কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সোমবার (১৫ জুলাই) রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। এসময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন চার সাংবাদিক এবং ছাত্রলীগের হামলায় আরও তিনজন সাংবাদিক আহত হন। এদের মধ্যে চারজনকে চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত সাংবাদিকরা হলেন- যুগান্তরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোসাদ্দেকুর রহমান, বণিক বার্তার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী মামুন, দৈনিক বাংলার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আব্দুর রহমান খান সার্জিল, বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এস এম তাওহীদ, দৈনিক জনকণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ওয়াজহাতুল ইসলাম ও বাংলাদেশ টুডে’র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জোবায়ের আহমেদ, সময়ের আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মুশফিকুর রিজওয়ান, সাউথ এশিয়ান টাইমসের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাকিব আহমেদ।
এদের মধ্যে সাকিব আহমেদের অবস্থা গুরুতর। সে এখন এনাম মেডিক্যাল কলেজে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রয়েছে। মেহেদী মামুন আর আব্দুর রহমান খান সার্জিলের অস্ত্রোপচার হয়েছে।
জানা যায়, সন্ধ্যায় কোটা আন্দোলনকারীদের মিছিলে হামলা করে ছাত্রলীগ। এরপর হামলার বিচার দাবিতে রাত ৯টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। রাত সাড়ে বারোটায় ছাত্রলীগের হামলা করতে আসছে খবর পেয়ে উপাচার্যের বাসভবনের মধ্য অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। তবে উপাচার্যের বাসভবনের মধ্যে অবস্থান করলেও রাত সাড়ে ১২টায় হামলা করে ছাত্রলীগ। তবে এসময় প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ অবস্থান করলেও ভেতরে আসেনি। ছাত্রলীগের হামলায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর পুলিশ এলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে তারা। অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে হল থেকে লাঠি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এলে পালিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় পুলিশ এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও পুলিশ এসময় রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে চারজন সাংবাদিক আহত হন।
আহত সাংবাদিক ওয়াজহাতুল ইসলাম বলেন, আমরা বারবার আমাদের পরিচয় দিয়েছি। তারপরেও আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনও ধরনের সহযোগিতা করে নাই আমাদের।









