বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আজকের কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এ ছাড়া আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজনকে আটকের অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে যশোর পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের মিছিলে হঠাৎ করেই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বুধবার ছিল ‘মার্চ ফর জাস্টিস’।
বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে শহরের মুজিব সড়কে প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শহরের প্রতিটি মোড়ে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশির মুখে তারা সমবেত হতে পারছিলেন না।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পুলিশ ইব্রাহিম খলিলসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
একই সময় শহরের পুরাতন কসবা-চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড এলাকায় ইজিবাইক থেকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকা থেকে আসা কয়েক তরুণ ও এম এম কলেজের শিক্ষার্থীসহ ৭ জনকে পুলিশ আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিনা জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেলা ১২টার দিকে যশোর সরকারি এম এম কলেজের দিক থেকে একটি মিছিল স্টেডিয়াম হয়ে শিল্পকলার মোড় থেকে ওয়াপদা হয়ে পালবাড়ির দিকে যাচ্ছিল। যশোর পৌর ভবন পার হওয়ার পরপরই পুলিশ ও ডিবি পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওই মিছিলে হামলা চালায়। পুলিশ লাঠি দিয়ে আন্দোলনকারীদের পেটাতে থাকে। ওই সময় মিছিল কিছুটা এলোমেলো হলেও পরে শিক্ষার্থীরা আবার জড়ো হয়ে মিছিল সহকারে পালবাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।
এর আগে, বেলা সোয়া ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাশেদ খান তার কয়েকজন সঙ্গীসহ যশোর পৌর পার্কে অবস্থান নেন। সেখানে পুলিশ ও ডিবি সদস্যরাও অবস্থান নেয়। এরপর আস্তে আস্তে শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিলে পুলিশ ইজিবাইক ডেকে শিক্ষার্থীদের পাঠিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সেখানে অবস্থানকালে ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শিক্ষার্থীদের আটক করেছে, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। শহরের প্রতিটি মোড়ে পুলিশ তরুণদের তল্লাশি চালিয়ে তাদের শহরে ঢুকতে দিচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘এভাবে দমন-পীড়ন করে ছাত্রদের আন্দোলন থামানো যাবে না। এখন এটি গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। যত গ্রেফতার-নির্যাতন হবে আন্দোলন তত বেগবান হবে।’
এদিকে, মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোছাইন ও যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাককে ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি। সে কারণে তাদের মন্তব্য নেওয়া যায়নি।









