জন্য সেখানকার টয়লেট দ্রুত নোংরা হয়। আর ক্লিনার যারা আছেন, তারা সাধারণ ওয়ার্ডের টয়লেট পরিষ্কারের কাজে গুরুত্ব দেয় না

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদ-উন-নবী বলেন, ‘বেশি মানুষ যখন শৌচাগার ব্যবহার করে, তখন তা এমনিতেই নোংরা হয়ে যায়।’ তবে টয়লেটগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম

পেয়িং ওয়ার্ডগুলোর শৌচাগারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে প্রতিদিন রোগীকে ৭০ টাকা  বিল পরিশোধ করতে হয়‌।। এ জন্য সেখানে লোকসংখ্যাও কম, নোংরাও কম হয়।’

তিনি  দাবি করেন, অন্যান্য হাসপাতালের শৌচাগারের তুলনায় মিটফোর্ড হাসপাতালের শৌচাগার অনেক ভালো ও  দুর্গন্ধমুক্ত। মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম

রশীদ-উন-নবী বলেন, ‘আমি নিজে প্রতিদিন রাউন্ড দিয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে দেখে আসি। রোগী ও রোগীর সঙ্গে আসা লোকজনদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বারবার অবগত করি। কিন্তু তারা তা কর্ণপাত করে না।’ তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

ছবি: আতিক হাসান শুভ

/এপিএইচ/এমওএফ/
টাইমলাইন: নাগরিক শৌচাগার চিত্র
২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০০
মিটফোর্ড হাসপাতালে শৌচাগারের বেহাল দশা, পরিচালকের দাবি লোকবল কম
২০ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০১
সর্বশেষ খবর
   টিভিতে আজকের খেলা (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)
  টিভিতে আজকের খেলা (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)
হাত-পা বেঁধে সন্তানদের সামনে নারীকে পিটিয়ে মারলো স্বামী
হাত-পা বেঁধে সন্তানদের সামনে নারীকে পিটিয়ে মারলো স্বামী
‘আগামী ৬ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ’
‘আগামী ৬ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ’
আগুনঝরার বুকে জেগে ওঠা দ্বীপটি টানছে পর্যটকদের
আগুনঝরার বুকে জেগে ওঠা দ্বীপটি টানছে পর্যটকদের
সর্বাধিক পঠিত
টিকিট কাটতে বলায় সন্তানকে বিমানবন্দরে রেখেই চলে যান দম্পতি!
টিকিট কাটতে বলায় সন্তানকে বিমানবন্দরে রেখেই চলে যান দম্পতি!
পিন নম্বর ছাড়াই সব কার্ডে লেনদেনের সুযোগ
পিন নম্বর ছাড়াই সব কার্ডে লেনদেনের সুযোগ
নির্বাচন অফিসে গিয়ে আপ্যায়ন চাইলেন হিরো আলম, পেলেন মিষ্টি
নির্বাচন অফিসে গিয়ে আপ্যায়ন চাইলেন হিরো আলম, পেলেন মিষ্টি
হিরো আলমের এত ভোট পাওয়া নিয়ে যা বলছেন আ.লীগ-বিএনপির নেতারা
হিরো আলমের এত ভোট পাওয়া নিয়ে যা বলছেন আ.লীগ-বিএনপির নেতারা
সাত পদে ১১৭ জনের সরকারি চাকরির সুযোগ
সাত পদে ১১৭ জনের সরকারি চাকরির সুযোগ