বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সারা দেশে ৯ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সরকারের নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে।
রবিবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় পাঠানো বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপিনেতা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাসিরুদ্দিন ওয়াসিম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাইফুল আলম নীরব, আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনুসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, গতকাল দিনের বেলায় শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীর মালিকানাধীন রোজবার্গ রাইস মিলে ৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং কয়েকজন সাদা পোশাকধারী পুলিশ প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করেছে।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে সরকার দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রী এবং কোটা সংস্কারের নেতাদের নির্যাতন করা হবে না, অপরদিকে প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার অব্যাহত রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ, প্রতিবন্ধী শিশু এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার এমনকি চাকরিজীবীরা পর্যন্ত এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্রতিনিয়ত গ্রেফতার ও নির্যাতন চালাচ্ছে অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যারা প্রকাশ্যে সাধারণ ছাত্রদের বুকে গুলি চালিয়ে হত্যা করলো তাদের একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি, বরং তাদের নিয়ে সরকারপ্রধান মায়া কান্না করছে। সারা দেশে ৯ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন সূত্রে ইতোমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি হত্যার সংখ্যা অনেক লম্বা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি স্থাপনাগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলেও কোটাবিরোধী আন্দোলনে মৃত্যুর তালিকা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
ফখরুলের দাবি, মৃত্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাছাড়া সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার বাণিজ্য অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ফ্লাইট লে. (অব:) ড. হারুনুর রশিদ ভুইয়াকে জনসমক্ষে হাজির করারও আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রবিবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, মৃতের সঠিক সংখ্যা নির্ণয়ে অনুসন্ধান চলছে।









