রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের পর সন্তানদের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন অভিভাবক ও স্বজনরা। কেউ ছুটছেন স্কুল ভবনের সামনে, কেউ ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। আহত শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিশ্চিত না হতে পেরে আতঙ্ক আর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিমানটি মাইলস্টোন স্কুলের একটি দোতলা ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে মৃত ঘোষণা করেছে চিকিৎসকরা। এখনও অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী হতাহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টার দিকে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনের সামনে ও ক্লাসরুমের ভেতরে অবস্থান করছিল। অনেকেই প্রাইভেট ক্লাস বা কোচিংয়ের জন্য অপেক্ষায় ছিল। ঠিক তখনই বিমানটি আছড়ে পড়ে স্কুলের সাত নম্বর ভবনের দোতলায়, যেখানে পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস হয়। সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে আগুন ধরে যায় এবং চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া ও আতঙ্ক।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নুরুজ্জামান মৃধা বলেন, যে ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্লাস হয়। দুপুর ১টার দিকে ক্লাস শেষ হয়, অনেক শিক্ষার্থী প্রাইভেট ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিমানটি ভবনের ওপর পড়ে আগুন ধরে যায়। আমরা যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার্থীদের বের করে আনার চেষ্টা করেছি।
অভিভাবকদের আহাজারি
দুর্ঘটনার পরপরই স্কুল চত্বরে জড়ো হন অভিভাবকরা। সন্তানদের নাম ধরে কান্না করছেন, কেউ কেউ ফোনে হাসপাতালে খোঁজ নিচ্ছেন, কেউ আবার অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে দৌড়ে যাচ্ছেন।
আয়েশা বেগম বলেন, আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ক্লাস শেষে কোচিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। এখন ওর খোঁজ পাচ্ছি না। কোথাও নাম নেই, কেউ কিছু বলতে পারছে না। আমি কোথায় যাবো?
সাবিনা ইয়াহা নামে এক শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুর রহমান বলেন, স্কুলে আসার সময় মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, বলেছিল সে ক্লাস শেষ করে কোচিংয়ে যাবে। এখন ওর ফোন বন্ধ, স্কুলে নেই, হাসপাতালে খোঁজ নেই। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।
রাশেদা খানম নামে এক শিক্ষার্থীর চাচি বলেন, আমার ভাতিজা মারুফ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলের সামনে ছুটে এলাম। কেউ কিছু জানে না। একবার বলছে বার্ন ইনস্টিটিউটে, আবার বলছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না।
ঘটনাস্থলে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের সহযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী কাজ করছেন।









