সব সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পদ্ধতি পুনঃসংস্কার ও ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে ঘোষিত বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির তৃতীয় দিন চলছে। আন্দোলনের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে ঘরে বসে থাকতে পারেননি অনেকেই। কেউ চাকরি, কেউ হাসপাতালে যেতে, কেউ বা অন্য প্রয়োজনে বেরিয়েছেন রাস্তায়। তবে গাড়ি না থাকায় স্বল্প দূরত্বে যেতেও দ্বিগুণের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
বুধবার (১০ জুলাই) শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, ২০ টাকার ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে নিচ্ছেন রিকশাচালকরা। প্রয়োজন থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়ায় রিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা।
হাসান আজিজ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘সকালে বের হয়েছি। হাসপাতালে যাবো এক আত্মীয়ের অপারেশন আছে বিকালে। ধানমন্ডিতে ইবনে সিনা হাসপাতালে যেতে হবে। এত দূর হেঁটে যাওয়া সম্ভব না।’ গুলিস্তানে একটি স্পট থেকে আরেক স্পটে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় যেতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দুপুর ২টা থেকে অফিস শাহরিয়ার আমজাদের। তিনি বেসরকারি চাকরিজীবী। মতিঝিলে তার অফিস। থাকেন কাঁটাবন এলাকায়। কাঁটাবন থেকে শাহবাগ, শাহবাগ মোড় থেকে মৎস্য ভবন, এভাবে ধাপে ধাপে রিকশায় অফিসে পৌঁছাতে হবে বলে জানান তিনি। শাহরিয়ার বলেন, ‘চাকরি বাঁচাতে অফিসে পৌঁছাতেই হবে। কিন্তু রিকশাচালকরা পেয়ে বসেছেন।’
রিকশাচালক আউয়াল মিয়া বলেন, ‘এমনিতে শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা। তবে এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা নিচ্ছি। একটু বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে। আমরা বলেই নিচ্ছি। অনেক সময় ঘণ্টার উপরে যাত্রী পাই না। আমাদের তখন ইনকাম হয় না।’
রিকশা ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেকেই হেঁটে পথ পাড়ি দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে সব বয়সের মানুষ রয়েছে। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেলে অনেকেই ছায়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিয়ে আবারও হাঁটছেন। কেউ কেউ আবার গরম থেকে বাঁচতে কুলফি, আইসক্রিম, আচার খাচ্ছেন।
পথচারীদের একজন রাহেলা বেগম রাস্তায় দাঁড়িয়ে কুলফি মালাই খাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘রিকশা ভাড়া অনেক বেশি। তাই আস্তে-ধীরে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছি। গরম অনেক, তাই একটু কুলফি খাচ্ছি।’









