রাজধানীর উত্তরায় আজ দুপুর ১টা ৬ মিনিটে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান। এই ঘটনায় রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ২০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আহত ১৭০ জনের বেশি। বিধ্বস্তের এই ঘটার পর থেকেই উদ্ধার কাজ করে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে তাদের কাজে বাধা হয়ে যাচ্ছেন উৎসুক জনতা।
বিধ্বস্তের ঘটনা দেখতে রাস্তায় ভিড় জমায় উৎসুক এলাকাবাসী। উৎসুক এলাকাবাসী ছাড়াও ঘটনাস্থলে এসেছিলেন দুর্ঘটনাস্থানে থাকা ব্যক্তিদের স্বজনেরা। যারা এসেছিলেন নিজের স্বজনের খোঁজে। কিন্তু বরাবরের মতো এই উৎসুক জনতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় উদ্ধার কাজে।
সোমবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, যখন দুর্ঘটনার উদ্ধার কাজে ব্যস্ত ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; রাস্তায় আসছে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। তখন ঠিক ঘটনাস্থলের পাশেই দিয়াবাড়ি গোল চত্ত্বরে রয়েছে উৎসুক জনতার ভিড়। তারা সবাই এসেছে ঘটনা দেখতে। কেউ আবার বসে বাদাম-ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। এই অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামলাতে স্বেচ্ছাসেবকরা বলে যাচ্ছেন— যাদের কাজ নেই তারা চলে যান। কিন্তু কেউ তাদের কথা কানে তুলছেন না। সবাই আছে যে যার মতো।
বরাবরই যে কোনও দুর্ঘটনার স্থানে উৎসুক জনতা সমাগমের এমন ঘটনা ঘটে। আর তাদের সামাল দিতেই হিমশিম পরিস্থিতিতে পড়তে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
এসময় দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যেকোনও দুর্ঘটনা ঘটলেই উৎসুক জনতার ভিড়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যারা স্বজন হারিয়েছেন তারাতো আসবেনই, তাদের আটকে রাখা যাবে না। কিন্তু যাদের কোনও কাজ নাই তারাও এসে ভিড় জমায়। তাদের বলেও সরানো যায় না। এদের সবাই যে অশিক্ষিত সেটাও বলা যাবে না। শিক্ষিত লোকজনও এমন আচরণ করে। আসলে তাদের কী কাজ তারা জানে না, কী করা উচিত সেটাও জানে না। শুধু এসে দাঁড়িয়ে থাকে। এদের জন্য কাজের হ্যাম্পার হয়। আমরা তাদের সারাক্ষণ বলতে থাকি আপনারা সরে যান। অথচ তারা যদি এই আচরণ না করে তাহলে আমাদের কাজে সহায়তা করা হয়। হয়তো আরও দুইটা প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়। আমাদের এই মানুষগুলোকে আরও সচেতন হতে হবে। দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করছিলেন মাইলস্টোন কলেজের এক শিক্ষার্থী অনিক শেখ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের মানুষ আসলে বিবেকহীন। এই রাস্তা দিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় আহতদের বের করা হচ্ছিল অথচ তারা রাস্তা ব্লক করে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের সরানো যায় না। আমাদের সারাদিন তাদের সামলাতে হয়েছে। অথচ তারা সহযোগিতা করলে সবারই উপকার হতো। কিন্তু তারা এটা বুঝে না।
এ সময় বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা আসলে দেখতে এসেছি কী হয়েছে এখানে। স্কুলে বিমান পড়েছে, বাচ্চাদের কি অবস্থা সেটা দেখতে এসেছি।
তাদের এই দেখতে আসাটায় যারা কাজ করেন তাদের কাজের ক্ষতি হয় এমনটা বললে তারা বলেন, আমরা তো থাকি না, একটু দেখেই চলে যাই।
এদিকে রাত পৌনে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেখা যায় রাস্তায় উৎসুক জনতার ভিড়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাঁশি বাজিয়ে সরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এক পর্যায়ে তারা লাঠির ভয় দেখিয়ে সরানোর পদক্ষেপও নেয়।







