X
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে ভাঙা কমোড, নষ্ট ফ্লাশ

জুবায়ের আহমেদ
১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০০আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:৫৮

রাজধানীর অন্যতম প্রধান দুই পর্যটনকেন্দ্র জাতীয় চিড়িয়াখানা এবং জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান। প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম হলেও এ দুটোতে নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার। কর্তৃপক্ষ বলছে, আগের তুলনায় এখানে পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। গণশৌচাগারের ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা থাকার কথা স্বীকার করে তারা বলেন, দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করা হবে।

সম্প্রতি সরেজমিন পর্যটনকেন্দ্র দুটো ঘুরে দেখা যায়, কোনোটিতে স্বাস্থ্যসম্মত ও ব্যবহার করার মতো শৌচাগার নেই। অধিকাংশ শৌচাগারে (শৌচাগার) দেখা গেছে ভাঙা কমোড, নষ্ট ফ্লাশ, নোংরা বেসিন, ছিল না শৌচাগার টিস্যু ও হাত ধোয়ার সাবান। দুই-একটিতে বেসিনের পাশে সাবান দেখা গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল একেবারেই নগণ্য। কোনও কোনোটিতে হাত ধুতে হয় বাইরে এসে বালতি ও মগে। এসব শৌচাগারের কোনটিতেই প্রতিবন্ধীদের জন্য ছিল না কোনও বিশেষ সুবিধা।

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের শৌচাগার বেহাল

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, ৬টি গণশৌচাগারের তিনটি ব্যবহারযোগ্য। গড়ে ৪ মিটার বাই ৩ মিটার আয়তনের শৌচাগার তিনটিতে পুরুষ ও মহিলার জন্য আলাদা দুটি অংশ রয়েছে। তিনটিই ব্যবহারের অনুপযোগী। দেয়ালের আস্তর খসে পড়ছিল। একটিতে ছিল না দরজা। সেখানে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি রাখা হচ্ছে ১০ টাকা।

জাতীয় উদ্যানের শৌচাগারে নোংরা পরিবেশ

উদ্যানে গণশৌচাগার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বলেন, 'উদ্যান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে বার্ষিক নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে শৌচাগার পরিচালনার ঠিকাদারি পেয়েছি। শৌচাগারের কাঠামোগত বিষয়গুলো উদ্যান কর্তৃপক্ষ দেখে। এগুলোর অচলাবস্থা সম্পর্কে উদ্যান কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা এগুলো মেরামত না করলে আমাদের কিছু করার নেই।'

সরেজমিন শৌচাগারের ঠিকাদারদের দেখা গেছে সামনে টেবিল পেতে দোকান খুলে বসে থাকতে। সেখানে চা, সিগারেট, চিপস, আচারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত তারা। শৌচাগার ব্যবহার করতে আসা উদ্যানের দর্শনার্থীদের অভিযোগ নিয়ে তাদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই।

শৌচাগার ব্যবহারকারী দর্শনার্থী কাসফিয়া বলেন, উদ্যানের দুটি টয়লেট ব্যবহারের একেবারেই অনুপযোগী। সঙ্গে পরিচিত লোক না থাকলে এসব শৌচাগার নারীদের জন্য নিরাপদ মনে করি না। তাই ভেতরের গোলাপ বাগান থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার হেঁটে এসে প্রধান গেটের শৌচাগারটি ব্যবহার করছি।

জাতীয় উদ্যানের শৌচাগারের বাইরেও অবর্জনায় ভর্তি পরিবেশ

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের পরিচালক ড. মো. জাহিদুর রহমান মিয়া বলেন, 'এটি মূলত গাছগাছালির একটি গবেষণা উদ্যান। যেহেতু ঢাকায় গাছপালায় ঘেরা এত বড় পার্ক আর নেই, তাই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যেন নিশ্চিন্তে উদ্যানে ঘোরাফেরা করতে পারেন সেজন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া সৌন্দর্য বর্ধনেরও নানান উদ্যোগ নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সব কাজই করছি। আশা করছি খুব দ্রুত গণশৌচাগার সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবো।'

চিড়িয়াখানায় গণশৌচাগার আছে, সুবিধা নেই

জাতীয় চিড়িয়াখানায় গণশৌচাগারের সংখ্যা চারটি। মোটামুটি ব্যবহার উপযোগী এসব শৌচাগারে নেই আধুনিক কোনও সুযোগ-সুবিধা। শৌচাগার কমপ্লেক্সের পরিবেশও পর্যটকবান্ধব নয়।

চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করলে হাতের বাঁ পাশে রয়েছে বড় গণশৌচাগারটি। সেখানে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা করে মোট দশটি চেম্বার রয়েছে। কিছুটা দূর থেকেই দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। ভেতরের সংকীর্ণ শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী। অপরিষ্কার। কয়েকটি পানির টেপ ভাঙা। কোনোটির কমোডের ফ্লাশ কাজ করে না, কোনোটিতে ফ্লাশের ব্যবস্থাই নেই। বেসিনের সামনে রাখা একটি মাত্র সাবানেই পর্যায়ক্রমে সবাইকে হাত ধুতে দেখা গেছে।

চিড়িয়াখানার শৌচাগারে দূর থেকেও পাওয়া যায় দুর্গন্ধ

গণশৌচাগারের সামনে দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী জানান, প্রবেশপথের এই শৌচাগারে গড়ে দৈনিক ৩০০ ব্যবহারকারী থাকে। পুরো গণশৌচাগারের এরিয়া দিনে দুইবার মোছা হয়। তবে পরিষ্কারের জন্য সার্বক্ষণিক কোনও লোক নেই। তিনি বলেন, এই গণশৌচাগারটি অন্যগুলোর তুলনায় ভালো। ভাঙা থাকার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা মাঝে মাঝে এসে ঠিক করে দেয়।'

চিড়িয়াখানার ভেতরে থাকা গণশৌচাগার ঘুরে দেখা যায়, আকারে মোটামুটি বড় হলেও সেগুলো অপরিচ্ছন্ন। হাত ধোয়ার কোনও সাবান ছিল না। ছিল না টিস্যুও। কয়েকটির হাইকমোড ভেঙে লো কমোড করা হয়েছে। সেগুলো কাজ শেষ না করেই ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধাই রাখা হয়নি এখানে। প্রস্রাবখানায় কোনও ঢাল বা গভীরতা না রেখেই টাইলস দিয়ে সমান করে দেওয়া হয়েছে। অনেককেই ব্যবহার না করে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।

চিড়িয়াখানায় আসা শত শত দর্শনার্থী যেনতেনভাবে ব্যবহার করে শৌচাগারগুলো

গণশৌচাগারগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের কর্মীরা বলেন, 'দৈনিক দেড়-দুই শত লোক ব্যবহার করেন। ছুটির দিন লোকসমাগম বেশি থাকে। আগত দর্শনার্থীরা তেমন সচেতন না, যেনতেনভাবে এগুলো ব্যবহার করে। সাবান-টিস্যু নিয়ে যায়। তাই সবসময় পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়।'

চিড়িয়াখানায় গণশৌচাগার সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এগুলো পরিচালনার দায়িত্ব ঠিকাদারদের দেওয়া হয়েছে। তাদেরই দায়িত্ব সেগুলো পরিষ্কার রাখা। আমরা নিয়মিত তদারকি করি। কোনও সমস্যা হলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করি। কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, চিড়িয়াখানাকে ঘিরে বড় একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা বড় কোনও খরচে যেতে চাচ্ছি না। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগত দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক গণশৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হবে।

ছবি: প্রতিবেদক।

/এমএস/এমওএফ/
টাইমলাইন: নাগরিক শৌচাগার চিত্র
২০ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০১
১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:০০
চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে ভাঙা কমোড, নষ্ট ফ্লাশ
সম্পর্কিত
ঈদ আসছে, ‘আওয়াজ’ বাড়ছে কামারপাড়ায়
পশুর হাট থেকে দক্ষিণ সিটির আয় ৩১ কোটি টাকা
হরিজনদের উচ্ছেদ বন্ধের দাবি গণসংহতির
সর্বশেষ খবর
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল ছুটলেন তৌসিফ-তটিনী
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল ছুটলেন তৌসিফ-তটিনী
কোরবানিতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত
কোরবানিতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ তুলে শুরু হচ্ছে ইউরো
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ তুলে শুরু হচ্ছে ইউরো
ঈদ আসছে, ‘আওয়াজ’ বাড়ছে কামারপাড়ায়
ঈদ আসছে, ‘আওয়াজ’ বাড়ছে কামারপাড়ায়
সর্বাধিক পঠিত
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়ন: যেসব নির্দেশনা দেওয়া হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মূল্যায়ন: যেসব নির্দেশনা দেওয়া হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে
শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ নাকি খোলা, সিদ্ধান্ত ঈদের পর
শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ নাকি খোলা, সিদ্ধান্ত ঈদের পর
কোটি টাকার গরু, ১৫ লাখের ছাগল এবং ‘ফুটানি’
কোটি টাকার গরু, ১৫ লাখের ছাগল এবং ‘ফুটানি’
এনবিআরের সাবেক কমিশনার ওয়াহিদা রহমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
এনবিআরের সাবেক কমিশনার ওয়াহিদা রহমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ঈদের পর মেট্রোরেলে নতুন পিক-অফপিক
ঈদের পর মেট্রোরেলে নতুন পিক-অফপিক