আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বর্তমান সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। সেটি উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এর আগে, গত ২৬ ডিসেম্বর তৈমুর আলম খন্দকারকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের পদ থেকেও প্রত্যাহার করা হয়।
কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির এ দাপুটে নেতাকে প্রত্যাহারের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতারা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘দলের একজন কর্মী হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলবো। বিএনপি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। এখন আন্দোলন একটি চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে। এই সময় বিএনপি জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনে অংশ নেবে না। এই সরকারের পাতানো কোনও নির্বাচনে যাবে না বিএনপি, সেই সিদ্ধান্তে অনড় আছে।’
তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জেনে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি নেতাকর্মী মেনে চলেছে। তৈমুর আলম দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় আমিসহ বিএনপির অন্য নেতাকর্মীরা নির্বাচনের সঙ্গে নেই।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি জাতীয়ভাবে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। দল যাতে কোনও প্রশ্নের সম্মুখীন না হয় সে জন্যই তৈমুর আলমের পদ পদবি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এটি সাময়িক। নির্বাচন চলে গেলে হয়তো তাকে আবার স্বপদে বহাল করা হবে।’
দলীয় সিদ্ধান্তটি কীভাবে দেখছেন- জবাবে এটিএম কামাল বলেন, ‘তৈমুর আলম খন্দকার একজন সমাজহিতৈষী মানুষ। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নারায়ণগঞ্জে ব্যক্তিগতভাবে তার অনেক অবদান আছে। তৈমুর আলম খন্দকার বিএনপির রাজনীতি করার কারণে মামলা-হামলা নির্যাতন সহ্য করেছেন। বিএনপির অগণিত কর্মীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া আমরা যারা বিএনপি করি, তারা তো নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিতে পারি না। দলীয় সিদ্ধান্ত আমি মানি। তবে নারায়ণগঞ্জে কিন্তু আমাদের নিজস্ব একটি অবস্থান আছে। আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ রয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ‘বিএনপির জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতা হলেন তৈমুর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির কোনও অফিস নেই। তার বাসভবনেই বিএনপির সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।’ তাই এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোট হবে। এতে হাতি প্রতীকে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন তৈমুর। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী।









