X
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪
৬ বৈশাখ ১৪৩১

বর্তমানের অনলাইন ভবিষ্যতের বাতিঘর

কাজী আনিস আহমেদ
১২ মে ২০১৬, ২৩:৩৬আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৬, ২১:৩৬

কাজী আনিস আহমেদ বাংলাদেশ এখন ছুটছে নতুন দিগন্তের দিকে। মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি পৌঁছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সব খবর তাৎক্ষণিক পেতে চান। কোথায় যাবেন বা যাবেন না, কী করবেন বা করবেন না, আবহাওয়া এই মুহূর্তে কী রকম—সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। অনলাইন নিউজপেপার সেই দিগন্তপ্রসারী বলেই মুদ্রিত সংবাদপত্রগুলোও এখন অনেকটা বাধ্য হয়েই অনলাইন ভার্সন শুরু করছে। কারণ, তারাও অনুভব করছেন, এখনই যা ঘটছে তা পরদিন সকালে মানুষ জানতে চান না। জানার জন্য সূত্রের অভাব নেই ইন্টারনেটের কল্যাণে। ফলে পাঠক-দর্শক ধরে রাখতে হলে তৎক্ষণিক খবর পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্লেষণ হাজিরের যে কাজটি করা হয়, সেটিতে অনলাইন এগিয়ে আছে। কম্পিউটারে, মোবাইলে সারাক্ষণই অনলাইনে থাকা মানুষের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তার তথ্যক্ষুধাও বাড়ছে। এ কারণেই অনলাইনের মাধ্যমে এই পাঠকদের ধরার প্রচেষ্টা।
কিন্তু এই নতুন দিগন্তের দিকে ঠিক কিভাবে যাবে বাংলাদেশ, কী করণীয়—তা এখনও পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। কম-বেশি পাঠক এখন অনলাইন জার্নালিজমের সঙ্গে পরিচিত। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের সুবাদে আগামীদিনে আমাদের দেশও অনলাইন জার্নালিজমের দিকে মোড় নেবে। আর এই শক্তিশালী মাধ্যমকে সামনে এগিয়ে নিতে গেলে নীতিমালার গ্যাঁড়াকলে না ফেলে কিভাবে এর মান রাখা যায়, সে প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আর এসব দিক মাথায় রেখেই অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনের যাত্রা শুরু। ২০১৪ সালে শুরুর মুহূর্তে আমাদের ভাবনা ছিল—বাজারে থাকা আর দশটা অনলাইন নিউজপেপারের চেয়ে বাংলা ট্রিবিউন আলাদা হবে। একটি সার্বিক পত্রিকার চেহারা পাবে। অনলাইনের মজাদার, চটকদার ‘সংবাদ’ দিয়ে লাইক বা শেয়ার টানার যে প্রকল্প, সেই দৌড়ে নামবে না এই অনলাইন পত্রিকা।

আরও পড়তে পারেন:  দুই বছর পূর্তি তিন বছরে পা



আমাদের দেশের অনলাইনগুলো এখনও ফেসবুক-টুইটারে পোস্ট দেওয়ার মধ্য দিয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছায়। আর এভাবে যেহেতু পাঠকের কাছে পৌঁছানো যায়, সেহেতু অনলাইনে কাজ করেন যারা, তারা সবাই মিলে দায়িত্ব নিয়ে থাকেন তার লিঙ্কটিকে প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। একজন রিপোর্টার যখন নিউজ সংগ্রহ করেন, তখন থেকে শুরু করে সেটি যখন আপলোড করা হয়, এর সবকয়টি ধাপে রিপোর্টারের সম্পৃক্ততা তাকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে। নিজের মনে করার যে তাগিদ, আর তার সঙ্গে সবার আগে মানুষকে জানানোর যে তৃপ্তি, তার সবটাই সবাই মিলে করতে পারলেই অনলাইনের সার্থকতা। সেখানে আর চটকদার সেনসেশনাল নিউজ দরকার পড়ে না। খেয়াল করে দেখবেন, টিভি সাংবাদিকতা সংবাদপত্রের সাংবাদিকতার চেয়ে দৃশ্যত অনেক বেশি এক্সাইটিং। কিন্তু, এখনও নিউজ পেপারের ক্ষেত্রে একটা বিষয়ে যেভাবে বেশ গভীরে যাওয়া সম্ভব হয়, টেলিভিশনের সাংবাদিকতায় সেটা সম্ভব হয় না, টেকনিক্যাল কারণেই। এই দুই জায়গার সমন্বয় ঘটাতে পারে অনলাইন নিউজপেপার, যে কিনা প্রথম ও যথাযথ সংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি অনেক আগেই চাইলে গভীর বিশ্লেষণ হাজির করতে পারে। আর যেহেতু পাঠকের বয়স নির্ধারণ নেই, ফলে সংবাদ ভাষাগত দিক থেকে অনেক গোছানো এবং যথার্থ হতে হয়। কেননা পাঠক সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ অনলাইন নিউজপেপারে পেয়ে থাকেন। একটা লিঙ্ক শেয়ারের পাশাপাশি তিনি কী ভাবছেন, সেটা তিনি উপস্থাপন করতে পারেন।

আরও পড়তে পারেন: শুভ জন্মদিন বাংলা ট্রিবিউন

বাংলা ট্রিবিউন টিম শুরু থেকে সেদিকে নজর রেখে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে পাঠকের কাছে। আমরা বিশ্বাস করি, পাঠকদের রুচি তৈরি করা যেমন সংবাদপত্রের দায়িত্ব, ঠিক তেমনই রুচিশীল পাঠককে টানতে নিজের দায়িত্বশীলতাকে ধরে রাখার দায়িত্বও সংবাদপত্রের। আর পাঠকের মনে যদি সেই বিশ্বাস জন্মে, তাহলে তারা বাংলা ট্রিবিউনের লিঙ্কে ক্লিক করবেন এই আস্থা নিয়ে যে, সঠিক সংবাদ সঠিক উপস্থাপনায় তিনি পাবেন। বাংলা ট্রিবিউনের সব পাঠক ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে শুভেচ্ছা। আশা করি, তারা এই গণমাধ্যমটির সঙ্গে থাকবেন। গঠনমূলক সমালোচনা করে নিজেদের এই অনলাইনকে আরও সমৃদ্ধ করে বাংলাদেশের অনলাইন জগৎকে আরও পরিশুদ্ধ করে তোলার উদাহরণ সৃষ্টি করবেন।


লেখক: প্রকাশক, বাংলা ট্রিবিউন

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
দাবদাহে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তরল খাদ্য দিচ্ছে ডিএমপি
দাবদাহে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তরল খাদ্য দিচ্ছে ডিএমপি
জাপানি ছবির দৃশ্য নিয়ে কানের অফিসিয়াল পোস্টার
কান উৎসব ২০২৪জাপানি ছবির দৃশ্য নিয়ে কানের অফিসিয়াল পোস্টার
ড্যান্ডি সেবন থেকে পথশিশুদের বাঁচাবে কারা?
ড্যান্ডি সেবন থেকে পথশিশুদের বাঁচাবে কারা?
লখনউর কাছে হারলো চেন্নাই
লখনউর কাছে হারলো চেন্নাই
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ