কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২৬ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে একজন ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই জনের মৃত্যু হয়।
তারা হলেন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মহিউদ্দিন (২৫), বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ যাবির (২৩) ও মো. ইয়াসিন (১৭)।
গত ২১ জুলাই (রবিবার) যাত্রাবাড়ি রায়েরবাগ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মহিউদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাত পৌনে ২টার দিকে তিনি মারা যান। মহিউদ্দিন বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ময়নাতদন্ত করে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে ১৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ যাবির (২৩) গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
একই হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায় ১৭ বছর বয়সী মোহাম্মাদ ইয়াসিন। সে যাত্রাবাড়ি এলাকায় একটি সিলেন্ডার গ্যাসের দোকানের কর্মচারী ছিল। গত ২১ জুলাই শনির আখড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হলে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। শুক্রবার ঢামেক হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর স্বজনের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। নিহতের খালাতো ভাই বাবু হাওলাদার জানান, শনির আখড়ায় সংঘর্ষে তার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।
এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৯৬ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর অজ্ঞাত ৮টি মরদেহ ইসলামি জনকল্যাণ সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে দাফনের জন্য দেওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পরবর্তী সংঘাতে এ নিয়ে ২০৭ জনের মৃত্যুর খবর প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। মৃত্যুর এই হিসাব কিছু হাসপাতাল, মরদেহ নিয়ে আসা ব্যক্তি ও স্বজনদের সূত্রে পাওয়া। সব হাসপাতালের চিত্র পাওয়া যায়নি।
এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৬ জুলাই ৬ জন, ১৮ জুলাই ৪১ জন, ১৯ জুলাই ৮৪ জন, ২০ জুলাই ৩৮ জন, ২১ জুলাই ২১ জন, ২২ জুলাই ৫ জন, ২৩ জুলাই ৩ জন, ২৪ জুলাই ৪ জন, ২৫ জুলাই ৩ জন ও ২৬ জুলাই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে ১৬ জুলাই (মঙ্গলবার) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা আরও ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ বেশি হয়েছে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে। ১৭ জুলাই থেকে সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরের দিন বন্ধ হয় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। এ ছাড়াও ১৯ জুলাই (শুক্রবার) রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী।
প্রায় পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু করে সরকার। তবে এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনেক ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারছেন না ব্যবহারকারীরা। এ ছাড়াও মোবাইল ইন্টারনেট কবে নাগাদ চালু করা হবে তার সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ জানায়নি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।








