X
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪
১০ বৈশাখ ১৪৩১

ঢাবি ক্যাম্পাসের ফুটপাত যেন গণশৌচাগার 

আবিদ হাসান
১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা অনুষদের অধীন বিভাগ রয়েছে ১৭টি। এই বিভাগগুলোতে অনার্স ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী। অ্যাকাডেমিক ক্লাস হয় পাঁচতলাবিশিষ্ট কলাভবনে। পাঁচতলা ভবনের প্রত্যেক তলায় ওয়াশরুম থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াশরুম আছে শুধু চতুর্থ তলায়।

অন্য তলাগুলোতে ওয়াশরুম না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নারী শিক্ষার্থীদের। তবে যেগুলো রয়েছে, সেগুলোর পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। তাদের দাবি, কলাভবনের প্রত্যেক তলায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম বরাদ্দ দেওয়ার। কলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তরা তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মেয়েদের দুটো কমন রুম আছে। এই কমন রুমেই ওয়াশরুম। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের তুলনায় ওয়াশরুম কম। একটা ওয়াশ রুম নিচতলায়, আরেকটা চারতলায়। কলাভবনের প্রতি তলায় একটা করে কমন রুম থাকলে ভালো হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটপাতগুলোই যেন শৌচাগার

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আমিন বলেন, ‘প্রত্যেক তলায় ছাত্রদের ওয়াশরুম রয়েছে। ওয়াশরুমের পরিবেশ মোটামুটি সবগুলোরই ভালো। তবে নিচতলার ওয়াশরুমগুলো পরিষ্কার করা হলেও কিছুক্ষণ পর আবারও অপরিষ্কার হয়ে পড়ে, নোংরা হয়ে যায়। এর কারণ হচ্ছে, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশগম্যতা। তারা এসে অপরিষ্কার করে ফেলে।’

মেয়েদের ওয়াশরুম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল বাছির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রত্যেক তলায় মেয়েদের জন্য একটি করে কমনরুম বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছি।’

স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রয়েছে ১৮টি। হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের ওয়াশরুমগুলোতে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তবে মাঝে মাঝে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আসে না। শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে ওয়াশরুমগুলো আরও ভালো থাকবে। এসব ওয়াশরুমের স্যানিটাইজেশন শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে পালন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটপাতগুলোই যেন শৌচাগার

তবে বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবন, কলাভবন, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, বিজনেস ফ্যাকাল্টিসহ সব অনুষদ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ওয়াশরুম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, তাদের অসন্তোষ রয়েছে স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা নিয়ে। সামাজিক অনুষদের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নুপুর আক্তার বলেন, ‘কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আমাদের ক্লাস হয়। কলা অনুষদের চেয়ে সামাজিক অনুষদের ওয়াশরুমের পরিবেশ ভালো। তবে ওয়াশরুমগুলোতে স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা খুব একটা ভালো না। ওয়াশরুম ব্যবহার শেষে প্রায়ই হাত ধোয়ার সাবান থাকে না। এটি নিয়মিত তদারকি করা দরকার। আর সাবান না রেখে হ্যান্ডওয়াশ রাখা দরকার, অনেকে ব্যবহারের ফলে সাবান ময়লা হয়ে যায়।’

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক ইমন বলেন, ‘বিজনেস ফ্যাকাল্টির ওয়াশরুমগুলো ভালো আছে, স্বাস্থ্যসম্মত। তবে স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা দরকার।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের ওয়াশরুমের অবস্থা সবসময়ই খারাপ থাকে। যদিও নিয়মিতই পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু উন্মুক্ত থাকার কারণে বহিরাগত, উদ্বাস্তু, ক্যাম্পাস এলাকায় ঘুরতে আসা লোকজন, হকাররা ব্যবহারের ফলে খুব অল্প সময়েই আবার নোংরা হয়ে যায়। এখানকার স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থাও সবচেয়ে খারাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানবীর হায়দার বলেন, ‘টিএসসিতে সবার অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত করা উচিত। তা না হলে ওয়াশরুমের এই বেহাল দশা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না।’

অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থকর পরিবেশ ছেলেদের ওয়াশরুমগুলোতে

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কলা অনুষদের ডিন থাকা অবস্থায় সরকারের বিশেষ অর্থায়নে কলা ভবনের সব ওয়াশরুমে টাইলস বসিয়ে বিভিন্ন সংস্কারের কাজ করেছি। এগুলোর মেনটেনেন্স ও ব্যবহার নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। যারা ব্যবহার করে তারাও এ বিষয়ে অসতর্ক। ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে একটু সতর্ক হওয়া জরুরি। তারপর মেনটেনেন্স নিয়েও আমাদের একটু ঝামেলা রয়েছে। এখন ভাবতে হবে, পার্মানেন্ট সাপোর্টার দিয়ে এটি সম্ভব কিনা। নাকি আমাদের আউটসোর্সিং করতে হবে। এটি দুঃখজনক সত্য যে এগুলোর মেনটেনেন্স ও স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা খুব একটা ভালো মানে নেই। এটির সঙ্গে কোনোভাবে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। কোনও অনুষ্ঠান হলে ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়, স্যানিটাইজেশনও হয়। কিন্তু তারপরে আর সেটি থাকে না। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন প্রয়োজন আমাদের আখলাকে। সেটি দরকার হচ্ছে কর্তৃপক্ষ এবং যারা ব্যবহার করছে তাদেরও।’

কলা ভবনে ছাত্রীদের ওয়াশরুম সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের তুলনায় ওয়াশরুম অপ্রতুল থাকতে পারে। তবে কিছু কিছু ডেডিকেটেড করা হয়েছে। আরও হয়তো লাগবে। কর্তৃপক্ষের এ বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে দেখভাল করা জরুরি।’

ক্যাম্পাসের ফুটপাত যেন গণশৌচাগার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের রবীন্দ্রনাথ ভবনের ফুটপাত ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মূল গেটের বিপরীতে পথচারীদের জন্য ‘গণপ্রস্রাব’ বুথ বসিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কিন্তু এগুলোর সঠিক তদারকি না থাকায় ফুটপাতের বেহাল দশা। ফুটপাত ও তার আশপাশ দিয়ে পথচারীদের হাঁটতে হয় নাক চেপে। এসব এলাকায় দুর্গন্ধে চলাফেরা করা দায়। শুধু এই এলাকা নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফুটপাতে একই দৃশ্য দেখা যায়। উদ্বাস্তু, হকার, রিকশাচালকরা দিনে-দুপুরে ফুটপাতে হরহামেশা মূত্র ত্যাগ করেন। অনেক সময় এমন দৃশ্য নারী শিক্ষার্থীদের লজ্জায় ফেলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম শিক্ষার পরিবেশ আছে কিনা, সন্দেহ রয়েছে। মনে হয় যেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পার্ক এটি। সবার অবাধ বিচরণে ক্যাম্পাসের ফুটপাত যেন গণশৌচাগার। হাঁটা যায় না এসব এলাকায়। দিনে-দুপুরে ফুটপাতে লোকজন প্রস্রাব করে, এগুলো নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভ্রান্তিকর।’

‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন প্রোগ্রামের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে’ বলে উল্লেখ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের উন্মুক্ত ক্যাম্পাস। এটি বন্ধের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ লাগবে। এটি সত্য যে নানা মানুষের ব্যবহার ও আগমন ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। ক্যাম্পাস একবার সাজালে, একটি প্রোগ্রাম (অনুষ্ঠান) দিয়ে পুরোটা শেষ করে দেওয়া হয়, যখন হাজার হাজার মানুষ আসে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় যত প্রোগ্রাম হয়, তার চাপ পড়ে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। এসব বাস্তবতা উপেক্ষা করে কথা বললে সেটি ভুল হবে।’

ভিসি বলেন, ‘এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাবা খুব জরুরি। আমরা সুন্দর করে সাজাই অনেক পরিশ্রম করে, কিন্তু মিনিটের মধ্যেই সবকিছু শেষ করে দেয় বহিরাগতদের বাড়তি চাপ। ক্যাম্পাসে অনেক গাড়ি, অনেক মানুষ, অনেক চাপ। এসব কারণে আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক। সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই  সমাধানের কথা ভাবতে হবে।’

/এপিএইচ/এমওএফ/
টাইমলাইন: নাগরিক শৌচাগার চিত্র
২০ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০১
১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০
ঢাবি ক্যাম্পাসের ফুটপাত যেন গণশৌচাগার 
সম্পর্কিত
রাজধানীর শ্যামবাজার ঘাটে লঞ্চে আগুন
বিএনপির ৭ আইনজীবীর আদালত অবমাননার বিষয়ে আদেশ বুধবার
মুগদায় রাস্তা বাড়াতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির উচ্ছেদ অভিযান
সর্বশেষ খবর
বর্জনকারীদের ‘অনুসারীরাও’ ভোটে, সহিংসতার শঙ্কা দেখছে না ইসি
বর্জনকারীদের ‘অনুসারীরাও’ ভোটে, সহিংসতার শঙ্কা দেখছে না ইসি
মাদক বহনের সময় দুর্ঘটনা, এরপর থেকে নষ্ট হচ্ছে জাবির ৬০ লাখ টাকার অ্যাম্বুলেন্সটি
মাদক বহনের সময় দুর্ঘটনা, এরপর থেকে নষ্ট হচ্ছে জাবির ৬০ লাখ টাকার অ্যাম্বুলেন্সটি
ক্ষতচিহ্নিত হাড়মাংস অথবা নিছকই আত্মজনের কথা
ক্ষতচিহ্নিত হাড়মাংস অথবা নিছকই আত্মজনের কথা
পার্বত্য তিন উপজেলার ভোট স্থগিত
পার্বত্য তিন উপজেলার ভোট স্থগিত
সর্বাধিক পঠিত
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
তাপপ্রবাহ থেকে ত্বক বাঁচানোর ৮ টিপস
তাপপ্রবাহ থেকে ত্বক বাঁচানোর ৮ টিপস
মাতারবাড়ি ঘিরে নতুন স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ
মাতারবাড়ি ঘিরে নতুন স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ
আজকের আবহাওয়া: তাপমাত্রা আরও বাড়ার আভাস
আজকের আবহাওয়া: তাপমাত্রা আরও বাড়ার আভাস